এক সবুজ আগামীকাল একটি দূরবর্তী স্বপ্ন নয়, বরং এমন একটি যাত্রার ফলাফল যা আমরা আজ শুরু করব। সবুজ হাইড্রোজেন, যা হল পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বিভাজিত জল থেকে প্রাপ্ত পরিচ্ছন্ন শক্তির পাওয়ারহাউস, বিশ্বব্যাপী শক্তির ভূচিত্রে একটি রূপান্তরকারী শক্তি হিসাবে দ্রুত আবির্ভূত হচ্ছে। এর প্রতিশ্রুতি নিহিত আছে শুধুমাত্র ইস্পাত ও সিমেন্টের মতো ভারী শিল্পের কার্বনাইজিংয়ে নয়, বরং শক্তির স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানো, একটি স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা, এবং বৈশ্বিক জলবায়ু লক্ষ্যে অবদান রাখার মধ্যে। ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জন্য সবুজ হাইড্রোজেন শুধু জ্বালানি নয়; এটি শক্তি সহযোগিতার একটি অনুঘটক যা সীমান্ত অতিক্রম করে পরিচ্ছন্ন শক্তির ভবিষ্যৎকে পুনরায় সংজ্ঞায়িত করতে পারে।
সবুজ হাইড্রোজেন, যা হল পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বিভাজিত জল থেকে প্রাপ্ত পরিচ্ছন্ন শক্তির পাওয়ারহাউস, বিশ্বব্যাপী শক্তির ভূচিত্রে একটি রূপান্তরকারী শক্তি হিসাবে দ্রুত আবির্ভূত হচ্ছে।
একটি টেকসই জোট গঠন
এই রূপান্তরমূলক সম্ভাবনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে যুগান্তকারী অংশীদারিত্ব। একত্রে তারা তাদের নিজ নিজ শক্তিকে কাজে লাগানোর লক্ষ্য রাখে: ভারতের বিশাল নবায়নযোগ্য শক্তি সম্পদ এবং ইইউ-এর প্রযুক্তিগত দক্ষতা। এই অংশীদারিটি ব্রাসেলসে দশম ভারত-ইইউ শক্তি প্যানেলে মজবুত করা হয়েছিল, যেখানে উভয় অঞ্চল সবুজ হাইড্রোজেনের অগ্রগতির জন্য একটি ব্যাপক কাঠামোর রূপরেখা দিয়েছে, যার মধ্যে পরিকাঠামো উন্নয়ন, নিয়ন্ত্রক সহযোগিতা ও বর্ধিত সরবরাহ শৃঙ্খল অন্তর্ভুক্ত। ভারত-ইইউ ক্লিন এনার্জি অ্যান্ড ক্লাইমেট পার্টনারশিপের তৃতীয় পর্যায় (২০২৫-২০২৮) দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখেছে সবুজ হাইড্রোজেন, তট-নিকটবর্তী সমুদ্রের বায়ুশক্তি, বিদ্যুৎ বাজার সংযুক্তিকরণ, শক্তি দক্ষতা, এবং জলবায়ু কূটনীতির উপর, যা একটি স্থিতিশীল, আন্তঃসংযুক্ত শক্তি ভবিষ্যৎ চালনা করে।
ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা দ্বারা ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে একটি উল্লেখযোগ্য ১৯,৭৪৪ কোটি ভারতীয় রুপি বরাদ্দের দ্বারা অনুমোদিত ন্যাশনাল গ্রিন হাইড্রোজেন মিশন-এর লক্ষ্য হল ভারতকে সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদন, রপ্তানি ও ব্যবহারের জন্য একটি বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসাবে তৈরি করা। ২০৩০ সাল নাগাদ বার্ষিক ৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদনের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ভারত শুধুমাত্র জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরশীলতাই কমাবে না, বরং 8 ট্রিলিয়ন ভারতীয় রুপি মূল্যের একটি বিনিয়োগ পুল তৈরি করবে এবং ৬০০,০০০ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলে আশা করছে৷ ইতিমধ্যে, ইইউ হাইড্রোজেন কৌশলটি তার সবুজ চুক্তির অধীনে ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ গিগাওয়াট (জিডাবলু) ইলেক্ট্রোলাইজার ক্ষমতা এবং বার্ষিক ১০ মিলিয়ন টন পর্যন্ত পুনর্নবীকরণযোগ্য হাইড্রোজেন উৎপাদনের পরিকল্পনা করেছে। এটি হাইড্রোজেন উপত্যকা এবং আন্তঃসীমান্ত শক্তি নেটওয়ার্কের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
হাইড্রোজেনের সম্ভাবনা
