Author : Harsh V. Pant

Published on May 25, 2026 Updated 0 Hours ago

মোদীর সংক্ষিপ্ত সফর গুরুত্বকে ম্লান করে না; সম্ভবত একত্রীকরণ এবং সংকট ব্যবস্থাপনার উপরই মনোযোগ থাকবে

ভারত ও সংযুক্ত আরব আমির‌শাহি: একটি নতুন কৌশলগত চুক্তি

নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে এবং ইতালি সফরের পথে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ১৫ মে আবুধাবিতে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি স্বল্প সময়ের হলেও, এটি কৌশলগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। মোদী প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের (এমবিজেড) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর মাধ্যমে উচ্চ-পর্যায়ের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার সেই ধারা অব্যাহত থাকবে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত-সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (‌ইউএই)‌ সম্পর্ককে সংজ্ঞায়িত করেছে।

এই সফরের সময়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা—যার মধ্যে হরমুজ প্রণালীকে প্রভাবিত করে এমন ইরানি কর্মকাণ্ড এবং ফুজাইরার মতো ইউএই’‌র কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অন্তর্ভুক্ত—বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলের ভঙ্গুরতাকে আবারও সামনে এনেছে। আমদানিকৃত হাইড্রোকার্বনের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ভারতের জন্য, ইউএই জ্বালানি নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তাই, বৈশ্বিক বাজারে এই চরম অনিশ্চয়তার মুহূর্তে নিরবচ্ছিন্ন তেল ও এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করা, দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি চুক্তি আরও গভীর করা, এবং বিকল্প জ্বালানি সহযোগিতার সম্ভাবনা অন্বেষণই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল।


উপসাগরীয় অঞ্চলে গভীর ভূ-রাজনৈতিক আলোড়ন চলার প্রেক্ষাপটে, ভারত নিজেকে শুধু একটি অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থযুক্ত একটি বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে।



এই সম্পর্কের নিরাপত্তাগত দিকটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই বছরের শুরুতে কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের (এসডিপি) জন্য স্বাক্ষরিত অভিপ্রায়পত্রটি কৌশলগত সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তন এনেছে। মোদীর এই সফর এই অ্যাজেন্ডাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে, বিশেষ করে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, আন্তঃকার্যক্ষমতা, সাইবার নিরাপত্তা, বিশেষ অভিযান এবং সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী সহযোগিতার ক্ষেত্রে। উপসাগরীয় অঞ্চলে গভীর ভূ-রাজনৈতিক আলোড়ন চলার প্রেক্ষাপটে, ভারত নিজেকে শুধু একটি অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থযুক্ত একটি বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে।

এই সফরের একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতীকী তাৎপর্যও রয়েছে। সাম্প্রতিক হামলায় শুধু আমিরশাহির পরিকাঠামোই নয়, ভারতীয় নাগরিকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এবং তারপর ভারতের এই উদ্যোগ সংহতির ইঙ্গিত দেয়। একই সময়ে, নয়াদিল্লি তার জটিল আঞ্চলিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে, ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যা পশ্চিম এশিয়ায় জোট রাজনীতির পরিবর্তে বাস্তবসম্মত বহু-জোটবদ্ধতার প্রতি ভারতের পছন্দকেই তুলে ধরে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে তা হল প্রবাসী ভারতীয়দের জন্য আপৎকালীন পরিকল্পনা। ইউএই-‌তে প্রায় চল্লিশ লক্ষ ভারতীয় কর্মরত থাকায়, আঞ্চলিক বিমানপথ বা সামুদ্রিক চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটলে তা ভারতের প্রবাসী জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

