২০২২ সালের শেষের দিকে যখন ঋষি সুনাক প্রাইম মিনিস্টার হিসেবে নির্বাচিত হন, তখন তিনি ‘নৌকা থামানো’র প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি সেই অভিবাসীদের কথা উল্লেখ করছিলেন, যাঁরা প্রাথমিক ভাবে নৌকার মাধ্যমে অবৈধ, বিপজ্জনক এবং প্রায়শই অপ্রয়োজনীয় পদ্ধতি ব্যবহার করে বলপূর্বক ব্রিটেনে প্রবেশ করেন। এর ফলস্বরূপ ২২ এপ্রিল ব্রিটিশ পার্লামেন্ট দ্বারা একটি আইন পাস করা হয়েছিল যা কোনও অবৈধ আশ্রয়প্রার্থীকে পূর্ব আফ্রিকার দেশ রোয়ান্ডায় নির্বাসন দেওয়ার অনুমতি দেয় এবং তার পরে আবার দেশে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়।
যাই হোক, যেহেতু শরণার্থী ভিসা বা প্রবেশের অন্যান্য বৈধ উপায় নেই, তাই এই নিয়মের অর্থ হল এই যে সমস্ত আশ্রয়প্রার্থীর ব্রিটেনে প্রবেশ করা নিষিদ্ধ। আইনে ২০২২ সালের ১ জানুয়ারির পর যাঁরাই অবৈধ ভাবে দেশে প্রবেশ করেছেন তাঁদেরই রোয়ান্ডায় পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সুতরাং, এই আইনটি কার্যকর হলে, সম্ভবত ব্রিটেনে থাকা ৫০০০০ আশ্রয়প্রার্থীকে অবশেষে রোয়ান্ডায় নির্বাসিত করা হতে পারে। ব্রিটেনে আশ্রয়প্রার্থী শীর্ষ পাঁচটি দেশের মানুষ, যাঁরা নৌকায় চেপে সেখানে প্রবেশ করেন, তাঁরা হলেন আফগানিস্তান, ইরান, পাকিস্তান, ভারত এবং বাংলাদেশের বাসিন্দা।
আইনের সূত্রপাত ২০২২ সালের এপ্রিলে হয়, রোয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামে এবং ব্রিটেনের তৎকালীন প্রাইম মিনিস্টার বরিস জনসন ‘মাইগ্রেশন অ্যান্ড ইকোনমিক পার্টনারশিপ’ বা ‘রোয়ান্ডা প্ল্যান’ নামে পরিচিত একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন যা ব্রিটেনকে যে কোনও আশ্রয়প্রার্থীকে রোয়ান্ডায় নির্বাসিত করার অনুমতি দেবে। যেহেতু ২০২২ সালে ব্রিটেনে নৌকায় আসা শরণার্থীর সংখ্যা ২০১৮ সালের মাত্র ২৯৯ থেকে রেকর্ড হারে বেড়ে ৪৫৭৭৪-এ উন্নীত হয়েছে, অভিবাসন ব্রিটেনের পার্লামেন্টে একটি ক্রমবর্ধমান বিতর্কিত সমস্যা হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে।
তা সত্ত্বেও, ইউরোপিয়ান কোর্ট অফ হিউম্যান রাইটস (ইসিএইচআর) আইনটিকে অবৈধ বলে গণ্য করেছে এবং ২০২২ সালের জুনে প্রথম নির্বাসন ফ্লাইটটির উড়ান নেওয়াতে বাধা দিয়েছে। সর্বোপরি ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে ব্রিটিশ সুপ্রিম কোর্ট প্রকল্পটিকে অবৈধ ঘোষণা করে তারা এর আগে যে রায় দিয়েছিল সেটাই বহাল রাখে। কারণ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো হলে তাঁদের নিজ দেশে বা রোয়ান্ডার মতো অন্যান্য দেশে এই আশ্রয়প্রার্থীদের নিপীড়ন করা হতে পারে। এটি ব্রিটিশ এবং আন্তর্জাতিক উভয় মানবাধিকার আইন এবং চুক্তি লঙ্ঘন করবে।
