হোয়াইট হাউসে জো বাইডেন প্রশাসনের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার সন্ধিক্ষণে মধ্যপ্রাচ্য নতুন সরকারকে অশান্তি ও দ্রুত পরিবর্তনশীল এক অঞ্চল হিসাবে স্বাগত জানাবে। ইজরায়েল ও হামাসের মধ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক যুদ্ধবিরতি অব্যাহত থাকলেও সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের তিন দশকের শাসনের পতন এবং হায়াত তেহরির আল-শামের (এইচটিএস) আহমেদ আল-শারার (যাঁর যুদ্ধকালীন নাম আবু মোহাম্মদ আল- জোলানি) উত্থান এই অঞ্চলের চিরাচরিত কূটনৈতিক ও রিয়েলপলিটিকের সামনে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।
আল-শারাকে কেউ কেউ ‘ল্যাপসড জিহাদি’ বা ‘মেয়াদোত্তীর্ণ জিহাদি’ বলছেন। তিনি ইসলামপন্থী দলগুলির সঙ্গে তার মিত্রতার জন্য নিজের তরুণ বয়সের খামখেয়ালিপনাকে দায়ী করেছেন। পূর্বে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট (আরবিতে আইএসআইএস বা দায়েশ নামেও পরিচিত) এবং আল-কায়েদার সঙ্গে জড়িত থাকার পরে প্রাক্তন বিদ্রোহী প্রধান মূলধারার রাজনীতি ও কূটনীতিতে ফেরার জন্য নিজের ইসলামবাদী পরিচিতি ও সামরিক অভিজ্ঞতাকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন এবং দামাস্কাসের উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ সমগ্র অঞ্চল এবং পশ্চিমের কূটনীতিকদের একাংশ আল-শারার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। আল-শারা পশ্চিমা শৈলীর পোশাকে জনসমক্ষে উপস্থিত হয়েছেন এবং তাঁর পাশে একটি মন্ত্রিসভা-সদৃশ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাঠামোও বিদ্যমান। সেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অবস্থানে রয়েছেন প্রাক্তন কম্যান্ডাররা। এইচটিএস-এর জন্য সামরিক কৌশল পরিকল্পনাকারী জেনারেল মুরহাফ আবু কাসরা (যাঁর যুদ্ধকালীন নাম এইচটিএস আবু হাসান আল-হামাভি) এখন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। এইচটিএস-নেতৃত্বাধীন ইদলিবের মতো অঞ্চলগুলিকে নিয়ন্ত্রণকারী স্যালভেশন গভর্নমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা আসাদ হাসান আল-শাইবানি বিদেশমন্ত্রকের দায়িত্বে রয়েছেন।
সিরিয়ার রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার ফলাফল আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির উপর যতটা নির্ভরশীল, ততটাই দেশটির অভ্যন্তরীণ ফাটল ও বাহ্যিক ভূ-রাজনীতিতে পথ খুঁজে নেওয়ার ক্ষেত্রে আল-শারার রাজনৈতিক বুদ্ধিমত্তার উপরেও নির্ভর করে।
উপরোক্ত পরিস্থিতি আল-শারার মূল দলটির বিশ্বের সঙ্গে সংযোগকেই দর্শায়, যা নিঃসন্দেহে অবিচল থেকেছে। এই প্রথমবার নয় যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একটি জিহাদি মতাদর্শীর সঙ্গে মোকাবিলা করতে হচ্ছে, যে গোষ্ঠীটির আন্দোলন একটি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। আফগানিস্তানে আশরাফ গনির নেতৃত্বে প্রজাতন্ত্রের পতনের চার বছর পর আফগানিস্তানে তালিবান-নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারি ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে। তবে আল-শারার সিরিয়া অনেক দ্রুত মূলধারায় পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষক অ্যারন জেলিনের তথ্য অনুসারে, এইচটিএস-এর নেতৃত্বাধীন সরকার প্রায় ৩০টি দেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ভাবে সম্পৃক্ত হয়েছে। তুলনামূলক ভাবে, একই সময়ের মধ্যে তালিবানরা মাত্র সাতটি রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততা গড়ে তুলেছে।
এই ‘নতুন’ সিরিয়ার প্রত্যাবর্তনের গতিশীলতার কারণগুলি ভূ-রাজনীতিতে নিহিত এবং ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলির মধ্যে আঞ্চলিক গতিশীলতা থেকে শুরু করে দেশটিতে রাশিয়ার সম্পৃক্ততা একটি গুরুতর ধাক্কার সম্মুখীন হয়েছে, যার ফলে এই অঞ্চলে মস্কোর উপস্থিতি হ্রাস পাচ্ছে। এমনকি আসাদের শাসনামলের শেষ পর্যায়ে সিরিয়ার নেতা দেশে আরব বসন্তের বিক্ষোভের সময় এড়িয়ে যাওয়ার পরে আরব গোষ্ঠীর মধ্যে তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব বৃদ্ধি করতে শুরু করেছিলেন। ইরানের কাছে একটি ভোক্তা রাষ্ট্র হওয়ার ধারণা থেকে দূরে সরে যাওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার জন্য আরব ভ্রাতৃত্ববাদী দেশগুলির মধ্যে সান্ত্বনা ও গ্রহণযোগ্যতা খুঁজে পাওয়ার ধারণাও বিদ্যমান ছিল। গত কয়েক মাস ধরে পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্ট তাঁর দেশের ভূখণ্ডের মধ্যে ইজরায়েলি সীমালঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সামরিক প্রতিক্রিয়া দর্শাননি। এই ইজরায়েলি হামলার লক্ষ্য ছিল ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর-এর (আইআরজিসি) অধীনস্থ ইরানি জঙ্গি ও অবকাঠামোর উপর হামলা চালানো। কিছু প্রতিবেদন অনুসারে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই) এমনকি সিরিয়ার রাজধানীতে ইরানের একটি কূটনৈতিক অভিযানের উপর ইজরায়েলের বোমা হামলার পরও আসাদকে প্রতিক্রিয়া দেওয়া থেকে বিরত রেখেছিল, যার ফলে ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে একটি বর্ধিত সামরিক বিনিময় হয়েছিল।
সিরিয়ার রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার ফলাফল আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির উপর যতটা নির্ভরশীল, ততটাই দেশটির অভ্যন্তরীণ ফাটল ও বাহ্যিক ভূ-রাজনীতিতে পথ খুঁজে নেওয়ার ক্ষেত্রে আল-শারার রাজনৈতিক বুদ্ধিমত্তার উপরেও নির্ভর করে।
সিরিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের পতন আটকানোর আঞ্চলিক আলোচনা শিয়া-সুন্নি প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা ইজরায়েল-ইরান প্রতিযোগিতার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। উপরন্তু, এটি মার্কিন-রাশিয়া বা মার্কিন-চিন প্রতিযোগিতার তুলনায় অনেক বেশি ফলপ্রসূও বটে। সিরিয়ার রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার ফলাফল আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির উপর যতটা নির্ভরশীল, ততটাই দেশটির অভ্যন্তরীণ ফাটল ও বাহ্যিক ভূ-রাজনীতিতে পথ খুঁজে নেওয়ার ক্ষেত্রে আল-শারার রাজনৈতিক বুদ্ধিমত্তার উপরেও নির্ভর করে।
