এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় হিন্দুস্থান টাইমস-এ।
ভারতের জ্বালানি রূপান্তর আরও কঠিন এক পর্যায়ে প্রবেশ করছে। শুরুর বছরগুলি ছিল ব্যাপকতার প্রতীক। কিন্তু পরবর্তী অধ্যায় হবে নির্ভরযোগ্যতার প্রতীক।
জ্বালানি নিরাপত্তার উপর ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যেই ২০৩১-২০৩৫ সালের জন্য ভারতের সাম্প্রতিক ‘জাতীয় ভাবে নির্ধারিত অবদান’ (ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন বা এনডিসি) ঘোষণা করা হয়েছে, যার একটি প্রধান লক্ষ্য হল দেশের স্থাপিত বিদ্যুৎ ক্ষমতার ৬০ শতাংশ জীবাশ্ম-জ্বালানি-বহির্ভূত হওয়া। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ একটি গুরুতর দুর্বলতাকে তুলে ধরেছে: বৈশ্বিক জ্বালানি প্রবাহ এখনও ভঙ্গুর এবং এর উপর নির্ভরশীলতা যথেষ্ট ঝুঁকি বহন করে। ভারতের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তাকে এখন আর শুধু সহজলভ্যতার ভিত্তিতে সংজ্ঞায়িত করা যায় না। এর জন্য এখন অভ্যন্তরীণ স্থিতিস্থাপকতা থাকা আবশ্যক। কিন্তু আরও জীবাশ্ম-বহির্ভূত ক্ষমতা যোগ করা কি সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে?
বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। জীবাশ্ম-বহির্ভূত উৎসগুলি থেকে ইতিমধ্যেই স্থাপিত ক্ষমতার প্রায় অর্ধেক আসে, যেখানে ২৫০ গিগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে, কিন্তু তা প্রকৃত বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাত্র এক-চতুর্থাংশ অবদান রাখে। সুতরাং, প্রশ্নটি এখন আর এমন নয় যে ভারত কতটা নবায়নযোগ্য ক্ষমতা তৈরি করতে পারে। বরং প্রশ্নটি হল এই যে, ক্রমবর্ধমান বাহ্যিক অনিশ্চয়তার এই বিশ্বে সেই ক্ষমতা নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী এবং সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে কি না।
এর উত্তর বিদ্যুৎ ব্যবস্থার তিনটি কাঠামোগত উপাদানের মধ্যে নিহিত: গ্রিড কী ভাবে তৈরি করা হয়, বিদ্যুতের মূল্য কী ভাবে নির্ধারণ করা হয় এবং বণ্টন কী ভাবে পরিচালিত হয়।
প্রথমত, এই রূপান্তরের জন্য গ্রিডটিকে নতুন করে তৈরি করতে হবে। ভারতের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কয়লাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল — যা ছিল কেন্দ্রীভূত, অনুমানযোগ্য এবং ভৌগোলিক ভাবে নির্দিষ্ট। নবায়নযোগ্য শক্তি (রিনিউয়েবল এনার্জি বা আরই) সেই ধারণাকে বদলে দিচ্ছে। শিল্পোন্নয়ন এবং নগরায়ণের কারণে ঝাড়খণ্ড, বিহার এবং ছত্তিশগড়ের মতো কয়লানির্ভর রাজ্যগুলিতে ভারতের বিদ্যুতের চাহিদা সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বাড়ছে। শুধুমাত্র ছত্তিশগড়েই সর্বোচ্চ চাহিদা বছরে প্রায় ৭% হারে বাড়ছে।
এমন সময়ে এটি ঘটছে যখন উচ্চ নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনকারী রাজ্যগুলিতে নবায়নযোগ্য শক্তির উদ্বৃত্ত হ্রাস করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের মে থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ২.৩ টেরাওয়াট-ঘণ্টা সৌরবিদ্যুৎ হ্রাস করা হয়েছে। রাজস্থানে এই হ্রাস ৫০%-এ পৌঁছেছে, যেখানে ৩.৩ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে — এই বিদ্যুৎ অন্য কোথাও চাহিদা মেটাতে পারত।
শিল্পোন্নয়ন এবং নগরায়ণের কারণে ঝাড়খণ্ড, বিহার এবং ছত্তিশগড়ের মতো কয়লানির্ভর রাজ্যগুলিতে ভারতের বিদ্যুতের চাহিদা সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বাড়ছে।
