Published on Feb 24, 2025 Updated 0 Hours ago

আফ্রিকান ফ্রি ট্রেড এরিয়া মহাদেশটিকে তার সমৃদ্ধ আফ্রিকার দৃশ্যকল্প উপলব্ধিতে সাহায্য করার জন্য ভারতকে উল্লেখযোগ্য সুযোগ প্রদান করে

আফ্রিকার জন্য ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি: ২০২৫ সালে আফসিএফটিএ-কে সমর্থন

২০২৫ শুরু হওয়ার পর ভারতের বিদ্যমান আফ্রিকা সংক্রান্ত নীতিগুলিকে ফিরে দেখা ও মূল্যায়ন করার পাশাপাশি অতীতের শিক্ষার উপর ভিত্তি করে নতুন নীতি তৈরির পরামর্শ দেওয়ার জন্য একটি ভাল সময় এসে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাইজেরিয়া সফর এবং মরিশাসে নৌ-‌ঘাঁটির উদ্বোধন থেকে শুরু করে আফ্রিকার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ  দেশে প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে মোতায়েন, সব মিলিয়ে ২০২৪ ভারত-আফ্রিকা সম্পর্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর ছিল। যেহেতু ভারত পরের বছরের জন্য তার আফ্রিকা নীতির পরিকল্পনা করছে, তাই উল্লেখ করা যেতে পারে যে একটি প্রায়শই উপেক্ষিত এলাকা যা মহাদেশটির সঙ্গে  ভারতের ভবিষ্যৎ ব্যস্ততার গতিপথকে রূপ দিতে পারে, তা হল আফ্রিকান কন্টিনেন্টাল ফ্রি ট্রেড এরিয়া (আফসিএফটিএ) বাস্তবায়নে আফ্রিকাকে সহায়তা  করার ক্ষমতা।


প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাইজেরিয়া সফর এবং মরিশাসে নৌ-‌ঘাঁটির উদ্বোধন থেকে শুরু করে আফ্রিকার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ  দেশে প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে মোতায়েন, সব মিলিয়ে ২০২৪ ভারত-আফ্রিকা সম্পর্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর ছিল।



বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনুরূপ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত আফসিএফটিএ বাস্তবায়ন ও উন্নতিতে আফ্রিকার দেশগুলিকে সহায়তা করার জন্য সুসজ্জিত। উপরন্তু, এই ঘনিষ্ঠতা দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে এবং ভারতকে উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সুবিধা প্রদান করবে।

আফ্রিকার এখনও পর্যন্ত আফসিএফটিএ যাত্রা

জানুয়ারি ২০২১-এ আফসিএফটিএ চালু হওয়ার পর আফ্রিকা বিশ্বের বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য এলাকায় পরিণত হয়েছে, যা প্রায় ১.২ বিলিয়ন মানুষকে সেবা করছে এবং যার সম্মিলিত মোট আভ্যন্তর উৎপাদন (জিডিপি) ৩.৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। চুক্তিটি আফ্রিকার ৫৫টি দেশের মধ্যে ৫৪টিকে একত্র করেছে, যার মধ্যে ৪৭টি ইতিমধ্যেই এটি অনুমোদন করেছে। চুক্তিটি বাণিজ্য বাধা দূর করে, এবং এটি তৈরি করা হয়েছে সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে পণ্য ও পরিষেবার অবাধ প্রবাহ সক্ষম করে আফ্রিকার দেশগুলির মধ্যে আন্তঃবাণিজ্য বাড়ানোর জন্য।

২০২২ সালে, আন্তঃআফ্রিকা বাণিজ্য ছিল মাত্র
১৩.২ শতাংশ। আফসিএফটিএ-‌র পরে এই হিসাব ২০৫০ সালের মধ্যে ৫২.৩ শতাংশে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা আফ্রিকার অর্থনীতিতে ২৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার যোগ করবে। এটি একটি ধারাবাহিক ৭ শতাংশ বার্ষিক জিডিপি বৃদ্ধির প্রতিনিধিত্ব করে।

অবশেষে, এই প্রক্ষেপণটি প্রতি বছর ৭ শতাংশ করে আফ্রিকান জিডিপি বৃদ্ধিকে উদ্দীপিত করে। আনুমানিক
৩০ মিলিয়ন আফ্রিকাবাসী এই জিডিপি বৃদ্ধির জন্য চরম দারিদ্র্য থেকে রক্ষা পাবে, যেখানে প্রায় ৬৮ মিলিয়ন মানুষ যারা প্রতিদিন ৫.৫০ মার্কিন ডলারের কম আয় করে তাদের আয় বৃদ্ধি পাবে।


