Published on Feb 17, 2025 Updated 0 Hours ago

সক্রিয় সুরক্ষা ব্যবস্থার বিকাশের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী চিনের ভারতের তুলনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং ভারতকে তা ছুঁতে হবে

পিএলএ ট্যাঙ্কগুলি সক্রিয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে এগিয়ে চলেছে

ভারত ও গণপ্রজাতন্ত্রী চিন (পিআরসি) মিডিয়াম মেন ব্যাটল ট্যাঙ্ক (এমএমবিটি) ও লাইট ব্যাটল ট্যাঙ্ক (এলবিটি) দুটোই হয় তৈরি করছে, বা ইতিমধ্যেই চালনা করছে। যাই হোক, ভারত এমন দুটি জটিল প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি যেখানে চিন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে — অ্যাকটিভ প্রোটেকশন সিস্টেম (এপিএস) এবং এই সিস্টেমগুলির মডিউলারিটি। এপিএস সিস্টেমগুলি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক কারণ তারা এলবিটি-‌গুলিকে সুরক্ষা ও প্রতিরক্ষা প্রদান করে। দ্বিতীয়ত, যখন আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম (ইউএএস) ট্যাঙ্কগুলিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে, তারা ট্যাঙ্কগুলির জন্য রিকনাইসান্স মিশনও পরিচালনা করে, যেগুলি, কাউন্টার-আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম (সি-ইউএএস) এর পাশাপাশি, এপিএস ক্ষমতার মাধ্যমে এখন চিনা ট্যাঙ্কগুলিতে একীভূত হয়েছে৷ রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ মানবহীন বায়ুবাহিত বিপদের বিরুদ্ধে ট্যাঙ্কের দুর্বলতাকে নির্মমভাবে প্রকাশ করেছে, এবং ভারত সহ বেশ কয়েকটি দেশ তাদের এমএমবিটি ও এলবিটিগুলির জন্য এপিএস ক্ষমতা অর্জন করতে চলেছে৷


অগ্রসরমান অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল (এটিজিএমএস) ও ড্রোনের বিরুদ্ধে এলবিটি-র  প্রতিরক্ষামূলক বর্মগুলির সীমাবদ্ধতা রয়েছে।



তবুও এটি এপিএস সক্ষমতা তৈরিতে চিনের অসাধারণ অগ্রগতি দেখায়, যা ভারতীয় সেনাবাহিনী (আইএ) ও পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-‌র সক্ষমতার মধ্যে একটি গুরুতর ব্যবধান তৈরি করেছে। চায়না নর্থ ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (নরিনকো) দ্বারা নির্মিত, চিনাদের হালকা ট্যাঙ্কের দুটি ভেরিয়্যান্ট রয়েছে — ভিটি৫ ও টাইপ-১৫। তবে, পরবর্তীটি পূর্বের একটি ডেরিভেটিভ, এবং ভিটি৫ শুধু রপ্তানি বাজারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল (
বাংলাদেশ চিনের প্রথম গ্রাহক হয়ে উঠেছে)। আরও সাম্প্রতিক প্রমাণ ইঙ্গিত করে যে চিনারা তাদের ট্যাঙ্কের জন্য তাদের এপিএস ডিজাইন উন্নত করেছে। এলবিটি-এর ভিটি৫ রপ্তানি রূপটিতে এপিএস ক্ষমতা যুক্ত করা হয়েছে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-‌তে কমিশন করা সমস্ত চিনা এলবিটি — বিশেষ করে টাইপ-১৫, যার ওজন প্রায় ৩৩-৩৬ টন এবং যেগুলিকে ভারতের বিরুদ্ধে মোতায়েন করা হয়েছে — এপিএস দিয়ে সজ্জিত। এলবিটি-র জন্য এপিএস-এর গুরুত্বকে অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়। প্রথমত, অগ্রসরমান অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল (এটিজিএমএস) ও ড্রোনের বিরুদ্ধে এলবিটি-র প্রতিরক্ষামূলক বর্মগুলির সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলস্বরূপ, এমএমবিটি-র বিপরীতে, তাদের ‘‌প্যাসিভ আরমার’‌ শুধুমাত্র হালকা ও মাঝারি অস্ত্রের বিরুদ্ধে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম। অতএব, এপিএস সিস্টেমগুলি একটি সফট কিল ও একটি হার্ড কিল প্রতিরক্ষামূলক ক্ষমতা উভয়ই প্রদান করে। যদিও চাইনিজ এলবিটি-র উভয় রূপেই ইনকামিং প্রজেক্টাইলের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়ানির্ভর আর্মার (ইআরএ) রয়েছে, তবে আরও উন্নত টাইপ-১৫-‌র আরও ভাল যোগাযোগ ও তথ্য-আদান-প্রদানের ক্ষমতা রয়েছে।

