Published on Mar 01, 2025 Updated 0 Hours ago

যুক্তরাজ্যের লেবার সরকারের লক্ষ্য জলবায়ু নেতৃত্বদান, কিন্তু অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, পরিকাঠামোগত ফাঁক, এবং নীতির অসঙ্গতিগুলি উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপে পরিণত করার ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে

যুক্তরাজ্যের জলবায়ু অ্যাজেন্ডা: উচ্চাকাঙ্ক্ষা বনাম সক্রিয়তা

পূর্ববর্তী কনজারভেটিভ সরকারকে জর্জরিত করেছিল অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, উচ্চ করহার ও কেলেঙ্কারির মতো মূল কারণগুলি;‌ তারপর ২০২৪ সালের ব্রিটিশ নির্বাচনে লেবার পার্টির ব্যাপক বিজয় আংশিকভাবে যুক্তরাজ্যকে (ইউকে) পরিচ্ছন্ন শক্তির সুপার পাওয়ার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তৈরি করা ইশতেহার দ্বারা চালিত হয়েছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পর, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে সরকার আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত কপ২৯ সম্মেলনে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করে

যদিও যুক্তরাজ্য বিশ্ব মঞ্চে তার জলবায়ু নেতৃত্বকে পুনরুদ্ধার করতে চায়, দেশটি অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলির সঙ্গে লড়াই করছে। কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো, সরকারি ঋণ দেশের জিডিপির
১০০ শতাংশে পৌঁছেছে, এবং অর্থনীতি টানা দুই মাস ধরে সংকুচিত হয়েছে। লেবার পার্টির ২০২৪ সালের নির্বাচনী  ইশতেহারে সতর্ক করা হয়েছে যে সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার বিষয়ে পদক্ষেপে বিলম্ব করা হলে তা জাতীয় ঋণ ও জিডিপির শতাংশের হার প্রায় তিনগুণ করে দিতে পারে। এদিকে, স্টর্ম বার্ট ও কোনালের কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার পরপরই স্টর্ম ডারাফ ইউকে জুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।


লেবার পার্টির ২০২৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে সতর্ক করা হয়েছে যে সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার বিষয়ে পদক্ষেপে বিলম্ব করা হলে তা জাতীয় ঋণ ও জিডিপির শতাংশের হার প্রায় তিনগুণ করে দিতে পারে।



লেবার সরকারের পরিবেশগত অ্যাজেন্ডা, যা বৃহত্তর অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গে গভীরভাবে গ্রথিত, হয়ে দাঁড়িয়েছে কনজারভেটিভ পার্টির সম্পূর্ণ বিপরীত, যেটি ছিল তাৎক্ষণিক খরচ বিবেচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ঋষি সুনাকের অধীনে কনজারভেটিভ  সরকার জলবায়ু দায়বদ্ধতা হ্রাস করেছিল, এবং তার ‘‌বিভাজনকারী ও নিষ্ঠুর জলবায়ু রাজনীতির’‌ জন্য
সমালোচিত হয়েছিল। তার উপর, কনজারভেটিভ পার্টির ২০২৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে আক্রমণ করা হয়েছিল সেই ধারণাকে যাকে এটি ‘‌অসাধ্য পরিবেশ-‌অত্যুৎসাহ’‌ হিসাবে উল্লেখ করে। ২০৫০ সালের মধ্যে নেট শূন্য পূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার ব্যতীত এতে সবুজ নীতির সামান্যই উল্লেখ ছিল। রাজনৈতিক দলের ইশতেহারের জলবায়ু ও প্রকৃতির দিকগুলির উপর গ্রিনপিস-‌এর র‌্যাঙ্কিং লেবারকে ২০.৫/৪০ পয়েন্ট এবং কনজারভেটিভ পার্টিকে ৫/৪০ পয়েন্ট দিয়েছে।

অন্যদিকে, লেবারের জলবায়ু অ্যাজেন্ডা অর্থনৈতিক বৈষম্য ও শক্তিক্ষেত্রে দারিদ্র্যের মোকাবিলা করতে চায়, এবং যুক্তরাজ্যকে জ্বালানির দামের অস্থিরতা থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চায়।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মতে, যুক্তরাজ্য পশ্চিম ইউরোপের জ্বালানি সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল:‌ ২০২২ সালে গ্যাসের দাম নবায়নযোগ্য শক্তির চেয়ে নয় গুণ বেশি বেড়েছিল, আর ২০২৩ সালে, গ্যাসের দাম প্রাক-সংকট স্তরের তুলনায় ১০০ শতাংশ বেশি ছিল।

