সম্পদ নয়, দক্ষতাই নির্ধারণ করবে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সবুজ রূপান্তর গ্লোবাল সাউথকে শক্তিশালী করবে, নাকি তার নির্ভরশীলতা আরও গভীর করবে।
আজ গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির সামনে প্রশ্নটি এমন নয় যে তাদের ডিজিটালাইজেশন এবং সবুজ অর্থনীতি গ্রহণ করা উচিত কি না, বরং প্রশ্ন হল তাদের অর্থনীতিগুলি এসবের থেকে সত্যিকার অর্থে উপকৃত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরি করতে ও ধরে রাখতে পারবে কি না। ভারত এবং লাতিন আমেরিকা উভয়ই অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিখেছে যে, অন্তর্ভুক্তি ছাড়া অর্থনৈতিক বৃদ্ধি অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে, এবং শিক্ষা ছাড়া প্রযুক্তি শুধু নির্ভরশীলতার দিকেই নিয়ে যায়। তাই তাদের উন্নয়নমূলক গতিপথের এই অভিসার গ্লোবাল সাউথ কীভাবে ডিজিটাল যুগে অংশগ্রহণ করবে, তা পুনর্বিবেচনা করার একটি সুযোগ এনে দিয়েছে।
লিথিয়াম ও তামা থেকে শুরু করে জলবিদ্যুৎ এবং সৌর করিডোর পর্যন্ত লাতিন আমেরিকায় অসাধারণ নবায়নযোগ্য ও খনিজ সম্পদ রয়েছে। তবে, কাঠামোগত প্রশ্নটি থেকেই যায়: এই সম্পদগুলি কি শিল্প রূপান্তরকে চালিত করবে, নাকি এর পরিবর্তে এই অঞ্চলকে এক নতুন ধরনের নির্ভরশীলতার মধ্যে আবদ্ধ করে ফেলবে? যদি লাতিন আমেরিকার দেশগুলি স্থানীয় প্রক্রিয়াকরণ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বা দক্ষ শ্রমশক্তি তৈরি না করে শুধু কাঁচা খনিজ রপ্তানির উপর মনোযোগ দেয়, তবে এই অঞ্চলটি "দক্ষতা ছাড়া সম্পদ"-এর ফাঁদে পড়তে পারে। আফ্রিকার বেশ কয়েকটি অর্থনীতিতে ইতিমধ্যেই এই চিত্র দেখা গিয়েছে, যেখানে কাঁচামাল রপ্তানি করা হয় অথচ মূল্য সংযোজন, প্রযুক্তি এবং সম্মানজনক কর্মসংস্থান হয় অন্যত্র।
লাতিন আমেরিকার অনেক সরকারই এই বিপদ সম্পর্কে এখন অনেক বেশি সচেতন বলে মনে হচ্ছে। ব্রাজিল, চিলি, পেরু এবং আর্জেন্টিনার মতো দেশগুলি বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি স্থানীয় মূল্য সংযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, টেকসই খনিজ উত্তোলন পদ্ধতি এবং কর্মশক্তি উন্নয়নের উপর জোর দিয়ে চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। এটি ভারতের জন্য একটি সুযোগ, যা উত্তোলনের পরিবর্তে সহ-উন্নয়নের মাধ্যমে তার সম্পৃক্ততাকে স্বতন্ত্র করতে সাহায্য করতে পারে। বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ -এর অনুকরণ না করে, ভারতের পন্থাটি বাজার প্রবেশের সঙ্গে সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল সহযোগিতা এবং মানব সম্পদ উন্নয়নকে যুক্ত করার লক্ষ্য রাখতে পারে।
গত এক দশকে, চিনের রাষ্ট্র-সমর্থিত সংস্থা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি লাতিন আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রে তাদের উপস্থিতি প্রসারিত করেছে। তারা আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া এবং চিলিতে লিথিয়াম প্রকল্পে, পেরুতে তামার কার্যক্রমে, এবং সবুজ রূপান্তরের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষিত করার উদ্দেশ্যে বন্দর, রেলপথ ও জ্বালানি পরিকাঠামোতে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করছে। যদিও এই মডেলটি অঞ্চলজুড়ে উত্তোলন ক্ষমতা এবং পরিকাঠামো নির্মাণকে ত্বরান্বিত করেছে, এটি প্রযুক্তিগত নির্ভরশীলতা, খনিজ মূল্য শৃঙ্খলের উপর কেন্দ্রীভূত নিয়ন্ত্রণ এবং লাতিন আমেরিকার অভ্যন্তরে সীমিত স্থানীয় উৎপাদন বা উচ্চ-মূল্যের শিল্প ক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
