সেভিয়া এগ্রিমেন্ট সার্বভৌম ঋণ ব্যবস্থাপনায় একটি অর্থবহ প্রচেষ্টা হলেও ঋণদাতাদের মধ্যে বিভাজন, দুর্বল প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের অনুপস্থিতি এটিকে সংস্কারকৃত শাসন কাঠামোর চাইতে একটি সমন্বিত মঞ্চ করে তুলেছে।
২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে নিউইয়র্কে ২০২৬ সালের ইউনাইটেড নেশনস (ইউএন) ইকোসক ফিন্যান্সিং ফর ডেভেলপমেন্ট ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়, যা ছিল ২০২৫ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জের চতুর্থ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন সম্মেলনে (ফিন্যান্সিং ফর ডেভেলপমেন্ট বা এফএফডি) ঐতিহাসিক ‘সেভিয়া কমিটমেন্ট’ (বা ‘সেভিয়া প্রতিশ্রুতি’) গৃহীত হওয়ার পর প্রথম বড় ধরনের পর্যালোচনা। এর পরে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে বার্ষিক পর্যালোচনা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। কয়েক বছর অন্তর অন্তর এফএফডি বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো সম্পর্কে একটি বড় প্রতিশ্রুতি তৈরি করেছে: ২০০২ সালে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলস বা এমডিজি) জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা সংহত করতে মন্টেরে কনসেনসাস গৃহীত হয়েছিল; বৈশ্বিক আর্থিক সঙ্কট এবং দোহা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা রাউন্ডের ভাঙনের প্রেক্ষাপটে ২০০৮ সালের দোহা ডিক্লারেশন গৃহীত হয়েছিল; এবং ২০১৫ সালের আদ্দিস আবাবা অ্যাকশন অ্যাজেন্ডা এমডিজি থেকে সাস্টেনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল বা স্থিতিশীল উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় উত্তরণের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছিল। ২০১৫ সালের আদ্দিস আবাবা অ্যাকশন অ্যাজেন্ডার একটি নতুন রূপ এবং কোভিড-১৯ পরবর্তী একটি নতুন বৈশ্বিক কাঠামো হিসেবে সেভিয়া প্রতিশ্রুতিটি এই সবগুলির মধ্যে সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী। এটি স্থিতিশীল উন্নয়নে অর্থায়নের উপর আলোকপাত করে, যার কার্যক্রম তিনটি কৌশলগত ক্ষেত্রে বিস্তৃত: বিনিয়োগ, ঋণ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার। বহুমুখী অস্থিতিশীলতার এই যুগে এটি বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষত যখন এই ধরনের প্রতিশ্রুতির ভিত্তি হিসেবে থাকা ধারণা ও প্রতিষ্ঠানগুলি দুর্বল হয়ে পড়েছে।
জি২০ কাঠামোর খাপছাড়া প্রকৃতি এবং অস্পষ্টতার কারণে ঋণগ্রহীতা দেশগুলির মধ্যে এর গ্রহণ সীমিত ছিল, যা এই পুনর্গঠনগুলিতেও প্রতিফলিত হয়েছে। এর ফলে মাত্র চারটি দেশ (জাম্বিয়া, চাদ, ঘানা এবং ইথিওপিয়া) এই কাঠামোর অধীনে আবেদন করেছে।