কয়েকটি শক্তিকে অন্যদের তুলনায় নিয়ন্ত্রণ করা আরও জটিল বলে মনে হচ্ছে। প্রথমত, সিরিয়ার ফলাফলের ক্ষেত্রে ইরান সাহসী অবস্থান গ্রহণ করলেও বাস্তব হল এই যে, এই ঘটনাপ্রবাহের দরুন ইরান আপাতত এই অঞ্চলে যথেষ্ট কৌশলগত গভীরতা হারিয়েছে। হিজবুল্লাহর যে কোনও প্রকারের পুনরুত্থান হ্রাস করার লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সহায়তায় লেবাননে একটি নতুন প্রেসিডেন্সি ইরানের দুর্দশাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তেহরান আগামী কয়েক মাস ধরে দীর্ঘস্থায়ী ভাবে তার প্রভাবের কিছুটা হলেও পুনরুদ্ধার করতে চাইবে। একই ভাবে, তুর্কিয়ে – যারা উত্তর সিরিয়ার ভূখণ্ডের কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, সিরিয়ান ন্যাশনাল আর্মির (এসএনএ) বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে সমর্থন করে এবং মার্কিন-সমর্থিত কুর্দি গোষ্ঠীগুলিকে জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি বলে মনে করে – সৌদি আরবের সঙ্গে একটি অঘোষিত অথচ বিশিষ্ট মতাদর্শগত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জড়িয়ে পড়তে পারে। রিয়াধ ও আবু ধাবি উভয়েই গত দশকের সিংহভাগ অংশ মুসলিম ব্রাদারহুড, তাদের সহযোগী সংগঠন ও রাজনৈতিক ইসলামের উপর একটি ধারণা হিসেবে এই ধারণার প্রভাবকে হ্রাস করার কাজে ব্রতী ছিল। তারা অঞ্চলটিকে আকারপ্রদানকারী একগুচ্ছ দ্বন্দ্বে মাঝেই অন্যদের মধ্যে হামাস, হিজবুল্লাহ এবং ইসলামিক স্টেটের বিলুপ্তি থেকেও উপকৃত হয়েছে।
ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ থেকে উদ্ভূত আল-শারার মতাদর্শগত চ্যালেঞ্জগুলি এখনও প্রকাশ্যে উঠে আসেনি। আল-শারা যে সহজাত ভাবে অতীতে ইসলামপন্থী মতাদর্শ ব্যবহার করেছে বলে মনে হয় এবং এখন তার সঙ্গে একটি রাষ্ট্র পরিচালনার দিকে অগ্রসর হওয়া ও নির্বাচন, সংবিধান এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতি সম্পর্কে তাদের আলাপ-আলোচনা চালানো গোষ্ঠীটিকে এইচটিএস-এর অভ্যন্তরে একাধিক গোষ্ঠীর সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংঘাতের সম্মুখীন করেছে। বিশ্লেষক কোল বুনজেল তাঁর গবেষণায় এই অঞ্চলে এবং তার সীমা ছাড়িয়ে নানা সালাফিস্ট মতাদর্শীর কথা তুলে ধরেছেন, যারা ইতিমধ্যেই একটি ইসলামি রাষ্ট্র গঠনের পরিবর্তে সাংবিধানিক গণতন্ত্রের বিষয়ে আল-শারার অবস্থানকে নিশানা করেছে। ২০১৯ সালে এইচটিএস-এর ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের প্রধান লিখেছিলেন যে, ‘আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকে গণতন্ত্র ইসলামের বিরোধিতা করে। কারণ ইসলাম ঈশ্বরের ক্ষমতায় বিশ্বাসী এবং গণতন্ত্র ঈশ্বরকে বাদ দিয়ে শাসনতন্ত্রে বিশ্বাসী।’ এইচটিএস একই বছরে আরও বলে যে, ‘শরিয়ার সার্বভৌমত্বই হল জিহাদের লক্ষ্য।’ বর্তমানে, আল-শারা তাঁর নিজের প্রতিষ্ঠানের নির্দেশের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