ধূসর হাইড্রোজেন, যা উৎপাদনের সময় কার্বন নির্গমন করে, বা নীল হাইড্রোজেন, যা কার্বন ক্যাপচার প্রযুক্তি ব্যবহার করে, তাদের বিপরীতে সবুজ হাইড্রোজেন নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস ব্যবহার করে ইলেক্ট্রোলিসিসের মাধ্যমে উৎপাদিত হয়। এই প্রক্রিয়ায় জলকে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনে বিভক্ত করা হয় কোনও কার্বন নির্গমন ছাড়াই। জীবাশ্ম জ্বালানির একটি পরিচ্ছন্ন, শূন্য-নিঃসরণ বিকল্প হিসাবে সবুজ হাইড্রোজেন পরিবহণ, শিল্প ও হেভি ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের মতো কঠিন ক্ষেত্রগুলিকে ডিকার্বনাইজ করার জন্য প্রস্তুত। এছাড়াও এটি শক্তি সঞ্চয় ও গ্রিড স্থিতিশীলতাকে সমর্থন করে।
শিল্পের অনুমানগুলি সবুজ হাইড্রোজেনের বিশাল সম্ভাবনাকে প্রকাশ করে। ব্লুমবার্গএনইএফ (বিএনইএফ) অনুসারে, হাইড্রোজেন স্টোরেজ ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী বিদ্যুতের চাহিদার ২৪ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, যখন দাম নাটকীয়ভাবে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যার ফলে সবুজ হাইড্রোজেন প্রাকৃতিক গ্যাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক হবে। প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে আহরিত হাইড্রোজেন প্রতি কেজি ১.১১ থেকে ২.৩৫ মার্কিন ডলারের মধ্যে খরচ করে।
জীবাশ্ম জ্বালানির একটি পরিচ্ছন্ন, শূন্য-নিঃসরণ বিকল্প হিসাবে সবুজ হাইড্রোজেন পরিবহণ, শিল্প ও হেভি ম্যানুফ্যাকচারিয়ের মতো কঠিন ক্ষেত্রগুলিকে ডিকার্বনাইজ করার জন্য প্রস্তুত।
বিএনইএফ-এর হাইড্রোজেন ইকনমি আউটলুক ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যে পুনর্নবীকরণযোগ্য হাইড্রোজেনের দাম ২০৫০ সালের মধ্যে প্রতি কেজি ০.৮ থেকে ১.৬ মার্কিন ডলার হতে পারে, যা একে ব্রাজিল, চিন, ভারত, জার্মানি ও স্ক্যান্ডেনেভিয়ার মতো অঞ্চলে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।
ভারতের হাইড্রোজেন উৎপাদন প্রসারিত করা
ভারত তার বিশাল পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির সম্ভাবনা-সহ সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদনের জন্য একটি আদর্শ পরিবেশ প্রদান করে; আর ইইউ উন্নত প্রযুক্তিগত ক্ষমতা ও সুপ্রতিষ্ঠিত হাইড্রোজেন বাজারের সুযোগ নিয়ে আসে; আর এইভাবে উভয়ের মধ্যে অংশীদারিত্বের জন্য একটি নিখুঁত পরিবেশ তৈরি হয়। জিমেন্স এনার্জি ও থাইসেনক্রুপ-এর মতো শিল্পনেতারা ইতিমধ্যেই ভারতে বিনিয়োগের সুযোগের দিকে নজর দিচ্ছে, যা এই সমন্বয়ের সম্ভাবনা তুলে ধরে৷ ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক ভারতের জাতীয় সবুজ হাইড্রোজেন মিশনে সহায়তা করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। প্রযুক্তি স্থানান্তর, গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) সহযোগিতা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে উভয় অঞ্চলই একটি শক্তিশালী হাইড্রোজেন অর্থনীতির পথ তৈরি করছে।
ভারতের দিকে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের মতো বড় কর্পোরেশনগুলি সবুজ হাইড্রোজেন বাজারে মূল খেলোয়াড় হিসেবে অবস্থান করছে, এবং উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছে। রিলায়েন্স নিউ এনার্জি লিমিটেড ভারতে হাইড্রোজেন ইলেক্ট্রোলাইজার তৈরি করতে ডেনমার্কের স্টিসডাল এ/এস-এর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে হাইড্রোজেন উৎপাদনের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে।
আগামীকালের ভিত্তি তৈরি করা
