প্রেসিডেন্ট হিসাবে তাঁর প্রথম বিদেশ সফরের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আলোচনার পর শ্রীলঙ্কার অনুরা কুমার দিসানায়েকে ‘ভারতীয় নেতাকে তাঁর এই আশ্বাসের কথাই বলেছিলেন যে, শ্রীলঙ্কা তার ভূখণ্ডকে ভারতের নিরাপত্তার পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর কোনও উপায়ে ব্যবহার করার অনুমতি দেবে না।’ শ্রীলঙ্কার তরফে ‘বিদেশি গবেষণা জাহাজ’-এর (যেটিকে ভারত ও বিশ্বের অন্য অনেক দেশ ‘গুপ্তচর জাহাজ’ বলে মনে করে) উপর তার বছরব্যাপী নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি শ্রীলঙ্কার জলসীমায় কর্মরত ও শ্রীলঙ্কার বন্দরে নোঙর সংক্রান্ত একটি গুরুতর উদ্বেগকেই দর্শায়।
তাঁর শীর্ষ সম্মেলন-পরবর্তী সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক সচিব বিক্রম মিসরি বলেছেন: ‘গবেষণা জাহাজের নোঙর সম্পর্কিত সমস্যা সম্পর্কে আমাদের আসল বোঝার বিষয় হল এই যে, শ্রীলঙ্কা সরকার এই সমস্যাটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তাদের কোন বিষয়গুলি বিবেচনা করবেন, তার উপর নজর থাকবে...আমরা এই এলাকায় আমাদের নিরাপত্তা স্বার্থের গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতার দিকে ইঙ্গিত করেছি। প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকে খুব স্পষ্ট ভাবে বলেছিলেন, তিনি এ কথা সুনিশ্চিত করবেন যে, শ্রীলঙ্কার ভূখণ্ড ব্যবহার করে এমন কিছু করা হবে না, যা ভারতের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করতে পারে। সুতরাং, আমরা এই সমস্ত বিষয়ে শ্রীলঙ্কা সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকব এবং আমরা নিশ্চিত যে, এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি শ্রীলঙ্কা সরকার যথাযথ মনোযোগ দেবে।’
প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকে খুব স্পষ্ট ভাবে বলেছিলেন, তিনি এ কথা সুনিশ্চিত করবেন যে, শ্রীলঙ্কার ভূখণ্ড ব্যবহার করে এমন কিছু করা হবে না, যা ভারতের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করতে পারে।
শ্রীলঙ্কায় পূর্বসূরি রনিল বিক্রমাসিংহের শাসনামলে আরোপিত ‘বিদেশি গবেষণা জাহাজ’-এর উপর এক বছরের স্থগিতাদেশ ২০২৪ সালে শেষ হয়েছে। তাই বিষয়টি এখন জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। এ বার প্রশ্ন হল, প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকের অধীনে নতুন ব্যবস্থা অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিতাদেশ বাড়িয়ে দেবে না কি এটি প্রত্যাহার করবে না কি তাদের গবেষণা কাজ না করেই শ্রীলঙ্কার বন্দরে নোঙর করার অনুমতি দেওয়ার শর্ত প্রদান করবে? বলা বাহুল্য, দিয়েগো গার্সিয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে খুব দূরে শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ জলসীমার মধ্য দিয়ে চিনা গবেষণা জাহাজগুলি চলাচল শুরু করার পরে বিক্রমাসিংহে সরকারের সিদ্ধান্তটি ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফে প্রকাশ্য আপত্তির ভিত্তিতে গৃহীত ছিল।
ঘটনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত
প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকে ২০২৫ সালে চিন সফরের পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেছেন। এ বার এ কথা লক্ষ্যণীয় যে, তাঁর পূর্বসূরিদের মতো দিসানায়েকেও প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর প্রথম সফরের জন্য ভারতকে বেছে নিয়েছিলেন। এই প্রেক্ষিতে, ভারতীয় বিশ্লেষকদের এ কথা স্বীকার করে নেওয়া উচিত যে, শ্রীলঙ্কা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং নতুন জেভিপি (জনতা বিমুক্তি পেরামুনা) সরকার সমষ্টিগত ও প্রতিযোগী প্রতিবেশী উদ্বেগের বিষয়ে তার পূর্বসূরিদের মতোই অভ্যন্তরীণ চাপের মধ্যে থাকবে। দলটি ছয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে তার জঙ্গি সূচনা থেকে শুরু করে তার ‘ভারত-বিরোধী’ মনোভাবের আংশিক ধারণাগুলির ঊর্ধ্বে উঠতে সক্ষম হয়েছে। তবে মার্কসবাদী ঝোঁক থাকা সত্ত্বেও দলটিকে পুরোপুরি চিনপন্থীও বলা যাবে না।
দিসানায়েকের দিল্লি সফরের পরে তাঁর সাপ্তাহিক সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদের মুখপাত্র নালিন্দা জয়তিসা বলেছেন যে, সরকার বিদেশি গবেষণা জাহাজগুলিকে ‘ক্ষেত্রবিশেষে’ অনুমতি প্রদান করবে। যাই হোক, পিএলএ-এন মেডিকেল জাহাজ পিস আর্কের শ্রীলঙ্কার জলসীমায় আগমন নিয়ে কলম্বোর কোনও সমস্যা ছিল না। এই প্রেক্ষিতে জয়তিসা বলেছিলেন যে, শ্রীলঙ্কা ভারত ও চিনের সঙ্গে ‘কূটনৈতিক পদ্ধতি’তে মোকাবিলা করবে। তবে এ নিয়ে বিশদ কিছু বলেননি।
দলটি ছয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে তার জঙ্গি সূচনা থেকে শুরু করে তার ‘ভারত-বিরোধী’ মনোভাবের আংশিক ধারণাগুলির ঊর্ধ্বে উঠতে সক্ষম হয়েছে। তবে মার্কসবাদী ঝোঁক থাকা সত্ত্বেও দলটিকে পুরোপুরি চিনপন্থীও বলা যাবে না।
যে দিন জয়তিসা বিদেশি গবেষণা জাহাজের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে তাঁর সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করছিলেন, সেই দিনই চাইনিজ পিপলস পলিটিক্যাল কনসালটেটিভ কনফারেন্সের (সিপিপিসিসি) ন্যাশনাল কমিটির ভাইস-চেয়ারপার্সন কিন বয়ং প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকের সঙ্গে হওয়া এক বৈঠকে বলেছিলেন যে, বেজিং শ্রীলঙ্কার জলসীমায় তার গবেষণামূলক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে আগ্রহী। তাঁদের বৈঠকের পর শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের মিডিয়া ডিভিশনের (পিএমডি) এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কিন বয়ং বলেছেন যে, সামুদ্রিক গবেষণা কার্যক্রম পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা বিভিন্ন কারণে সাময়িক ভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এর পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক প্রকল্পগুলির কাজও শুরু হবে।’
প্রেসিডেন্ট চিনা ব্যবস্থাপনায় সেন্ট্রাল এক্সপ্রেসওয়ের অসমাপ্ত অংশগুলি সম্পূর্ণ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং চিন-অর্থায়িত কলম্বো পোর্ট সিটি (সিপিসি) আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্কিং কেন্দ্র ও হাম্বানটোটা জেলাকে কেন্দ্র করে সরবরাহ কেন্দ্র ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রকল্পগুলি ত্বরান্বিত করার আশা প্রকাশ করেন। দিসানায়েক চিনের কাছ থেকে তাঁর সরকারের অগ্রাধিকারমূলক প্রত্যাশা তুলে ধরার চেষ্টা করলেও পিএমডি-র বিবৃতিতে তার উল্লেখ করা হয়নি।
