Author : Sushant Sareen

Expert Speak Raisina Debates
Published on May 08, 2026 Updated 0 Hours ago

অপারেশন সিঁদুর চার দিনেরও কম সময়ে শেষ হয়ে গেলেও পরবর্তী সংঘাত আরও দীর্ঘ এবং অনেক বেশি ধ্বংসাত্মক হতে পারে। ভারতকে তার দুর্বলতাগুলির মোকাবিলা করতে হবে এবং পাকিস্তানের যে কোনও উস্কানির জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

কৌশলগত নীতি, অবস্থান এবং প্রস্তুতির ক্ষেত্রে অপারেশন সিঁদুরের প্রভাব

এই নিবন্ধটি ‘ফ্রম রেসপন্স টু রিওরিয়েন্টেশন: ওয়ান ইয়ার অফ অপারেশন সিঁদুর’ বা ‘প্রতিক্রিয়া থেকে পুনর্গঠন: অপারেশন সিঁদুরের এক বছর’ শীর্ষক প্রবন্ধ সিরিজের অংশ।

 

অপারেশন সিঁদুর ৮০ ঘণ্টার সামান্য বেশি সময় ধরে চলেছিলকিন্তু এর মাধ্যমে উন্মোচিত প্রকাশিত কৌশলগত অপরিহার্য বিষয়গুলি ভারত পাকিস্তান উভয়ের জন্যই অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী বলে প্রমাণিত হচ্ছে। এই সংঘাত চলাকালীন উভয় পক্ষের অর্জিত শিক্ষা তা সঠিক হোক বা ভুল নির্ধারণ করবে যেভবিষ্যতে ধরনের আরও সংঘর্ষ হবে কি নাএবং যদি হয়তবে তার তীব্রতাভয়াবহতা এবং স্থায়িত্ব কেমন হবেশুধু সময়ের দিক থেকেই নয়বরং স্থান বা ভৌগোলিক দিক থেকেও কেমন হবে। ভারত পাকিস্তান যদি এবং যখনই যুদ্ধে জড়াক না কেনতখন ইউক্রেন ইরানের মতো অন্যান্য যুদ্ধক্ষেত্রের শিক্ষাও কাজে আসবে।

অপারেশন সিঁদুর আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে ভারতের অবস্থান নীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছিল। অভিযান সংক্রান্ত ‘বিরতির পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারতের নীতি সুস্পষ্ট ভাবে তুলে ধরেন। তাঁর মতেভারত যে কোনও সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য করবে এবং রাষ্ট্রীয় অরাষ্ট্রীয় শক্তির মধ্যে কোনও পার্থক্য করবে না। এর মাধ্যমে ইঙ্গিত দেওয়া হয় যেপরবর্তী সময়ে সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিশিবির  স্থাপনার পাশাপাশি পাকিস্তান সরকার সামরিক বাহিনীকেও একই সঙ্গে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। সন্ত্রাসবাদীরা যেখানেই থাকুক না কেনভারত তাদের লক্ষ্যবস্তু বানাবে। অন্য কথায় বললেহামলা শুধু পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু কাশ্মীর এবং পাকিস্তান-অধিকৃত গিলগিট-বালটিস্তানেই নয়বরং পাকিস্তানের কেন্দ্রস্থলেও চালানো হবে। ভারত পাকিস্তানের পারমাণবিক হুমকির কাছেও নতি স্বীকার করবে না। এর ফলস্বরূপভারত উত্তেজনা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আধিপত্য করবেযেমনটা তারা অপারেশন সিঁদুর-এর সময় করেছিল। বার্তাটি ছিল স্পষ্ট। সংযমের পরিবর্তে শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামার সংকল্প তৈরি হয়েছে। প্রতিশোধের বাগাড়ম্বর  বার জোরালো পদক্ষেপে রূপান্তরিত হয়েছে।

অপারেশন সিঁদুর আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে ভারতের অবস্থান ও নীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছিল।

সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সরাসরি সামরিক নীতি গ্রহণের পাশাপাশি ‘অপারেশন সিঁদুর ভারতের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবেও কাজ করেছে। এটি ভারতকে তার গড়ে তোলা বিভিন্ন ধরনের কৌশলগত অংশীদারিত্বের নির্ভরযোগ্যতা কিংবা তার অভাব সম্পর্কে সচেতন করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য পশ্চিমি শক্তির সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্কের রঙিন চশমা  বার খুলে গিয়েছে। পাকিস্তানের প্রতি চিনের সমর্থন আশ্চর্যজনক না হলেওভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী সবসময়ই এই আঁতাঁতকে বিবেচনায় রেখেছে। তবে যা কিছুটা আশ্চর্যজনক ছিল তা হলপাকিস্তানের প্রতি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সন্দেহজনক সমর্থন। যদিও মার্কিন সেন্টকম পাকিস্তানের সঙ্গে যে পরিমাণ পরিধির তথ্য ভাগ করে নিয়েছেতা নিয়ে সামরিক বাহিনীর মধ্যে কিছুটা মতভেদ রয়েছেতবে এখন আমেরিকানদের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে গভীর সন্দেহ অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক স্তরে মার্কিন প্রশাসন দ্বিপাক্ষিক বিশ্বাসকে ধ্বংস করে দিয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হলভারতীয় প্রশাসনের অনেকেরই এমন এক গভীর বিশ্বাস রয়েছে যেপাকিস্তানকে দেওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশ্রয় সমর্থন শুধু মাত্র অস্থায়ী একটি পর্যায় এবং ট্রাম্প ক্ষমতা থেকে সরে গেলেই এর পরিবর্তন ঘটবে। এটি ভারতের একটি কৌশলগত দুর্বলতা এবং যত দ্রুত এর সংশোধন করা হবে এই উপলব্ধি জাগ্রত হবে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে সহজে ছেড়ে যাবে নাততই ভারতের জন্য মঙ্গলজনক হবে।

কৌশলগত অংশীদারদের অবিশ্বস্ততা নির্ভরযোগ্যতার অভাব এবং তার সঙ্গে প্রথম -সংঘর্ষমূলকপ্রায়-যুদ্ধসদৃশ সংঘাতের ফলে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে গড়ে তোলা আধুনিকীকরণের পাশাপাশি তাদেরকে আধুনিক যুদ্ধের সরঞ্জামপ্ল্যাটফর্ম অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করার জন্য এক উন্মত্ত প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী সফল ভাবে পাকিস্তানি আক্রমণ প্রতিহত করলেও গুরুতর কিছু ঘাটতি রয়েছেযা পূরণ করা প্রয়োজন ছিল। ড্রোনইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার (ইডব্লিউ), সাইবারমহাকাশস্টিলথগোয়েন্দাক্ষেপণাস্ত্রবিমান প্রতিরক্ষা ইত্যাদির উপর এখন বেশি মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। এই সব কিছুই সুদর্শন চক্র প্রতিরক্ষা ঢালের অন্তর্ভুক্তযা আগামী দশকে দেশীয় ভাবে নির্মিত হবে এবং ভারত জুড়ে প্রায় পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষা প্রদান করবে। অন্য কথায় বললেজাতীয় নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ হুমকি মোকাবিলার জন্য ভারত এখন দ্রুত আক্রমণাত্মক  প্রতিরক্ষামূলক উভয় সক্ষমতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এর অর্থ হলড্রোনক্ষেপণাস্ত্র এবং ইন্টারসেপ্টরের বিশাল মজুত গড়ে তোলা এবং যুদ্ধের ক্ষেত্রে উৎপাদন বাড়ানোর সক্ষমতা থাকা।

ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী সফল ভাবে পাকিস্তানি আক্রমণ প্রতিহত করলেও গুরুতর কিছু ঘাটতি রয়েছে, যা পূরণ করা প্রয়োজন ছিল।