সীমাবদ্ধতাটি রাজ্যগুলির মধ্যেই রয়েছে। আন্তঃরাজ্য সঞ্চালন প্রসারিত হলেও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলগুলি নবায়নযোগ্য শক্তিকে দক্ষতার সঙ্গে গ্রহণ বা স্থানান্তর করার জন্য খুবই দুর্বল। এর ফলে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, যেখানে উদ্বৃত্ত এবং ঘাটতি সহাবস্থান করে। যখন অন্য অঞ্চলগুলি ব্যয়বহুল তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনের উপর নির্ভর করে, তখন পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ সরবরাহ হ্রাস পায়।
নবায়নযোগ্য শক্তির উন্নয়নের পরবর্তী পর্যায়ে মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু পরিবর্তন করতে হবে। সঞ্চালন করিডোরের বাইরেও ভারতের আরও শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা প্রয়োজন — যেমন সাবস্টেশন, শেষ প্রান্তের সংযোগ এবং পরিবর্তনশীলতা সামাল দিতে সক্ষম শৃঙ্খল।
তবে নির্ভরযোগ্যতা কেবল পরিকাঠামো থেকে আসতে পারে না। এটিকে ব্যবস্থার কার্যকারিতার মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। দিনের বেলায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছয় এবং পরে চাহিদা বাড়ে। তাই গ্রিডের নমনীয়তা প্রয়োজন। নবায়নযোগ্য শক্তির সরবরাহযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে পর্যাপ্ত সঞ্চয় ব্যবস্থা থাকতে হবে।
দ্বিতীয়ত, বিদ্যুৎ বাজারকে অবশ্যই পণ্য সরবরাহ-কেন্দ্রিক অবস্থা থেকে একটি পরিষেবা ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হতে হবে। ভারতের বিদ্যুৎ বাজারগুলি একটি কয়লা-ভিত্তিক ব্যবস্থার জন্য তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে নির্ভরযোগ্যতা ছিল অন্তর্নিহিত। বিদ্যুৎকে কেবল শক্তি হিসেবে মূল্যায়ন করা হত, অর্থাৎ উৎপাদিত ও ব্যবহৃত একক হিসেবে।
নবায়নযোগ্য শক্তি এই মডেলটিকে ব্যাহত করে। এগুলি বিদ্যুৎকে সস্তা করে তোলে। কিন্তু এর ফলে সরবরাহেও তারতম্য দেখা দেয়। সৌরশক্তির ট্যারিফ প্রতি ইউনিটে ২-৩ টাকায় নেমে এসেছে — যা বিশ্বব্যাপী সর্বনিম্নগুলির মধ্যে অন্যতম। কিন্তু সস্তা শক্তি মানেই নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নয়। প্রয়োজনের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পরিষেবার প্রয়োজন হয় – যেমন সঞ্চয়, নমনীয় উৎপাদন এবং চাহিদা অনুযায়ী সাড়া প্রদান। অথচ বাজার এগুলিকে যথাযথ ভাবে মূল্যায়ন করে না।
নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থার আরও নমনীয়তা প্রয়োজন। কিন্তু নমনীয়তার ক্ষেত্রে বিনিয়োগ অনিশ্চিত থেকে যায়। কারণ এর কোনও স্পষ্ট মূল্য সঙ্কেত নেই। সামনের পথ হল এটি স্বীকার করে নেওয়া যে, বিদ্যুৎ একটি পণ্য নয়, বরং তিনটি: প্রথমটি হল শক্তি (উৎপাদিত বিদ্যুৎ); দ্বিতীয়টি হল সক্ষমতা (সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে সরবরাহ উপলব্ধ থাকার নিশ্চয়তা); তৃতীয়টি হল নমনীয়তা (সরবরাহ ও চাহিদার ওঠানামায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা)।
বিশ্বব্যাপী অভিজ্ঞতা এই দিকেই ইঙ্গিত করে। উন্নত বিদ্যুৎ ব্যবস্থাগুলি ইতিমধ্যেই পৃথগীকৃত বাজারের দিকে এগিয়ে গিয়েছে, যেখানে শক্তির পাশাপাশি প্রাপ্যতা এবং সাড়া প্রদানের সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রে ক্যাপাসিটি মার্কেট নিশ্চিত করে যে, সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে উপলব্ধ থাকার জন্য জেনারেটরগুলিকে অর্থ প্রদান করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পেনসিলভেনিয়া-নিউ জার্সি-মেরিল্যান্ড-এর (পিজেএম) মতো বাজারগুলি গ্রিডকে স্থিতিশীলকারী আনুষঙ্গিক পরিষেবাগুলির সুস্পষ্ট ভাবে মূল্য নির্ধারণ করে।
