Author : Nilanjan Ghosh

Expert Speak Raisina Debates
Published on Apr 09, 2026 Updated 0 Hours ago

বাস্তবায়নগত ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-২৬ সামষ্টিক শক্তি, উদ্যোক্তা রাষ্ট্র, বৈশ্বিক মূল্যশৃঙ্খল এবং ভূ-অর্থনৈতিক কৌশলের মাধ্যমে ভারতকে স্থিতিস্থাপকতা থেকে অপরিহার্যতার দিকে চালিত করে।

অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-২৬: একটি স্থিতিস্থাপক অর্থনীতির জন্য কৌশলগত পথ

অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-২৬ (ইএস) এমন এক সময়ে পেশ করা হয়েছে, যখন বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক বিভাজন, বাণিজ্যের অস্ত্রায়ন এবং অতি-বিশ্বায়নের লক্ষণীয় পশ্চাদপসরণের ফলে চলতি বহুমাত্রিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে। এতে কোনও সংশয় নেই যে, এই বৈশ্বিক বিষণ্ণতার পটভূমিতে ভারত এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো দাঁড়িয়ে আছে। বছরের পর বছর ধরে এই সমীক্ষাটি নিছক আর্থিক হিসাব-নিকাশের প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর্যায় থেকে বিবর্তিত হয়ে উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য একটি কৌশলগত পথরেখা তুলে ধরেছে এবং অসংখ্য প্রতিবন্ধকতাকে অতিক্রম করার জন্য নতুন পথের ধারণা দিয়েছে। এ বছরের ইএস-ও এর ব্যতিক্রম নয়; বরং এটি আরও বেশি স্বতন্ত্র — এটি ভারতের উত্থানের জন্য একটি নতুন মতবাদগত কাঠামো তুলে ধরেছে। উন্নয়নের আখ্যানে এক বিশাল উল্লম্ফনেই তা স্পষ্ট: একটি রক্ষণাত্মক "স্থিতিস্থাপকতা"র ধারণা থেকে একটি আক্রমণাত্মক ও উচ্চাভিলাষী "অপরিহার্যতা"র ধারণায় উত্তরণ। এক খণ্ডিত বিশ্বে, অর্থনৈতিক নিরাপত্তাই কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ভিত্তি।

ইএস এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ভারতীয় অর্থনীতির সামষ্টিক অর্থনৈতিক দৃঢ়তার কারণেই এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। সমীক্ষাটি ২০২৬ অর্থবর্ষের জন্য ৭.৪ শতাংশ প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে, এবং মধ্যমেয়াদে বৃদ্ধির হার ৭ শতাংশে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা অনুমান করেছে — যা সকল প্রধান অর্থনীতির মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২৬ অর্থবর্ষের মধ্যে জিডিপির ৪.৪ শতাংশ রাজস্ব ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রা সহ একটি রাজস্ব দৃঢ়ীকরণ এর ভিত্তি স্থাপন করেছে। প্রধানত খাদ্যপণ্যের মূল্যহ্রাসের কারণে খুচরা মূল্যস্ফীতি তীব্রভাবে কমে ১.৭ শতাংশে নেমে আসায় অর্থনীতি শেষ পর্যন্ত একটি ঈর্ষণীয় অবস্থানে পৌঁছেছে — উচ্চ বৃদ্ধি, নিম্ন মূল্যস্ফীতি!

ষোড়শ অধ্যায়ে উপস্থাপিত ‘অপরিহার্যতার নতুন কৌশলগত মতবাদ’ একটি স্তরভিত্তিক কাঠামোর কথা বলে, যা ভারতকে ‘আমদানি প্রতিস্থাপন’ থেকে ‘কৌশলগত স্থিতিস্থাপকতা’ এবং অবশেষে ‘কৌশলগত অপরিহার্যতা’-র দিকে নিয়ে যাবে। অবশ্যই, এটি ততক্ষণ পর্যন্ত সম্ভব নয় যতক্ষণ না ভারতীয় পণ্য ও পরিষেবাগুলো বৈশ্বিক মূল্যশৃঙ্খলে (জিভিসি) এমনভাবে একীভূত হয় যা এর অর্থনীতিকে বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ, অ-‌প্রতিস্থাপনযোগ্য কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করে।

ইএস উপলব্ধি করে যে, উদ্যোক্তার সহজাত প্রবৃত্তিকে জাগিয়ে তোলা প্রয়োজন এবং এক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে একটি ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারি ভূমিকা কমিয়ে বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের সংকীর্ণ পদ্ধতি যথেষ্ট নয়। বরং, প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে ‘রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা’কে যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি করা প্রয়োজন, কারণ সম্পদের পরিবর্তে এটিই বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে। এটি এমন একটি ‘উদ্যোক্তা রাষ্ট্র’-এর পক্ষে কথা বলে যা সুচিন্তিত ঝুঁকি নিতে পারে, অনিশ্চয়তাকে কাঠামোবদ্ধ করতে পারে, এবং আমলাতান্ত্রিক ঝুঁকিবিমুখতা কমাতে সরল বিশ্বাসে করা ভুল ও অসদাচরণের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে।


