Author : Harsh V. Pant

Published on May 31, 2026 Updated 0 Hours ago

আজকের ভারত নিজেকে নতুন এক শীতল যুদ্ধের কোনও অনুসারী পক্ষ হিসেবে নয়, বরং এক উদীয়মান বহুমেরু ব্যবস্থায় একটি স্বশাসিত কেন্দ্র হিসেবে দেখে

ভারতে মার্কো রুবিও: মার্কিন-ভারত অপরিহার্যতা

২৩ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত মার্কো রুবিওর ভারত সফর একটি গতানুগতিক কূটনৈতিক যাত্রার চেয়ে অনেক বেশি কিছু। এটি এমন একটি সম্পর্ককে স্থিতিশীল করার জন্য ওয়াশিংটনের একটি নতুন প্রচেষ্টাকে প্রতিফলিত করে, যা সম্প্রতি অস্বাভাবিক অস্থিরতার সাক্ষী হয়েছে। একই সঙ্গে এটি বৃহৎ শক্তির রাজনীতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান পরিশীলিত দৃষ্টিভঙ্গিকেও তুলে ধরে।

এমন এক সময়ে যখন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা খণ্ডবিখণ্ড, তখন নয়াদিল্লি একইসঙ্গে কোয়াডের মতো পশ্চিম-‌নেতৃত্বাধীন জোট এবং ব্রিকসের মতো অ-পশ্চিমী প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ততা গভীর করার মাধ্যমে কৌশলগত নমনীয়তা বজায় রাখতে চাইছে।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে টানাপড়েনের প্রেক্ষাপটে রুবিওর এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে

মার্কিন সেক্রেটারি অফ স্টেট হিসেবে ভারতে রুবিওর এই প্রথম সফরটি প্রতীকী এবং কৌশলগত উভয় তাৎপর্য বহন করে। কলকাতা ও জয়পুর থেকে শুরু করে আগ্রা ও নয়াদিল্লি পর্যন্ত বিস্তৃত এই সতর্কভাবে সাজানো সফরসূচিটি সভ্যতাগত প্রসারের সঙ্গে কঠোর ভূ-রাজনৈতিক বার্তার সমন্বয় ঘটিয়েছে। তবে এই বাহ্যিক চাকচিক্যের আড়ালে রয়েছে একটি গুরুতর কূটনৈতিক কর্মসূচি, যা জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য বিরোধ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খলের পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে।


কলকাতা ও জয়পুর থেকে শুরু করে আগ্রা ও নয়াদিল্লি পর্যন্ত বিস্তৃত এই সতর্কভাবে সাজানো সফরসূচিটি সভ্যতাগত প্রসারের সঙ্গে কঠোর ভূ-রাজনৈতিক বার্তার সমন্বয় ঘটিয়েছে।


এই সফরের সময়টিও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে শুল্ক, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের অব্যাহত সম্পৃক্ততা, এবং কোয়াড উদ্যোগগুলিকে সুসংহত করতে বিলম্বের কারণে মার্কিন-ভারত সম্পর্কে দৃশ্যমান টানাপড়েন দেখা দিয়েছে।

মার্কিন ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের জন্য ভারত অপরিহার্য

এই প্রেক্ষাপটে রুবিওর এই উদ্যোগ ওয়াশিংটনের এই স্বীকৃতিকেই নির্দেশ করে যে, মাঝেমধ্যে মতবিরোধ সত্ত্বেও মার্কিন ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের জন্য ভারত অপরিহার্য।

এই সফরের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কোয়াড বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক, যার আয়োজক ভারত, এবং এতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া অংশগ্রহণ করছে। কোয়াড ধীরে ধীরে একটি পরামর্শমূলক ব্যবস্থা থেকে ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলগত কাঠামোর একটি কেন্দ্রীয় স্তম্ভে পরিণত হয়েছে। ওয়াশিংটনের জন্য এটি চিনের ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক প্রভাবের সঙ্গে ভারসাম্য তৈরির পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সমন্বয়, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং সরবরাহ-শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানোর একটি মাধ্যম। সুতরাং, রুবিওর উপস্থিতির উদ্দেশ্য হল অংশীদারদের আশ্বস্ত করা যে, বৃহত্তর বৈশ্বিক ব্যস্ততা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে।

ভারতের প্রয়োজন কোয়াড যেন নমনীয় থাকে

তবে ভারতের জন্য কোয়াড ঠিক এই কারণেই উপকারী যে এটি কোনও আনুষ্ঠানিক জোট নয়। নয়াদিল্লি এই জোটকে একটি চুক্তি-আবদ্ধ নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিবর্তে একটি নমনীয় কৌশলগত অংশীদারি হিসেবেই দেখে। এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সামুদ্রিক সহযোগিতা এবং ভূ-রাজনৈতিক সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কোয়াডের দেওয়া সুযোগগুলির মূল্যায়ন করে, কিন্তু জোটের রাজনীতির কাছে নিজের বিদেশনীতির স্বায়ত্তশাসনকে অধীনস্থ করতে নারাজ।

ব্রিকসে সম্পৃক্ততা বহু-সংযুক্তি নীতিকে তুলে ধরে

এখান থেকেই ব্রিকসের সঙ্গে ভারতের যুগপৎ সম্পৃক্ততা তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। কোয়াড বৈঠকের আয়োজন করার মাত্র কয়েক দিন আগে, ভারত ব্রিকস বিদেশমন্ত্রীদের আলোচনার সভাপতিত্ব করে, যা রাশিয়া, চিন এবং ইরানের মতো রাষ্ট্রগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করা এই জোটে তার ভূমিকাকে পুনরায় নিশ্চিত করে। অনেক পর্যবেক্ষকের কাছে, উভয় কাঠামোতে অংশগ্রহণ পরস্পরবিরোধী মনে হতে পারে। বাস্তবে, এটি ভারতের সমসাময়িক বিদেশনীতির যুক্তিকেই প্রতিফলিত করে: জোটবদ্ধতার পরিবর্তে বহু-সংযুক্তি।

