Author : Sushant Sareen

Published on Jan 28, 2025 Updated 0 Hours ago

সামরিক ও কূটনৈতিক উভয় পন্থা অসহনীয় বলে মনে হচ্ছে পাকিস্তানের একটি বিপর্যয়কর আফগান নীতি থেকে বেরিয়ে আসার কোন উপায়ই আর নেই

পাকিস্তানের আফগান দ্বিধা: খারাপ বিকল্প, খারাপতর ফলাফল

আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্ত অঞ্চলে এবং তার বাইরেও ক্রমবর্ধমান হিংসা ধীরে ধীরে অথচ নিশ্চিত ভাবে পাকিস্তানকে আফগান ঘূর্ণিতে আবদ্ধ করছে। কূটনৈতিক পদক্ষেপের পাশাপাশি তালিবান পাকিস্তান উভয়েরই একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার দরুন ইতিমধ্যে একটি জটিল ক্রমবর্ধমান তিক্ত সম্পর্ক জটিলতর হয়ে উঠেছে। যখন দুই পক্ষ সমঝোতামূলক যুদ্ধমূলক উভয় ধরনের সঙ্কেত প্রেরণ করছে, তখন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আকার প্রদানকারী নিরাপত্তাহীনতা, দায়িত্বহীনতা কপটতার বিস্তৃত বলয়ের কারণে পাকিস্তান আরও বেশি করে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। পঞ্জাবি বনাম পাতুনের মতো আঞ্চলিক বিদ্বেষ যখন প্রকট হয়ে উঠছে, তখন লড়াই চালিয়ে যাওয়া ও নতি স্বীকার না করার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

কূটনৈতিক পদক্ষেপের পাশাপাশি তালিবান পাকিস্তান উভয়েরই একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার দরুন ইতিমধ্যে একটি জটিল ক্রমবর্ধমান তিক্ত সম্পর্ক জটিলতর হয়ে উঠেছে।

২০২১ সালের গস্ট মাসে তালিবান কাবুলে ক্ষমতা দখলের পর থেকে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক নিম্নমুখী হয়ে চলেছেখাইবার পাখতুনখোয়ায় তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) বালোচিস্তানের পাশতুন অঞ্চলে বালোচ অঞ্চলে বালোচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তরফে বিদ্রোহের ঘটনা উল্লেখযোগ্য রকম বৃদ্ধি পেয়েছেপাকিস্তানের তরফে সর্বতোভাবে চেষ্টা চালানো হলেও তারা এই হিংসা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। গত সাড়ে তিন বছরে পাকিস্তান একাধিক উপায়ে এই পরিস্থিতির সমাধান করার চেষ্টা করেছে: তালিবানের সহায়তাপ্রাপ্ত টিটিপি-সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা, শীর্ষস্থানীয় দেওবন্দি মোল্লাদের প্রভাব ব্যবহার করা, আফগান ট্রানজিট বাণিজ্যকে অবরুদ্ধ ও সীমিত করে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা, আফগান শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনে বাধ্য করা, জঙ্গি কম্যান্ডারদের হত্যার পরিকল্পনা করা এবং হিংসায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রকাশ্যে ঘোষণা না করেই বিমান, ড্রোন হামলা আন্তঃসীমান্ত হামলা চালানো। তবুও, পাকিস্তানে  জঙ্গিবাদের ক্রমবর্ধমান জোয়ার কিছুতেই প্রতিহত করা যায়নি।

হিংসা ও হতাহতের সামগ্রিক ঘটনার তুলনা (২০১৭-২৪)

 Pakistan S Afghan Dilemma Bad Options Worse Outcomes

সূত্র: পাকিস্তান সিকিউরিটি রিপোর্ট, ২০২৪, পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ পিস স্টাডিজ (পিআইপিএস)

শক্তি প্রদর্শন

গত বছরের ডিসেম্বর মাসে টিটিপি দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে একটি নিরাপত্তা চেকপোস্টে হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ১৬ জন সৈন্যকে হত্যা করার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী আফগানিস্তানে তার কৌশল পদ্ধতি পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছিল। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় সম্ভাব্য টিটিপি শিবির ও একটি মিডিয়া সেন্টারের উপর বিমান হামলা চালানো হয়। পাকিস্তানিরা দাবি করেছে যে,এই হামলায় ৭০ জনেরও বেশি টিটিপি জঙ্গি নিহত হয়েছে। যাই হোক, তালিবানের ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক এবং এর দরুন তালিবানের জঙ্গি ইসলামি আন্দোলনের তেমন কোন ক্ষতি হয়নি। পাকিস্তান এর আগে আন্তঃসীমান্ত বিমান হামলা চালালেও এ বারের হামলায় যা আলাদা ছিল, তা হল এই যে, শুধু মাত্র হামলার কথাই নয়, বরং পাকিস্তানি সামরিক সংস্থার সক্রিয় উত্সাহের কথাও অনানুষ্ঠানিক শৃঙ্খলের মাধ্যমে ব্যাপক ভাবে প্রচারিত হয়েছে। পাকিস্তানের বিশেষ দূত কাবুলে থাকাকালীন তালিবানের সঙ্গে স্থবির কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা পুনরায় শুরু করার জন্য হামলার ঘটনা ঘটিয়েছিল… এ প্রসঙ্গটি অনেকেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।