বৈশ্বিক ও গার্হস্থ্য উচ্চাকাঙ্ক্ষা

জলবায়ু সংক্রান্ত অগ্রগামী হিসাবে লেবার সরকার দেশে ও বিদেশে জলবায়ু উচ্চাকাঙ্ক্ষার একটি শক্তিশালী আখ্যান গ্রহণ করেছে।

বাকুতে কপ২৯-এ যুক্তরাজ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৯৯০-এর স্তরের থেকে ৮১ শতাংশ নির্গমন কমানোর একটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করে একটি উচ্চ মাপকাঠি স্থাপন করেছে। এড মিলিব্যান্ড, সেক্রেটারি অফ স্টেট ফর এনার্জি সিকিউরিটি অ্যান্ড নেট জিরো, যুক্তরাজ্যের 
শীর্ষ অগ্রাধিকারগুলির রূপরেখা তুলে ধরেছেন, যার মধ্যে রয়েছে জলবায়ু অর্থায়ন বৃদ্ধি, প্যারিস চুক্তির নির্ধারিত লক্ষ্য ১.‌৫ ডিগ্রির মধ্যে থাকা, এবং জলবায়ু প্রভাবের প্রেক্ষিতে স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি। যুক্তরাজ্য গ্রিন এনার্জি জোন অ্যান্ড করিডরস প্লেজ-‌এর জন্য সমর্থন প্রদর্শন করেছে, যার লক্ষ্য আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে নবায়নযোগ্য শক্তি বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করা। ২০২৬ সালের মধ্যে কার্বন অর্থায়নে ১১.৬ বিলিয়ন ইউরো প্রদানের অঙ্গীকারের অংশ হিসাবে, যুক্তরাজ্য বনসমৃদ্ধ দেশগুলিকে সমর্থন করার জন্য ২৩৯ মিলিয়ন ইউরোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। উপরন্তু, ২০২৪ সালের নভেম্বরে রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত জি২০ শীর্ষ সম্মেলনে, যুক্তরাজ্য সরকার শক্তির স্থানান্তর ত্বরান্বিত করতে এবং পরিচ্ছন্ন শক্তি সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করার জন্য গ্লোবাল ক্লিন পাওয়ার অ্যালায়েন্স প্রস্তাব করেছিল


যুক্তরাজ্য গ্রিন এনার্জি জোন অ্যান্ড করিডরস প্লেজ-‌এর জন্য সমর্থন প্রদর্শন করেছে, যার লক্ষ্য আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে নবায়নযোগ্য শক্তি বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করা।



অভ্যন্তরীণভাবে, লেবার সরকার পরিবেশগত স্থায়িত্ব ও আর্থিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে উদ্দীপিত করতে চায়। সরকারের '
লেভেলিং আপ' অ্যাজেন্ডা অভিন্ন স্থানীয় বৃদ্ধি পরিকল্পনার মাধ্যমে জলবায়ু সক্রিয়তার জন্য একটি বিকেন্দ্রীকৃত পদ্ধতির সমর্থন করছে।

স্টারমার সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সৌর শক্তিকে তিনগুণ করার পাশাপাশি সমুদ্রতীরবর্তী ও দূরবর্তী বায়ু উৎপাদন দ্বিগুণ ও চার গুণ করার পরিকল্পনা করেছে। একটি নতুন '
গ্রেট ব্রিটিশ এনার্জি' (জিবিই) কোম্পানির মাধ্যমে ২০৩৫ সালের মধ্যে  ব্রিটেন একটি সম্পূর্ণ ডিকার্বনাইজড এবং কম খরচের বিদ্যুৎ-‌ব্যবস্থা-‌সম্পন্ন প্রথম উন্নত দেশ হওয়ার চেষ্টা করছে। ইউরোপের সফল রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জ্বালানি কোম্পানিগুলি, যেমন ডেনমার্কের অরস্টেড ও নরওয়ের ইকুইনর দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে, ব্রিটিশ-মালিকানাধীন পরিচ্ছন্ন শক্তির জন্য সমর্থন নিশ্চিত করতে এবং বিদেশি সরবরাহের উপর নির্ভরতা কমাতে জিবিই একটি সর্বজনীন মালিকানাধীন কোম্পানি তৈরি করবে।