তাৎক্ষণিক উদ্বেগের ঊর্ধ্বে, এই সফরটি গত দশকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য রূপান্তরকে আরও জোরদার করে। এই সম্পর্কটি মূলত হাইড্রোকার্বন এবং প্রবাসী শ্রমিকদের কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি লেনদেনমূলক অংশীদারিত্ব থেকে পশ্চিম এশিয়ায় ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পর্কে পরিণত হয়েছে। পূর্বে, এই সম্পৃক্ততা প্রধানত উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহকারী এবং লক্ষ লক্ষ ভারতীয় শ্রমিকের গন্তব্যস্থল হিসেবে সংজ্ঞায়িত ছিল। কিন্তু আজ, এই সম্পর্কটি বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, পরিকাঠামো, খাদ্য নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, লজিস্টিকস এবং উন্নত উদ্ভাবন খাতকে অন্তর্ভুক্ত করে আরও বিস্তৃত একটি কৌশলগত পরিধি লাভ করেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং প্রেসিডেন্ট এমবিজেড-এর মধ্যকার রাজনৈতিক রসায়ন এই পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করেছে, যা এই অংশীদারিকে অভূতপূর্ব কৌশলগত দিকনির্দেশনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক গভীরতা দিয়েছে।

এই নতুন অংশীদারির কেন্দ্রীয় স্তম্ভ হিসেবে অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা আবির্ভূত হয়েছে। ২০২২ সালের ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তিটি গভীরতর অর্থনৈতিক একীকরণের জন্য একটি কাঠামোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন চিহ্নিত করেছে। এরপর থেকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্রুত প্রসারিত হয়েছে, এবং ইউএই ভারতের অন্যতম বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার ও একটি প্রধান রপ্তানি গন্তব্য হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই সম্পর্ক এখন আর শুধু তেলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তেল-বহির্ভূত বাণিজ্য, পরিকাঠামো, বন্দর, লজিস্টিকস, ফিনটেক, ডিজিটাল বাণিজ্য এবং ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রে বিনিয়োগ এখন পারস্পরিক সম্পৃক্ততার প্রধান চালিকাশক্তি। ইউএই-‌ও ভারতের দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে, বিশেষ করে নবায়নযোগ্য শক্তি, নগর পরিকাঠামো, খাদ্য করিডোর এবং কৌশলগত শিল্প প্রকল্পের মতো খাতে, নিজেকে একটি প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক বিনিময়ের পরিবর্তে ক্রমবর্ধমানভাবে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পারস্পরিক নির্ভরশীলতার যুক্তিকেই প্রতিফলিত করছে।


প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং প্রেসিডেন্ট এমবিজেড-এর মধ্যকার রাজনৈতিক রসায়ন এই পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করেছে, যা এই অংশীদারিকে অভূতপূর্ব কৌশলগত দিকনির্দেশনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক গভীরতা দিয়েছে।



এই অংশীদারির কৌশলগত ও নিরাপত্তাগত দিকগুলিও ব্যাপকভাবে গভীর হয়েছে। সহযোগিতা এখন প্রচলিত সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী সমন্বয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, সাইবার নিরাপত্তা এবং সামরিক আন্তঃকার্যক্ষমতার মতো ক্ষেত্রগুলিতেও বিস্তৃত হয়েছে। প্রস্তাবিত এসডিপি বৃহত্তর ভারত মহাসাগর ও উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি নিরাপত্তা প্রদানকারী হিসেবে পরিচিত হওয়ার জন্য ভারতের ক্রমবর্ধমান উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করে। ইউএই-‌র জন্য, ভারত এমন এক সময়ে একটি স্থিতিশীল ও ক্রমবর্ধমান সক্ষম অংশীদারিত্বের প্রস্তাব দেয়, যখন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো অনিশ্চিত এবং বৈদেশিক শক্তিগুলির দায়বদ্ধতা কম অনুমানযোগ্য বলে মনে হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা, সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে বিঘ্ন এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির ব্যাপক সামরিকীকরণের প্রেক্ষাপটে এই সমন্বয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ভূ-রাজনৈতিক স্তরে, ভারত-ইউএই অংশীদারি উদীয়মান বহুকেন্দ্রিক ব্যবস্থার পরিবর্তনশীল প্রকৃতিকে প্রতিফলিত করে। উভয় দেশই নিজেদেরকে একটি খণ্ডিত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকামী বাস্তববাদী অংশীদার হিসেবে দেখে। এই সহযোগিতা মতাদর্শ দ্বারা কম এবং কার্যকরী সমন্বয়—যেমন অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণ, প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণ, জ্বালানি রূপান্তর এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা—দ্বারা বেশি চালিত হয়। ইউএই’‌র ভিশন ২০৩১ এবং ভারতের নিজস্ব উন্নয়নমূলক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এক স্বাভাবিক পরিপূরকতা তৈরি করে, বিশেষ করে পরিচ্ছন্ন শক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মহাকাশ প্রযুক্তি, স্মার্ট পরিকাঠামো এবং ডিজিটাল সংযোগের মতো ক্ষেত্রগুলিতে। আইটুইউটু এবং ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোরের মতো প্ল্যাটফর্মগুলি আরও স্পষ্টভাবে দেখায় যে, কীভাবে উভয় দেশই নিরাপত্তাকেন্দ্রিক না হয়ে অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত এবং সংযোগ-চালিত নতুন আঞ্চলিক কাঠামো তৈরি করার চেষ্টা করছে।