আফগানিস্তানে রাষ্ট্রপুঞ্জের (ইউএন) সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ) দ্বারা পাকিস্তানি বিমান হামলার বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং সেখানে নারী ও শিশু-সহ কয়েক ডজন নাগরিকের মৃত্যুর নেপথ্যে দায় কার, তা  নিয়ে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

অতীতের মতো আফগানরা নিজেদের তরফ থেকে পাকিস্তানি পদক্ষেপকে খাটো করে দেখেনি। তারা কেবল প্রতিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েই ক্ষান্ত থাকেনি, বরং পাকিস্তানি সীমান্ত চৌকির উপর হামলাও চালিয়েছে। উভয় পক্ষের তরফে শক্তি প্রদর্শনের পরে সীমান্ত সংঘর্ষের অবসান ঘটলেও এ ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে, যা সম্ভবত পাকিস্তানকে হতবাক করেছে। আফগানিস্তানে রাষ্ট্রপুঞ্জের (ইউএন) সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ) দ্বারা পাকিস্তানি বিমান হামলার বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং সেখানে নারী ও শিশু-সহ কয়েক ডজন নাগরিকের মৃত্যুর নেপথ্যে দায় কার, সে নিয়ে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো ভারতও নাগরিকদের উপর হামলা চালানোর জন্য নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি জারি করেছে এবং নিজের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতার জন্য তার প্রতিবেশীদের দোষারোপ করা পাকিস্তানি অভ্যাসের তীব্র নিন্দা করেছে। এ সব কিছু সত্ত্বেও পাকিস্তান অবশ্য তালিবান প্রশাসনের উপর তার আগ্রাসনের পরিমাণ দ্বিগুণ করেছেপাকিস্তান এমনকি কূটনৈতিক আক্রমণও চালিয়েছে এবং এর পাশাপাশি তালিবান প্রশাসনকে দুর্বল করার লক্ষ্যে মনস্তাত্ত্বিক আক্রমণও চালিয়েছে।

কূটনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ

আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানি কূটনীতিকরা ইসলামিক আমিরাতকে সন্ত্রাসবাদের নতুন কেন্দ্র একটি উদীয়মান বৈশ্বিক হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। পাকিস্তানিরা মেয়েদের শিক্ষা সংক্রান্ত একটি সম্মেলনের আয়োজন করেছিল। এটি একটি পদক্ষেপ যা আসলে তালিবান শাসনকে কূটনৈতিক ভাবে বিব্রত করার জন্যই করা হয়েছিল। উপরন্তু, পাকিস্তান এই ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তারা তীব্রতা বাড়ানোর জন্য প্রস্তুত। ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) প্রধান মুহম্মদ আসিম মালিক তাজিকিস্তান সফরে গিয়ে তাজিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিরাপত্তা বিষয়ক, অর্থাৎ আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। পাকিস্তানি মিডিয়া চ্যানেলগুলি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপত্র হিসাবে কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে এবং এই চ্যানেলগুলিতে ঘোষণা করা হয়েছে যে, আইএসআই এখন তাজিকিস্তানে অবস্থিত ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট-এর (এনআরএফ) মতো আফগান প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছে। তারা আফগানিস্তানে এনআরএফ এবং অন্য তালিবান-বিরোধী গোষ্ঠীগুলির কার্যকলাপের আকস্মিক বৃদ্ধির দিকে ইঙ্গিত করেছিল এবং বলেছিল যে, আংশিক ভাবে এ হেন বৃদ্ধির কারণ হল, যেহেতু তালিবান টিটিপি-কে সমর্থন করছে, তাই তার প্রতিশোধ হিসেবে পাকিস্তানও তালিবান-বিরোধী দলগুলিকে সমর্থন করতে শুরু করেছে। পাকিস্তানের সঙ্গে সংযুক্ত সন্দেহভাজন বন্দুকধারীরা জালালাবাদের অধুনা-বিলুপ্ত ভারতীয় দূতাবাসের এক কর্মচারীর উপরেও হামলা চালিয়েছিল। এই হামলা এই বার্তা দেওয়ার লক্ষ্যেই চালানো হয়েছিল যে, ভারতের সঙ্গে যুক্ত মানুষরা তাদের নিশানায় রয়েছেন। কাবুলে কর্মরত ভারতীয় আধিকারিকদের উপর সরাসরি আক্রমণ অবশ্যই ভারত তালিবানদের জন্য গুরুতর উস্কানি হবে। কারণ দুই দেশই কাবুল দূতাবাসে ভারতীয় কর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে তৎপর। যাই হোক, কোনও স্থানীয় আধিকারিকের উপর হামলা চালানো আসলে সহ্যসীমার মধ্যেই থাকবে এবং এই বার্তা সহিংস সংঘাতে না গিয়েই সতর্কবার্তা প্রদানের উদ্দেশ্য পূরণ করবে।