ব্রিকসের সঙ্গে ভারতের সম্পৃক্ততা বিভিন্ন উদ্দেশ্য সাধন করে। এটি গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বর হিসেবে নয়াদিল্লির বিশ্বাসযোগ্যতাকে আরও শক্তিশালী করে, রাশিয়ার সাপেক্ষে কৌশলগত পরিসর রক্ষা করে, এবং একটি বহুকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি তার অঙ্গীকারকে জোরদার করে।

একইসঙ্গে, ব্রিকস ভারতকে পশ্চিমী প্রতিষ্ঠানগুলির উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে বৈশ্বিক শাসন সংস্কার এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠন সংক্রান্ত বিতর্কগুলিকে প্রভাবিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ প্রদান করে। এটি ব্রিকসকে তার অ-পশ্চিমী বৈশিষ্ট্য বজায় রাখার পাশাপাশি একটি পশ্চিম-বিরোধী মঞ্চে পরিণত হওয়া থেকেও বিরত রাখে।

ভারত বিকল্প পছন্দের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে

এটি কোনও অসামঞ্জস্য নয়, বরং কৌশলগত সমন্বয়। ভারত সেই বিকল্প পছন্দগুলিকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করছে যা ক্রমবর্ধমানভাবে সমসাময়িক ভূ-রাজনীতিকে সংজ্ঞায়িত করছে। পরিবর্তে, এটি ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বী কেন্দ্রগুলির মধ্যে তার প্রভাবকে সর্বোচ্চ করার চেষ্টা করছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে ব্রিকস এবং কোয়াড-এর বৈঠক আয়োজন করা কোনও আকস্মিক ঘটনা ছিল না; এটি ছিল প্রতিদ্বন্দ্বী ভূ-রাজনৈতিক মঞ্চগুলিতে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করার ক্ষেত্রে ভারতের সক্ষমতার একটি ইচ্ছাকৃত প্রদর্শন।

সব পছন্দের মধ্যেই জটিলতা থাকে

এই ভারসাম্য রক্ষার কাজটি জটিলতামুক্ত নয়। বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে, রাশিয়া ও চিন সম্পর্কিত বিষয়গুলিতে ওয়াশিংটন ভারতের কাছ থেকে বৃহত্তর ঐক্যের প্রত্যাশা করে চলেছে। একইসঙ্গে, ভারত তার অর্থনৈতিক দুর্বলতা, প্রতিরক্ষা নির্ভরশীলতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগ সামাল দেওয়ার পাশাপাশি বেজিং বা মস্কোকে উস্কে দেওয়ার ব্যাপারেও সতর্ক থাকছে। নয়াদিল্লির জন্য চ্যালেঞ্জ হল কৌশলগতভাবে অস্পষ্ট না হয়ে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখা।


ভারত তার অর্থনৈতিক দুর্বলতা, প্রতিরক্ষা নির্ভরশীলতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগ সামাল দেওয়ার পাশাপাশি বেজিং বা মস্কোকে উস্কে দেওয়ার ব্যাপারেও সতর্ক থাকছে।



সুতরাং, রুবিওর এই সফরকে বিশ্ব রাজনীতির এক বৃহত্তর পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবেই বুঝতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য, যে কোনও টেকসই ইন্দো-প্যাসিফিক কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভারত। ভারতের জন্য প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণ, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে রূপান্তর এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততা অপরিহার্য। তবুও, ভারত কোনও একচেটিয়া ভূ-রাজনৈতিক শিবিরে অন্তর্ভুক্তি এড়াতেও সমানভাবে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

সেই অর্থে, এই সফরটি ভারতের সমসাময়িক কৌশলগত পরিচয়ের সারমর্মকে ধারণ করে। নয়াদিল্লি এখন আর শুধু ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করছে না; ক্রমবর্ধমান মেরুকৃত বিশ্বে বৈশ্বিক ফলাফলকে রূপ দেওয়ার জন্য এটি সম্পর্ক, প্রতিষ্ঠান এবং প্রত্যাশার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করছে।

রুবিওর এই উদ্যোগের সাফল্য শেষ পর্যন্ত বাগাড়ম্বরপূর্ণ ঘোষণার উপর নির্ভর করবে না;‌ বরং একে অপরের কৌশলগত বাধ্যবাধকতাগুলির জন্য জায়গা করে দেওয়ার পাশাপাশি উভয় পক্ষ বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক শাসনে সহযোগিতা সম্প্রসারিত করতে পারে কি না, তার উপরই নির্ভর করবে।

বৃহত্তর বার্তাটি সুস্পষ্ট: ভারত আজ নিজেকে নতুন এক শীতল যুদ্ধের অনুসারী শিবির হিসেবে নয়, বরং এক উদীয়মান বহুমেরু ব্যবস্থায় একটি স্বশাসিত কেন্দ্র হিসেবে দেখে।



এই ভাষ্যটি প্রথম মানি কন্ট্রোল-এ প্রকাশিত হয়েছিল।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Author

Harsh V. Pant

Harsh V. Pant

Professor Harsh V. Pant is Vice President at Observer Research Foundation, New Delhi. He is a Professor of International Relations with King's India Institute at ...

Read More +