বিশ্বব্যাপী হাইড্রোজেন মূল্যশৃঙ্খল নির্মাণের জন্য যথেষ্ট পরিকাঠামো বিনিয়োগ প্রয়োজন। সবুজ হাইড্রোজেন ব্যাপকভাবে গ্রহণের সুবিধার্থে ইলেক্ট্রোলাইজার, স্টোরেজ সুবিধা, পাইপলাইন ও জ্বালানি কোষগুলি অবশ্যই অভূতপূর্ব পরিমাণে নির্মাণ করা উচিত। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) অনুসারে, হাইড্রোজেন প্রকল্পে বিশ্বব্যাপী ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ২০২৩ সালে তা ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, এবং ভারত ও ইইউ হাইড্রোজেন পরিকাঠামো অগ্রসর করার জন্য যৌথ উদ্যোগে সহযোগিতা করছে।
উদাহরণস্বরূপ, গ্রিনএইচ ইলেক্ট্রোলিসিস প্রকল্প, স্পেনের এইচ২বি২ ইলেক্ট্রোলিসিস টেকনোলজিস ও ভারতের জিআর প্রোমোটার গ্রুপের মধ্যে একটি অংশীদারি ভারতে প্রোটন এক্সচেঞ্জ মেমব্রেন (পিইএম) ইলেক্ট্রোলাইজার তৈরি করছে। উপরন্তু, গ্রিনকো গ্রুপ ও জন ককরিল ভারতে একটি ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ইলেক্ট্রোলাইজার গিগাফ্যাক্টরি তৈরি করছে, যার লক্ষ্য হল সর্বনিম্ন খরচে ইলেক্ট্রোলাইজার তৈরি করা এবং ভারতের সবুজ হাইড্রোজেন উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে ত্বরান্বিত করা।
এটি ডিজিটাল, পরিবহণ ও শক্তি ক্ষেত্র জুড়ে পরিচ্ছন্ন, সপ্রতিভ ও সুরক্ষিত লিঙ্কগুলিকে উন্নত করার পাশাপাশি সবুজ হাইড্রোজেন প্রকল্পগুলির জন্য বিনিয়োগের ব্যবধান পূরণ করে।
তদুপরি, ইউরোপীয় কমিশন ও ইইউ হাই রেপ্রেজেন্টেটিভ দ্বারা ২০২১ সালে চালু করা গ্লোবাল গেটওয়ে কৌশলটি সবুজ হাইড্রোজেনের অগ্রগতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ডিজিটাল, পরিবহণ ও শক্তি ক্ষেত্র জুড়ে পরিচ্ছন্ন, সপ্রতিভ ও সুরক্ষিত লিঙ্কগুলিকে উন্নত করার পাশাপাশি সবুজ হাইড্রোজেন প্রকল্পগুলির জন্য বিনিয়োগের ব্যবধান পূরণ করে। উদাহরণস্বরূপ, গ্লোবাল গেটওয়ে আফ্রিকা-ইউরোপ ইনভেস্টমেন্ট প্যাকেজ ১৫০ বিলিয়ন ইউরো দিয়ে আফ্রিকার সবুজ ও ডিজিটাল পুনরুদ্ধারকে সমর্থন করে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ গিগাওয়াট ইলেক্ট্রোলাইজার ক্ষমতার লক্ষ্য রেখে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ও সবুজ হাইড্রোজেন স্থাপনের জন্য কাজ করে। একইভাবে, একটি ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়নের আন্তর্জাতিক তহবিল হাইড্রোজেন অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার জন্য ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতাকেও শক্তিশালী করতে পারে।
চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ওঠা
উচ্চ খরচ: ভারত-ইইউ সবুজ হাইড্রোজেন সহযোগিতার মধ্যেও নানারকম চ্যালেঞ্জ আছে। উৎপাদনের উচ্চ প্রাথমিক খরচ, বিশেষ করে ইলেক্ট্রোলাইজার ও স্টোরেজ পরিকাঠামোর খরচ, একটি উল্লেখযোগ্য বাধা হয়ে রয়ে গিয়েছে। ইলেক্ট্রোলাইজার প্রযুক্তিতে অগ্রগতি সত্ত্বেও সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদন ঐতিহ্যবাহী জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় ব্যয়বহুল, যা একে অর্থনৈতিকভাবে অ-গ্রহণযোগ্য করে তোলে। ২০১০ সাল থেকে অবশ্য তড়িৎ বিশ্লেষণের মূলধনী খরচ ৬০ শতাংশ কমেছে, যার ফলে হাইড্রোজেন উৎপাদন খরচ কমে প্রতি কেজি ১০-১৫ মার্কিন ডলার থেকে প্রতি কেজি ৪-৬ মার্কিন ডলার হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে ব্যয়ের এই হ্রাস ইলেক্ট্রোলাইজার প্রযুক্তির অগ্রগতি, আয়তনের অর্থনীতি, এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎসগুলিতে বর্ধিত বিনিয়োগের কারণে ঘটেছে। বিএনইএফ-এর মতে, ভারত ও চিন হল সেই দুটি দেশ যেখানে ২০৪০ সালের মধ্যে সবুজ হাইড্রোজেন ধূসর হাইড্রোজেনের সঙ্গে ব্যয়-প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইলেক্ট্রোলাইজার দক্ষতা উন্নত করার লক্ষ্যে যৌথ গবেষণা ও উন্নয়ন উদ্যোগের মাধ্যমে হাইড্রোজেন উৎপাদনের খরচ কমাতে ভারত ও ইইউ একসঙ্গে কাজ করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, পরবর্তী প্রজন্মের আয়ন এক্সচেঞ্জ মেমব্রেন এবং ফুয়েল সেল ডিজাইনের বিকাশ পরিবেশগত উদ্বেগ মোকাবিলা করার পাশাপাশি ব্যয় সাশ্রয় করতে অবদান রাখতে পারে। এই অগ্রগতিগুলি সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদনের ক্রমহ্রাসমান খরচ কমাতে সাহায্য করবে, এবং এটিকে অর্থনৈতিকভাবে আরও লাভজনক করে তুলবে। এই খরচ হ্রাস বৃহত্তর বিনিয়োগ এবং সবুজ হাইড্রোজেন প্রযুক্তি গ্রহণে উৎসাহিত করে ইইউ-ভারত অংশীদারিত্বকে উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করবে।