পাকিস্তানিরা মেয়েদের শিক্ষা সংক্রান্ত একটি সম্মেলনের আয়োজন  করেছিল। এটি একটি পদক্ষেপ যা আসলে তালিবান শাসনকে কূটনৈতিক ভাবে বিব্রত করার জন্যই করা হয়েছিল।

আইএসআই-এর ডিরেক্টর জেনারেলের (ডিজি) দুশানবে সফরের সময় পাকিস্তানি সোশ্যাল মিডিয়া ওয়াখান করিডোরে একটি বড় পাকিস্তানি সামরিক পদক্ষেপের আখ্যান ও প্রতিবেদন ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে নাকি তালিবানদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং যার দরুন নাকি তালিবান সেই অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। তালিবান এই দাবিগুলি অস্বীকার করেছে এবং এমনকি প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা ইয়াকুবের ওয়াখান সফরের ফুটেজও তুলে ধরেছে। সেখানে তিনি ঘোষণা করেছেন যে, তালিবান কখনই অন্য কাউকে আফগানিস্তানের ওয়াখানের নিয়ন্ত্রণ নিতে দেবে না। এর পরও পাকিস্তানি গণমাধ্যম আফগানিস্তান থেকে ওয়াখান করিডোর ইজারা নেওয়ার জন্য চিন ও পাকিস্তানের মধ্যে কাল্পনিক ডামাডোলের আখ্যান প্রচার করতে থাকে এবং বলতে থাকে যে, কী ভাবে পাকিস্তান তাজিকিস্তানের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন, আফগানিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করা এবং মধ্য এশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি করতে প্রস্তুত। নানাবিধ সম্ভাবনার মাঝে এ কথা স্পষ্ট যে, এটি আসলে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধও বটে। পাকিস্তান কর্তৃক ওয়াখান বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্যপাকিস্তান আসলে হুমকি দিতে সদা তৎপর হলেও সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে চায় না। কারণ এমনটা ঘটলে আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের সমগ্র সীমান্ত জুড়েই আগুন জ্বলবে। তবে এটি একটি শক্তিশালী বার্তাও প্রদান করেছে: পাকিস্তান চাইলে আফগানিস্তানকে এই যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে পারত এবং আফগান ভূখণ্ডকে ব্যবহারকারী টিটিপি ও বালোচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রতি অব্যাহত সমর্থন ও সহনশীলতার জন্য তালিবানকে মূল্য চোকাতে বাধ্য করতে পারত।

যোগ্য বিকল্পের অভাব

যেমনটা মনে হচ্ছে, আগামিদিনে পাকিস্তানের নীতি ক্যারট অ্যান্ড স্টিক (উপঢৌকন অথবা শাস্তি) পদ্ধতির সমান্তরাল পথেই থাকবে: এক দিকে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার আনুষ্ঠানিকতা; এবং অন্য দিকে পাকিস্তানি ভূখণ্ডে জঙ্গি হামলার প্রতিক্রিয়ায় প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের আগ্রাসী সহিংস মনোভাব। ভারতের প্রতি পাকিস্তানের নীতিও খানিকটা একই রকম: এক দিকে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা চালানো এবং তার সমান্তরালে উগ্রপন্থার রফতানি অব্যাহত রাখা। এই পন্থা কাগজে-কলমে বুদ্ধিদীপ্ত মনে হলেও এই দ্বি-মুখী পন্থা অবশ্যম্ভাবী পতন ডেকে আনে।

