এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় সাস্টেনেবল ভিউজ-এ।
ইইউ-কে এই বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে যে, ভারতীয় কার্বন রফতানি শুল্ক শিল্পকে ছাড় দেওয়া হবে না, বরং তা প্রকৃত অর্থেই কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।
আমাদের কার্বন বর্ডার শুল্ককে একটি শূন্য-ফলাফলের খেলা হিসেবে দেখা বন্ধ করতে হবে এবং কিছু সৃজনশীল চিন্তাভাবনা প্রয়োগ করতে হবে।
সম্প্রতি ফিন্যানশিয়াল টাইমস-এর লেখায় উঠে এসেছে যে, ইইউ তার কার্বন বর্ডার শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য ভারতের একটি দাবি প্রত্যাখ্যান করার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এই পদক্ষেপটি ‘দুই দেশের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলবে’।
ইইউ-এর কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম (সিবিএএম) সম্পর্কে গণমাধ্যম ও রাজনীতিবিদদের করা অনেক বিবৃতির মতোই এটিও একটি অতিসরলীকরণ, যা মূল বিষয়গুলিকে এড়িয়ে যায় এবং সিবিএএম-কে শুধুমাত্র একটি শূন্য-ফলাফলের বিষয় হিসেবেই তুলে ধরে। শূন্য-ফলাফলের পদ্ধতির পরিবর্তে সামান্য সৃজনশীলতা প্রয়োগ করলে একটি সত্যিকারের সহায়ক সমঝোতা সম্ভব হতে পারে। সিবিএএম থেকে কোনও সহজ অব্যাহতি সম্ভব নয়। কিন্তু ভারতীয় প্রস্তাবটি আরও চতুর: নিজস্ব কার্বন রফতানি শুল্ক আরোপ করা, যার মাধ্যমে সিবিএএম-এর আওতাভুক্ত রফতানির জন্য রাজস্ব সংগ্রহের স্থান ভারতীয় সীমান্তে স্থানান্তর করা হবে। এটি একটি সম্পূর্ণ সমাধান না হলেও এটি আলোচনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।
সিবিএএম নিজ দেশে প্রয়োগ করা যেতে পারে… ভারতের এই প্রস্তাব অবশ্যই সঠিক। একই ভাবে, ইউরোপীয় শুল্ক প্রতিস্থাপনের জন্য কিছু মূল মানদণ্ড পূরণ করতে হবে… ইউরোপীয় ইউনিয়নও এই কথা বলে ভুল কাজ করেনি।
ন্যূনতম বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন) সমতাভিত্তিক আচরণের নিয়মের অধীনে সিবিএএম-এর মানদণ্ড পূরণ করতে হলে, ভারতীয় রফতানি শুল্ককে সেই একই স্তরে নির্ধারণ করতে হবে, যে স্তরে তুলনীয় পণ্যগুলির জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্তে শুল্ক দিতে হয়। এর অর্থ হল, রফতানিকৃত পণ্যে অন্তর্নিহিত নির্গমনের হিসাব ইউরোপীয় ইউনিয়নের কার্বন অ্যাকাউন্টিং ইনভেন্টরির কাছে স্বচ্ছ হতে হবে। মূল্যস্তরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। যদিও ২০২৬ সালে সিবিএএম পুরোপুরি কার্যকর হলে এই মূল্য বেশ কম থাকবে, ২০৩০ সাল নাগাদ তা উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পাবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, একটি সমঝোতা কার্যকর হতে হলে প্রথমে এটি স্বীকার করতে হবে যে, ভারতের কার্বন ক্রেডিট ট্রেডিং স্কিম এখনও ইউরোপীয় ইউনিয়নের এমিশনস ট্রেডিং সিস্টেমের সমতুল্য নয়, যা হল সিবিএএম-এর ভিত্তি। ইটিএস আদর্শ কার্বন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে এবং অংশগ্রহণকারীরা মূলত নিলামের মাধ্যমে সার্টিফিকেট ক্রয় করে। সিসিটিএস তীব্রতার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে এবং অংশগ্রহণকারীরা বরাদ্দের মাধ্যমে সার্টিফিকেট পায়।
সিবিএএম হল একটি অসম্ভবকে সম্ভব করার মতো সমস্যা। এটি জলবায়ু অপরিহার্যতার নিরিখে ‘সঠিক উত্তর’। কিন্তু ভাল ফল পাওয়ার জন্য শুধু সঠিক কাজটি করাই যথেষ্ট নয়।
এই পার্থক্যের কারণেই ইইউ কূটনীতিকরা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যে, ‘সিবিএএম থেকে ভারতের কার্যকর কার্বন মূল্য নির্ধারণ কী ভাবে বাদ দেওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।’ কিন্তু এর বেশি তাঁরা কিছুই বলেননি। নয়াদিল্লি এ বিষয়ে ভাল মতোই অবগত যে, ইউরোপীয় কমিশন সিবিএএম প্রবিধানের ধারা ৯-এর অধীনে তৃতীয় দেশগুলিতে নির্গমনের উপর প্রদত্ত কার্বন মূল্যকে সিবিএএম সার্টিফিকেশনে রূপান্তর করার জন্য প্রযুক্তিগত নিয়মাবলি প্রস্তুত করছে।
উভয় দেশের অকপট শুভাকাঙ্ক্ষীরা স্বীকার করেন যে, অতিরিক্ত ও বৃহত্তর বিষয়গুলিরও সমাধান করা প্রয়োজন হবে।
ইইউ-কে এই বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে যে, ভারতের কার্বন রফতানি শুল্ক শিল্পকে ছাড় দেওয়া হবে না, বরং তা সত্যিকার অর্থেই কার্বনমুক্তকরণকে চালিত করবে।
ভারতকেও অবশ্য এ বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে, ইউরোপ স্বীকার করছে যে, সিবিএএম হল বাণিজ্য অংশীদারদের উপর চাপিয়ে দেওয়া একটি ব্যয় এবং এর উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও জটিলতা উভয়ই পরোক্ষ ভাবে কিছু উৎপাদককে, বিশেষ করে নিম্ন-আয়ের দেশগুলির ক্ষুদ্র উৎপাদকদের, অসুবিধায় ফেলতে পারে। এই অকপট দিকটিতেই হয়তো সৃজনশীল সমাধান নিহিত রয়েছে। ভারত কি তার অভ্যন্তরীণ ভাবে সংগৃহীত ‘সিবিএএম’ রাজস্ব তার নির্গমন-নিবিড় শিল্পগুলির জন্য একটি স্বল্প-কার্বন রূপান্তর তহবিলে বরাদ্দ করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে? ইইউ কি এই তহবিলে জলবায়ু অর্থায়নের একটি প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের প্রস্তাব দিতে পারে?