অসম্পূর্ণ সংযোগ: সবুজ অর্থনীতির জন্য দক্ষতা
ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘ফিউচার অফ জবস রিপোর্ট ২০২৫’ অনুসারে, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের ৮৪ শতাংশ নিয়োগকর্তা ডিজিটাল ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে তাঁদের নিজস্ব কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছেন। এ ছাড়া প্রায় ২ থেকে ৫ শতাংশ চাকরি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়করণের সম্ভাবনার সম্মুখীন। ইন্টার-আমেরিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের অনুমান অনুযায়ী, প্রায় ৬৩ শতাংশ গ্রামীণ পরিবারের স্থিতিশীল ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে, এবং প্রতি পাঁচজন কর্মীর মধ্যে একজনের চেয়েও কম সংখ্যকের প্রাথমিক ডিজিটাল সাক্ষরতা রয়েছে। যদিও ব্রাজিল, চিলি এবং উরুগুয়ের মতো দেশগুলি ব্রডব্যান্ড সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করেছে, তবুও দক্ষতা উন্নয়নের ঘাটতি প্রকটভাবেই রয়ে গিয়েছে।
দক্ষিণ গোলার্ধের শিক্ষা ব্যবস্থাগুলি তুলনামূলকভাবে ভাল অর্থায়ন পেলেও (২০২০ সালে যা জিডিপির প্রায় ৪.৬ শতাংশ ছিল) শ্রম বাজারের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে সেভাবে খাপ খাওয়াতে পারেনি। বৃত্তিমূলক এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ এখনও সীমিত বলে মনে হয়। উদাহরণস্বরূপ, ব্রাজিলে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ১১ শতাংশ বৃত্তিমূলক পথে প্রবেশ করে, যেখানে ওইসিডি দেশগুলিতে এই হার প্রায় ৪০ শতাংশ। অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান, যা এখনও এই অঞ্চলের শ্রমশক্তির ৫০ শতাংশেরও বেশি, সেটিও দক্ষতা প্রসারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। একই সময়ে উত্তর আমেরিকায় এবং ইউরোপে যোগ্য পেশাজীবীদের একটি ধারাবাহিক বহির্গমন ঘটছে, যাকে অর্থনীতিবিদরা মানব পুঁজির বহিঃপ্রবাহ (হিউম্যান ক্যাপিটাল লিকেজ) হিসেবে বর্ণনা করেন। ফলে লাতিন আমেরিকা একদিকে সম্প্রসারণশীল ডিজিটাল যাত্রা এবং অন্যদিকে পুরোপুরি প্রস্তুত নয় এমন একটি শ্রমশক্তির মাঝে পড়েছে। এটি এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করছে যা দুই ধরনের গতিবিশিষ্ট অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে — অর্থাৎ, যারা জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং যারা পারে না, তাদের মধ্যে একটি বিভাজন।
ভারতের ডিজিটাল উন্নয়ন কর্মপন্থা
নবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদন ক্ষমতা ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ গিগাওয়াটের বেশি করার পরিকল্পনার মাধ্যমে ভারত একটি সুস্পষ্ট দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই রূপান্তরকে স্থিতিশীল করতে ভারত প্রাতিষ্ঠানিক ও মানব সক্ষমতায় বিনিয়োগ করেছে। ‘স্কিল কাউন্সিল ফর গ্রিন জবস’ এবং সৌর ও বায়ুশক্তির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধকারী বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলির মতো উদ্যোগগুলি প্রযুক্তিবিদ, প্রকৌশলী এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপকদের একটি ধারাবাহিক সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। এই পদক্ষেপগুলি নিশ্চিত করে যে নবায়নযোগ্য শক্তির বৃদ্ধির সাথে সাথে দেশীয় সক্ষমতারও বৃদ্ধি ঘটবে, এবং ব্যবধান স্থায়ী হয়ে যাওয়ার আগেই লাতিন আমেরিকার জরুরি ভিত্তিতে এই সংযোগটি স্থাপন করা প্রয়োজন।
বিগত দুই দশকে ভারত একটি পরিষেবা-আউটসোর্সিং কেন্দ্র থেকে একটি বৈশ্বিক ডিজিটাল শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
বিগত দুই দশকে ভারত একটি পরিষেবা-আউটসোর্সিং কেন্দ্র থেকে একটি বৈশ্বিক ডিজিটাল শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ডিজিটাল ইন্ডিয়া, স্কিল ইন্ডিয়া এবং স্টার্টআপ ইন্ডিয়ার মতো উদ্যোগগুলির গুরুত্বপূর্ণ অবদানের ফলে সরকার এমন একটি বাস্তুতন্ত্র তৈরি করেছে যা সরকারি ডিজিটাল পরিকাঠামোকে বেসরকারি গবেষণা, উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনের সঙ্গে সংযুক্ত করে। ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে পঞ্চাশ লক্ষেরও বেশি পেশাদার কর্মরত আছেন এবং এটি জাতীয় জিডিপিতে প্রায় আট শতাংশ অবদান রাখে। দেশটি প্রতি বছর প্রায় ১৫ লক্ষ প্রকৌশলী তৈরি করে , এবং এখানে এক লক্ষেরও বেশি স্টার্টআপ রয়েছে, যা এটিকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম উদ্ভাবনী বাস্তুতন্ত্রে পরিণত করেছে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ভারত দেখিয়েছে যে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি এবং দক্ষতা পরস্পরবিরোধী হওয়ার কোনও কারণ নেই, কারণ ১৩০ কোটিরও বেশি মানুষ আধার বায়োমেট্রিক আইডি সিস্টেমের অধীনে নিবন্ধিত এবং অর্ধ বিলিয়নেরও বেশি মানুষ ইতিমধ্যেই ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস (ইউপিআই UPI )-এর মতো ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন। ভারত একটি স্বল্প-ব্যয়ী, উচ্চ-প্রভাবশালী ডিজিটাল শাসন মডেল তৈরি করেছে, যেখানে একটি লক্ষ্যের পরিবর্তে অন্যটিকে বেছে নেওয়ার কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। এসিআই ওয়ার্ল্ডওয়াইড রিপোর্ট ২০২৪ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী রিয়েল-টাইম পেমেন্ট লেনদেনের ৪৯ শতাংশই ছিল ভারতে, যা ডিজিটাল পেমেন্ট উদ্ভাবনে নেতৃত্বের একটি সুস্পষ্ট লক্ষণ। এবং ইউপিআই-এর আন্তঃসীমান্ত প্রসার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায়, ভারত বিশ্বজুড়ে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং ডিজিটাল ক্ষমতায়নের জন্য নতুন মানদণ্ড স্থাপন করছে বলে মনে হচ্ছে।
চিত্র ১: যেসব দেশে ইউপিআই চালু আছে
সূত্র: অর্থ মন্ত্রক
