Author : Soumya Bhowmick

Published on Feb 12, 2025 Updated 0 Hours ago

বাজেট ২০২৫-‌এর ফোকাস দ্বিমুখী: এর লক্ষ্য হল লক্ষ্যযুক্ত আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি প্রসারিত করার পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে উৎসাহিত করা এবং কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতাগুলির মোকাবিলা করা।

ভারতের বাজেট ২০২৫: উপভোগের চালক, রপ্তানির সশক্তিকরণ

কেন্দ্রীয় বাজেট ‌২০২৫ বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার পটভূমিতে পেশ করা হয়েছে, এবং এর লক্ষ্য হল উচ্চাভিলাষী বৃদ্ধির লক্ষ্য ও আর্থিক বিচক্ষণতার মধ্যে এমন একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য স্থাপন করা যা সামনের বছরগুলিতে ভারতের অর্থনৈতিক গতিপথের দিশা নির্ধারণ করবে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ৬.৪ শতাংশে নেমে যাওয়া জিডিপি বৃদ্ধির অনুমান এবং চলতি খাতের ঘাটতির (সিএডি) মতো বাহ্যিক দুর্বলতার মোকাবিলা করে অর্থনৈতিক গতি বজায় রাখার দ্বৈত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে, সরকার বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য দেশীয় ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করাকেও অগ্রাধিকার দিয়েছে। বাজেটের ফোকাস দ্বিমুখী: এটি লক্ষ্যযুক্ত আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি জোরদার করার পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে উৎসাহিত করতে এবং কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতাগুলির মোকাবিলা করতে চায়।


বৈদেশিক বাণিজ্য গতিশীলতার সঙ্গে কৌশলগতভাবে অভ্যন্তরীণ বাজারের ভারসাম্য বজায় রেখে, এটি আমদানি নির্ভরতা হ্রাস, রপ্তানি বাজার বৈচিত্র্যকরণ, এবং ম্যানুফ্যাকচারিং প্রতিযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যযুক্ত উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতের বৈশ্বিক বাণিজ্য পদচিহ্নকে শক্তিশালী করতে চায়



বাজেট ২০২৫ সারা দেশে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে, এবং উপভোগের চাহিদাকে — যা ভারতের বৃদ্ধির কাহিনির একটি মৌলিক চালক —
উদ্দীপিত করার একটি অনুঘটক হিসাবে প্রশংসিত হয়েছে। কর ছাড় ব্যবস্থা, লক্ষ্যযুক্ত ভর্তুকি, ও কল্যাণমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ব্যয় বাড়ানোর উপর এর গুরুত্ব আরোপ করার ঘটনাগুলি উপভোগ-নেতৃত্বাধীন বৃদ্ধি জোরদার করার জন্য সরকারের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে। তবুও, অভ্যন্তরীণ চাহিদার উপর এই মনোযোগ রপ্তানি-নেতৃত্বাধীন বৃদ্ধির দিকে বাজেটের জোরালো ধাক্কাকে দুর্বল করে না। বৈদেশিক বাণিজ্য গতিশীলতার সঙ্গে কৌশলগতভাবে অভ্যন্তরীণ বাজারের ভারসাম্য বজায় রেখে, এটি আমদানি নির্ভরতা হ্রাস, রপ্তানি বাজার বৈচিত্র্যকরণ, এবং ম্যানুফ্যাকচারিং প্রতিযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যযুক্ত উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতের বৈশ্বিক বাণিজ্য পদচিহ্নকে শক্তিশালী করতে চায়।

চলতি খাতের ঘাটতি মোকাবিলা (সিএডি)