পিপলস লিবারেশন আর্মি (আর্মি) (পিএলএএ)-র টাইপ-১৫ এলবিটি ‌এবং এর উন্নত  এমএমবিটিগুলি এপিএস সুরক্ষার জন্য অপরিহার্য হিসাবে স্বীকৃত, এবং চিনারা টাইপ-১৫ সজ্জিত করার জন্য ২০১৯-এ পর্যাপ্ত পরিমাণে হালকা এপিএস সক্ষমতা তৈরি করেছে। জিএল৫ নামক এপিএস-এর ভেরিয়্যান্টে
তিনটি উপাদান রয়েছে:‌ চারটি যুদ্ধাস্ত্র লঞ্চার, চারটি বহুমুখী মিলিমিটার-ওয়েভ রাডার এবং একটি কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। বাংলাদেশে বিক্রি হওয়া ভিটি৫-‌গুলি জিএল৫ এপিএস দিয়ে সজ্জিত হতে পারে। জিএল৬, যেটি তার পূর্বসূরির আরও উন্নত রূপ, ২০২৪ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানের করাচিতে দ্বাদশ আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রদর্শনী ও সেমিনারে (আইডিয়াস ২০২৪)  প্রদর্শিত হয়েছিল। চিনের এপিএসের এই সর্বশেষ রূপটিও একটি সি-ইউএএস দিয়ে সজ্জিত, যা ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম। চিনের সবচেয়ে উন্নত যুদ্ধ ট্যাঙ্কগুলি — ৫৮-টন টাইপ-৯৯এ, যা টাইপ-১৫ এলবিটি-গুলির থেকে বেশি ওজনের, জিএল৬ দিয়ে সজ্জিত বলে মনে করা হয়। জিএল৬ প্রথম পরীক্ষা করা হয়েছিল ভিটি-এ৪১ ট্যাঙ্কের, যা ভিটি-‌৪ নামে পরিচিত, তার রপ্তানি ভেরিয়্যান্টের উপর। পিএলএএ দ্বারা প্রকাশিত পরীক্ষার ভিডিওগুলির সঙ্গে এর ইন্টারসেপ্টর-ধ্বংসকারী ১২০এমএম এটিজিএম-‌ও দেখানো হয়েছে। ভিটিএ-এ৪১-এ ১০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধে কাজ করতে সক্ষম এমন একটি ফোর-রোটর রিকনইসান্স ড্রোন রয়েছে, যা ট্যাঙ্ক ক্রুদের যথেষ্ট যুদ্ধক্ষেত্র-‌সচেতনতা প্রদান করে। জিএল৬-‌এর কাউন্টার-আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম (সি-ইউএএস) একটি উন্মুক্ত স্থাপত্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি, যার মানে হল এর রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি জ্যামার (আরএফজে) ও ড্রোন জ্যামার, ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল ইনফ্রারেড (ইওআইআর) সিস্টেম, প্যাসিভ রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যান্ড ডিরেকশন ফাইন্ডিং (পিআরএফডিএফ), অ্যাকটিভ রাডার (এআর) ও মাস্ট কনফিগারেশন বিভিন্নভাবে সাজানো যেতে পারে বা ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুসারে তৈরি করা যেতে পারে। জিএল৬ ইজরায়েলি "আয়রন ফিস্ট" এপিএস-‌এর অনুরূপ বলে মনে করা হয়, যা ইনকামিং হাই এক্সপ্লোসিভ অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক (হিট) প্রজেক্টাইল, রিকয়েললেস মিউনিশন, লয়টারিং মিশন ও আর্মার-পিয়ার্সিং ফিন-স্টেবিলাইজড ডিসকার্ডিং স্যাবট (এপিএফএসডিএস) থেকে রক্ষা করতে পারে। উপরন্তু, সেটাও করা যায় বিভিন্ন কোণ থেকে, যা ট্যাঙ্কের টিকে থাকার ক্ষমতা বাড়ায়।


জিএল৬ প্রথম পরীক্ষা করা হয়েছিল ভিটি-এ৪১ ট্যাঙ্কের, যা ভিটি-‌৪ নামে পরিচিত, তার রপ্তানি ভেরিয়্যান্টের উপর। পিএলএএ দ্বারা প্রকাশিত পরীক্ষার ভিডিওগুলির সঙ্গে এর ইন্টারসেপ্টর-ধ্বংসকারী ১২০এমএম এটিজিএম-‌ও দেখানো হয়েছে।



