Expert Speak Raisina Debates
Published on Jun 16, 2026 Updated 0 Hours ago

ভারত যখন ইএইইউ-এর ঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরু করছে, তখন মূল চ্যালেঞ্জটি হলরাশিয়া-কেন্দ্রিক বাণিজ্য সম্পর্ককে এমন এক বৃহত্তর কৌশলে রূপান্তরিত করা যা বাজারের প্রবেশাধিকার, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা এবং ইউরেশীয় অঞ্চলের সঙ্গে নিবিড় সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে পারে

অবশেষে চুক্তি? ভারত ও ইএইইউ -এর মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাব্যতা পর্যালোচনা

ভারত গত কয়েক বছরে যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড, ওমান, অস্ট্রেলিয়া এবং ২৭-দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ৩৭টিরও বেশি দেশের সঙ্গে আটটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) চূড়ান্ত করেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির কাঠামোও তারা তৈরি করেছে। নয়াদিল্লি এই চুক্তিগুলিকে কেবল শুল্কমুক্ত বাণিজ্য প্রসারের জন্যই নয়, বরং সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তোলা, সরবরাহ ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনা এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বাজার হওয়ার সুবিধা কাজে লাগানোর জন্যও ব্যবহার করছে।

বাণিজ্য বৈচিত্র্যকরণের বৃহত্তর নীতির অংশ হিসেবে ভারত ইউরেশিয়ান ইকনমিক ইউনিয়ন (ইএইইউ) )—আর্মেনিয়া, বেলারুশ, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান ও রাশিয়ার সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট—এর সঙ্গে এফটিএ বিষয়ক আলোচনা পুনরায় শুরু করেছে। ইএইইউ সম্প্রতি নতুন অংশীদারদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মঙ্গোলিয়ার সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি স্বাক্ষর এবং যথাক্রমে ২০২৫ সালের জুন ও ডিসেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে এফটিএ চূড়ান্ত করার পর, জোটটি এখন ভারতের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছনোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। জুন মাসে মস্কোতে ভারত ও ইএইইউ-এর মধ্যে 'নন-ট্যারিফ' বা অ-‌শুল্ক সংক্রান্ত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার নতুন একটি পর্ব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা একটি এফটিএ

ভারত-ইএইইউ এফটিএ-র বিষয়টি ২০১৫ সালে এই চুক্তির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি যৌথ সমীক্ষা দল গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে দলটি একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে দেখা যায় যে, পারস্পরিক বাণিজ্য উদারীকরণের ফলে সব সদস্য দেশের জিডিপি বৃদ্ধি পাবে এবং শুল্ক হ্রাসের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে বাণিজ্যের পরিমাণ ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।


বর্তমানে আলোচনা মূলত পণ্য বাণিজ্য এবং বাণিজ্য বাধা দূর করার বিষয়কে কেন্দ্র করে চলছে; পরবর্তী ধাপগুলোতে পরিষেবা ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।


যদিও ভারতের তৎকালীন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশনের বাণিজ্য বিষয়ক মন্ত্রী ভেরোনিকা নিকিশিনার মধ্যে ২০১৭ সালে স্বাক্ষরিত যৌথ ঘোষণাপত্রে এফটিএ আলোচনার সূচনা ঘোষণা করা হয়েছিল, তবুও বাস্তবে কোনও অগ্রগতি হয়নি। উভয় পক্ষ আট বছর ধরে এই চুক্তি নিয়ে কোনও অর্থবহ আলোচনাই শুরু করতে পারেনি। আমদানির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকির তুলনায় এতে পর্যাপ্ত অর্থনৈতিক সুবিধা রয়েছে বলে নয়াদিল্লি মনে করেনি। ২০২২ সালে রাশিয়ার উপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর এই চুক্তিটি স্থগিত করা হয়, কারণ এফটিএ-‌র সঙ্গে জড়িত আইনি ও আর্থিক ঝুঁকিগুলি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল।

২০২৫ সালের আগস্ট মাসে মস্কোতে উভয় পক্ষ ‘টার্মস অফ রেফারেন্স’-এ স্বাক্ষর করার মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াটি পুনরায় শুরু হয়। ১৮ মাস মেয়াদি এই কর্মপরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল এমএসএমই, কৃষক ও মৎস্যজীবীদের মতো ভারতীয় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলির জন্য বাজারের বৈচিত্র্য আনা। বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়ালের ২০২৫ সালের নভেম্বরে মস্কো সফর এবং আলোচনার অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য ইইসি-র বাণিজ্যমন্ত্রী আন্দ্রে স্লেপনেভের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের পর এই প্রক্রিয়ায় গতি আসে। এরপর  আলোচনার প্রথম ধাপের জন্য ইএইইউ-এর একটি প্রতিনিধি দল নয়াদিল্লি সফর করে; এই ধাপের উদ্দেশ্য ছিল শুল্ক বিলোপ ও হ্রাসের আওতাভুক্ত পণ্যগুলি চিহ্নিত করা। উভয় পক্ষই প্রক্রিয়াটি দ্রুততর করার বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। বর্তমানে আলোচনা মূলত পণ্য বাণিজ্য এবং বাণিজ্য বাধা দূর করার বিষয়কে কেন্দ্র করে চলছে; পরবর্তী ধাপগুলিতে পরিষেবা ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করা হবে।