সম্ভবত ব্রাজিল, মেক্সিকো বা কলম্বিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে লাতিন আমেরিকা যদি অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তবে এটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও স্বচ্ছতা বাড়াতে পারে এবং একই সঙ্গে লেনদেনের খরচও কমাতে পারে।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা’র রাষ্ট্রীয় ভারত সফরের সময় এই সামগ্রিক দিকনির্দেশনা আরও গতি লাভ করে, যেখানে ডিজিটাল সহযোগিতা ভারত-ব্রাজিল সম্পর্কের একটি কেন্দ্রীয় স্তম্ভে পরিণত হয়েছিল। বর্তমানে, ব্রাজিলের পিআইএক্স সিস্টেম এবং ভারতের ইউপিআই উভয়ই বিশ্বের বৃহত্তম রিয়েল-টাইম পেমেন্ট সিস্টেমগুলির মধ্যে অন্যতম। এদের মধ্যেকার সাদৃশ্য একটি বৃহত্তর গ্লোবাল সাউথ-নেতৃত্বাধীন ডিজিটাল আর্থিক বাস্তুতন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়, যা পশ্চিমী আর্থিক পরিকাঠামোর উপর নির্ভরতার পরিবর্তে আন্তঃকার্যকারিতা, ক্রয়ক্ষমতা এবং প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্বের উপর নির্মিত। আলোচনা ক্রমশ কেন্দ্রীভূত হয়েছে ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মগুলিকে সংযুক্ত করা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ডিজিটাল মুদ্রাগুলির (সিবিডিসি) মধ্যে আন্তঃকার্যকারিতা অন্বেষণের উপরেও, বিশেষ করে যখন গ্লোবাল সাউথের দেশগুলি এমন বিকল্প খুঁজছে যা আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং প্রযুক্তিগত স্বায়ত্তশাসনকে শক্তিশালী করে। পেমেন্ট ব্যবস্থার বাইরেও, ভারতের এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬-এ লুলার উপস্থিতি উদীয়মান প্রযুক্তি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল শাসনব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে একটি বৃহত্তর কৌশলগত সমন্বয়ের বিষয়টিকেও তুলে ধরেছে।
ভবিষ্যৎ পথ: সক্ষমতার সমন্বয়
লাতিন আমেরিকার জন্য ভারতের একটি হুবহু রেপ্লিকা ব্লুপ্রিন্ট না হয়ে এমন একটি অংশীদার হওয়া উচিত যার সঙ্গে যৌথভাবে এমন কাঠামো তৈরি করা যায় যা স্থিতিশীল উন্নয়নের সঙ্গে দক্ষতার সমন্বয় ঘটায়। মানবসম্পদ উন্নয়নের উপর ভিত্তি করে একটি অংশীদারিত্ব কয়েকটি বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে শুরু হতে পারে, যেখানে ভারতীয় এডটেক সংস্থাগুলি লাতিন আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে সহযোগিতা করে ইংরেজি, স্প্যানিশ এবং পর্তুগিজ ভাষায় দ্বিভাষিক অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলবে।
লাতিন আমেরিকার জন্য ভারতের একটি হুবহু রেপ্লিকা ব্লুপ্রিন্ট না হয়ে এমন একটি অংশীদার হওয়া উচিত যার সঙ্গে যৌথভাবে এমন কাঠামো তৈরি করা যায় যা স্থিতিশীল উন্নয়নের সঙ্গে দক্ষতার সমন্বয় ঘটায়।
ব্যয়বহুল মালিকানাধীন সিস্টেমের উপর নির্ভর করার পরিবর্তে, ভারতের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলি প্রায়শই ওপেন-সোর্স আর্কিটেকচার এবং সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার উপর নির্ভর করে। শুধুমাত্র স্কিল ইন্ডিয়া মিশনই চল্লিশটিরও বেশি শিল্প ক্ষেত্রে ১৫ কোটিরও বেশি মানুষকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে, যেখানে আনুষ্ঠানিক যোগ্যতার চেয়ে কর্মসংস্থানযোগ্যতা এবং উদ্যোক্তা তৈরির উপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং বাজার সম্পৃক্ততার এই সংমিশ্রণটি উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলির জন্য একটি রূপরেখা প্রদান করে, যারা প্রযুক্তি ও জ্ঞানের প্রবেশাধিকার প্রসারিত করতে চাইছে।