২০২০ সালের নভেম্বরে জি২০ কমন ফ্রেমওয়ার্ক ফর ডেট ট্রিটমেন্টস (জি২০ ফ্রেমওয়ার্ক) চালু করার মাধ্যমে এটি স্বীকার করে নেওয়া হয়েছিল যে, কোভিড-১৯ অতিমারির অর্থনৈতিক বিপর্যয় একটি স্বল্পমেয়াদি ও তীব্র লিকুইডিটি ক্রাইসিস বা তারল্য সঙ্কটকে (যা জি২০ তার ডেট সার্ভিস সাসপেনশন ইনিশিয়েটিভের অধীনে অস্থায়ী বিরতির মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করেছিল) নিম্ন- আয়ের দেশগুলির জন্য গভীর কাঠামোগত সলভেন্সি সমস্যায় মৌলিক ভাবে রূপান্তরিত করেছে। চিরাচরিত ভাবে ঋণগ্রহীতা দেশগুলিকে খণ্ডিত ঋণদাতা শ্রেণিগুলির সঙ্গে আলাদা ভাবে আলোচনা করতে হত, যা বিশেষ করে ঋণদাতাদের পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে পুনর্গঠনের ফলাফলের উপর প্রভাব ফেলত। জি২০ ফ্রেমওয়ার্ক প্যারিস ক্লাব এবং নন-প্যারিস ক্লাব দ্বিপাক্ষিক ঋণদাতাদের (বিশেষ করে চিন, যে কিনা বিশ্বের বৃহত্তম দ্বিপাক্ষিক ঋণদাতা) একটি সমন্বিত অফিসিয়াল ক্রেডিটর কমিটির (ওসিসি) অধীনে একত্রিত করে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে। একই সঙ্গে ঋণগ্রহীতা দেশগুলির উপর কম্প্যারেবিলিটি অফ ট্রিটমেন্ট (সিওটি) শর্ত আরোপের মাধ্যমে বেসরকারি ঋণদাতাদের (যারা জি২০ ফ্রেমওয়ার্কের অংশ নয়) অনুরূপ ছাড় দিতে বাধ্য করা হয়। তবে জি২০ কাঠামোর খাপছাড়া প্রকৃতি এবং অস্পষ্টতার কারণে ঋণগ্রহীতা দেশগুলির মধ্যে এর গ্রহণ সীমিত ছিল, যা এই পুনর্গঠনগুলিতেও প্রতিফলিত হয়েছে। এর ফলে মাত্র চারটি দেশ (জাম্বিয়া, চাদ, ঘানা এবং ইথিওপিয়া) এই কাঠামোর অধীনে আবেদন করেছে। যদিও পরবর্তীকালে গ্লোবাল সভরিন ডেট রাউন্ডটেবল (জিএসডিআর) প্লেবুক-সহ কার্যনির্বাহী নির্দেশিকা জারির ফলে কিছুটা স্পষ্টতা এসেছে, তবে কাঠামোটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অস্পষ্টতাই রয়ে গিয়েছে, যা নিচে তুলে ধরা হল।
সেভিয়া: সারবত্তাময় না কি নিছকই প্রতীকবাদ?
প্রতিশ্রুতি সংক্রান্ত বিষয়: রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের ৭৯/৩২৩ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত সেভিয়া প্রতিশ্রুতিটি ঋণের ক্ষেত্রে ঋণ ব্যবস্থাপনা, ঋণের স্থায়িত্ব এবং দায়িত্বশীল ঋণ গ্রহণ ও প্রদানের উপর আলোকপাত করে। তবে প্রতিশ্রুতিটির চূড়ান্ত সংস্করণটি এর প্রাথমিক খসড়ার একটি অত্যন্ত দুর্বল সংস্করণ। উদাহরণস্বরূপ, প্রাথমিক প্রস্তাবে রাষ্ট্রপুঞ্জের সদস্য রাষ্ট্রগুলির অভ্যন্তরীণ আইনের অংশ হিসেবে গ্রহণের জন্য ঋণ পুনর্গঠনের উপর একটি ‘মডেল আইন’ এবং জি২০ কাঠামো-সহ বিদ্যমান কাঠামোর ঘাটতিগুলি পূরণের জন্য একটি ‘বহুপাক্ষিক সার্বভৌম ঋণ ব্যবস্থা’ তৈরির কথা ভাবা হয়েছিল। এর বিপরীতে, চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতিটি জি২০ কাঠামোকেই প্রধান ভিত্তি হিসেবে রেখেছে এবং এর আওতা মধ্যম আয়ের দেশগুলি পর্যন্ত প্রসারিত করার প্রস্তাব দিয়েছে। এখন একটি আন্তঃসরকারি প্রক্রিয়া অংশীদারিদের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে সুপারিশ প্রস্তাব করবে। ভূ-রাজনৈতিক জড়তা কাটিয়ে ওঠার প্রচেষ্টাগুলি ব্যাহত হয়েছে, যার ফলে এর ফলাফল একটি পুনর্গঠিত শাসন কাঠামোর চাইতে একটি সমন্বিত মঞ্চের মতোই বলে মনে হয়েছে।
‘সেভিয়া প্রতিশ্রুতি’তে অন্তর্ভুক্ত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া বেসরকারি পাওনাদারদের সঙ্গে জড়িত এই ঋণ পুনর্গঠনের সমস্যাগুলি চলতেই থাকবে, বিশেষ করে সঙ্কটের সময়ে।