বৃহৎ-শক্তির প্রতিযোগিতার অংশ হিসাবে রাশিয়া, ইরান এবং চিন ভবিষ্যতে নিজেদের প্রভাব পুনর্নবীকরণ ও পুনর্নিশ্চিত করতে চাইবে, যেখানে মধ্যপ্রাচ্য ইউক্রেন ও ইন্দো-প্যাসিফিকের পর তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠছে।
আল-শারার ‘নতুন’ সিরিয়ার মধ্যে কিছু ফাটলও ইতিমধ্যে দৃশ্যমান। নতুন প্রচারের জন্য মিশরীয় জিহাদি আহমেদ আল-মানসুরের অধীনে সিরিয়ার একটি নতুন দল ইতিমধ্যেই কায়রোতে প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির রাজনৈতিক নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করতে শুরু করেছে। মনসুর ২৫ জানুয়ারি আরব বসন্তের বার্ষিকী ও তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারকের তিন দশকের শাসনের পতনের দিনে মিশরীয়দের একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। মিশরের সিসিপন্থী গণমাধ্যম মনসুরের আখ্যানের বিরোধিতা করতে শুরু করেছে। প্রথম বারের মতো সিরিয়ার কোনও জিহাদি কোনও বিদেশি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক শাসনের দখল নিতে চাইলেও এমনটা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। অন্যান্য অনুরূপ গোষ্ঠীও দেশের মধ্যে দানা বাঁধতে শুরু করেছে। আল-শারার সঙ্গে দল বেঁধে যুদ্ধ করা অন্যান্য গোষ্ঠীর ভিন্ন রাজনৈতিক লক্ষ্য থাকতে পারে এবং তারা এই বিকল্পের সঙ্গে সম্পূর্ণ রূপে অসম্মত হতে পারে।
অবশেষে, যে সত্যটি অস্বীকার করা যায় না, আল-শারাকে ঘিরে অনেক ইতিবাচক উচ্ছ্বাস এখনও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠেনি। উদ্যাপনের চেয়ে লঙ্ঘনের ঘটনাই বেশি। আঞ্চলিক দেশগুলির জন্য এটি কোনও এক পক্ষের প্রভাব ও আদর্শগত উত্থানের লড়াই। ইউরোপের জন্য এটি শরণার্থীদের যে কোনও প্রকারের সম্ভাব্য আগমন প্রশমিত করা ও তার ব্যবস্থাপনা করার বিষয় সংক্রান্ত। কারণ মহাদেশটি রাজনৈতিক বিভাজনে জর্জরিত, যেমনটা ২০১৩ সালে শুরু হওয়া পূর্ববর্তী এই ধরনের গণআন্দোলনের ফলস্বরূপ অতি-দক্ষিণপন্থীদের উত্থানের মাধ্যমে স্পষ্ট। দায়েশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাওয়া, ইজরায়েলি স্বার্থকে সহায়তা করা এবং সমগ্র অঞ্চল জুড়ে শক্তি প্রক্ষেপণের মাত্রা বজায় রাখাই হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য। অন্য দিকে, বৃহৎ-শক্তি প্রতিযোগিতার অংশ হিসাবে রাশিয়া, ইরান এবং চিন ভবিষ্যতে নিজেদের প্রভাব পুনর্নবীকরণ ও পুনর্নিশ্চিত করতে চাইবে, যেখানে মধ্যপ্রাচ্য ইউক্রেন ও ইন্দো-প্যাসিফিকের পর তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠছে।
এই সব কিছুর মাঝে আল-শারাকে অবশ্যই টিকে থাকতে হবে, উন্নতি করতে হবে এবং বিশ্বের আস্থা অর্জন করতে হবে। তালিবানরা যে ভাবে শুরু করেছিল, তার চেয়ে আল-শারা অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন। যাই হোক, আল-শারার দীর্ঘমেয়াদ তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি তাঁর আদর্শগত বাস্তবতার ব্যবস্থাপনার উপরেও নির্ভর করবে।
কবীর তানেজা অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের ডেপুটি ডিরেক্টর।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.