ভারতের চলতি খাতের ঘাটতি (সিএডি) — যা কিনা পণ্য, পরিষেবা ও মূলধনের রপ্তানি ও আমদানির ওজনদাঁড়ি — হল তার অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যের একটি মূল পরিমাপ। ২০২৪ সালের শেষের দিকে,
ভারতের সিএডি সংকুচিত হওয়ার লক্ষণ দেখিয়েছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে, সিএডি দাঁড়িয়েছে ১১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, বা জিডিপির ১.২ শতাংশ;‌ যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (জিডিপির ১.৩ শতাংশ)। এই হ্রাসের কারণ মূলত পরিষেবা রপ্তানি বৃদ্ধি, বিশেষত কম্পিউটার, ব্যবসা, ভ্রমণ ও পরিবহণ পরিষেবার মতো ক্ষেত্রে। যাই হোক, একটি উদ্বেগ হিসাবে রয়ে গিয়েছে পণ্যের বাণিজ্য ঘাটতি, যার চালক হল ক্রমবর্ধমান সোনার আমদানি, বৈশ্বিক পণ্যের দামের ওঠানামা, এবং রুপির অবমূল্যায়ন, যা আমদানিকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলেছে।


ইলেকট্রনিক্স, সেমিকন্ডাক্টর ও ফার্মাসিউটিক্যালস-‌এর মতো ক্ষেত্রে স্থানীয় ম্যানুফ্যাকচারিং প্রসারিত করার লক্ষ্যে আত্মনির্ভর ভারত উদ্যোগ একটি মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে।



বাজেট ২০২৫ আমদানি নির্ভরতা হ্রাসের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে এই চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলা করার চেষ্টা করেছে — শুধু একটি প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসাবে নয়, বরং দেশীয় শিল্পকে উৎসাহিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতাকে শক্তিশালী করার উপায় হিসাবে। ইলেকট্রনিক্স, সেমিকন্ডাক্টর ও ফার্মাসিউটিক্যালস-‌এর মতো ক্ষেত্রে স্থানীয় ম্যানুফ্যাকচারিং প্রসারিত করার লক্ষ্যে
আত্মনির্ভর ভারত উদ্যোগ একটি মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। বাজেট প্রথাগত বাণিজ্য অংশীদারদের উপর নির্ভরতা কমাতে রপ্তানি বাজারের বৈচিত্র্যকে উৎসাহিত করেছে। ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রবয়ন, খেলনা, অটোমোটিভ ও কৃষি ব্যবসার মতো খাতে রপ্তানির মূল্যবৃদ্ধি এই কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। আমদানি প্রতিস্থাপনকে, বিশেষ করে জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও মূলধনী পণ্যে, বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্নের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিস্থাপকতা তৈরি করতে তুলে ধরা হয়েছিল।

বৃদ্ধির চালকগুলি বাণিজ্য ভারসাম্য এগিয়ে নিয়ে চলে

ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির কৌশল, যেমন ২০২৫ সালের বাজেটে বর্ণিত হয়েছিল, চারটি মূল চালকের উপর নির্ভর করে:‌ কৃষি, এমএসএমই, বিনিয়োগ ও রপ্তানি। এই চালকগুলি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে, চলতি খাতের ঘাটতি কমাতে, এবং স্থিতিশীল বৃদ্ধির জন্য একযোগে কাজ করে। কৃষি, যা ভারতের অর্থনীতির ভিত্তি, তা ‘প্রধানমন্ত্রী ধন-ধান্য কৃষি যোজনা’র মতো উদ্যোগের মাধ্যমে বড় ধরনের উৎসাহ পেয়েছে৷ এই কর্মসূচিটি উৎপাদনশীলতা উন্নত করা, ফসলের বৈচিত্র্যকরণ, এবং মূল ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে৷ এর একটি অসাধারণ দৃষ্টান্ত হল মাখানার উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্যে মাখানা বোর্ডের সৃষ্টি, যা একটি স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কৃষি আমদানির উপর নির্ভরতা হ্রাস করে এবং রপ্তানিকে উন্নত করে এই উদ্যোগগুলি বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নত করতে সহায়তা করেছে। সেচ, ফসল-পরবর্তী পরিকাঠামো, ও গ্রামীণ ঋণে বিনিয়োগ কৃষি ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করেছে, যা ভারতীয় কৃষকদের বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতা করার উপযোগী জায়গা দিয়েছে।