আদর্শগত ধারা ও প্রতিশ্রুতির পরিবর্তন ঘটানো এবং শান্তি সূচনা করার মতো অথবা আফগান তালিবানের সঙ্গে টিটিপি-কে সংযুক্তকারী স্বাভাবিক সম্পর্ক ছিন্ন করার মতো নমনীয় সুযোগ পাকিস্তানের কাছে নেই। অতীতেও নমনীয় মনোভাব অবলম্বন করা হয়েছে এবং তাতে বিশেষ ফল হয়নি। তাই পাকিস্তান শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। যাই হোক, সহিংস পদক্ষেপ অন্য নানা পদক্ষেপের চাইতে অনেক বেশি কার্যকর হয়েছে। এটি অনেক দিক থেকেই আবার ধাপ্পাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। এই সব কিছু করে খুব বেশি হলে কয়েক দিন, হয়তো কয়েক সপ্তাহ সময় পাওয়া যাবে, যে সময়ের মধ্যে পুনরায় পূর্ণ মাত্রায় আক্রমণ শুরু করার আগে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির হিংসার পরিমাণ কিছুটা হ্রাস পাবে। অভ্যন্তরীণ ভাবে এটি ভীষণ ভাবে অজনপ্রিয় সামরিক প্রশাসনকে পাকিস্তানের মাটিতে একটি নাগরিক মুখোশ নির্মাণে সাহায্য করবে। বিশেষ করে পঞ্জাব প্রদেশে নিজের রাজনৈতিক সমর্থন ফিরে পেতে পাকিস্তান এমনটা করতে পারে। তবে এর দরুন বড় আকারের সামরিক অভিযানের ফলে পাশতুন জনসংখ্যাকে বিচ্ছিন্ন করার তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে, যে গোষ্ঠীটি পাকিস্তানের পশ্চিমাংশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির তীব্র অবনতির সম্মুখীন হচ্ছে।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী অবশ্য এ বিষয়ে নিশ্চিত যে, তাদের শক্তি প্রদর্শন তালিবানদের কাছে একটি বার্তা প্রেরণ করবে। পাকিস্তানিরা যেমনটা মনে করেন যে, আপাতত তাঁরা আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলিতেই হামলা চালিয়েছেন। যাই হোক, পাকিস্তান আফগানিস্তানের গভীরে তাদের আক্রমণের তীব্রতা পরিসর বৃদ্ধি করতে পারে। এ কথা সবাই জানে যে তালিবানরা আর পাহাড় গুহায় লুকিয়ে নেই, বরং শহর ও নগরে প্রকাশ্যে বসবাস করছে, যা তালিবানকে পাকিস্তানের জন্য সহজ নিশানা করে তুলেছে। তবে পাকিস্তান যে কথা মোটেও ভেবে দেখেনি তা হল, প্রতিপক্ষও প্রতিশোধ নেবে, যার অর্থ এমন এক ক্রমবর্ধমান সর্পিল পরিস্থিতির সূচনা, যা পাকিস্তান নিজেও এড়িয়ে যেতে পারবে না। এমনকি বর্তমানে পাকিস্তানের অর্থনীতির অস্বাভাবিক অবস্থা, দেশটির রাজনীতির ভঙ্গুর প্রকৃতি এবং সামরিক সংস্থার মধ্যে বিভাজনের প্রেক্ষিতে এ কথা আরও স্পষ্ট। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের আগে সোভিয়েত সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকস ইউনিয়ন (ইউএসএসআর) আফগানিস্তানে হাজার হাজার বিমান হামলা ভূখণ্ড হামলা চালিয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে সেনা থাকা সত্ত্বেও দুই মহাশক্তিকেই আফগানিস্তানের মাটি ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে।

এ ছাড়াও আর সম্ভাব্য বিপদ হল এই যে, তালিবানরা যদি টিটিপি-কে খুব বেশি চাপ দেয়, তা হলে তারা নিজেদের ভ্রাতৃসুলভ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেই হাতিয়ার তুলে নেবে অথবা ইসলামিক স্টেট খোরাসান-এর (আইএসকে) মতো তালিবান বিরোধী ইসলামি শক্তির সঙ্গে হাত মেলাবে।

উভয় পরাশক্তির কাছেই প্রচুর সম্পদ, সামরিক শক্তি, ক্ষমতা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা ছিল, এমনকি পাকিস্তান চেয়েচিন্তে যত পরিমাণ এ হেন সম্পদ সংগ্রহ করতে পারে, তার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণেই বেশি। তা সত্ত্বেও দুই পরাশক্তি আফগানিস্তান ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউএসএসআর যদি আফগানিস্তানের মাটিতে টিকতে না পারে, তা হলে পাকিস্তানের পক্ষে তা কী ভাবে সম্ভব? পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিপরীতে তালিবানের সঙ্গে থাকা সমস্ত সরঞ্জাম-সহ কোনও বড় স্থায়ী সেনাবাহিনীর প্রয়োজন নেই। সে ক্ষেত্রে একটি লঘু মানের পদাতিক বাহিনী, ভাল রাইফেল, রকেট লঞ্চার, কিছু ভারী বন্দুক, ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) এবং অবশ্যই মানব বোমা প্রয়োজন রয়েছে, যা তালিবানের কাছে প্রচুর পরিমাণে উপলব্ধ।