এ ছাড়াও, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং নিয়মকানুন পালনের বোঝা কমাতে একটি বাস্তবসম্মত সমাধান হিসেবে নির্গমন যাচাই ও নিরীক্ষণের জন্য ডিজিটাল গণ-অবকাঠামোর সক্ষমতা তৈরিতে ভারত কি ইইউ-কে সহায়তা করতে পারে?
সামগ্রিক ভাবে, এই পদ্ধতিটি সবুজ শিল্পে মূলধনী বিনিয়োগ এবং পরিচালন ব্যয়ের বর্তমান অতিরিক্ত খরচের পাশাপাশি জলবায়ু ন্যায়বিচার, বৈশ্বিক বাজারে দেশীয় নীতিমালার মধ্যে আন্তঃকার্যকারিতা এবং সহ-শাসনের মতো বৃহত্তর বিষয়গুলি মোকাবিলায় সাহায্য করতে পারে। এই ধরনের ‘লেভি ফান্ড’ কার্যকর করার জন্য উভয় পক্ষের সদিচ্ছা প্রয়োজন হবে। তহবিলটি প্রাথমিক ভাবে ২০৩০ সাল পর্যন্ত একটি সীমিত সময়ের জন্য স্থাপন করা যেতে পারে এবং তার পর উভয় পক্ষ দ্বারা পর্যালোচনা করা হবে।
নয়াদিল্লির প্রস্তাবে একটি ইতিবাচক ও গঠনমূলক ধারণা দিয়ে সাড়া দেওয়ার মাধ্যমে ব্রাসেলস সিবিএএম-এর ঘোষিত লক্ষ্য ‘বৈশ্বিক জলবায়ু কার্যক্রমে একটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করা’র বিষয়টিকে নিশ্চিত করবে এবং সেপ্টেম্বর মাসে গৃহীত তার ‘নতুন কৌশলগত ইইউ-ভারত অ্যাজেন্ডা’র রূপকল্প বাস্তবায়ন শুরু করবে।
আমাদের মনে রাখতে হবে যে, এখানে শুধু সিবিএএম-এর চেয়েও বেশি কিছু জড়িত আছে, যা জলবায়ু কূটনীতির বৃহত্তর ক্ষেত্র এবং ইইউ-ভারত সহযোগিতামূলক সুযোগের পরিধির মধ্যে একটি উপক্ষেত্র মাত্র।
তাই এ কথা মনে করা ঠিক নয়, এফটি-র এই ইঙ্গিত সঠিক যে, এমন একটি অপেক্ষাকৃত ছোট বিষয় ঘটলে তা বর্তমান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটিকে ভেস্তে দিতে পারে।
এর পরিবর্তে, ইইউ এবং ভারত সিবিএএম সংক্রান্ত সমাধানের পথে হাঁটতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ইইউ-ভারত শীর্ষ সম্মেলনে আলোচিতব্য কৌশলগত অ্যাজেন্ডার অংশ হিসেবে একটি সবুজ অর্থনীতি অংশীদারিত্বের বিষয়ে সমঝোতাপত্রের মাধ্যমে এমনটা করা সম্ভব।
সিবিএএম হল একটি অসম্ভবকে সম্ভব করার মতো সমস্যা। এটি জলবায়ু অপরিহার্যতার নিরিখে ‘সঠিক উত্তর’। কিন্তু ভাল ফল পাওয়ার জন্য শুধু সঠিক কাজটি করাই যথেষ্ট নয়। যখন ইইউ-এর মানদণ্ড উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলিকে প্রভাবিত করে, তখন একটি সুস্পষ্ট ‘সঠিক মাপ’ও প্রতিবন্ধকতাকেই প্রকাশ্যে এনে দেয়, বিশেষ করে যেখানে ব্রাসেলসে প্রণীত নীতিগুলি বৈচিত্র্যময় পরিস্থিতি, সম্পদ ও সক্ষমতার এক বিশ্বের মুখোমুখি হয়।
সিবিএএম-এর দ্বন্দ্ব ও সমস্যাগুলি কাটিয়ে উঠতে উভয় পক্ষের আরও কিছুটা ছাড় দেওয়া-নেওয়ার প্রয়োজন হবে।
এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় সাস্টেনেবল ভিউজ-এ।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Professor Jesse Scott is a Senior Fellow at the Observer Research Foundation, as well as adjunct faculty at the Hertie School in Berlin since 2019. ...
Read More +