এমএসএমই ক্ষেত্র, যাকে প্রায়ই ভারতীয় অর্থনীতির মেরুদণ্ড বলা হয়, তা সমর্থিত হয়েছিল প্রসারিত ঋণ নিশ্চয়তা, প্রযুক্তি আধুনিকীকরণ ও রপ্তানিমুখী ব্যবসায় সহায়তার মাধ্যমে। বস্ত্রবয়ন ও খেলনার মতো ঐতিহ্যবাহী শিল্পগুলিতে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে, এবং নীতিগুলি তৈরি করা হয়েছে এদের বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতায় সহায়তা করার জন্য। তাদের অভিযোজনযোগ্যতা ও উদ্ভাবনের ক্ষমতার দৌলতে এমএসএমই-‌গুলি আমদানি নির্ভরতা কমাতে ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের বিনিয়োগ, পরিকাঠামো, প্রযুক্তি ও শিল্পক্ষমতার উপর দৃঢ় মনোযোগ-‌সহ এটি বৃদ্ধির তৃতীয় ইঞ্জিন হয়ে উঠেছে। বাজেটে মানব পুঁজি উন্নয়ন, ডিজিটাল সংযোগ, ও নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্পগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য হল উৎপাদন খরচ কমানো এবং ভারতীয় ব্যবসার বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বাড়ানো। বিনিয়োগের এই তরঙ্গ একটি প্রবল প্রভাব তৈরি করেছে, যা সরাসরি চতুর্থ চালক অর্থাৎ রপ্তানিকে সমর্থন করে। 


তাদের অভিযোজনযোগ্যতা ও উদ্ভাবনের ক্ষমতার দৌলতে এমএসএমই-‌গুলি আমদানি নির্ভরতা কমাতে ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।



রপ্তানি ছিল ভারতের বৈদেশিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে। রপ্তানি উন্নয়ন মিশন ও ভারত ট্রেডনেটের মতো উদ্যোগগুলির লক্ষ্য ভারতীয় ব্যবসাগুলিকে আরও কার্যকরভাবে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলে যুক্ত করা। স্থিতিস্থাপক সরবরাহ নেটওয়ার্ক তৈরি করা, ক্ষেত্রনির্দিষ্ট রপ্তানি কেন্দ্র তৈরি করা, এবং বাজারের নাগাল প্রসারিত করতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করার উপর ফোকাস ছিল। কৃষি, এমএসএমই ও বিনিয়োগের সম্মিলিত প্রচেষ্টা নিশ্চিত করেছে যে, ভারত আমদানির উপর নির্ভরতা কমাতে পারে, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়াতে পারে, এবং রপ্তানিও বাড়াতে পারে। এই ব্যাপক পন্থা শুধুমাত্র বাণিজ্য ভারসাম্যই উন্নত করেনি, বরং সিএডি হ্রাস ও অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতাকে শক্তিশালী করার জন্য একটি স্থিতিশীল পথ তৈরি করেছে।

অবশেষে, কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে, দেশীয় শিল্পকে শক্তিশালী করে, এবং রপ্তানিকে উন্নত করে বাজেট ২০২৫ আরও সুষম চলতি খাত এবং স্থিতিশীল বৃদ্ধির মঞ্চ তৈরি করেছে। কৃষি, এমএসএমই, বিনিয়োগ ও রপ্তানি জুড়ে সমন্বিত প্রচেষ্টাগুলি এমন একটি দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে যা ভারতকে বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জগুলি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মোকাবিলা করতে প্রস্তুত করবে, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা বাড়াবে, এবং বিশ্ব মঞ্চে একটি প্রধান খেলোয়াড় হিসাবে আবির্ভূত হতে সহায়তা করবে৷



সৌম্য ভৌমিক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ফেলো

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.