ভারত-ইএইইউ বাণিজ্য কাঠামো

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত ও ইএইইউ-এর মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৬০.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কম। এই বাণিজ্যের একটি বড়  অংশই ছিল রাশিয়া থেকে ভারতে পণ্য রপ্তানি—যার পরিমাণ ছিল ৫৫.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং এর সিংহভাগই ছিল অপরিশোধিত তেল। ফলে, ইএইইউ-এর সঙ্গে ভারতের প্রায় ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতির মূল কারণ হল রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক লেনদেন; উল্লেখ্য, পুরো ২০২৫-২৬ অর্থবছর জুড়ে অপরিশোধিত তেলের ক্ষেত্রে রাশিয়া ভারতের বৃহত্তম উৎস ছিল। এই ব্যবস্থাটি ভারতের জ্বালানি খাতের স্বার্থ রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করলেও এর ফলে একটি কাঠামোগতভাবে ভারসাম্যহীন সম্পর্কের সৃষ্টি হয়েছে—যেখানে অপরিশোধিত তেল আমদানির তুলনায় ওষুধ ও যন্ত্রপাতি খাতে ভারতের রপ্তানির পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য।

ইএইইউ-এর অন্য চারটি সদস্য রাষ্ট্র—আর্মেনিয়া, বেলারুশ, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তান—মোট বাণিজ্যে মাত্র ৮৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অবদান রেখেছে, যা সামগ্রিক বিচারে খুবই সামান্য। তবে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের বিপরীতে, ইএইইউ-এর অন্য সব সদস্য দেশের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ভারসাম্য ইতিবাচক (চিত্র ১ দেখুন)।

চিত্র ১. রাশিয়া ব্যতীত অন্য ইএইইউ দেশগুলির সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ভারসাম্য (২০২৫-২৬ অর্থবছর; মিলিয়ন মার্কিন ডলার)
A Deal At Last Assessing The Case For An India Eaeu Fta

সূত্র: ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রক; লেখকদের দ্বারা সংকলিত।

তবে, বিদ্যমান বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতার গুরুত্বকে অতিরঞ্জিত করা উচিত নয়। সম্ভাব্য এফটিএ-র আওতা থেকে রাশিয়ার তেল সরবরাহকে সম্ভবত বাদ রাখা হবে, এবং এটি নয়াদিল্লি ও মস্কোর মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমেই পরিচালিত হতে থাকবে। তেল বাণিজ্যকে বাদ দিলে—যা প্রায়শই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে খাত-ভিত্তিক বিশেষ ছাড়ের আওতাভুক্ত থাকে—বাণিজ্যের মোট পরিমাণ বা টার্নওভারের হিসাবটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় ফিরে আসবে, এবং এর ফলে এই সম্পর্কের কাঠামোগত অসামঞ্জস্য উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

ভারতের জন্য সুযোগ

সফল আলোচনা উভয় পক্ষের জন্যই নতুন অর্থনৈতিক সুযোগের দ্বার উন্মোচন করতে পারে। ভারতের ক্ষেত্রে, ওষুধ শিল্পের মতো ক্ষেত্রগুলি—যাদের ইতিমধ্যে ইএইইউ-এর সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে—সাধারণ মানদণ্ড নির্ধারণ ও নিরাপত্তা প্রোটোকলগুলির মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম আরও প্রসারিত করতে পারে। ২০১৬ সালের যৌথ গবেষণায় তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) এবং সফটওয়্যার পরিষেবাকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে—বিশেষ করে ভারতের দিক থেকে—অব্যবহৃত সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

নয়াদিল্লির উচিত নয় ভারতের অর্থনীতির বৃহত্তম এবং দ্রুততম বর্ধনশীল অংশ—অর্থাৎ পরিষেবা ক্ষেত্রকে—আলোচনার বাইরে রাখা। ২০২৪ সালে ভারত ইএইইউ-তে ২.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পরিষেবা রপ্তানি করেছে, যা ২০১৯ সাল থেকে ১০.৯ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার নির্দেশ করে (চিত্র ২ দেখুন)। ইউরেশীয় পরিষেবা বাজারে প্রতিযোগিতা করার জন্য ভারতীয় কোম্পানিগুলি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে; তাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিষেবা ক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্তি অত্যন্ত জরুরি।