সমীক্ষাটি ২০২৬ অর্থবর্ষের জন্য ৭.৪ শতাংশ প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে, এবং মধ্যমেয়াদে বৃদ্ধির হার ৭ শতাংশে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা অনুমান করেছে — যা সকল প্রধান অর্থনীতির মধ্যে সর্বোচ্চ।



এই প্রেক্ষাপটে, নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ বৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। এই দলিলে বিভিন্ন রাজ্যজুড়ে ৬৩০টিরও বেশি সংস্কার বাস্তবায়ন এবং ‘কমপ্লায়েন্স রিডাকশন অ্যান্ড ডিরেগুলেশন টাস্ক ফোর্স’-এর মাধ্যমে প্রতিবন্ধকতা হ্রাস করার প্রয়োজনীয়তার উপর আলোকপাত করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণভাবে, ইএস নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণকে রাষ্ট্রের প্রত্যাহার হিসেবে নয়, বরং প্রক্রিয়ার পরিবর্তে ফলাফলের উপর মনোযোগ দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার শক্তিশালীকরণ হিসেবে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করে।

ইএস পশ্চিমী বিশ্বের সম্পদ-নির্ভর “ফ্রন্টিয়ার মডেল” প্রতিযোগিতার পরিবর্তে এআই কৌশলকে একটি ‘বটম-আপ অ্যাপ্রোচ’ হিসেবে তুলে ধরে। এটি একটি এআই অর্থনৈতিক পরিষদের মাধ্যমে সম্ভব হতে পারে, যা “মিতব্যয়ী এআই”, প্রয়োগ-নির্দিষ্ট ক্ষুদ্র মডেল এবং ডিজিটাল পাবলিক গুডসের উপর মনোযোগ দেবে। এটি দ্রুত প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে সম্পর্কিত চাকরি হারানোর ঝুঁকিও প্রশমিত করতে পারে।

ক্ষেত্রভিত্তিক বৃদ্ধির চালিকাশক্তি

ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রে একটি লক্ষণীয় আকর্ষণীয় বিষয় হল উপকরণ খরচ হ্রাসের মাধ্যমে ব্যয়-প্রতিযোগিতামূলকতা অর্জনের বিষয়ে ইএস-এর দৃষ্টিভঙ্গি, যাকে এটি একটি প্রয়োজনীয় কিন্তু অপ্রতুল শর্ত হিসেবে দেখে। এই পরিপ্রেক্ষিতে, ইএস পদ্ধতিগত শৃঙ্খলা এবং গুণমানের মানদণ্ড প্রয়োগের জন্য উন্নত ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের দিকে জোর দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দেয় এবং ইলেকট্রনিক্স ও ফার্মাসিউটিক্যালস ক্ষেত্রে পিএলআই প্রকল্পের সাফল্যের উদাহরণ তুলে ধরে।

তবে, এখন পর্যন্ত উদারীকরণ-পরবর্তী অর্থনীতির সবচেয়ে বড় বৃদ্ধির চালিকাশক্তি হল পরিষেবা ক্ষেত্র — স্থিতিশীলতার মূল ভিত্তি — এবং এটি মোট মূল্য সংযোজনের (জিভিএ) ৫০ শতাংশেরও বেশি অবদান রাখে। ইএস-এর মতে, এই ক্ষেত্রের বৃদ্ধির পরবর্তী পর্যায়টি জিসিসি, পেশাদার পরামর্শ এবং "ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের পরিষেবাকরণ"-এর মতো উচ্চ-মূল্যের রপ্তানির দিকে কাঠামোগত পরিবর্তনের দ্বারা চালিত হবে।

ইএস একটি অস্থির বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতির আবহে ভারতের বাণিজ্য স্থিতিস্থাপকতাকে চিহ্নিত করেছে, এবং উল্লেখ করেছে যে রেকর্ড পরিমাণ রপ্তানি সাফল্য এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের স্থিতিশীল ভূমিকা শুধুমাত্র একটি স্বল্পমেয়াদি সুরক্ষা প্রদান করে।



