Author : Veer Puri

Expert Speak Raisina Debates
Published on Jun 12, 2026 Updated 2 Days ago


২০২৬ সালের হরমুজ সংকট প্রমাণ করেছে যে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চোকপয়েন্ট-‌এর নিয়ন্ত্রণ শুধু বৈশ্বিক চলাচল ব্যাহত করতেই নয়, বরং সেখানে প্রবেশের শর্তাবলি নতুন করে  নির্ধারণ করতেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

সংযোগ ব্যবস্থা যখন জবরদস্তির হাতিয়ার: ইরান কীভাবে হরমুজ প্রণালীকে দরকষাকষির শক্তিতে পরিণত করেছে

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। স্বল্পমেয়াদি নীতি-নির্ধারণী  আলোচনায় মূলত তেলের দাম এবং জ্বালানি পরিবহণের পথ পরিবর্তনের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। তবে এ দুটি বিষয়ই আসলে একটি বৃহত্তর কৌশলেরই অংশ। এই প্রণালীটি তেল পরিবহণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ; বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের ২০ শতাংশই প্রতিদিন এর মধ্য দিয়ে যায়। এছাড়া, এই  সংকীর্ণ জলপথের ভেতর দিয়ে এএই-১ এবং ফ্যালকন -এর মতো সাবমেরিন কেবল বা সমুদ্রতলস্থ তারের সংযোগ রয়েছে, যা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল, দক্ষিণ এশিয়া এবং ইউরোপের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করে। ফলে, এই অবরোধ কোনও একক বা সাধারণ পদক্ষেপ ছিল না। এটিকে এমন এক কৌশলগত 'চোকপয়েন্ট' (‌অত্যন্ত সংকীর্ণ জলপথ)‌ বা নিয়ন্ত্রণবিন্দু হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ডিজিটাল সংযোগ এবং জ্বালানি সরবরাহ উভয়কেই একই ধরনের জবরদস্তিমূলক নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।


ইরানের এই পদক্ষেপটি বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়, বরং এটি এমন একটি মডেল যা অন্যরাও অনুসরণ করতে পারে; অর্থাৎ, কোনও গুরুত্বপূর্ণ সংযোগবিন্দুর ওপর ভৌগোলিক নিয়ন্ত্রণ থাকা যে কোনও রাষ্ট্রের কাছে এখন একটি কার্যকর কর্মপদ্ধতি বা 'টেমপ্লেট' প্রস্তুত রয়েছে।



হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার মাধ্যমে ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে সংযোগ-ব্যবস্থাকে জবরদস্তির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। তারা তাদের ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে কাঠামোগত সুবিধা আদায়, প্রতিপক্ষের উপর অসম বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ বোঝা চাপানো এবং এটি প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে যে, ভৌত পরিকাঠামোর উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে এখনো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। ইরানের এই পদক্ষেপটি বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়, বরং এটি এমন একটি মডেল যা অন্যরাও অনুসরণ করতে পারে; অর্থাৎ, কোনও গুরুত্বপূর্ণ সংযোগবিন্দুর ওপর ভৌগোলিক নিয়ন্ত্রণ থাকা যে কোনও রাষ্ট্রের কাছে এখন একটি কার্যকর কর্মপদ্ধতি বা 'টেমপ্লেট' প্রস্তুত রয়েছে।

চিত্র ১: অবরোধের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ থেকে জাহাজ চলাচল প্রত্যাহারের আগের ও পরের অবস্থা।
Connectivity As Coercion How Iran Turned The Strait Of Hormuz Into Leverage

সূত্র: পোলস্টার গ্লোবাল পার্পলট্র্যাক  এবং কুওউ/এনপিআর

সংযোগ পরিকাঠামো হিসেবে কৌশলগত চোকপয়েন্ট

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। ২০২৫ সালে এই পথ দিয়ে প্রতিদিন  ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহণ করা হতো, যা ছিল বিশ্বের মোট তরল পেট্রোলিয়াম ব্যবহারের প্রায় ২০ শতাংশ। ইরানের অবরোধের ফলে এই সরবরাহ ব্যবস্থা থমকে যায়।