যেহেতু পরিষেবা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এই ইউনিয়নের কোনও  অতি-জাতীয় এক্তিয়ার নেই, তাই প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্র তৃতীয় কোনও দেশের সঙ্গে নিজস্ব পরিষেবা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নীতি নির্ধারণ এবং পৃথক আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদনের অধিকার রাখে। এর অর্থ হল, ভারত পৃথক পৃথক সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যৎ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পরিষেবা ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত অধ্যায়গুলিকে নিজের স্বার্থ অনুযায়ী সর্বোত্তমভাবে সাজিয়ে নিতে পারবে। ইএইইউ-এর মধ্যে ভারতের পরিষেবা বাণিজ্যের সিংহভাগই রাশিয়ার সঙ্গে হয়, যার বার্ষিক পরিমাণ ১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি।

চিত্র ২. ইএইইউ-‌ভুক্ত দেশগুলোতে ভারতের পরিষেবা রপ্তানি (২০২০-২৪; মিলিয়ন মার্কিন ডলার)
A Deal At Last Assessing The Case For An India Eaeu Fta
সূত্র: বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) তথ্যের ভিত্তিতে লেখকদের দ্বারা সংকলিত

কিছু বিশেষজ্ঞ যুক্তি দেন যে, ভারত এবং ইএইইউ-এর মধ্যে গভীরতর অর্থনৈতিক একীকরণ কাঁচামাল—বিশেষ করে ধাতু ও কয়লা—এবং অস্ত্র ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ প্রকৌশল পণ্যের মতো কৌশলগত সামগ্রীর বর্ধিত সরবরাহের মাধ্যমে ভারতের শিল্প উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে। তাঁরা দাবি করেন যে, বর্ধিত প্রযুক্তিগত সহযোগিতা উচ্চ-প্রযুক্তি সরঞ্জাম ও সমাধানে নিরবচ্ছিন্ন প্রবেশাধিকার প্রদানের মাধ্যমে ভারতীয় কৌশলগত শিল্পগুলিকে সহায়তা করবে। এর বাইরে, রাশিয়া ও কাজাখস্তান   উভয়ই ভারতে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং বিরল মৃত্তিকা ধাতুর সরবরাহ বাড়ানোর কথা বিবেচনা করছে, যা নয়াদিল্লির আমদানি বৈচিত্র্যকরণের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বাস্তবে, কৌশলগত ক্ষেত্রে একযোগে শুল্ক হ্রাসের সম্ভাবনা কম। ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং তার পরবর্তী নিষেধাজ্ঞাগুলি মস্কোর দর কষাকষির ক্ষমতা হ্রাস করেছে, যা কাঁচামাল, প্রকৌশল সরঞ্জাম এবং উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অধিকতর নমনীয়তার জন্ম দিয়েছে, এবং কার্যকরভাবে ভারতকে অনুকূল শর্ত নির্ধারণের সুযোগ করে দিয়েছে। এই কারণে, নয়াদিল্লির দুর্বল দেশীয় ক্ষেত্রগুলিকে রক্ষা করার জন্য কঠোর উৎপত্তিস্থল বিধি এবং সুরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমিক উদারীকরণ অনুসরণ করার সম্ভাবনাই বেশি।


ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং তার পরবর্তী নিষেধাজ্ঞাগুলি মস্কোর দর কষাকষির ক্ষমতা হ্রাস করেছে, যা কাঁচামাল, প্রকৌশল সরঞ্জাম এবং উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অধিকতর নমনীয়তার জন্ম দিয়েছে, এবং কার্যকরভাবে ভারতকে অনুকূল শর্ত নির্ধারণের সুযোগ করে দিয়েছে।



নয়াদিল্লির এমন কোনও এফটিএ-‌তে সম্মত হওয়ার সম্ভাবনা কম, যা তার রপ্তানিমুখী শিল্পগুলির—যার মধ্যে ঔষধ, বস্ত্র, ইলেকট্রনিক্স, প্রকৌশল পণ্য এবং কৃষি অন্তর্ভুক্ত—স্বার্থ পূরণ করে না। এই ক্ষেত্রগুলিকে ইএইইউ বাজারগুলির সঙ্গে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার জন্য অতিরিক্ত প্রণোদনার প্রয়োজন হবে, যে বাজারগুলিকে বর্তমানে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এবং অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রিত বলে মনে করা হয়।