সিদ্ধান্তের অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা এই সত্য থেকে উদ্ভূত যে ব্রিটেন শরণার্থীদের দাবি পূরণের জন্য বার্ষিক ৩ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি ব্যয় করে চলেছে।
সুপ্রিম কোর্টের উদ্বেগের প্রতিক্রিয়ায় প্রাইম মিনিস্টার সুনাক রোয়ান্ডার সঙ্গে এক নতুন চুক্তি অর্থাৎ সেফটি অফ রোয়ান্ডা (অ্যাসাইলাম অ্যান্ড ইমিগ্রেশন) অ্যাক্ট-এর প্রস্তাব দেন। সংক্ষেপে, নতুন আইনটি সমস্ত আইনি বাধাকে অতিক্রম করবে এবং রোয়ান্ডাকে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য নিরাপদ বলে ঘোষণা করবে। সর্বোপরি, এই নতুন আইন রোয়ান্ডাকে তার দেশে আসা কোনও শরণার্থীকে ব্রিটেন ছাড়া অন্য কোনও দেশে প্রেরণ করতে বাধা দেবে।
সিদ্ধান্তের অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা এই সত্য থেকে উদ্ভূত যে ব্রিটেন শরণার্থীদের দাবি পূরণের জন্য বার্ষিক ৩ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি ব্যয় করে চলেছে। সর্বোপরি, এই অভিবাসীদের হোটেল এবং অন্যান্য বাসস্থানে আবেদন প্রক্রিয়াকরণ না হওয়া পর্যন্ত থাকার দৈনিক খরচও প্রায় ৮ মিলিয়ন পাউন্ড ছাড়িয়ে যায়। প্রকৃতপক্ষে, রোয়ান্ডা যে কোনও নির্বাসনের আগে ব্রিটেন থেকে ২০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি অর্থ পেয়েছে এবং ৩০০ জন শরণার্থীকে পুনর্বাসন দেওয়ার জন্য এটি আরও ৬০০ মিলিয়ন পাউন্ড বা তারও বেশি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে, আইনটি সকলের কাছ থেকে কঠোর সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে, তা সে সুনাকের নিজস্ব কনজারভেটিভ পার্টি থেকে রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কমিশনার।
গ্লোবাল সাউথের উপর প্রভাব
সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বারবার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও, রোয়ান্ডা সরকারের এই অভিবাসীদের নেওয়ার আগ্রহ দেশটির প্রতি বিদ্বেষ জাগাবে না। দেশটি সাম্প্রতিক ইতিহাসে তর্কযোগ্য ভাবে সবচেয়ে বড় গণহত্যার সাক্ষী থেকেছে এবং দেশটি আজও দৃঢ়তা, স্থিতিস্থাপকতা এবং টিকে থাকার একটি জীবন্ত উদাহরণ।
গৃহযুদ্ধের সময় হুতু-নেতৃত্বাধীন গণহত্যা এবং তুতসিদের নিপীড়নের ফলে রোয়ান্ডাবাসীদের অনেকের সঙ্গেই অভিবাসীদের একটি শক্তিশালী বন্ধন তৈরি হয়েছে। এ ছাড়াও, সাম্প্রতিক কালে এবং পশ্চিমীদের দ্বারা বহুলাংশে অস্বীকৃত, বিপুল সংখ্যক অভিবাসী এখনও প্রতিবেশী দেশ যেমন ডিআরসি (ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ দ্য কঙ্গো) বা বুরুন্ডি থেকে রোয়ান্ডায় আসছেন। সেই দেশগুলিতে হওয়া ভয়ঙ্কর হিংসার হাত থেকে বাঁচতে তাঁরা রোয়ান্ডামুখী হচ্ছেন।