ইলেক্ট্রোলাইজার প্রযুক্তিতে অগ্রগতি সত্ত্বেও সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদন ঐতিহ্যবাহী জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় ব্যয়বহুল, যা একে অর্থনৈতিকভাবে অ-গ্রহণযোগ্য করে তোলে।
মন্থর চাহিদা: যদিও সবুজ হাইড্রোজেনের উচ্চ মূল্য এর চাহিদাকে সীমিত করেছে, এই চ্যালেঞ্জটি সবুজ হাইড্রোজেনের জন্য নিজেদের প্রক্রিয়াগুলি স্থানান্তর করার ক্ষেত্রে শিল্পগুলির অনীহার ফলে আরও জটিল হয়েছে৷ ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর (আইএমইসি), যা ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে জি২০ সম্মেলনের সময় ঘোষণা করা হয়েছিল, এক্ষেত্রে একটি প্রতিশ্রুতিসম্পন্ন সমাধান প্রদান করে। একটি রপ্তানি করিডর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আইএমইসি অভ্যন্তরীণ সীমানার বাইরে সবুজ হাইড্রোজেন বাজার সম্প্রসারণ করতে পারে, এবং চাহিদার সীমাবদ্ধতার মোকাবিলা করতে পারে। যেহেতু ইস্টার্ন করিডর ভারতকে আরব উপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করে, এবং নর্থ করিডর উপসাগরকে ইউরোপের সঙ্গে, তাই এই কৌশলগত সংযোগের মাধ্যমে এবং সেইসঙ্গে সবুজ হাইড্রোজেন রপ্তানির জন্য নিবেদিত পাইপলাইনের পরিকল্পনা করে আইএমইসি উৎপাদন বৃদ্ধি, খরচ কমানো এবং বিশ্বব্যাপী গ্রহণকে চালিত করার একটি পথ তৈরি করতে পারে৷
নিয়ন্ত্রক বৈষম্য: ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে নিয়ন্ত্রক বৈষম্য সবুজ হাইড্রোজেন বাণিজ্য ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বাধা তৈরি করে। উদাহরণ স্বরূপ, ইইউ-এর কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম ভারতীয় রপ্তানির জন্য খরচ বাড়াতে পারে; অন্যদিকে বিভিন্ন জ্বালানি বাজারের কাঠামো আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের পথে অন্তরায় হতে পারে। যাই হোক, অগ্রগতি হচ্ছে, যেমনটি নভেম্বর ২০২৪ রোডম্যাপে দেখা গিয়েছে, যা পরিকাঠামো, প্রযুক্তি সহযোগিতা ও সরবরাহ শৃঙ্খল উন্নয়নের নীতিগুলিকে সহজতর করে নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে সারিবদ্ধ করতে চায়।
স্থিতিশীলতার দৃশ্যকল্প
শক্তি অতিক্রমণের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে, সবুজ হাইড্রোজেনে ভারত-ইইউ সহযোগিতা একটি রূপান্তরকারী ক্ষমতা হিসাবে আবির্ভূত হয়। পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে তাদের সক্ষমতা একত্র করে, তারা শুধু আজকের শক্তির চ্যালেঞ্জগুলিকে মোকাবিলা করছে না, বরং একটি স্থিতিশীল, ডিকার্বনাইজড আগামীকালের জন্য ভিত্তি স্থাপন করছে - যেখানে সবুজ হাইড্রোজেন আগামী প্রজন্মের জন্য একটি স্থিতিস্থাপক, শক্তি-সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ উন্মুক্ত করবে।
মনীশ বৈদ অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন-এর একজন জুনিয়র ফেলো
মৃত্যুঞ্জয় দুবে স্ট্র্যাটেজিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ-এর ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড স্টাডিজ (ডিআরএএস)-এ একজন গবেষক এবং লেখক।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.