স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা সাধারণ কার্যকরী পদ্ধতি
এই বিষয়ে জল্পনা-কল্পনার অন্তত এক অস্থায়ী অবসান ঘটাতে বিদেশমন্ত্রী বিজিতা হেরাথ - যিনি দিল্লিতে দিসানায়েকের সঙ্গে সফরে এসেছিলেন এবং দিসানায়েকের চিন সফরের সময়েও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে - একটি বিশেষ কমিটির কথা ঘোষণা করেছেন, যেটি ‘এই কাঠামোর তদারকি করবে এবং শ্রীলঙ্কায় আগত গবেষণা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক জাহাজের অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।’ মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত ঘোষণার দুই দিন পর মন্ত্রী হেরাথ ২০ ডিসেম্বর স্পষ্ট করেই জানান যে, বছরব্যাপী স্থগিতাদেশের শেষে একটি ‘নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) কার্যকর হবে।’ এ কথা উল্লেখ্য যে, পূর্বসূরি সরকার স্থগিতাদেশের মতোই এসওপি-ও চূড়ান্ত করেছিল এবং তার পর থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে (বিশদ বিবরণ ছাড়া) মাঝে মাঝে সেই এসওপি-র উল্লেখ পাওয়া গেছে।
শ্রীলঙ্কা ভারতকে আশ্বস্ত করেছে যে, তারা ভারত বা ভারত মহাসাগর অঞ্চলের জন্য ক্ষতিকর কোনও ভূমি বা ভূখণ্ড প্রদান করবে না।
শ্রীলঙ্কার গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, মন্ত্রী হেরাথ আরও উল্লেখ করেছেন যে, ‘ভারতের প্রধান উদ্বেগ তার আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখা। এই প্রেক্ষিতে শ্রীলঙ্কা ভারতকে আশ্বস্ত করেছে যে, তারা ভারত বা ভারত মহাসাগর অঞ্চলের জন্য ক্ষতিকর কোনও ভূমি বা ভূখণ্ড প্রদান করবে না। নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) এই বিষয়টির দেখভাল করবে।’
সামগ্রিক ভাবে মন্ত্রী হেরাথ জোর দিয়েছিলেন যে, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা প্রধান অগ্রাধিকার এবং শ্রীলঙ্কার অবস্থানও এ বিষয়ে স্পষ্ট ছিল: ‘আমরা এমন কিছু হতে দেব না, যা শ্রীলঙ্কার জাতীয় নিরাপত্তাকে বাধা দেয়।’ তবে এ কথা স্পষ্ট নয় যে, এটি চিন, ভারত কিংবা এই দুই দেশের জন্যই কোনও চেতাবনি ছিল কি না যে, কলম্বো একাই নিরাপত্তা-সম্পর্কিত বিষয়ে তার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবে।
বারংবার সফর
বন্দরগুলিতে ইউয়ান ওয়াং ৬, ইউয়ান ওয়াং ৫, শি ইয়ান ৬, জিয়াং ইয়াং ০৩ এবং জিয়াং ইয়াং হং ০১-সহ চিনা গবেষণা-ওরফে-গুপ্তচর জাহাজগুলির নোঙর করার বিষয়ে ভারতের উদ্বেগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যখন মনে করা হয়েছিল যে, শ্রীলঙ্কার জলরাশি থেকে কখনও কখনও ভারতীয় প্রতিরক্ষা ও সুরক্ষা কার্যক্রমের উপর নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ চালানো হয়। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একটি চিনা গবেষণা/গুপ্তচর জাহাজ মালে বন্দরে নোঙর করেছিল। এর সম্ভাব্য কারণ ছিল এই যে, জাহাজটি সমুদ্রযাত্রা শুরু করার পরে শ্রীলঙ্কার তরফে স্থগিতাদেশের ঘোষণা করা হয়েছিল। তাই মলদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জুর সরকারের তরফে জাহাজ নোঙর করতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে চাপানউতোর বৃদ্ধি করেছিল।
