যৌথ ভাবে পরিচালিত কার্বন নিঃসরণ হ্রাস তহবিল এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এসএমই) কেন্দ্রিক মানদণ্ড সংস্কারের মাধ্যমে সিবিএএম-কে বাণিজ্য-সংক্রান্ত বিরোধের উৎস থেকে জলবায়ু বিষয়ক সহযোগিতার অনুঘটকে রূপান্তর করা সম্ভব।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাণিজ্য ও জলবায়ু নীতির ক্ষেত্রে ‘কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম’ (সিবিএএম) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত বিষয় হয়ে উঠেছে। ভারতের জন্য এটি কেবল একটি কারিগরি বা পদ্ধতিগত সমস্যা নয়; বরং এটি এমন এক মৌলিক চ্যালেঞ্জ, যা দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি এবং একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণ কমানোর (ডিকার্বনাইজেশন) প্রক্রিয়ার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। অন্য দিকে, ইইউ-এর কাছে সিবিএএম একটি জটিল ও কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার লক্ষ্যে প্রণীত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবিধান। সিবিএএম-কে কেন্দ্র করে ভারত ও ইইউ-এর মধ্যকার সম্পর্কের সঠিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি। শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের খাতিরেই নয়, বরং ‘গ্লোবাল নর্থ’ (উন্নত বিশ্ব) ও ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর (উন্নয়নশীল বিশ্ব) মধ্যে জলবায়ু বিষয়ক সহযোগিতার একটি আদর্শ মডেল হিসেবেও এটি গুরুত্বপূর্ণ।
এ ক্ষেত্রে মতপার্থক্যের বিষয়গুলি বাস্তব এবং সুনির্দিষ্ট। সিবিএএম উল্লেখযোগ্য ও দৃশ্যমান আর্থিক ব্যয় এবং নিয়মকানুন মেনে চলার (কমপ্লায়েন্স) বোঝা চাপিয়ে দেয়। ভারতের যে পণ্যগুলি সিবিএএম-এর আওতাভুক্ত, তার মোট রফতানি মূল্যের প্রায় ৯০ শতাংশই আসে লৌহ ও ইস্পাত খাত থেকে। ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ইইউ-তে ভারতের লৌহ ও ইস্পাত রফতানির উপর আরোপিত সিবিএএম শুল্কের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৫ বিলিয়ন ইউরোতে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের (এসএমই) — যারা ভারতের জিডিপির প্রায় ৩০ শতাংশ, উৎপাদন খাতের আউটপুটের ৪৫ শতাংশ এবং রফতানির ৪০ শতাংশের জোগান দেয় — তাদের জন্য এই নিয়মকানুন মেনে চলার বিষয়টি বিশেষত কঠিন। তথ্যসমূহ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, যাচাই-বাছাই বা তথ্যের সত্যতা প্রমাণের জটিলতার কারণে ইইউ-তে ভারতের ইস্পাত রফতানি ইতিমধ্যেই হ্রাস পাচ্ছে।
এর পাশাপাশি শাসনকাঠামো বা নীতি-নির্ধারণী প্রক্রিয়ার একটি গভীরতর বিষয়ও জড়িত রয়েছে। তৃতীয় কোনও দেশের অভ্যন্তরীণ নীতিকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে ইইউ যে সব পদক্ষেপ নেয়, সেগুলির শাসনগত বা নীতিগত দিক নিয়ে বিভিন্ন বহুপাক্ষিক ফোরামে উদ্বেগ প্রকাশে ভারত অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। ব্রাসেলস থেকে নেওয়া একতরফা কোনও সিদ্ধান্ত যখন ভারতের শিল্পনীতিকে প্রভাবিত করে, তখন তা কেবল শুল্কহারের বিষয়কে ছাড়িয়ে সার্বভৌমত্বের প্রশ্নকেও সামনে নিয়ে আসে।
এ ধরনের তহবিল ‘গ্রিন স্টিল’ বা পরিবেশবান্ধব ইস্পাত উৎপাদনের ক্ষেত্রে মূলধনী ও পরিচালন ব্যয়ের বাড়তি খরচ মেটাতে, নিঃসরণ পর্যবেক্ষণ, প্রতিবেদন ও যাচাইকরণ (এমআরভি) পরিকাঠামো গড়ে তুলতে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে (এসএমই) কারিগরি সহায়তা দিতে এবং যৌথ উদ্যোগে প্রযুক্তিগত কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করবে।
তবে উভয় পক্ষের কূটনৈতিক অবস্থানে পরিবর্তন আসছে। ভারতের নীতিনির্ধারক ও চিন্তাবিদরা এখন কেবল ‘কী ভাবে সিবিএএম-এর বিরোধিতা করা যায়’…তা নিয়ে ভাবছেন না; বরং ‘সিবিএএম কী ভাবে ভারতের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে’… সে বিষয়েও তাঁরা মনোযোগ দিচ্ছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দিক থেকেও এটি ক্রমশ স্বীকৃত হচ্ছে যে, সম্পূর্ণ নতুন ধরনের পদক্ষেপ হিসেবে সিবিএএম স্বভাবতই নিখুঁত নয় এবং এর বিবর্তন বা উন্নয়ন অব্যাহত রাখা প্রয়োজন, যার মধ্যে বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে আরও ভাল আলোচনার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত। জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত ইইউ-ভারত দিল্লি শীর্ষ সম্মেলনে গৃহীত প্রতিশ্রুতিগুলি উভয় পক্ষের জন্য গঠনমূলক সমাধান খোঁজার ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদে একটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।