ইউএনএইচসিআর সহযোগিতার অধীনে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রোয়ান্ডা একাধিক বার লিবিয়ার কুখ্যাত আটক কেন্দ্র থেকে সরিয়ে নেওয়া শরণার্থীদের গ্রহণ করেছে।
রিফিউজি ইন্টারন্যাশনাল দ্বারা প্রকাশিত ২০২৩ সালের সমীক্ষা অনুসারে রোয়ান্ডায় বর্তমানে প্রায় ১৩৫০০০ শরণার্থী রয়েছেন। অন্যান্য অনেক দেশের বিপরীতে রোয়ান্ডায় উদ্বাস্তুদের তাঁদের নিজস্ব বাড়িতে বাস করা, কাজ করা, নিজস্ব সম্পত্তি কেনা, ব্যবসা নিবন্ধন করা এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার অনুমতি দেওয়া হয়। প্রকৃত পক্ষে, ‘অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি’ সম্পর্কিত রোয়ান্ডার শরণার্থী নীতি ‘পূর্ব আফ্রিকা এবং অন্যান্য দেশের জন্য পাঠ-সহ একটি মডেল হিসাবে কাজ করবে।’ ইউএনএইচসিআর সহযোগিতার অধীনে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রোয়ান্ডা একাধিক বার লিবিয়ার কুখ্যাত আটক কেন্দ্র থেকে সরিয়ে নেওয়া শরণার্থীদের গ্রহণ করেছে। উপরন্তু, দেশটি ইজরায়েল কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের গ্রহণ করা সংক্রান্ত বিতর্কিত ও বর্তমানে বিলুপ্ত চুক্তির অংশ ছিল এবং ইজরায়েল কর্তৃক নির্বাসিত প্রায় ৪০০০ শরণার্থী গ্রহণ করেছিল।
রোয়ান্ডার ইতিহাস সত্ত্বেও, চলমান আইন কার্যকর হতে চলেছে। ব্রিটিশ প্রাইম মিনিস্টার বলেছেন যে, প্রথম ফ্লাইটটি ১০ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে উড়ান নেবে। রোয়ান্ডার এত বেশি সংখ্যক শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হলেও সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হল, এই আইনটি অবশিষ্ট ইউরোপের জন্য নজির স্থাপন করতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, ইউরোপীয় দেশগুলির অনেকে অনুরূপ আইন প্রণয়ন করতে তাদের ইচ্ছার ইঙ্গিত দিতে শুরু করেছে। তারা সম্ভবত অভিবাসন ব্যবস্থাপনার নিজস্ব অফশোর মডেল বিকাশের জন্য ব্রিটেনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার উপর নজর রাখছে।
ইইউ দেশগুলির শরণার্থীর আবেদন
|
ইইউ২৭ দেশ এবং ব্রিটেনে আবেদনকারীর সংখ্যা
|
দেশ
|
২০১৭
|
২০১৮
|
২০১৯
|
২০২০
|
২০২১
|
২০২২
|
অস্ট্রিয়া
|
২৪৭০০
|
১৩৭০০
|
১২৯০০
|
১৪৮০০
|
৩৯৯০০
|
১১২২০০
|
বেলজিয়াম
|
১৮৩০০
|
২২৫০০
|
২৭৫০০
|
১৬৭০০
|
২৫০০০
|
৩৬৭০০
|
বুলগেরিয়া
|
৩৭০০
|
২৫০০
|
২২০০
|
৩৫০০
|
১১০০০
|
২০৪০০
|
ক্রোয়েশিয়া
|
১০০০
|
৮০০
|
১৪০০
|
১৬০০
|
২৯০০
|
১২৯০০
|
সাইপ্রাস
|
৪৬০০
|
৭৮০০
|
১৩৭০০
|
৭৫০০
|
১৩৭০০
|
২২২০০
|
চেক রিপাবলিক
|
১৪০০
|
১৭০০
|
১৯০০
|
১২০০
|
১৪০০
|
১৭০০
|
ডেনমার্ক
|
৩২০০
|
৩৬০০
|
২৭০০
|
১৫০০