এই পরিষেবাগুলিকে পৃথক করে মূল্য নির্ধারণ করা হলে ব্যবস্থাটি যেভাবে কাজ করে, তাতে মৌলিক পরিবর্তন আসবে। এটি সিস্টেম অপারেটরদের সুস্পষ্ট ভাবে নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে এবং স্টোরেজ ও হাইব্রিড প্রকল্পগুলির জন্য কার্যকর রাজস্ব প্রবাহ তৈরি করতে সাহায্য করবে, যা এগুলির বাস্তবায়নকে ত্বরান্বিত করবে।
তৃতীয়ত, এই রূপান্তরকে এর সবচেয়ে দুর্বল দিক — অর্থাৎ বণ্টন ব্যবস্থার — মোকাবিলা করতে হবে। ভারতের বণ্টন সংস্থাগুলি (ডিসকম) বিদ্যুৎ সরবরাহ শৃঙ্খলের সবচেয়ে দুর্বল সংযোগ হিসেবে রয়ে গিয়েছে। আর্থিক চাপ একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা, যার পুঞ্জীভূত লোকসান প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার কাছাকাছি। ডিসকমগুলিকে একটি একক কাঠামোর মধ্যে অত্যন্ত ভিন্ন ধরনের গ্রাহকদের পরিষেবা দিতে হয়। তারা শিল্প গ্রাহকদের প্রায় ব্যয়-সাপেক্ষ ট্যারিফে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে, আবার অন্যদিকে কৃষি ও গৃহস্থালি গ্রাহকদের কাছে ব্যাপক ভাবে ভর্তুকিযুক্ত বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়। এর ফলে সৃষ্ট এই দ্বৈত ভর্তুকি পরিষেবার প্রকৃত ব্যয়কে অস্পষ্ট করে তোলে এবং অদক্ষতাকে আড়াল করে। বারবার সংস্কারের প্রচেষ্টা সাময়িক স্বস্তি দিলেও এর অন্তর্নিহিত কাঠামোকে অপরিবর্তিত রেখেছে। ফলস্বরূপ, এই ব্যবস্থা একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি করে চলেছে।
একটি আরও স্থিতিশীল সমাধান নিহিত রয়েছে বাণিজ্যিক ভাবে লাভজনক এবং সামাজিক ভাবে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলিকে পৃথক করার মধ্যে। ফিডার-স্তরে পৃথগীকরণ - বিশেষ করে কৃষি এবং অকৃষি সরবরাহের মধ্যে - একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ। মহারাষ্ট্রের মতো যে রাজ্যগুলি এই প্রক্রিয়া শুরু করেছে, তারা দেখাচ্ছে যে, এটি স্বচ্ছতা এবং পরিচালনগত দক্ষতা উভয়ই উন্নত করতে পারে।
কৃষি ফিডারগুলিকে সৌরশক্তিনির্ভর করার বিষয়টি এই পদ্ধতিরই একটি অংশ। কৃষিক্ষেত্রে বিদ্যুতের চাহিদা নির্দিষ্ট সৌর ব্যবস্থার দিকে স্থানান্তরিত করার মাধ্যমে রাজ্যগুলি দিনের বেলায় নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে এবং একই সঙ্গে ভর্তুকিকে সুস্পষ্ট ও পরিমাপযোগ্য করে তুলতে পারে। এটি অস্বচ্ছ পারস্পরিক ভর্তুকিকে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দিয়ে প্রতিস্থাপন করে সরাসরি সুবিধা হস্তান্তরের দিকে রূপান্তরকেও সম্ভব করে তোলে।
ভারতের শক্তি রূপান্তর আরও কঠিন এক পর্যায়ে প্রবেশ করছে। এর শুরুর বছরগুলি ছিল ব্যাপক উৎপাদনের দ্বারা সংজ্ঞায়িত। কিন্তু পরবর্তী অধ্যায়টি হবে নির্ভরযোগ্যতার দ্বারা সংজ্ঞায়িত।
ভারত কত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে, তা দিয়ে অগ্রগতির প্রকৃত পরিমাপ হবে না। বরং অঞ্চল, ঋতু এবং ক্রমবর্ধমান অনিশ্চিত বিশ্বে দেশটি কতটা নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে, সেটিই হবে আসল মাপকাঠি। এই ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন, মূল্য নির্ধারণ এবং সরবরাহের মৌলিক বিষয়গুলি নিয়ে নতুন করে ভাবার মানসিকতার প্রয়োজন হবে।
এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় হিন্দুস্থান টাইমস-এ।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Aparna Roy is Fellow and Lead, Climate Change and Energy, at the Centre for New Economic Diplomacy, Observer Research Foundation (ORF). Her research examines the ...
Read More +