পাকিস্তানের দিক থেকে দেখলেট্রাম্প-ধাঁচের ভুয়ো বিজয়ের দাবি পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর উপর আসা মারাত্মক আঘাতকে লুকোতে পারবে নাযারা মার্কিন হস্তক্ষেপ চাইতে বাধ্য হয়েছিল। পাকিস্তানি জনগণরাজনীতিবিদ এবং অনুগত গণমাধ্যম না জানার ভান করলেওপাকিস্তানি সামরিক বাহিনী জানে যেতারা কতটা গুরুতর আঘাত পেয়েছে। পাকিস্তানিরা তাদের সক্ষমতা পুনর্গঠন এবং কৌশলগত মতবাদগুলি পুনঃপরীক্ষা করার জন্যেও দ্বিগুণ গতিতে কাজ করছেযা ভারতের পারমাণবিক হুমকির সামনে নতি স্বীকার না করার কারণে ভোঁতা হয়ে গিয়েছে। তাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করতে হবেযার একটি অংশ হল তাদের পারমাণবিক হুমকিকে আবারও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা এবং অন্য অংশটি হল তাদের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করা।

পাকিস্তানিরা ব্রহ্মস এবং অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য চিনের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান এবং উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চাইছে। ভারতের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তারা ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার (ইডব্লিউ), ড্রোনক্ষেপণাস্ত্র (জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র-সহ), সাবমেরিন ইত্যাদির দিকেও মনোযোগ দিচ্ছে। কূটনৈতিক ভাবে পাকিস্তান উপলব্ধি করেছে যেভারতের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং এমন প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার পেতে যা তাদের ভারতের চেয়ে এগিয়ে রাখবেতার জন্য মিত্র অংশীদার প্রয়োজন। তাদের প্রধান সহযোগী হল চিন তুরস্ক এবং তারা আশা করে যেভারতের সঙ্গে যে কোনও সংঘাতে আমেরিকানরা তাদের পক্ষে থাকবে। পাকিস্তানও ভারতের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক আইনি লড়াইকে দ্বিগুণ জোরদার করবেএই আশায় যে সম্প্রতি তারা যে কূটনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করেছেতা তাদের এমন কিছু জিততে সাহায্য করবে যেটা তারা যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জন করতে পারছে না

মতাদর্শগত ভাবেকৌশলগত গভীরতার অভাবের পুরনো দুর্বলতাটি অপারেশন সিঁদুর-এর সময় পাকিস্তানকে তাড়া করে বেড়িয়েছিল। ভারত পাকিস্তানের দৈর্ঘ্য প্রস্থ জুড়ে এবং দেশের গভীর অভ্যন্তরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছিলযার মধ্যে রাজধানী শহর এবং চারটি প্রাদেশিক রাজধানীর অন্তত দুটি অন্তর্ভুক্ত ছিল। অন্য দিকেপাকিস্তানের হামলাগুলি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু কাশ্মীরে ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত এবং নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর একটি সঙ্কীর্ণ এলাকা অতিক্রম করেনি। যদি পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্রের বক্তব্যকে সত্যি বলে ধরে নেওয়া হয়তবে মনে হচ্ছে পাকিস্তান ভারতের আরও গভীরে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাকিস্তানিদের মতেপরের বার তারা ভারতের পূর্বে আঘাত হানবে এবং বেঙ্গালুরুহায়দ্রাবাদ মুম্বইয়ের মতো শহরগুলিকেও তাদের নিশানায় রাখবে। তারা তেল শোধনাগার এবং বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধেও হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে।

পাকিস্তানও ভারতের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক আইনি লড়াইকে দ্বিগুণ জোরদার করবে, এই আশায় যে— সম্প্রতি তারা যে কূটনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করেছে, তা তাদের এমন কিছু জিততে সাহায্য করবে যেটা তারা যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জন করতে পারছে না।