প্রসঙ্গ নিউ ইয়র্ক: সেভিয়া প্রতিশ্রুতি কিছুটা শিথিল হওয়া সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (ইউএস) শেষ পর্যন্ত তা থেকে সরে আসে। এর অন্যতম কারণ ছিল বৈশ্বিক ঋণ কাঠামোতে রাষ্ট্রপুঞ্জের সম্পৃক্ততার বিরোধিতা করা। কারণ ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কার্যক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ বলে মনে করেছিল। এই অসহযোগিতা উদ্যোগটির কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে। কারণ বিশ্বের ৫২ শতাংশেরও বেশি সার্বভৌম বন্ড নিউ ইয়র্কের আইন দ্বারা পরিচালিত হয় এবং আন্তর্জাতিক বেসরকারি বন্ডধারীদের সিংহভাগই নিউ ইয়র্ক থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। শ্রীলঙ্কার ঋণ পুনর্গঠনের সময় যেমনটা দেখা গিয়েছে, সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের দাবিতে এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টায় অনড় থাকা পাওনাদারদের আনা একটি মামলা স্থগিত করতে নিউ ইয়র্কের একটি আদালতের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (ইউএস), সংযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র (ইউকে) এবং ফ্রান্সের জরুরি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয়েছিল। জি২০ ফ্রেমওয়ার্ক বেসরকারি পাওনাদারদের একটি পুনর্গঠন চুক্তিতে আনতে এবং সিওটি নীতি কার্যকর করতে উল্লেখযোগ্য সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। যদিও সেভিয়া প্রতিশ্রুতিটি ঋণ পরিশোধে অনীহা প্রকাশকারী পাওনাদারদের সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন বিচারব্যবস্থাকে অভ্যন্তরীণ আইন প্রণয়নে উৎসাহিত করে, তবে এই লক্ষ্যে কিছু প্রচেষ্টা ইতিমধ্যেই চলছিল। এর মধ্যে অন্যতম হল ২০২৪ সালে নিউ ইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি এবং নিউ ইয়র্ক সেনেটে ‘সার্বভৌম ঋণ স্থিতিশীলতা আইন’ (সভরিন ডেট স্টেবিলিটি অ্যাক্ট) বিলটি উত্থাপন, যার লক্ষ্য ছিল একটি ব্যাপক ঋণ পুনর্গঠন ব্যবস্থা তৈরি করা এবং বেসরকারি পাওনাদারদের আদায়কে আইনত সীমিত করা। তবে বিলটি বারবার ওয়াল স্ট্রিট লবির তীব্র প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছে, যারা যুক্তি দিয়েছে যে, এই আইনটি পছন্দের বিচারব্যবস্থা এবং বিশ্বের আর্থিক রাজধানী হিসেবে নিউ ইয়র্কের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করবে। ‘সেভিয়া প্রতিশ্রুতি’তে অন্তর্ভুক্ত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া বেসরকারি পাওনাদারদের সঙ্গে জড়িত এই ঋণ পুনর্গঠনের সমস্যাগুলি চলতেই থাকবে, বিশেষ করে সঙ্কটের সময়ে।