যদিও
কিছু রিপোর্ট ইঙ্গিত করে যে জিএল৬ রপ্তানির জন্য নয়, করাচিতে আইডিয়াস ২০২৪-এ এর প্রদর্শন রপ্তানির সম্ভাবনাই তুলে ধরে বলে মনে হচ্ছে। জিএল৬-‌এর রপ্তানির সম্ভাব্য লক্ষ্যগুলির মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান, যে দেশটি ২০২১ সাল থেকে ভিটি-৪ ব্যবহার করছে। উপরন্তু পাকিস্তানিরা, বাংলাদেশিদের মতোই, সম্ভবত ইতিমধ্যেই কম উন্নত জিএল৫ এপিএস ব্যবহার করছে। অন্যান্য চিনা সাঁজোয়া প্ল্যাটফর্মের মতো টাইপ-১৫ এলবিটিগুলিও এর মডিউলারিটির কারণে জিএল৬ এপিএস-এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। পাকিস্তানিদের তাদের ভিটি-৪ এমবিটি-তে জিএল৬ এপিএস যুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না।

আলজেরিয়ার মতো দেশগুলির বিপরীতে, যারা রাশিয়ান-অরিজিন টি-৯০ চালায় এবং এখন সরবরাহ শৃঙ্খল সমস্যা ও মস্কোর তরফে দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ ও আপগ্রেড সমর্থনের কারণে চিনা ভিটি৪ এমবিটি
কেনা বা পরীক্ষা করার দিকে ঝুঁকছে, ভারত আপগ্রেড ও ওভারহলিং সমস্যার সম্মুখীন হয় না। এর সবচেয়ে উন্নত রাশিয়ান-অরিজিন টি-৯০ যুদ্ধ ট্যাঙ্কগুলি হেভি ভেহিক্যালস ফ্যাক্টরি (এইচভিএফ) দ্বারা লাইসেন্সের ভিত্তিতে নির্মিত। কোর অফ ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার্স (ইএমই) দিল্লি সেনানিবাসের ৫০৫ আর্মি বেস ওয়ার্কশপে ২০২৪ সালের অক্টোবরে সেগুলির ওভারহল সম্পন্ন করে। তবুও, এপিএস ক্ষমতার অনুপস্থিতি এমন একটি শূন্যতা যা সরকার ও আইএ কে আইএ-‌র সাঁজোয়া কোর এমএমবিটি-‌গুলির জন্য এবং এখনও অনির্মিত এলবিটি-‌গুলির জন্য পূরণ করতে হবে। একটি বিস্তৃত এপিএস প্যাকেজের অংশ হিসাবে যা জরুরি প্রয়োজন তা হল এর সমস্ত ট্যাঙ্কের জন্য সি-ইউএএস-এর পাশাপাশি রিকনাইসান্স ড্রোন মোতায়েন করা, বিশেষ করে জোরাওয়ার এলবিটি-‌গুলির জন্য, যা তৈরির ট্রায়াল সবে শুরু হয়েছে৷ পিআরসি-র একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, এবং সম্ভবত দেশটি পাকিস্তানে তার সবচেয়ে পরিশীলিত এপিএস ক্ষমতা সরবরাহ করতে প্রস্তুত।


কোর অফ ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার্স (ইএমই) দিল্লি সেনানিবাসের ৫০৫ আর্মি বেস ওয়ার্কশপে ২০২৪ সালের অক্টোবরে সেগুলির ওভারহল সম্পন্ন করে।



এই উন্নয়নের ফলস্বরূপ, ভারতকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তার ট্যাঙ্কগুলির জন্য এপিএস সক্ষমতা সুরক্ষিত করতে তাড়াহুড়ো করতে হবে। দুর্ভাগ্যবশত, বেশ কিছু চলতি সক্রিয় সুরক্ষা ব্যবস্থার ঘরোয়া উন্নয়ন কার্যকারিতার দিক থেকে আশাব্যঞ্জক ফলাফল দেখায়নি। একটি কার্যকর এপিএস তৈরির জন্য ভারতীয় প্রচেষ্টার ভুলভ্রান্তি অব্যাহত থাকলে আইএ-কে দুটি ইজরায়েলি এপিএস ভ্যারিয়্যান্ট অর্জনের দিকে যেতে হতে পারে — রাফাল দ্বারা নির্মিত ‘‌ট্রফি’‌ বা এলবিট দ্বারা নির্মিত ‘‌আয়রন ফিস্ট’‌।



কার্তিক বোমাকান্তি অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের একজন সিনিয়র ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Author

Kartik Bommakanti

Kartik Bommakanti

Kartik Bommakanti is a Senior Fellow with the Strategic Studies Programme. Kartik specialises in space military issues and his research is primarily centred on the ...

Read More +