কৃষি ক্ষেত্রে, ইএস কৃষি বিষয়ক আলোচনাকে খাদ্য নিরাপত্তা থেকে আয় নিরাপত্তা পর্যন্ত প্রসারিত করেছে। দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিস্থাপকতা এবং কৃষক কল্যাণ নির্ভর করবে সবুজ বিপ্লবের অধীনে উৎসাহিত ঐতিহ্যবাহী সম্পদ-নিবিড় ফসল থেকে ডাল ও তৈলবীজের দিকে শস্য বৈচিত্র্যায়নের উপর। এর জন্য প্রয়োজন হবে পরিবেশগতভাবে বিকৃতকারী ভর্তুকি কাঠামোর সংশোধন, যা জল-নিবিড় ফসলকে সুবিধা দেয় — এবং স্মার্ট ট্রাইবাল ফার্মিং ও গ্রামের সাধারণ সম্পদের  পুনরুজ্জীবনের প্রতি নীতিগত মনোযোগ নতুন করে দেওয়া। এই প্রসঙ্গে, ইএস একটি অস্থির বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতির আবহে ভারতের বাণিজ্য স্থিতিস্থাপকতাকে চিহ্নিত করেছে, এবং উল্লেখ করেছে যে রেকর্ড পরিমাণ রপ্তানি সাফল্য এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের স্থিতিশীল ভূমিকা শুধুমাত্র একটি স্বল্পমেয়াদি সুরক্ষা প্রদান করে। “হার্ড কারেন্সি” বা শক্তিশালী মুদ্রার মর্যাদার দিকে একটি বিশ্বাসযোগ্য উত্তরণ শেষ পর্যন্ত ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পণ্য রপ্তানিতে স্থিতিশীল উদ্বৃত্ত নিশ্চিত করার উপর নির্ভর করে।

এই সমীক্ষাটি নগরায়ণকে শুধুমাত্র বসবাসের প্রশ্ন হিসেবে না দেখে বরং একটি অর্থনৈতিক পরিকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করে ভারতের উন্নয়ন গতিপথের একটি পদ্ধতিগত পুনর্গঠনের প্রস্তাব করে। নগর স্থানীয় সংস্থাগুলিতে ক্রমাগত প্রশাসনিক ঘাটতি পুঞ্জীভূতকরণের ব্যয়হ্রাসের (‌আ্যাগ্লোমারেশন ইকোনমি)‌ বাস্তবায়নকে ব্যাহত করেছে, যার ফলে মেয়রদের ক্ষমতায়নের একটি সুস্পষ্ট যুক্তি তৈরি হয়েছে এবং সেইসঙ্গে বৃহত্তর আর্থিক স্বায়ত্তশাসনের সঙ্গে শক্তিশালী জবাবদিহিতাকে সংযুক্ত করার।

জলবায়ু অভিযোজন এবং মানব পুঁজি

গল্পের সেরা অংশটি এখানেই আসে। ইএস গ্লোবাল নর্থের প্রশমন-নির্ভর আখ্যানকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং ভারতের জলবায়ু কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে অভিযোজনকে স্থাপন করেছে। অভিযোজন অর্থায়নের বিশাল ঘাটতির পরিপ্রেক্ষিতে, এটি উদ্ভাবনী অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছে। তবে, এটি স্বীকার করা উচিত ছিল যে মানব পুঁজি বিনিয়োগও জলবায়ু অর্থায়নের সমতুল্য। এবারের আকর্ষণীয় বিষয় হল, ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা হিসেবে তরুণদের মধ্যে ‘ডিজিটাল আসক্তি’র অতিমারী এবং ক্রমবর্ধমান স্থূলতার মতো বিষয়গুলির নতুন সংযোজন। এটি স্ক্রিন টাইম এবং অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারকে জ্ঞানীয় (‌কগনিটিভ)‌ অবক্ষয় এবং কর্মশক্তির উৎপাদনশীলতা হ্রাসের সঙ্গে যুক্ত করে, এবং বয়স-সীমাবদ্ধতা ও সতর্কীকরণ লেবেলের মতো নিয়ন্ত্রক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানায়।

ভূ-অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু

এই সমীক্ষার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ধারণাগত উদ্ভাবন হল, একটি প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান হিসেবে ‘আত্মনির্ভরতা’ থেকে একটি আক্রমণাত্মক ভূ-রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ‘কৌশলগত অপরিহার্যতা’-তে রূপান্তর। গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলির (প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের শিল্প) জন্য বৈশ্বিক মূল্যশৃঙ্খলে গভীর একীকরণের পক্ষে কথা বলে এই সমীক্ষা আর্থিক নীতিকে ভারতের বিদেশনীতির উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে। পরিপক্ব বাস্তবতা হল এটা স্বীকার করা যে, ইন্দো-প্যাসিফিক শতাব্দীতে প্রভাব আসবে স্বনির্ভরতা থেকে নয়, বরং বিশ্বের এমন এক কারখানা হয়ে ওঠার মাধ্যমে যাকে এড়িয়ে যাওয়া যায় না।

উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য জলবায়ু ঝুঁকির মূল্য নির্ধারণে আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর অক্ষমতার সমালোচনাটি তীক্ষ্ণ এবং প্রয়োজনীয়। তবে, অভিযোজনের জন্য অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের উপর নির্ভরতা একটি আর্থিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করে, এবং  তা এই সমীক্ষায় স্বীকার করা হলেও পুরোপুরি সমাধান করা হয়নি, শুধু বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাঙ্ক (এমডিবি) সংস্কারের অব্যাহত প্রয়োজনীয়তার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

উন্নয়নের "ব্ল্যাক বক্স": কিছু প্রশ্ন

কিছু প্রশ্নের উত্তর এখনও বাকি। প্রথমত, সমীক্ষার দ্বিতীয় অংশে রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার প্রতি যে গুরুত্ব আরোপের কথা স্বীকার করা হয়েছে, তা জরুরি এবং সময়োপযোগী। তবে, রাজনৈতিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জটি রয়েই গিয়েছে: সক্রিয় তদন্তকারী সংস্থা-‌সহ একটি কোলাহলপূর্ণ গণতন্ত্রে আমলাতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য "নিরাপদ পরিসর" তৈরি করার কথা বলা যতটা সহজ, কাজটা ততটা সহজ নয়। দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক পরিকাঠামো হিসেবে নগরায়ণের কথা বলতে গিয়ে সমীক্ষাটি ভারতীয় শহরগুলির আর্থিক দুর্বলতার এক উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে। বড় শহরগুলিতে ব্যয়ের ৪০ শতাংশেরও কম নিজস্ব উৎস থেকে আয় হওয়ায়, শহরগুলিকে বৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে দেখার স্বপ্নটি রাজ্য এবং কেন্দ্রের উপর তাদের আর্থিক নির্ভরতার কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মিউনিসিপ্যাল বন্ড এবং সম্পত্তি কর সংস্কারের আহ্বান অর্থনৈতিকভাবে যুক্তিযুক্ত হলেও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল। ৭৪তম সংশোধনীর সাংবিধানিক পুনরুজ্জীবন ছাড়া, শহরগুলি তাদের অর্থনৈতিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও  প্রশাসনিকভাবে স্থবির থেকে যেতে পারে। তৃতীয়ত, ম্যানুফ্যাকচারিং নিয়ে আলোচনা করার সময় সমীক্ষাটি উচ্চ-মূল্যের পরিষেবাগুলির (ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ডিজাইন, অর্থ, স্বাস্থ্য এবং জ্ঞান-নিবিড় রপ্তানি) ক্রমবর্ধমান জটিলতাকে অবমূল্যায়ন করেছে, যেগুলি ক্রমবর্ধমানভাবে একই ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক এবং নিয়ন্ত্রক চাহিদা প্রদর্শন করছে। চতুর্থত, রাষ্ট্রীয় স্তরের রাজস্ব জনতুষ্টিবাদকে একটি সার্বভৌম ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করার সময় উপদেশ ও স্বচ্ছতার বাইরে গিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রণোদনা পুনর্বিন্যাসের জন্য নীতিগত সরঞ্জামগুলির প্রতি খুব কমই মনোযোগ দেওয়া হয়েছে।

উপসংহার

এতে কোনও সন্দেহ নেই যে ইএস ২০২৫-২৬ একটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন এবং একটি কৌশলগত ইশতেহার উভয় হিসেবেই বি‌বর্তিত হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ উন্নয়নের পথের জন্য অ্যাজেন্ডা নির্ধারণ করে। এর মূল অবদান হল একটি একক প্রাতিষ্ঠানিক ও ভূ-অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে বৃদ্ধি, ম্যানুফ্যাকচারিং, জলবায়ু পরিবর্তন এবং নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণকে পুনঃস্থাপন করা। এর প্রধান সীমাবদ্ধতা নিহিত এর কার্যকারিতার গভীরতায়, যা বোঝা যায় এর উচ্চস্তরের প্রাতিষ্ঠানিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভারতের জটিল যুক্তরাষ্ট্রীয়, নিয়ন্ত্রক ও প্রশাসনিক পরিমণ্ডলে তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সুনির্দিষ্ট নীতিগত উপকরণগুলির মধ্যকার দূরত্ব থেকে ।



নীলাঞ্জন ঘোষ অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট - ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Author

Nilanjan Ghosh

Nilanjan Ghosh

Dr Nilanjan Ghosh heads Development Studies at the Observer Research Foundation (ORF) and serves as the operational and executive head of ORF’s Kolkata Centre. He ...

Read More +