প্রেরিত বার্তাকে প্রতিপক্ষ স্বীকৃতি দিতে অসমর্থ হলে প্রেরিত বার্তার প্রেক্ষিত গৃহীত কৌশলটিও ব্যর্থ হয়ে যায়, যেমনটা সম্ভবত ইসলামি আমিরাতের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে। যেহেতু তারা ২০২১ সালে ক্ষমতা দখল করেছে, তালিবানরা প্রকাশ্যে দর্শিয়েছে যে, তারা এমন কোনও সমঝোতা করতে রাজি নয়, যেটিকে তারা তাদের মূল আদর্শের পরিপন্থী বলে মনে করে। কোনও প্রকার চাপ, অনুনয়-বিনয় এবং প্রতিবাদ তাদের প্রভাবিত করে না। তাই পাকিস্তানের চাপের কাছে তালিবানের নতি স্বীকার করার সম্ভাবনা নিতান্তই ক্ষীণ। তালিবান কিছু সাময়িক কৌশলগত পরিবর্তন ঘটালেও, পাকিস্তান অথবা অন্য কোনও বিষয়ে পরাজয় স্বীকার করবে না। এ কথা সম্ভবত পাকিস্তানের বেশ কিছু মানুষও বুঝেছেন। কিন্তু জঙ্গিবাদের প্রবাহ বন্ধ করার ক্ষেত্রে ইসলামাবাদ কোনও শিথিলতা দেখাতে পারে না। দ্বিধা হল এই, যদি পাকিস্তান টিটিপি-কে দমন করার জন্য পদক্ষেপ না নেয়, তা হলে ইসলামপন্থীরা আরও জায়গা দখল করবে এবং পাকিস্তান রাষ্ট্রকে দুর্বল করে দেবে; আর অন্য দিকে পাকিস্তান যদি গতিশীল পদক্ষেপ নেয়, তা হলে দেশটি আফগান ঘূর্ণিতে আটকা পড়বে, যা পাকিস্তান রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাকেও দুরমুশ করে দেবে।

তালিবানরাও তাদের তরফে এক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। তালিবান তাদের মতাদর্শগত জাতিগত ভ্রাতৃত্বের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে পারে না, যারা শুধুমাত্র বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তি অর্থাৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের বিরুদ্ধে নিজেদের সমর্থনই জোগায়নি, বরং একই সঙ্গে সেই বিশ্বাসঘাতক অবিশ্বস্ত পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে শক্তি হয়ে উঠেছে, যে পাকিস্তান তালিবানের উপর শর্তাবলি আরোপ করতে চায় ও তাদেরকে জাতিগত বিদ্বেষমূলক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েই বিচার করে। এ ছাড়াও আর সম্ভাব্য বিপদ হল এই যে, তালিবানরা যদি টিটিপি-কে খুব বেশি চাপ দেয়, তা হলে তারা নিজেদের ভ্রাতৃসুলভ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেই হাতিয়ার তুলে নেবে অথবা ইসলামিক স্টেট খোরাসান-এর (আইএসকে) মতো তালিবান বিরোধী ইসলামি শক্তির সঙ্গে হাত মেলাবে।

বিশেষ করে ভারতের মতো অন্যান্য প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে পাকিস্তানের অক্ষমতা পাকিস্তানের প্রতি কোনও প্রকারে অনুকম্পার উদ্রেক ঘটায় না। অন্যান্য দেশ তাদের নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষিত করার জন্য তালিবানদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে এবং যত বেশি এমনটা ঘটবে, পাকিস্তানের জন্য তার পরিকল্পনাহীন আফগান নীতির ফলাফল নিয়ন্ত্রণ করা ততটাদুষ্কর হয়ে পড়বে। কারণ পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্য আফগানিস্তান এখন অস্তিত্বগত সঙ্কটে পরিণত হয়েছে।

 


সুশান্ত সারিন অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Author

Sushant Sareen

Sushant Sareen

Sushant Sareen is Senior Fellow at Observer Research Foundation. His published works include: Balochistan: Forgotten War, Forsaken People (Monograph, 2017) Corridor Calculus: China-Pakistan Economic Corridor & China’s comprador   ...

Read More +