চুক্তিটি বাণিজ্য বাধা দূর করে, এবং এটি তৈরি করা হয়েছে সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে পণ্য ও পরিষেবার অবাধ প্রবাহ সক্ষম করে আফ্রিকার দেশগুলির মধ্যে আন্তঃবাণিজ্য বাড়ানোর জন্য।



চুক্তিটি
রুল অফ অরিজিন (আরওও)-‌এর মাধ্যমে সদস্য দেশগুলির পণ্যগুলিকে অগ্রাধিকারমূলক বাজার প্রবেশাধিকার দেয়। আরওও-এর মাধ্যমে, প্রোটোকলটি আফ্রিকার ২৪০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষকে নিযুক্তকারী কৃষি ক্ষেত্রকে উদ্দীপিত করতে চায়, এবং এইভাবে আফ্রিকার শিল্প ক্ষেত্রে জোগান দেওয়ার জন্য বিশাল পরিমাণে কাঁচামাল তৈরি করতে আগ্রহী। এটি তাৎপর্যপূর্ণ কারণ আফ্রিকা বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রের মাত্র ১.৯ শতাংশ

ভারতের অবদান

বাণিজ্য দীর্ঘকাল ধরে ভারত-আফ্রিকা সম্পর্কের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত এক দশকে দ্বিপাক্ষিক বিনিময়ের মূল্য প্রায়
১০৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির প্রতিফলন ঘটায়। বর্তমানে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও চিনের পরে ভারত আফ্রিকার তৃতীয় বৃহত্তম ব্যবসায়িক অংশীদার। আফ্রিকায় ভারতের শীর্ষ রপ্তানি পণ্যগুলি হল যন্ত্রপাতি ও পরিবহণ সরঞ্জাম, ওষুধ, বস্ত্রবয়ন, অটোমোবাইল, খনিজ জ্বালানি, তেল ও কাঠের সামগ্রী।

বিপরীতে, আফ্রিকা ভারতে ধাতব পণ্য, কাঁচা তুলা, ফল, অপরিশোধিত তেল, মূল্যবান পাথর ও ফেরোঅ্যালয় রপ্তানি করে। আফ্রিকার ক্ষেত্রে তার বৈশ্বিক রপ্তানি ও আমদানিতে ভারতের অবদান যথাক্রমে
৬ শতাংশ  ৫.৬ শতাংশ। তুলনায়, ভারতের বৈশ্বিক রপ্তানি ও আমদানিতে আফ্রিকার অবদান যথাক্রমে ৯.৬ শতাংশ  ৭.৮ শতাংশ

অপ্রতুল পরিবহণ পরিকাঠামো মহাদেশ জুড়ে ঐক্যবদ্ধ বাজারের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ বাধা। ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকারগুলি এমন নেটওয়ার্কগুলির দিকে চালিত করেছে যা প্রাথমিকভাবে সম্পদসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলিকে বন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত করে, যার ফলে অন্য আফ্রিকান দেশগুলির তুলনায় এই অঞ্চলগুলির অন্যান্য মহাদেশের সঙ্গে আরও শক্তিশালী সংযোগ তৈরি হয়৷ ভারত ও আফসিএফটিএ স্বাক্ষরকারীরা পরিবহণ পরিকাঠামোতে বিনিয়োগ বাড়াতে একসঙ্গে কাজ করতে পারে।

অধিকন্তু, কৃষি আফ্রিকার জিডিপির
৩৫ শতাংশ, এবং এর জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেককে নিয়োগ করে। একটি বিশাল কৃষি-প্রযুক্তিগত শিল্প বাজার থাকা সত্ত্বেও, আফ্রিকা খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে লড়াই করছে। আফ্রিকার খাদ্য উৎপাদনের ৮০ শতাংশই আসে ক্ষুদ্র কৃষকদের কাছ থেকে।


ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকারগুলি এমন নেটওয়ার্কগুলির দিকে চালিত করেছে যা প্রাথমিকভাবে সম্পদসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলিকে বন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত করে, যার ফলে অন্য আফ্রিকান দেশগুলির তুলনায় এই অঞ্চলগুলির অন্যান্য মহাদেশের সঙ্গে আরও শক্তিশালী সংযোগ তৈরি হয়৷ ভারত ও আফসিএফটিএ স্বাক্ষরকারীরা পরিবহণ পরিকাঠামোতে বিনিয়োগ বাড়াতে একসঙ্গে কাজ করতে পারে।



আফসিএফটিএ-‌র উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য আফ্রিকার অর্থনীতিতে কেন্দ্রীয় ভূমিকা  পালন করে এমন একটি সম্পূর্ণ কার্যকরী কৃষি ক্ষেত্র প্রয়োজন।
কিছু অনুমান অনুসারে, যদি আমদানি শুল্ক বাদ দেওয়া হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে আন্তঃআফ্রিকান কৃষি বাণিজ্য ৫৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে, মহাদেশটি প্রতি বছর খাদ্যশস্য আমদানিতে ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করে, যা অন্যান্য উন্নয়নের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যেতে পারে।