|
২১০০
|
৪৬০০
|
এস্তোনিয়া
|
২০০
|
১০০
|
১০০
|
১০০
|
১০০
|
২৯০০
|
ফিনল্যান্ড
|
৫০০০
|
৪৫০০
|
৪৫০০
|
৩২০০
|
২৫০০
|
৫৮০০
|
ফ্রান্স
|
৯৯৩০০
|
১৩৭৭০০
|
১৫১১০০
|
৯৩২০০
|
১২০৭০০
|
১৫৬৫০০
|
জার্মানি
|
২২২৬০০
|
১৮৪২০০
|
১৬৫৬০০
|
১২২০০০
|
১৯০৫০০
|
২৪৩৮০০
|
গ্রিস
|
৫৮৭০০
|
৬৭০০০
|
৭৭৩০০
|
৪০৬০০
|
২৮৪০০
|
৩৭৪০০
|
হাঙ্গেরি
|
৩৪০০
|
৭০০
|
৫০০
|
১০০
|
০
|
০
|
আয়ারল্যান্ড
|
২৯০০
|
৩৭০০
|
৪৮০০
|
১৬০০
|
২৭০০
|
১৩৭০০
|
ইতালি
|
১২৮৯০০
|
৬০০০০
|
৪৩৮০০
|
২৬৯০০
|
৫৩৬০০
|
৮৪৩০০
|
লাটভিয়া
|
৪০০
|
২০০
|
২০০
|
২০০
|
৬০০
|
৬০০
|
লিথুয়ানিয়া
|
৫০০
|
৪০০
|
৬০০
|
৩০০
|
৩৯০০
|
১০০০
|
লুক্সেমবার্গ
|
২৪০০
|
২৩০০
|
২৩০০
|
১৩০০
|
১৪০০
|
২৫০০
|
মাল্টা
|
১৮০০
|
২১০০
|
৪১০০
|
২৫০০
|
১৬০০
|
১৩০০
|
নেদারল্যান্ডস
|
১৮২০০
|
২৪০০০
|
২৫২০০
|
১৫৩০০
|
২৬৫০০
|
৩৭০০
|
পোল্যান্ড
|
৫০০০
|
৪১০০
|
৪১০০
|
২৮০০
|
৭৮০০
|
৯৮০০
|
পর্তুগাল
|
১৮০০
|
১৩০০
|
১৮০০
|
১০০০
|
১৫০০
|
২১০০
|
রোমানিয়া
|
৪৮০০
|
২১০০
|
২৬০০
|
৬২০০
|
৯৬০০
|
১২৪০০
|
স্লোভাকিয়া
|
২০০
|
২০০
|
২০০
|
৩০০
|
৪০০
|
৫০০
|
স্লোভেনিয়া
|
১৫০০
|
২৯০০
|
৩৮০০
|
৩৬০০
|
৫৩০০
|
৬৮০০
|
স্পেন
|
৩৬৬০০
|
৫৪১০০
|
১১৭৮০০
|
৮৮৫০০
|
৬৫৩০০
|
১১৭৯০০
|
সুইডেন
|
২৬৩০০
|
২১৬০০
|
২৬৩০০
|
১৬২০০
|
১৪০০০০
|
১৮৬০০
|
ইউনাইটেড কিংডম
|
৩৪৮০০
|
৩৮৮০০
|
৪৬১০০
|
-
|
-
|
-
|
ইইউ২৭
|
৬৭৭৫০০
|
৬২৫৬০০
|
৬৯৮৮০০
|
৪৭২৪০০
|
৬৩২৪০০
|
৯৬৫৬৬৫
|
ইইউ২৮
|
৭৩৫০০০
|
৬৬৯০০০
|
৭৪০৩০০
|
-
|
-
|
-
|
সূত্র- ইউরোস্ট্যাট, অ্যাসাইলাম অ্যান্ড ফার্স্ট টাইম অ্যাসাইলাম অ্যাপ্লিক্যান্টস বা সিটিজেনশিপ, এজ অ্যান্ড সেক্স, অ্যানুয়াল এগ্রিগেটেড ডেটা
প্রকৃতপক্ষে, ব্রিটেনই একমাত্র দেশ নয় যে, তারা অন্যদের সাহায্য করার জন্য অর্থ ব্যয় কমাতে চায়। জার্মানির রক্ষণশীল বিরোধীরা ভবিষ্যৎ শরণার্থীদেরকে নন-ইইউ ইউরোপীয় দেশ যেমন মলদোভা এবং জর্জিয়াতে বা আফ্রিকার ঘানা এবং রোয়ান্ডার মতো তৃতীয় দেশে পাঠানোর দাবিকে সমর্থন করে, যেখানে তাদের আশ্রয়ের দাবিগুলি গ্রাহ্য করা যেতে পারে। এদিকে, ইতালি তার আশ্রয়প্রার্থীদের আলবেনিয়ায় ফেরত পাঠানোর কথা বিবেচনা করছে এবং আলবেনিয়ান পার্লামেন্ট ইতিমধ্যে চুক্তিটি অনুমোদন করেছে ও বার্ষিক ৩৬০০০ শরণার্থী গ্রহণ করতে পারে। অস্ট্রিয়াও অনুরূপ কর্মসূচি বাস্তবায়নে আগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছে।