দু’টি প্রস্তাব এ ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে।
প্রথমটি হল ‘ভারত সিবিএএম লেভি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিকার্বনাইজেশন ফান্ড’ (শিল্প কার্বন নিঃসরণ হ্রাস তহবিল)। ভারত সিবিএএম রফতানি শুল্ক বা লেভি আদায় করবে এবং সেই অর্থ শিল্পখাতে কার্বন নিঃসরণ কমানো বা ডিকার্বনাইজেশনের কাজে ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট করে রাখবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন সিবিএএম-এর ৯ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় এই ব্যবস্থাকে স্বীকৃতি দিতে পারে। তবে এই স্বীকৃতি নির্দিষ্ট ব্যবহারের শর্তসাপেক্ষ হওয়া উচিত এবং এর সঙ্গে ইউরোপের পক্ষ থেকে সমপরিমাণ অর্থ (ম্যাচিং ফান্ডস) প্রদানের বিষয়টিও যুক্ত থাকা প্রয়োজন, যাতে লক্ষ্য বাস্তবায়নে যৌথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা যায়। ২০২৭-২৮ সালের অনুমান অনুযায়ী, এই তহবিলটি ভারতের শিল্পখাতে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্যে প্রায় ১ বিলিয়ন ইউরো জোগান দিতে পারে: যার মধ্যে ৫০০ মিলিয়ন ইউরো আসবে রফতানি শুল্ক থেকে এবং বাকি ৫০০ মিলিয়ন ইউরো আসবে ইউরোপীয় জলবায়ু অর্থায়ন খাত থেকে। এ ধরনের তহবিল ‘গ্রিন স্টিল’ বা পরিবেশবান্ধব ইস্পাত উৎপাদনের ক্ষেত্রে মূলধনী ও পরিচালন ব্যয়ের বাড়তি খরচ মেটাতে, নিঃসরণ পর্যবেক্ষণ, প্রতিবেদন ও যাচাইকরণ (এমআরভি) পরিকাঠামো গড়ে তুলতে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে (এসএমই) কারিগরি সহায়তা দিতে এবং যৌথ উদ্যোগে প্রযুক্তিগত কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করবে। প্রাথমিক ভাবে দুই বছরের একটি পাইলট প্রকল্প এবং সেই সঙ্গে ২০২৯-৩০ সালের জন্য পুনরায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার বিষয়ে পর্যালোচনার সুযোগ থাকলে, উভয় পক্ষই ফলাফল মূল্যায়ন করার এবং পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলার সুযোগ পাবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) প্রায়শই বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণমূলক মানদণ্ড নির্ধারণ করে এবং এর পর তাদের নিজস্ব এসএমই-গুলিকে সেই মানদণ্ডের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য বাড়তি সময় ও সহজতর অন্তর্বর্তীকালীন শর্তাবলি প্রদান করে। ভারত ও ইউরোপের উচিত যৌথ ভাবে একই নীতি অনুসরণ করা — অর্থাৎ উন্নয়নশীল অর্থনীতির এসএমই-গুলির জন্য এমন একটি ‘মানদণ্ড-সোপান’ (স্ট্যান্ডার্ডস ল্যাডার) বা পর্যায়ক্রমিক কাঠামো তৈরি করা, যা সিবিএএম-এর নির্ধারিত সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি বাস্তবসম্মত ও ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ করে দেয়।
দ্বিতীয় প্রস্তাবটি হল উন্নয়নশীল দেশগুলির ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের (এসএমই) জন্য মানদণ্ড সহজীকরণের লক্ষ্যে একটি ইইউ-ভারত যৌথ কর্মদল গঠন করা। সিবিএএম-এর আওতায় প্রথম বারের মতো সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে যে, কী ভাবে উন্নয়নশীল অর্থনীতির এসএমই-গুলির ক্ষেত্রে জলবায়ু বিষয়ক আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতি — ‘ভিন্ন ভিন্ন সক্ষমতা’ (ডিফারেনশিয়েটেড ক্যাপাসিটি) — প্রয়োগ করা যায়। ভারতের বড় সংস্থাগুলি বিশ্বের যে কোনও প্রতিষ্ঠানের মতোই সিবিএএম-এর নিয়ম মেনে কাজ করতে সক্ষম। কিন্তু ভারতের মোট ইস্পাত উৎপাদনের ৪০ শতাংশই আসে এসএমই খাত থেকে। এ ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কারিগরি সহায়তা প্রয়োজন হলেও তা যথেষ্ট নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) প্রায়শই বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণমূলক মানদণ্ড নির্ধারণ করে এবং এর পর তাদের নিজস্ব এসএমই-গুলিকে সেই মানদণ্ডের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য