শুধুমাত্র প্রচলিত বৃত্তির উপর নির্ভর না করে, ভারত এবং লাতিন আমেরিকা আইআইটি-গুলিকে শীর্ষস্থানীয় আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সঙ্গে যুক্ত করে ফলিত উদ্ভাবনের যৌথ কেন্দ্র স্থাপন করতে পারে। এই কেন্দ্রগুলি নবায়নযোগ্য শক্তি মডেলিং, ডিজিটাল গণ-পরিকাঠামো এবং স্থিতিশীল শিল্প নকশার উপর কাজ করতে পারে, যা এমন একটি ফিডব্যাক লুপ তৈরি করবে যেখানে দক্ষতা, প্রযুক্তি এবং গবেষণা একে অপরকে শক্তিশালী করবে এবং যৌথ সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতাকে সমর্থন করবে।
একই সঙ্গে বিশেষ কর ছাড় এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ভারতীয় প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে লাতিন আমেরিকায় বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করা যেতে পারে, যা প্রযুক্তি পরিষেবা এবং কর্মসংস্থানের জন্য আঞ্চলিক কেন্দ্র তৈরি করতে সাহায্য করবে। নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক এবং আইডিবি ইনভেস্ট-এর মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিও ডিজিটাল পরিকাঠামো, সবুজ শিল্পায়ন, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তি লালনের মতো ক্ষেত্রে যৌথ কার্যক্রমে অর্থায়নে আরও বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিছক সংকীর্ণ, লেনদেনমূলক বাণিজ্যিক সম্পর্কের সঙ্গে নয়, বরং বৃহত্তর উন্নয়নমূলক লক্ষ্যের সঙ্গেও সংযুক্ত হবে।
ঐতিহাসিকভাবে বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রান্তিক অবস্থানে থাকা লাতিন আমেরিকাও তার অংশীদারিত্বে বৈচিত্র্য আনতে এবং আরও স্বায়ত্তশাসিত আন্তর্জাতিক উপস্থিতির জন্য চাপ সৃষ্টি করতে চেষ্টা করছে। ভারতের জন্য, এই কৌশলটি একইভাবে তার বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা পূরণে সহায়ক, যার মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শাসনকে গ্লোবাল সাউথের দিকে পুনঃনির্দেশিত করার প্রচেষ্টা। উভয় অঞ্চলই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, বহুপাক্ষিকতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারে বিশ্বাসী, যদিও তাদের পথ ভিন্ন। সুতরাং, ভারত ও লাতিন আমেরিকার মধ্যে একটি গভীরতর অংশীদারিত্ব সংঘাতের মাধ্যমে নয়, বরং সরাসরি মানব কল্যাণে সহায়ক ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতার মাধ্যমে গ্লোবাল সাউথের দিকে ক্ষমতার ভারসাম্য পুনঃস্থাপনের বৃহত্তর প্রকল্পটিকে মূর্ত করে তুলবে। ডিজিটাল অর্থনীতি, দক্ষতা, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং উদীয়মান প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে ভারতের সাশ্রয়ী ও অভিযোজনযোগ্য উন্নয়ন মডেল এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা অবশ্যই ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সবুজ শিল্প রূপান্তরের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গ্লোবাল সাউথের আরও সহযোগিতামূলক প্রতিক্রিয়া গঠনে সহায়তা করতে পারে।
প্রকৃতি চৌধুরী অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের রিসার্চ ইন্টার্ন।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Prakreeti Chaudhary is a Research Intern at the Observer Research Foundation. ...
Read More +