ইউএই কার্যকরভাবে উপসাগরীয় এবং বৃহত্তর পশ্চিম এশীয় অঞ্চলে ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রবেশদ্বার হয়ে উঠেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী আঞ্চলিক জোটগুলির সঙ্গে কার্যকরী সম্পর্ক বজায় রাখার প্রশ্নে আবুধাবির ক্ষমতা ক্রমবর্ধমান মেরুকৃত পরিবেশে নয়াদিল্লিকে মূল্যবান কূটনৈতিক নমনীয়তা প্রদান করে। একই সঙ্গে, ইউএই ভারতকে একটি বিশ্বস্ত দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হিসেবে দেখে, যার রয়েছে ব্যাপকতা, বাজারের গভীরতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং ভূ-রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা। এই অঞ্চলের অনেক বৈদেশিক শক্তির বিপরীতে, ভারতকে আদর্শগত বোঝা বা হস্তক্ষেপমূলক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে তুলনামূলকভাবে মুক্ত বলে মনে করা হয়, যা এটিকে বৈচিত্র্যময় অংশীদারিত্বের সন্ধানে থাকা উপসাগরীয় দেশগুলির জন্য একটি আকর্ষণীয় কৌশলগত অংশীদার করে তোলে। এর ফলস্বরূপ, এই সম্পর্কটি এখন আর কোনও দেশের বিদেশনীতির অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে গৌণ নয়, বরং আঞ্চলিক শৃঙ্খলা ও বৈশ্বিক প্রভাব বিষয়ে তাদের নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গিতে এটি ক্রমশ একটি কেন্দ্রীয় স্থান দখল করছে।

সুতরাং, মোদীর সফরের সংক্ষিপ্ততা এর গুরুত্বকে আড়াল করতে পারে না। এর মূল লক্ষ্য শিরোনাম-আকর্ষণকারী কোনও ঘোষণা ছিল না; বরং, গুরুত্ব ছিল বাস্তবায়ন, সুসংহতকরণ এবং সংকট ব্যবস্থাপনার উপর। এটাই ইঙ্গিত দেয় যে এই অংশীদারি কতটা পরিণত ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এমন এক সময়ে যখন বিশ্ব রাজনীতি ক্রমবর্ধমানভাবে অস্থিরতা ও বিভাজন দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে, তখন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক তার পশ্চিম এশিয়া নীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা কেবল অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যই নয়, বরং এক অনিশ্চিত বহুকেন্দ্রিক বিশ্বে একটি প্রধান শক্তি হিসেবে ভারতের বৃহত্তর আকাঙ্ক্ষার জন্যও অপরিহার্য।



এই ভাষ্যটি প্রথম ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস  -‌এ প্রকাশিত হয়েছিল।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.