এর ফলে আরেকটি দুর্বলতাও সামনে আসে, যা আগে খুব একটা গুরুত্ব পায়নি। দক্ষিণ এশিয়া, উপসাগরীয় রাষ্ট্রসমূহ এবং ইউরোপের মধ্যে আর্থিক যোগাযোগ ও ইন্টারনেট ট্রাফিক আদান-প্রদানের জন্য ব্যবহৃত সাবমেরিন কেবল নেটওয়ার্কগুলোও (যেমন এএই-১ ফ্যালকন এবং গাল্ফ ব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল)‌ এই একই করিডোর ব্যবহার করে। হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের আধিপত্যের কারণে ডিজিটাল সংযোগ এবং জ্বালানি সরবরাহ—উভয় ব্যবস্থাই ইরানের জবরদস্তিমূলক কৌশলের শিকার হয়; অথচ উভয় ক্ষেত্রেই বিকল্প বা ব্যাকআপ ব্যবস্থার  অভাব ছিল প্রকট। এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না; বরং ইরানের কৌশলের মূল বৈশিষ্ট্য হয়ে ওঠা ‘সংযোগ-ভিত্তিক জবরদস্তি’র কাঠামোগত ভিত্তি ছিল এটি।

দ্বি-স্তরের সংযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের বাণিজ্যিক প্রভাব ছিল তাৎক্ষণিক। নিয়মিত নৌ-চলাচলের প্রায় ৯০ শতাংশ পথ পরিবর্তন করতে হয়েছিল; যুদ্ধের ঝুঁকির কারণে বাড়তি বিমা-খরচ যুক্ত হওয়ায় নিয়ম-কানুন মেনে চলা কোম্পানিগুলোর জন্য পরিবহণ কার্যক্রম বাণিজ্যিকভাবে অলাভজনক হয়ে পড়ে, এবং পথটি বন্ধ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামুদ্রিক বিমা কোম্পানিগুলি এই রুটের জন্য বিমা সুবিধা প্রত্যাহার করে নেয়। প্রণালীর উভয় পাশে প্রায় ৬০০টি তেল, গ্যাস ও কন্টেনারবাহী জাহাজ আটকা পড়ে। তবে ‘শ্যাডো ট্যাঙ্কার’ বা গোপন কার্যক্রম পরিচালনাকারী ট্যাঙ্কারগুলির ক্ষেত্রে এসব বিধিনিষেধ প্রযোজ্য ছিল না। পশ্চিমী বিমা, পতাকাবাহী দেশের নিয়মকানুন বা পিঅ্যান্ডআই ক্লাবের সদস্যপদ ছাড়াই তারা কোনও বাধা ছাড়াই এই প্রণালী দিয়ে চলাচল অব্যাহত রাখে। ‘লয়েডস লিস্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ১০ মার্চের মধ্যে ১০,০০০ ডিডব্লিউটি-এর বেশি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ট্যাঙ্কার ও গ্যাসবাহী জাহাজের অর্ধেকেরও বেশি ছিল এই ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা গোপন নৌবহরের জাহাজ চলাচল ।


হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। ২০২৫ সালে এই পথ দিয়ে প্রতিদিন ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহণ করা হতো, যা ছিল বিশ্বের মোট তরল পেট্রোলিয়াম ব্যবহারের প্রায় ২০ শতাংশ।



চলাচলের বা প্রবেশের ধরনটিই সেই বাধার প্রকৃতিকে উন্মোচন করে। এই পথ বন্ধ করার বিষয়টি কোনও খেয়ালখুশিমতো নেওয়া সিদ্ধান্ত ছিল না। এটি ছিল প্রবেশাধিকারের একটি ভিন্নধর্মী ব্যবস্থা, যা নিয়ম মেনে চলা পক্ষগুলিকে এই করিডোর থেকে দূরে রেখেছিল, অথচ পশ্চিম-নিয়ন্ত্রিত সামুদ্রিক ব্যবস্থার বাইরে থাকা পক্ষগুলিকে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশের সুযোগ দিয়েছিল। ইরান কেবল প্রণালীটি বন্ধই করেনি; বরং সেখানে  চলাচলের ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজিয়েছিল। এর ফলে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক ‘চোকপয়েন্ট’ বা অত্যন্ত সংকীর্ণ পথটি ইরানের একক নিয়ন্ত্রণে থাকা সংযোগ-ব্যবস্থার একটি ‘টোল বুথ’-এ পরিণত হয়েছিল। নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর ক্ষেত্রে ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা গোপন নৌবহরের উপস্থিতি কেবল একটি প্রমাণই ছিল না, বরং এটি ছিল সেই পুনর্গঠিত প্রবেশাধিকার ব্যবস্থার একটি হাতিয়ার।