ইউরেশীয় ধাঁধা

যদিও এফটিএ বিষয়ক আলোচনার সিংহভাগই নয়াদিল্লি ও মস্কোর মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে—কারণ এই জোটের মধ্যে রাশিয়া ভারতের বৃহত্তম অর্থনৈতিক অংশীদার—তবুও সম্ভাব্য এই চুক্তিটি সমগ্র ইএইইউ বাজারের আওতাভুক্ত হবে। তাই ভারতের উচিত ইএইইউ-এর অন্য সদস্য দেশগুলিকে নিছক নামমাত্র সহযোগী হিসেবে না দেখে বরং গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা। আর্মেনিয়া, বেলারুশ, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার হলে ভারত ইউরেশিয়া জুড়ে নতুন বাজার ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের নাগাল পাবে; বর্তমান সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটার প্রেক্ষাপটে এটি একটি অত্যন্ত মূল্যবান সুযোগ। একটি সময়কালে হ্রাসের পর এই দেশগুলির সঙ্গে ভারতের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, যদিও বিভিন্ন অংশীদার দেশের ক্ষেত্রে এই পুনরুদ্ধারের গতি সমান নয় (চিত্র ৩ দেখুন)।

চিত্র ৩. রাশিয়া ছাড়া অন্য ইএইইউ দেশগুলির সঙ্গে ভারতের পণ্য বাণিজ্য (২০২০-২০২৫; মিলিয়ন মার্কিন ডলার)
A Deal At Last Assessing The Case For An India Eaeu Fta

সূত্র: ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়; লেখকদের দ্বারা সংকলিত।

গত পাঁচ বছরে, ভারত থেকে প্রতিরক্ষা সামগ্রী, প্রিসিশন ইনস্ট্রুমেন্ট  এবং ইলেকট্রনিক্স পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে আর্মেনিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে উঠে এসেছে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে। বেলারুশ দীর্ঘদিন ধরে সার, টেক্সটাইল ফাইবার, কাঠের পণ্য এবং শিল্প ও কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে ভারতের অর্থনীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে সহায়তা করে আসছে। গত দুই বছরে বেলারুশ থেকে সার আমদানিতে বড় ধরনের পতনের পর সম্প্রতি যে ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা ভারতের কৃষি চাহিদার ক্ষেত্রে দেশটির অব্যাহত গুরুত্বকেই তুলে ধরে। এই প্রবণতা আরও জোরদার হতে পারে, কারণ বেলারুশের প্রধান কোম্পানিগুলিকে নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রাখা হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলতি উত্তেজনার কারণে বিশ্বজুড়ে সারের সরবরাহ ব্যবস্থা এখনও চাপের মুখে রয়েছে


এই আলোচনার ফলাফল কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে ইউরেশিয়ার প্রতি নয়াদিল্লির প্রতিশ্রুতির গভীরতাকে প্রতিফলিত করবে।



মধ্য এশিয়ায় ভারতের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য সহযোগী হল কাজাখস্তান; খনিজ সম্পদ, জ্বালানি, রাসায়নিক ও সারের বিশাল ভাণ্ডারের অধিকারী এই দেশটি ভারতের ওষুধ ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য রপ্তানির জন্যও সুযোগ তৈরি করে দেয়। কিরগিজস্তান তুলনামূলকভাবে ছোট বাণিজ্য সহযোগী হলেও এটি ভারতের জন্য ওষুধ, পোশাক ও রাসায়নিক পণ্যের বাজার এবং বিশেষ ধরনের কৃষি ও খনিজ পণ্য আমদানির সুযোগ প্রদান করে।

এই আলোচনার ফলাফল কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে ইউরেশিয়ার প্রতি নয়াদিল্লির প্রতিশ্রুতির গভীরতাকে প্রতিফলিত করবে। এই জোটের সঙ্গে চুক্তি আলোচনার ক্ষেত্রে নয়াদিল্লিকে ইএইইউ-এর অভ্যন্তরীণ টানাপড়েনের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে; বিশেষ করে যেহেতু ইয়েরেভানের উপর মস্কোর অর্থনৈতিক চাপ সংস্থাটির ঐক্য ও সংহতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।



আলেক্সেই জাখারভ ‘অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন’-এর ‘স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রাম’-এ রাশিয়া ও ইউরেশিয়া বিষয়ক ফেলো হিসেবে কর্মরত।

কুশাগ্র আগরওয়াল ‘অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন’-এর ‘স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রাম’-এ গবেষণা ইন্টার্ন।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Authors

Aleksei Zakharov

Aleksei Zakharov

Aleksei Zakharov is a Fellow with ORF’s Strategic Studies Programme. His research focuses on the geopolitics and geo-economics of Eurasia and the Indo-Pacific, with particular ...

Read More +
Kushagra Agrawal

Kushagra Agrawal

Kushagra Agrawal is a Research Intern with the Strategic Studies Programme at the Observer Research Foundation. ...

Read More +