লেবার সরকারের জলবায়ু বিষয়সূচির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সবুজ সমৃদ্ধি পরিকল্পনা, যা নবায়নযোগ্য শক্তিতে ন্যায্য রূপান্তরকে সমর্থন করার জন্য বার্ষিক ১৫ বিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ পায়। 'নেট জিরো বিল্ডিং স্ট্র্যাটেজি' ও 'ওয়ার্ম হোমস প্ল্যান'-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে এটি বাড়ির নিরোধক ও কার্বন নিঃসরণ মোকাবিলায় বর্তমান ব্যয় দ্বিগুণ করতে চায়। লেবার সরকার বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে সবুজ বৃদ্ধি উন্নত করার জন্য একটি 'জাতীয় সম্পদ তহবিল' তৈরির কথা ঘোষণা করেছে। এটি সবুজ প্রযুক্তি ও স্থিতিশীল পরিকাঠামোতে বিনিয়োগকে চালিত করার জন্য তার শিল্প পরিকল্পনা, '
বিনিয়োগ ২০৩৫ কৌশল  উন্মোচন করেছে। এছাড়াও, এটি নতুন তেল, গ্যাস বা কয়লা লাইসেন্স প্রদান থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

লেবার সরকারের লক্ষ্য যুক্তরাজ্যকে একটি ক্লিন এনার্জি সুপারপাওয়ার এবং বিশ্বের গ্রিন ফাইন্যান্স হাবে রূপান্তরিত করা। তার শরৎকালীন বাজেটে, এটি কম-কার্বন প্রযুক্তি ও কার্বন ক্যাপচার, পারমাণবিক শক্তি, হাইড্রোজেন হাব, এবং ২০২৭ সালের মধ্যে একটি কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজমের অগ্রগতির মতো সবুজ উদ্যোগের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে পাঁচ বছরে 
১০০ বিলিয়ন পাউন্ড রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করেছে।

উচ্চাকাঙ্ক্ষা বনাম সক্রিয়তা
 
যুক্তরাজ্যের নির্গমন হ্রাসের একটি শক্তিশালী রেকর্ড রয়েছে, এবং এটি আইনত বাধ্যতামূলক নেট-শূন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এমন প্রথম প্রধান অর্থনীতিগুলির একটি। ব্রিটেন সফলভাবে তার প্রথম তিনটি কার্বন বাজেট পূরণ করেছে, যা ২০০৮ সালের
জলবায়ু পরিবর্তন আইন দ্বারা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এটি পর্যায়ক্রমে কয়লা অপসারণ এবং বায়ু ও সৌর-এর মতো নবায়নযোগ্য শক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে কার্বন নির্গমনকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে। ২০২৩ সাল নাগাদ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ৪৭ শতাংশে পৌঁছয়, যা ২০১০ সালের ৭ শতাংশ থেকে অনেকটা বেড়েছে। এর মধ্যে দেশের শেষ কয়লা  বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে।


পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক বিভাগ (ডেফ্রা) জলবায়ু পরিবর্তন ও মূল্যস্ফীতির কারণে যুক্তরাজ্যে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধির বিষয়ে সতর্ক করেছে।



যদিও যুক্তরাজ্য একটি পরিকল্পিত রূপান্তরের দিকে অনেক দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছে, সেখানে অসঙ্গতিও রয়েছে। 
ইউকে ক্লাইমেট চেঞ্জ কমিটি,  একটি স্বাধীন উপদেষ্টা সংস্থা, দাবি করে যে যুক্তরাজ্য তার ২০৩০ নির্গমন হ্রাস লক্ষ্যমাত্রার থেকে পিছিয়ে রয়েছে, এবং বর্তমান পরিকল্পনাগুলি ২০৩০ সালের মধ্যে প্রয়োজনীয় নির্গমন হ্রাসের মাত্র এক-‌তৃতীয়াংশ অন্তর্ভুক্ত করে৷ যুক্তরাজ্য চতুর্থ ও পঞ্চম কার্বন বাজেটের অধীনে তার প্রতিশ্রুতিগুলি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে৷ ২০২৪ সালের মে মাসে হাইকোর্ট বলেছে, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে ব্রিটিশ সরকারের জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনা আইনসম্মত নয় এমন প্রমাণ এবং অপ্রতুল নীতির ভিত্তিতে তৈরি। পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক বিভাগ (ডেফ্রা) জলবায়ু পরিবর্তন ও মূল্যস্ফীতির কারণে যুক্তরাজ্যে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধির বিষয়ে সতর্ক করেছে

এর উপর, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে লেবার সরকারের
২৮ বিলিয়ন পাউন্ড গ্রিন ইনভেস্টমেন্ট প্রতিশ্রুতি অর্ধেক করার সিদ্ধান্ত সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিল উচ্চাভিলাষী জলবায়ু প্রতিশ্রুতি রদ করার জন্য কনজারভেটি্ভ রক্ষণশীল সরকারের নীতিগুলিকে অনুকরণ করার দায়ে। হেমন্তের বাজেট ২০২৫-২৬-এর জন্য জিবিই-কে ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ করেছে, যা প্রচারাভিযানের প্রতিশ্রুতির চেয়ে অনেক কম। উপরন্তু, তারা বন্যা সুরক্ষা ও প্রকৃতি সংরক্ষণের জন্য অর্থায়ন হ্রাস করে এবং জীবাশ্ম জ্বালানিতে ভর্তুকি অব্যাহত রেখে সমালোচকদের প্রশ্ন করতে প্ররোচিত করেছে যে, লেবারের প্রতিশ্রুতি নিছক আলঙ্কারিক কিনা।