এই ক্ষেত্রে তার বিশাল অভিজ্ঞতার কারণে ভারত আধুনিক প্রযুক্তির ক্ষমতায়ন ও ডিজিটালাইজেশনকে উৎসাহিত করে আফ্রিকার ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য কৃষিপ্রযুক্তি উদ্যোগের সমর্থন করতে পারে। যেহেতু ভারত আফ্রিকার ওষুধ ও পরিবহণ ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করেছে, তাই এটি কৃষি-শিল্পেও বিনিয়োগ করতে পারে, এবং স্থানীয় কৃষকদের কৃষি উৎপাদন, ফলন ভবিষ্যদ্বাণী এবং মাটি ও ফসলের স্বাস্থ্য অনুসরণ করার জন্য ড্রোন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-‌র মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে  সজ্জিত করতে পারে।

অধিকন্তু, ভারত তার ডিজিটাল রাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোতে যথেষ্ট বিনিয়োগ করে ডিজিটাল গণপণ্যের একটি পরিসরের বিকাশ করেছে।
ডিজিলকার অ্যাপ্লিকেশনের মতো একটি পরিষেবা আফ্রিকার দেশগুলিকে একক প্ল্যাটফর্মে প্রয়োজনীয় ট্রেডিং নথি, যেমন আমদানি-রপ্তানি ঘোষণাপত্র, সংরক্ষণ করতে সাহায্য করতে পারে, যার ফলে প্রক্রিয়াগুলি সুবিন্যস্ত হবে এবং ব্যবসা ও আমলাতন্ত্রের মধ্যে সংঘাত কমতে পারে৷

ভারত একটি সমন্বিত মহাদেশীয় কৃষি বাজার তৈরির জন্য ভারতীয় জাতীয় কৃষি বাজার প্রকল্প (
ই-এনএএম)-‌এর মতো উদ্যোগ বাস্তবায়নে আফ্রিকাকে সহায়তা করতে পারে।

সামনের পথ

ভারতের বিদেশমন্ত্রী ডক্টর এস জয়শঙ্কর, ভারতের আসন্ন বিদেশনীতিকে একটি ‘বড়, দীর্ঘ এবং সপ্রতিভ’‌ দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন এটি ‘‌বিশ্বের সঙ্গে গভীর সম্পৃক্ততার’‌ প্রয়াসী৷ আফ্রিকার চেয়ে ভালভাবে অন্য কোনো অঞ্চলের সঙ্গে এই অ্যাজেন্ডা মেলে না।


গত বছরের আফ্রিকান ইউনিয়ন শীর্ষ সম্মেলনে রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস একটি ঐক্যবদ্ধ, ধনী ও শান্তিপূর্ণ মহাদেশের প্রতি তাঁর সমর্থন জানিয়েছিলেন, এই বলে যে ২১ শতক প্রকৃতপক্ষে আফ্রিকার হতে পারে।



অস্বীকার করার উপায় নেই যে মহাদেশটি ঋণ, অভ্যন্তরীণ কলহ, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের বিরুদ্ধে লড়াই-‌সহ অনেক সমস্যার মোকাবিলা করছে। তবুও, গত বছরের আফ্রিকান ইউনিয়ন শীর্ষ সম্মেলনে রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব
আন্তোনিও গুতেরেস একটি ঐক্যবদ্ধ, ধনী ও শান্তিপূর্ণ মহাদেশের প্রতি তাঁর সমর্থন জানিয়েছিলেন এই বলে যে ২১ শতক প্রকৃতপক্ষে আফ্রিকার হতে পারে। সেই যাত্রার দিকে, আফসিএফটিএ-এর সাফল্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

‘‌দ্য অ্যাজেন্ডা ২০৬৩: দ্য আফ্রিকা উই ওয়ান্ট’‌-এ‌ বর্ণিত দৃশ্যকল্প অর্জনে আফ্রিকাকে সহায়তা করে ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে৷ ভারত মহাদেশটির অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টিকারী চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলা করার জন্য আফসিএফটিএ শুরু হওয়ার সঙ্গেসঙ্গে সমস্ত আফ্রিকান দেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যেহেতু আফসিএফটিএ এই দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে, ভারতকে অবশ্যই তার আফ্রিকা নীতিতে আফসিএফটিএ-‌এর সফল বাস্তবায়নকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।



সমীর ভট্টাচার্য অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন-‌এর একজন অ্যাসোসিয়েট ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.