এই আশ্রয়প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ ছাড়াও, আয়োজক দেশগুলির জন্য আরও অনেক চাপের উদ্বেগ থাকবে। উদাহরণ স্বরূপ, অভিবাসী গোষ্ঠীগুলি দুষ্প্রাপ্য সংস্থান বা কাজের জন্য একে অপরের সঙ্গে লড়াই করতে শুরু করলে নাগরিকদের কী করা উচিত? পশ্চিমীরা প্রকাশ্যে বলপূর্বক অভিবাসন সমর্থন না করলেও শরণার্থীদের নৌকাগুলিকে অন্য দেশের দিকে ঠেলে দেওয়া কঠিন। প্রকৃতপক্ষে, আসন্ন রোয়ান্ডা নীতির ছায়া থাকা সত্ত্বেও, এ বছর এখনও পর্যন্ত ৬২৫০ জনেরও বেশি মানুষ নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ব্রিটেনে এসে পৌঁছেছেন।
নৌযানগুলির পথ বদলে দিয়ে ব্রিটেন তাদের ব্রিটিশ উপকূলে পৌঁছতে বাধা দিতে পারে। যাই হোক, এটি এই আশ্রয়প্রার্থীদের নিজেদের দেশ থেকে পালাতে বাধা দেবে না। তাঁদের বিভিন্ন জাতীয় পটভূমি এবং তাঁদের নিজ দেশে হিংসা ও সামাজিক অস্থিরতার প্রবণতার ফলে এই শরণার্থীরা আরও বেশি ঝুঁকি নিতে পারেন। তাদের নিজ দেশে শান্তি না ফেরা পর্যন্ত তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন অস্বীকার করা সেই সকল মানুষের প্রতি এক গুরুতর অবিচার হবে, যাঁদের এমনটা বিশেষ ভাবে প্রয়োজন।
বন্ধ সীমান্তের এই ধরনের একতরফা নীতির দ্বারা বিশ্বব্যাপী সুরক্ষা ব্যবস্থার কাঠামো মারাত্মক এবং সম্পূর্ণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এ কথা স্পষ্ট যে, ‘নৌকা থামানো’ আসলে একটি জটিল চ্যালেঞ্জের একটি অতি সরলীকৃত সমাধান। প্রকৃতপক্ষে, বলপূর্বক অভিবাসন অনেক পশ্চিমী দেশের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ। দুর্ভাগ্যবশত, এটির জন্য কোনও সহজ সমাধান উপলব্ধ নেই। স্বল্প থেকে মধ্যমেয়াদে সমস্যাটি মোকাবিলা করার জন্য, দেশগুলির সহযোগিতা ছাড়া অন্য কোনও বিকল্প নেই। সর্বোপরি, বলপূর্বক অভিবাসনের সমস্যাকে বিচ্যুত, প্রতিরোধ এবং উপেক্ষা করার জন্য রোয়ান্ডার সঙ্গে ব্রিটেনের চুক্তিটি অত্যন্ত অমানবিক, অত্যধিক ব্যয়বহুল এবং অদক্ষ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল এই যে, বন্ধ সীমান্তের এই ধরনের একতরফা নীতির দ্বারা বিশ্বব্যাপী সুরক্ষা ব্যবস্থার কাঠামো মারাত্মক এবং সম্পূর্ণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
যে স্তরে আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হচ্ছে, তা এই দ্ব্যর্থহীন বার্তা দেয় যে, যাদের অভিবাসন প্রয়োজন তাদের এখনও সাধারণ মানুষ স্বাগত জানায়। রোয়ান্ডা আইনের সম্পূর্ণ প্রভাব এখনও দেখা না গেলেও নিশ্চয়ই গ্লোবাল সাউথের অনেক দেশই অভিবাসন আউটসোর্সিং পরিষেবাকে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার একটি সহজ উপায় হিসাবে বিবেচনা করতে পারে এবং এর ফলে দেশগুলি আরও তলিয়ে যাবে। এই পিচ্ছিল ঢালে পা রাখা গ্লোবাল সাউথের জন্য সব দিক থেকে নেতিবাচক হবে।
সমীর ভট্টাচার্য অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের অ্যাসোসিয়েট ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.