বাড়তি সময় ও সহজতর অন্তর্বর্তীকালীন শর্তাবলি প্রদান করে। ভারত ও ইউরোপের উচিত যৌথ ভাবে একই নীতি অনুসরণ করা — অর্থাৎ উন্নয়নশীল অর্থনীতির এসএমই-গুলির জন্য এমন একটি ‘মানদণ্ড-সোপান’ (স্ট্যান্ডার্ডস ল্যাডার) বা পর্যায়ক্রমিক কাঠামো তৈরি করা, যা সিবিএএম-এর নির্ধারিত সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি বাস্তবসম্মত ও ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ করে দেয়। একটি স্বল্প-ব্যয়ের ও ব্যবহার-বান্ধব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম — যা বিশ্বব্যাপী যৌথ ভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে — স্থিতিশীল উন্নয়ন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত মানদণ্ডগুলির বিষয়ে একটি ‘ওয়ান-স্টপ শপ’ বা একক সমাধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করতে পারে।
সামগ্রিক ভাবে এই প্রস্তাবগুলি সিবিএএম সংক্রান্ত কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক জটিলতা বা প্রতিবন্ধকতাগুলি নিরসনে সহায়তা করবে। জলবায়ু, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের মতো বিষয়গুলি নিয়ে গঠিত দ্বিপাক্ষিক অ্যাজেন্ডার ক্ষেত্রে এগুলি রাজনৈতিক জটিলতা বা ধীর গতির হ্রাস ঘটাবে। এ ছাড়া এগুলি এমন একটি কর্মপরিবেশ তৈরি করবে, যেখানে সিবিএএম-এর যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সংক্রান্ত কারিগরি বিষয়গুলির সমাধান এবং ভারতের ‘কার্বন ক্রেডিট ট্রেডিং স্কিম’-এর (সিসিটিএস) সঙ্গে এর সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
বিশ্বের শীর্ষ দশটি ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশের মধ্যে ভারতের বর্তমান নিঃসরণের হার (এমিশন ইন্টেনসিটি) সবচেয়ে বেশি। ইস্পাত উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধির বৈশ্বিক প্রক্রিয়াটি মূলত ভারতেই ঘটছে। ভারতের শিল্পখাতকে কার্বন-মুক্ত করার বিষয়টি ছাড়া কোনও বিশ্বাসযোগ্য বৈশ্বিক জলবায়ু কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, তারা পুরো বিষয়টিকেই একটি নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করবে। ভারতীয় ইস্পাত শিল্পকে কার্বন-মুক্ত করা কেবল একটি দ্বিপাক্ষিক বিষয় নয়। এটি বৈশ্বিক জলবায়ু রক্ষার ক্ষেত্রেও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের ইস্পাত উৎপাদন দ্বিগুণ এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে চার গুণ হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে; তখন বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশই আসবে ভারত থেকে। বিশ্বের শীর্ষ দশটি ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশের মধ্যে ভারতের বর্তমান নিঃসরণের হার (এমিশন ইন্টেনসিটি) সবচেয়ে বেশি। ইস্পাত উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধির বৈশ্বিক প্রক্রিয়াটি মূলত ভারতেই ঘটছে। ভারতের শিল্পখাতকে কার্বন-মুক্ত করার বিষয়টি ছাড়া কোনও বিশ্বাসযোগ্য বৈশ্বিক জলবায়ু কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।
‘সমান আচরণ’-এর নীতি অনুযায়ী, সিবিএএম-এর আওতায় গৃহীত যে কোনও সমাধান নীতিগত ভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সকল বাণিজ্যিক অংশীদারের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। কোনও কিছু চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে যদি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারতের মধ্যে একটি সুপরিকল্পিত চুক্তি সম্পাদিত হয়, তবে তা উন্নত ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলির মধ্যে জলবায়ু বিষয়ক সহযোগিতার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আদর্শ উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।
জেসি স্কট অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো। পাশাপাশি ২০১৯ সাল থেকে তিনি বার্লিনের হার্টি স্কুলের অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকালটি।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Professor Jesse Scott is a Senior Fellow at the Observer Research Foundation, as well as adjunct faculty at the Hertie School in Berlin since 2019. ...
Read More +