ইরান যুদ্ধ থেকেও শিক্ষা নেওয়ার আছে। যদি প্রচলিত উপায়ে অগ্রহণযোগ্য গুরুতর ক্ষতিসাধন করা যায়তবে পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি দেখানোর কোনও প্রয়োজন নেই। পাকিস্তানিরা যতই সরব হোক না কেনযেহেতু তাদের কাছে এমন ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যা দিয়ে এই শহর অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানানো যায়তাই ভারতকে অবশ্যই তাদের প্রতিরক্ষার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলভারতকে অবশ্যই পাকিস্তানকে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিতে হবে যেযদি তারা কোনও শহরকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর চেষ্টা করেতবে তার জন্য ব্যাপক পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। যেহেতু ভারত এখন চরম সজাগ অবস্থায় রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর মতে অপারেশন সিঁদুর স্থগিত অবস্থায় রয়েছেতাই যে কোনও পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদী হামলার পাল্টা জবাব অবশ্যই দ্রুত হতে হবে। এর জন্যআগে থেকে লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন পরিকল্পনা করতে হবে এবং পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়াগুলিকে বিবেচনায় রেখে তার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। পাল্টা জবাব দেওয়ার আগে ভারত দিন বা সপ্তাহ ধরে অপেক্ষা করার ঝুঁকি নিতে পারে না কারণ এতে পাকিস্তান প্রস্তুতির জন্য সময় পেয়ে যায়। এই বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে কারণ হামলার ঝুঁকি এবং সতর্ক করার সময়সীমা উভয়ই দ্রুত কমে আসছে। গত ৮০ বছরে ভারত পাকিস্তান বেসামরিক জনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানানো থেকে বিরত থেকেছে। কিন্তু পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জিহাদি মানসিকতার চরমপন্থার কথা বিবেচনা করলেভবিষ্যতের সংঘর্ষে অতীতের সংযম আর কাজে না- আসতে পারেএমন সম্ভাবনা প্রবল। তাই ভারতকে শুধু সামরিক ভাবেই নয়মনস্তাত্ত্বিক ভাবেও প্রস্তুত থাকতে হবে।

ভারতীয় জনগণকে অবশ্যই  বিষয়ে সচেতন করতে হবে যেসীমান্ত পরিবর্তিত হয়েছে এবং তা এখন তাদেরই ঘরযা সংঘাতের ক্ষেত্রে আক্রমণের শিকার হতে পারে। জনগণ এবং রাজনৈতিক শ্রেণিকেবিশেষ করে রাজনৈতিক শ্রেণিকেঅবশ্যই বুঝতে হবে যেকোনও বিকল্পই মূল্য ছাড়া চোকানো সম্ভব নয়। যদি রাজনৈতিক শ্রেণি বা জনগণ এর মূল্য দিতে বা ক্ষতি বহন করতে প্রস্তুত না থাকেতবে প্রতিশোধের সুযোগ আপনাআপনিই কমে যাবে। একই রকম গুরুত্বপূর্ণ হলভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাকে তাদের সেনানিবাস এবং কম্যান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল কেন্দ্রগুলির অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে হবে কারণ এগুলি শত্রুর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। ভূপৃষ্ঠের উপরে থাকা যে কোনও কিছুই এখন ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু।

ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাকে তাদের সেনানিবাস এবং কম্যান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল কেন্দ্রগুলির অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে হবে। কারণ এগুলি শত্রুর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

অপারেশন সিঁদুরের এক বছর পর ভারত পাকিস্তান অতীতের যে কোনও সময়ের চাইতেই আর একটি সশস্ত্র সংঘর্ষের আরও কাছাকাছি চলে এসেছে। তারা উভয়েই এমন একটি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতযা দুই পক্ষই আসন্ন বলেই মনে করছে। তবুও পাকিস্তানের মধ্যে এই উপলব্ধিও তৈরি হয়েছে যেভারতকে সন্ত্রস্ত করার জন্য তারা যে দায়মুক্তি ভোগ করততা আর তাদের জন্য নেই। অপারেশন সিঁদুর চার দিনেরও কম সময়ে শেষ হয়ে গেলেও পরবর্তী সংঘাতটি আরও অনেক দীর্ঘ ধ্বংসাত্মক হতে পারে এবং এটি আগেরটির চেয়ে আরও বহুমাত্রিক হবে। ভারতের উচিত দুর্বলতাগুলির মোকাবিলা করা এবং পাকিস্তানের যে কোনও প্রকার উস্কানির জবাবে শক্তি প্রচণ্ড আক্রোশের সঙ্গে জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা।

 


সুশান্ত সারিন অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.