জাহাজটি মালেকেই একটি ঘাঁটি বানিয়েছিল। কারণ ভারত মহাসাগর জুড়ে এক মাস ভ্রমণের পরে জাহাজটি ফিরে গিয়েছিল। এই জাহাজগুলির সাম্প্রতিক পরিদর্শনের মধ্যে এটিই ছিল শেষ। চিনা জাহাজের উপর স্থগিতাদেশের দরুন কি না অথবা নোঙরের জন্য মলদ্বীপের সঙ্গে চিন যোগাযোগ করছে কি না… তা অবশ্য সময় বলবে। এরই মধ্যে আবার সন্ধানযোগ্য সঙ্কেত বন্ধ করে দিয়ে সমুদ্রপথে যাওয়ার অভিযোগে ইন্দোনেশিয়ার উপকূলরক্ষীবাহিনী মলদ্বীপগামী জাহাজটিকে থামিয়েছিল বলেও খবর পাওয়া গিয়েছে।
এখন প্রশ্ন হল, শ্রীলঙ্কা চিনা গবেষণামূলক জাহাজকে আদৌ পাইকারি ছাড়পত্র দেবে কি না বা অনুমতি চাওয়া হলে তা শ্রীলঙ্কার জলসীমা ও বন্দরে থাকাকালীন তথাকথিত গবেষণার কাজ না করার মতো শর্ত আরোপ করবে কি না। ভারতীয় উদ্বেগের প্রতিক্রিয়ায় ও একই সময়ে চিনের প্রতি প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষের অঘোষিত প্রতিশ্রুতি আংশিক ভাবে পূরণ করে রনিল চিনের একটি জাহাজকে কলম্বো বন্দরে নোঙর করার অনুমতি দিয়েছিলেন শুধু এই শর্তেই যে, জাহাজটি নিজেদের গবেষণামূলক সরঞ্জাম বন্ধ রাখবে এবং সঙ্কেতপ্রদান চালু রাখবে। ঠিক এই ভাবেই জাহাজটির কার্যক্ষমতাকে খর্ব করে দেওয়া হয়েছিল এবং শুধুমাত্র বিশ্রাম নেওয়া ও সম্পদ মজুত করতেই জাহাজটিকে বাধ্য করা হয়েছিল।
এখন প্রশ্ন হল, শ্রীলঙ্কা চিনা গবেষণামূলক জাহাজকে আদৌ পাইকারি ছাড়পত্র দেবে কি না বা অনুমতি চাওয়া হলে তা শ্রীলঙ্কার জলসীমা ও বন্দরে থাকাকালীন তথাকথিত গবেষণার কাজ না করার মতো শর্ত আরোপ করবে কি না।
বছরব্যাপী স্থগিতাদেশের মধ্যেই শ্রীলঙ্কা একটি জার্মান গবেষণা জাহাজকে নোঙর করা এবং তার রসদ পুনরায় পূরণ করার অনুমতি দিয়েছে। কলম্বোতে চিনা দূতাবাসের তরফে এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে, আয়োজক সরকার এই পার্থক্যটিই তুলে ধরেছিল যে, জাহাজটি শুধুমাত্র নিঃশেষিত সম্পদ মজুত করার জন্যই নোঙর করেছিল এবং শ্রীলঙ্কার জলসীমায় কোনও গবেষণামূলক কাজ করার জন্য নোঙর করেনি। সরকারি মুখপাত্রদের দ্বারা বিস্তৃত ভাবে নির্দেশিত নীতি অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করার পরে এসওপি-র অধীনে ‘নতুন আদর্শ’ কার্যকর হবে কি না, তা অবশ্য সময় বলবে। স্থগিতাদেশ সংক্রান্ত বিতর্কের সময়ই জাপান শ্রীলঙ্কাকে একটি সামুদ্রিক গবেষণা জাহাজ প্রদান করার প্রস্তাব দিয়েছিল। সেই সময়ে প্রেসিডেন্ট বিক্রমসিংহে বলেছিলেন যে, তাঁরা দক্ষতা-নির্মাণ ও প্রশিক্ষণের জন্য বছরব্যাপী স্থগিতাদেশ রাখবেন। তবে এই বিষয়টির সামগ্রিক অগ্রগতি জানা যায়নি।
একই ভাবে, এই বিষয়ে কলম্বোর সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে এমন ‘অন্যান্য বিবেচনা’র বিষয়ে মিসরির উল্লেখ যথেষ্ট। আগামী দিন ও সপ্তাহগুলিতে তাই চিনা গবেষণামূলক জাহাজগুলির উপর নিবিড় নজর থাকবে। কারণ এটিকে নতুন সরকারের বিদেশনীতি ও নিরাপত্তা নীতির একটি সম্প্রসারণ হিসাবে মনে করা হচ্ছে। কারণ শ্রীলঙ্কার এক দিকে রয়েছে ভারতের মতো নির্ভরযোগ্য প্রতিবেশী এবং অন্য দিকে রয়েছে চিন, যা কিনা একক বৃহত্তম ঋণদাতা। এটি কলম্বোর নতুন সরকারের জন্যও একটি লিটমাস পরীক্ষা এবং এটি এমন এক ধরনের ভারসাম্য রক্ষাকারী পদক্ষেপ হতে পারে, যা স্বল্প, মাঝারি এবং দীর্ঘ মেয়াদে শ্রীলঙ্কার অবস্থানকে সশক্ত বা দুর্বল করতে পারে।
এন সত্য মূর্তি চেন্নাইভিত্তিক নীতি বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক ধারাভাষ্যকার।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.