আর্থিক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি, জলবায়ু উচ্চাকাঙ্ক্ষাগুলি যথেষ্ট বিনিয়োগ ও ব্যাপক পরিকাঠামো উন্নয়নের দ্বারা সমর্থিত হওয়া প্রয়োজন। পার্লামেন্টের এনভায়রনমেন্টাল অডিট কমিটি অপ্রতুল পরিকাঠামোর কারণে সৌর স্থাপনার জন্য উল্লেখযোগ্য
সংযোগ বিলম্বের কথা তুলে ধরেছে। এছাড়াও, ক্ষেত্রনির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জগুলি অব্যাহত রয়েছে। দেশের প্রায় এক-‌চতুর্থাংশ নির্গমনের জন্য দায়ী পরিবহণ ক্ষেত্রটিতে ডিকার্বনাইজেশন একটি চ্যালেঞ্জ হিসাবে রয়ে গিয়েছে। যদিও বৈদ্যুতিক যান (ইভি) ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে, ২০৩৫ সালে পেট্রোল ও ডিজেল গাড়ি নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করা এবং একটি ডিজেল বাস ফেজ-আউট পরিকল্পনার অভাব উদ্বেগজনক। যদিও সামগ্রিক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, ভূমি-ব্যবহার ও বনায়ন ক্ষেত্র নির্গমনের একটি উল্লেখযোগ্য উৎস হিসাবে থেকে গিয়েছে। উপকূল-‌দূরবর্তী বায়ু স্থাপনা লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে পড়ছে, এবং উপকূলীয় বায়ু ও সৌর স্থাপনার একটি বৃদ্ধি প্রয়োজন। অধিকন্তু, সবুজ শিল্পে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগের পরিমাণ জার্মানির এক-পঞ্চমাংশ, এবং ফ্রান্স ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক।


পার্লামেন্টের এনভায়রনমেন্টাল অডিট কমিটি অপ্রতুল পরিকাঠামোর কারণে সৌর স্থাপনার জন্য উল্লেখযোগ্য সংযোগ বিলম্বের কথা তুলে ধরেছে।



আরেকটি মূল চ্যালেঞ্জ হল যুক্তরাজ্যের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ক্ষেত্রে বিদেশী মালিকানার আধিপত্য। এটি উপকূল-‌দূরবর্তী বায়ু ক্ষমতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে স্পষ্ট,
যার ৮২.২ শতাংশ বিদেশি সরকারের মালিকানাধীন। যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রীয় সত্তাগুলি মোট শক্তি উৎপাদন ক্ষমতার মাত্র ০.০৩ শতাংশের মালিক, যা ডেনমার্ক, নরওয়ে বা এমনকি মিউনিখ শহরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ডেনমার্কের ওরস্টেড, বিশ্বের বৃহত্তম অফশোর ডেভেলপার, যুক্তরাজ্যের উপকূল-‌দূরবর্তী বায়ু ক্ষমতার ৩০ শতাংশের মালিক৷ ফলস্বরূপ, যুক্তরাজ্য সরকারের অনেক মুনাফা বিদেশি সরকারের কাছে চলে যায়। এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য সম্পদে সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও, যুক্তরাজ্যে বায়ু, সৌর, পারমাণবিক বা অন্যান্য শক্তির উৎস বিকাশের জন্য অভ্যন্তরীণ সরবরাহ শৃঙ্খলের অভাব রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে,  দেশের সবুজ অ্যাজেন্ডার জন্য সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষিত করা গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-‌এর মতো আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা করে সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলা এবং জলবায়ু নিরপেক্ষতায় রূপান্তর সম্ভব করা যেতে পারে। জাপানের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশীদারিত্ব 'গ্রিন অ্যালায়েন্স' কে যুক্তরাজ্য মডেল হিসেবে দেখতে পারে। পরিশেষে, অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদিত ব্যয়বহুল সবুজ প্রযুক্তি এবং একটি ধীর ও ব্যয়বহুল শক্তি রূপান্তরের মধ্যে বিনিময়যোগ্যতাও (‌ট্রেড-‌অফ)‌ বিবেচনা করা দরকার।



শায়রী মলহোত্র অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ  প্রোগ্রামের ডেপুটি ডিরেক্টর

জয়া আপ্লিশ অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের একজন রিসার্চ ইন্টার্ন

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.