প্রবেশাধিকারের নিয়মকানুন নতুন করে সাজানো

এই অবরোধের উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক প্রভাব পড়েছিল। ২০২৬ সালের মার্চের শুরুর দিকে, এই প্রণালী দিয়ে অতিক্রমকারী বিশাল আকৃতির অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজের (ভিএলসিসি) ভাড়া ৬০০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১৪ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায়। শুধু ৩ মার্চেই মধ্যপ্রাচ্য থেকে চিনে তেল পরিবহণের ভাড়া ৯৪ শতাংশ বেড়ে দৈনিক ৪,২৩,৭৩৬ মার্কিন ডলারে পৌঁছয়। এই অচলাবস্থা চলাকালীন ইরানের তেল রপ্তানি দৈনিক ১.৫ থেকে ১.৬ মিলিয়ন ব্যারেলের পর্যায়ে স্থিতিশীল ছিল, যা থেকে দেশটি প্রতিদিন অতিরিক্ত ১৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করছিল। এই সংখ্যাগুলি তাৎপর্যপূর্ণ হলেও, মূল বিষয় নয়।

রাজস্ব আয় ছিল এর একটি আনুষঙ্গিক ফলাফল মাত্র; কৌশলগত লক্ষ্য ছিল প্রতিপক্ষকে বাধ্য করা। ইরান শর্ত দিয়েছিল যে, ২০২৬ সালের এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত কেবল তাদের ‘ বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থা’র নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়ের মাধ্যমেই এই প্রণালী দিয়ে চলাচল করা যাবে। বিশ্বের মোট তেল পরিবহণের এক-পঞ্চমাংশ যে জলপথ দিয়ে সম্পন্ন হয়, তার উপর ইরানের নিয়ন্ত্রণকে স্বীকৃতি দেওয়াই ছিল পথটি পুনরায় খোলার পূর্বশর্ত। ইরান চলাচলের অধিকার ‘পুনরুদ্ধার’ করেনি; বরং তারা নিজেদের শর্তে সেই অধিকার ‘প্রদান’ করেছিল।

চলাচলের অধিকার পুনরুদ্ধার না করে বরং তা ‘প্রদান’ করার বিষয়টিই ইরানের কৌশলের মূল তাৎপর্য বহন করে: গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর নিয়ন্ত্রণকারী কোনও রাষ্ট্রের পক্ষে বৈশ্বিক সংযোগের শর্তাবলি নতুন করে সাজানোর জন্য সামরিক সমতা বা কূটনৈতিক প্রভাবের প্রয়োজন হয় না। ইরান যা দেখিয়েছিল, তা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বিষয়। প্রণালীটি পুনরায় খোলার শর্তাবলি নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে তারা বৈশ্বিক সংযোগ-ব্যবস্থা পরিচালনাকারী নিয়মগুলিকে এড়িয়ে যায়নি, বরং সেগুলিকে নতুন করে লিখেছিল। এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞার পুরো কাঠামোটিই এমন এক প্রতিপক্ষের ধারণার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে যারা শুধু প্রতিক্রিয়া দেখায়—অর্থাৎ যারা নিষেধাজ্ঞা এড়ায়, পাশ কাটিয়ে চলে এবং চাপ সহ্য করে টিকে থাকে। ইরান এর কোনওটিই করেনি। বরং ভৌগোলিক অবস্থানকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে তারা নিজেরাই এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছিল। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রচেষ্টা সফল হওয়ায় কিংবা কূটনীতির জয় হওয়ায় এই প্রণালীটি পুনরায় খোলেনি। এটি পুনরায় চালু হয়েছে কারণ ইরান নিজেই তা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল—তাদেরই নির্ধারিত শর্তে এবং তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা-ব্যবস্থার কোনও প্রয়োগ-কৌশলই এই ধরনের প্রভাব বা কৌশলগত সুবিধাকে মোকাবিলা করার মতো করে তৈরি করা হয়নি। নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে সৃষ্ট এই চাপ বা বাধ্যবাধকতাটি কোনও আকস্মিক ঘটনা ছিল না; বরং এটিই ছিল পুরো প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য।

নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা

২০২৬ সালের শুরুর দিকে পশ্চিমী দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রচেষ্টায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হচ্ছিল। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং ভারত অন্তত সাতটি 'শ্যাডো ট্যাঙ্কার' (নিষেধাজ্ঞা এড়াতে গোপনে ব্যবহৃত তেলবাহী জাহাজ) আটক বা তল্লাশি করেছিল । মার্কিন সেনেটে শ্যাডো ফ্লিটের জাহাজ এবং সেগুলির পরিচালকদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি আইন প্রস্তাব করা হয়েছিল। যেসব জাহাজ নিয়ম মানছিল না, সেগুলির নিবন্ধন বাতিল করার জন্য সংশ্লিষ্ট পতাকাবাহী দেশগুলোর উপর চাপ বাড়ছিল। যদিও ব্যবহৃত পদ্ধতিগুলি নিখুঁত ছিল না, তবুও সামগ্রিক অগ্রগতির দিকটি ছিল স্পষ্ট।