খেলার নিয়ম: সেভিয়া প্রতিশ্রুতিতে আন্তঃ-ঋণদাতা সমন্বয় এবং সিওটি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তাকে সঠিক ভাবে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। এটি বিদ্যমান ঋণ কাঠামোর এই শূন্যস্থানগুলি পূরণের জন্য হোল্ডআউট আচরণকে শৃঙ্খলিত করতে (যেমনটা উপরে উল্লেখ করা হয়েছে) দেশীয় আইন প্রণয়ন, সম্মিলিত পদক্ষেপের ধারাগুলির ব্যাপক গ্রহণ এবং জিএসডিআর-এর উপর ভিত্তি করে ঋণদাতাদের মধ্যে প্রাথমিক সম্পৃক্ততা ও তথ্য-আদানপ্রদানের মতো পদক্ষেপের পরামর্শ দেয়। তবে অন্যান্য পুনরাবৃত্তিমূলক আন্তঃ-ঋণদাতা সমস্যাও পুনর্গঠনে ন্যায্য দায়-বণ্টনকে প্রভাবিত করে, যার মধ্যে রয়েছে ওসিসি-গুলির বাইরে চিনের বিচ্ছিন্ন আলোচনা, জি২০ কাঠামোর মধ্যে রাষ্ট্র-সমর্থিত ঋণদাতাদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে অস্পষ্টতা (যা চিনের ক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে প্রাসঙ্গিক একটি চ্যালেঞ্জ), দেশীয় ও বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ পুনর্গঠনের মধ্যে উত্তেজনা এবং অপ্রকাশিত জামানতযুক্ত ঋণের ব্যবস্থাপনা, বিশেষ করে চিনা ঋণের ক্ষেত্রে। ন্যায্য ও সময়োপযোগী ঋণ পুনর্গঠনের জন্য সেভিয়া প্ল্যাটফর্মকে অবশ্যই এই প্রক্রিয়াটিকে স্বেচ্ছামূলক, ক্ষেত্র-ভিত্তিক সম্পৃক্ততা থেকে সরিয়ে আরও প্রতিষ্ঠিত ও সুস্পষ্ট আন্তঃ-ঋণদাতা সম্পৃক্ততার নিয়ম দ্বারা পরিচালিত একটি ব্যবস্থায় আনতে সাহায্য করতে হবে। অন্তত পক্ষে আনুষ্ঠানিক ঋণদাতাদের জন্য এমনটা করতে হবে। ঋণদাতা পরিমণ্ডলের মৌলিক পরিবর্তন ও বিভাজনের পরিপ্রেক্ষিতে এটি বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে প্যারিস ক্লাবভুক্ত ঋণদাতাদের অংশ হ্রাস পাচ্ছে এবং চিন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই) ও ভারতের মতো বিভিন্ন অ-প্যারিস ক্লাব দ্বিপাক্ষিক ঋণদাতা এবং সেই সঙ্গে বেসরকারি ঋণদাতাদের উপস্থিতি বাড়ছে।
শেষ পর্যন্ত আসল পরীক্ষা নিহিত রয়েছে এই বিষয়টিতে যে, সেভিয়া প্রতিশ্রুতি সমন্বয়ের গণ্ডি পেরিয়ে সঙ্কটের সময়ে বহু-ঋণদাতা তারল্য সহায়তা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর ভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারে কি না, বিশেষ করে যখন দেশগুলি সাম্প্রতিক হরমুজ প্রণালীর অবরোধের মতো নজিরবিহীন সঙ্কটের সঙ্গে লড়াই করছে, যেখানে পুরনো কাঠামোগত বিশৃঙ্খলা এবং নতুন বাহ্যিক ধাক্কার সম্মিলিত ঝুঁকি অনেক বেশি।
তারল্য সঙ্কট: বিশ্ব ব্যাঙ্কের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ঋণ প্রতিবেদন ২০২৫ অনুসারে, কোভিড-১৯ পরবর্তী স্বাভাবিকীকরণের পরিবর্তে চক্রাকার অভিঘাত এবং কাঠামোগত ভাবে পরিবর্তিত ঋণ পরিস্থিতির পারস্পরিক ক্রিয়ার ফলে বৈশ্বিক ঋণ ব্যবস্থা চাপের মধ্যে রয়েছে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলি একটি উচ্চ ব্যয়বহুল ঋণচক্রে আটকা পড়েছে, যেখানে তাদের বৈদেশিক ঋণের প্রবৃদ্ধি মন্থর হওয়া সত্ত্বেও, সুদের পরিমাণ এখন এক দশক আগের তুলনায় ২.৪ গুণ বেশি। মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রায় নির্ধারিত ঋণের আধিপত্য এই পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করেছে। ক্রমবর্ধমান ঋণ পরিশোধের বোঝা (যেখানে অনেক নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে শুধুমাত্র সুদের অর্থই প্রায়শই সরকারি রাজস্বের ২০-৪০ শতাংশ হয়ে থাকে) এবং প্রধান ঋণাত্মক হস্তান্তর রাজস্ব পরিসরকে সঙ্কুচিত করছে এবং পুনঃঅর্থায়নের ঝুঁকি তীব্রতর করছে। এই গতিপ্রকৃতি তারল্য এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতার ঝুঁকির মধ্যকার পার্থক্যকে ক্রমশ অস্পষ্ট করে তুলছে। এটি প্রশমিত করার জন্য দেশগুলি আরও ব্যয়বহুল অভ্যন্তরীণ ঋণ এবং অস্থিতিশীল আন্তর্জাতিক পুঁজি বাজারের দিকে ঝুঁকছে, যা নতুন সামষ্টিক-আর্থিক দুর্বলতা তৈরি করছে।
সেভিয়া বর্ধিত সহজ শর্তে ঋণদান, তারল্য ও ঋণ-ব্যবস্থাপনা সহায়তা ব্যবস্থা, বহুমাত্রিক দুর্বলতা বিবেচনায় রেখে সংশোধিত ক্রেডিট-রেটিং পদ্ধতি, ঋণ স্থগিতকরণ ধারা এবং জলবায়ু-সহনশীল ঋণ ধারার মতো রাষ্ট্র-নির্ভর শর্তাবলির অন্তর্ভুক্তি এবং ঋণ-উন্নয়ন বিনিময়ের প্রসারের মাধ্যমে এই চাপগুলি প্রশমিত করতে চায়। ডেট পজ ক্লজ অ্যালায়েন্স, গ্লোবাল হাব অন ডেট ফর ডেভেলপমেন্ট সোয়্যাপস-এর মতো নতুন মঞ্চ এবং সেভিয়া প্ল্যাটফর্ম ফর অ্যাকশন-এ নথিভুক্ত অন্যান্য অনুরূপ উদ্যোগের মাধ্যমে এটি প্রদর্শিত হয়। সর্বোপরি, নতুন বরোয়ার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এটি ঋণগ্রহীতা দেশগুলোকে পুনর্গঠন আলোচনায় প্রয়োজনীয় সম্মিলিত প্রভাব দিয়ে শক্তিশালী করার আশা রাখে। তবে শেষ পর্যন্ত আসল পরীক্ষা নিহিত রয়েছে এই বিষয়টিতে যে, সেভিয়া প্রতিশ্রুতি সমন্বয়ের গণ্ডি পেরিয়ে সঙ্কটের সময়ে বহু-ঋণদাতা তারল্য সহায়তা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর ভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারে কি না, বিশেষ করে যখন দেশগুলি সাম্প্রতিক হরমুজ প্রণালীর অবরোধের মতো নজিরবিহীন সঙ্কটের সঙ্গে লড়াই করছে, যেখানে পুরনো কাঠামোগত বিশৃঙ্খলা এবং নতুন বাহ্যিক ধাক্কার সম্মিলিত ঝুঁকি অনেক বেশি।
নতুন পরিস্থিতির জন্য সতর্কমূলক আশা
ক্রমবর্ধমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ, জটিল ঋণ পরিস্থিতি এবং ক্রমাগত ভূ-রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে ঋণ ব্যবস্থাপনার ভবিষ্যৎ এখনও সুনিশ্চিত নয়। চূড়ান্ত সেভিয়া প্রতিশ্রুতি শিথিল হওয়া সত্ত্বেও, বিদ্যমান পদক্ষেপগুলিকে সুসংহত করা, ঘাটতিগুলি মোকাবিলায় গতি সঞ্চার করা এবং আরও উন্নয়নমুখী একটি বৈশ্বিক ঋণ কাঠামোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রচেষ্টাগুলি অর্থবহ। বাস্তবে কোনও পরিবর্তন ঘটবে কি না, তা নির্ভর করবে সংলাপ ও সমন্বয়ের ফোরামের বাইরে গিয়ে ভবিষ্যতের সার্বভৌম ঋণ পুনর্গঠনকে প্রভাবিত করতে পারে এমন বাস্তব ফলাফলের উপর। বাস্তবায়নের প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা সেভিয়া প্রতিশ্রুতির ২০২৭ সালের এফএফডি পর্যালোচনা, যা আরও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ কার্যকর করবে বলে আশা করা হচ্ছে, তা এ বিষয়ে আরও অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করবে।
লাবণ্য মণি অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Lavanya Mani is a Fellow at ORF, where she plays a key role on the curatorial team, shaping the thematic direction and programming of ORF’s ...
Read More +