ইরান প্রমাণ করেছে যে, একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ পথের নিয়ন্ত্রণে থাকা নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত কোনও রাষ্ট্র সামরিক উত্তেজনাকে বৈশ্বিক সংযোগের উপর কাঠামোগত প্রভাবে রূপান্তরিত করতে পারে, বিশ্ব বাণিজ্যের পথ পরিবর্তনে বাধ্য করতে পারে, এবং নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার প্রয়োগকারীকে তার নিজের নিয়মকানুন স্থগিত করতে বাধ্য করতে পারে।



সংঘাতটি প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই সেই অগ্রগতির গতিপথ বদলে দেয়। বিশ্ববাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল করার অজুহাতে, ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৬ সালের মার্চ মাসে 'অফিস অফ ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল'-এর মাধ্যমে জাহাজগুলিতে আগে থেকেই বোঝাই করা ইরানি ও রুশ তেল  বিক্রির জন্য বিশেষ ছাড় আদায় করে নেয়। এমন এক সময়ে যখন সংকটটি তেলের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছিল, তখন এই সিদ্ধান্তের ফলে কার্যত নিষেধাজ্ঞাধীন তেল বাজারে সাময়িকভাবে বৈধ প্রবেশের সুযোগ পায়। 'কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস'-এর মতে, এই ছাড়ের ফলে তেলের দাম কমার পরিবর্তে ইরান ও রাশিয়া বাজারের দাম নির্ধারণকারী এমন শক্তিতে পরিণত হয় যারা বাজারের নির্ধারিত দাম মেনে নেয় না ।

বৈশ্বিক যোগাযোগ কাঠামোর মধ্যে ইরানের সেই 'চোকপয়েন্ট' নিয়ন্ত্রণ এতটাই গভীরভাবে প্রোথিত ছিল যে, নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী রাষ্ট্রটি নিজেই তার প্রয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করতে বাধ্য হয়। এই চাপ শুধু বাজারে প্রভাব ফেলেনি, বরং তা নিষেধাজ্ঞা আরোপকারীর রাজনৈতিক সদিচ্ছার উপরও প্রভাব ফেলেছিল। এই অংশের মূল বক্তব্যটি ঠিক এখানেই নিহিত: নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য তৈরি কোনও প্রয়োগ-কাঠামোর কাছে এই ধরনের 'কৌশলগত সুবিধা'র কার্যকর জবাব নেই। যখন প্রতিপক্ষ কোনও গুরুত্বপূর্ণ সংযোগবিন্দু বা 'নোড' নিয়ন্ত্রণ করে, তখন লক্ষ্যবস্তুর উপর চাপ সৃষ্টি হয় না; বরং সেই চাপ নিষেধাজ্ঞা আরোপকারীর উপরই গিয়ে পড়ে। বর্তমানে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের যে পদ্ধতি বা 'টুলকিট' বিদ্যমান, তা পরিস্থিতির এই বিপরীতমুখী পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়নি।

উপসংহার

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের ঘটনাগুলি কোনো ব্যতিক্রম ছিল না। এগুলি ছিল একটি দৃষ্টান্ত। ইরান প্রমাণ করেছে যে, একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ পথের নিয়ন্ত্রণে থাকা নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত কোনও রাষ্ট্র সামরিক উত্তেজনাকে বৈশ্বিক সংযোগের উপর কাঠামোগত প্রভাবে রূপান্তরিত করতে পারে, বিশ্ব বাণিজ্যের পথ পরিবর্তনে বাধ্য করতে পারে, এবং নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার প্রয়োগকারীকে তার নিজের নিয়মকানুন স্থগিত করতে বাধ্য করতে পারে। এই মডেলটি সহজেই অনুকরণযোগ্য। তুলনীয় কোনও সংকীর্ণ পথ নিয়ন্ত্রণকারী যে কোনও রাষ্ট্রের কাছে এখন অনুসরণ করার মতো একটি কার্যকর নজির রয়েছে। পশ্চিমী বিশ্বের কাছে প্রয়োগের সরঞ্জাম রয়েছে, কিন্তু সেই সরঞ্জামগুলি এমন এক বিশ্বের জন্য তৈরি করা হয়েছিল যেখানে প্রতিপক্ষরা সংযোগের শৃঙ্খলা এড়িয়ে চলে। এগুলি এমন প্রতিপক্ষের জন্য তৈরি করা হয়নি যারা একে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে।



বীর পুরি অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর নিউ ইকনমিক ডিপ্লোম্যাসি-র গবেষণা সহকারী।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.