Image Source: Getty
২০ অক্টোবর জোকোই নামে খ্যাত জোকো উইডোডোর দ্বিতীয় প্রশাসনের সময়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রবোও সুবিয়ান্তোর অভিষেক বাধাহীন রূপান্তরকেই দর্শায়।
জোট নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি এবং জাতীয় স্বায়ত্তশাসনের উপর জোর দিয়ে প্রবোও ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘস্থায়ী, ‘মুক্ত এবং সক্রিয়’ বিদেশনীতিকে সমুন্নত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এটি অতীতের ইন্দোনেশিয়ান নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও প্রবোও তাঁর দশকব্যাপী মেয়াদে জোকোইয়ের চেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ভাবে মনোগ্রাহী প্রেসিডেন্ট হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বিদেশমন্ত্রক থেকে ইস্তানা প্রাসাদে বৈদেশিক নীতির নেতৃত্বে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে প্রবোও তাঁর দলের মিত্র সুজিওনোকে বিদেশমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেছেন। প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী, রেতনো মারসুদি জোকোভির প্রশাসনের সময় যে নীরব অথচ প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছিলেন, তার নিরিখে সুজিওনোর নিয়োগ একেবারে বিপরীত। সুজিওনোর নিয়োগের মাধ্যমে ১৫ বছরের মধ্যে এই প্রথম বার কোনও অপেশাদার কূটনীতিক এই পদে অধিষ্ঠিত হলেন।
আসিয়ান-এর ঊর্ধ্বে উঠে
প্রবোও তাঁর সামনে উপস্থিত বিশ্বব্যাপী জটিলতা সম্পর্কে অবগত। তিনি ইন্দোনেশিয়ার সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের পাশাপাশি জোট নিরপেক্ষ নীতি অনুসরণের সম্ভাব্য সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে নিয়েছেন। তাঁর প্রশাসনকে অবশ্যই অ্যাসোসিয়েশন অফ সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস (আসিয়ান), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (ইউএস) এবং চিনের মতো প্রধান শক্তিগুলির সঙ্গে সম্পর্ক খতিয়ে দেখতে হবে এবং উদীয়মান ও মধ্যপন্থী শক্তিগুলির সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে হবে। এই পদ্ধতি ইন্দোনেশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের বাস্তবতাকেই দর্শায়।
বেশ কিছু বিশ্লেষক প্রবোওর বৈদেশিক নীতিকে সুস্পষ্ট বলে মনে করলেও এই নীতিকে সক্রিয় বলাই সঠিক হবে, যেখানে প্রেসিডেন্ট বিদেশমন্ত্রকের উপর নির্ভর করার পরিবর্তে নিজেই কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন।
ক্ষমতায় আসার ছ’মাস আগে প্রবোও আসিয়ান ও তার ঊর্ধ্বে উঠে অন্যান্য নেতার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে নিজের ভূমিকাকে কাজে লাগিয়েছেন, যা তাঁর প্রত্যাশিত সক্রিয় বৈদেশিক নীতির মূল সূর স্থির করেছে। নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি যে সব দেশ সফর করেছেন তার মধ্যে অন্যতম হল চিন ও রাশিয়া।
কার্যভার গ্রহণের পরপরই প্রবোও তাঁর সক্রিয় অবস্থানকে শক্তিশালী করার জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের বহু-দেশীয় সফর শুরু করেন। ইংরেজি ভাষায় তাঁর সাবলীলতা, আকর্ষক ব্যক্তিত্ব এবং দীপ্তি তাঁকে জোকোই থেকে আলাদা করে, যিনি বিশ্বমঞ্চে আরও বেশি সংরক্ষণশীল মনোভাব পোষণ করতেন।
বেশ কিছু বিশ্লেষক প্রবোওর বৈদেশিক নীতিকে সুস্পষ্ট বলে মনে করলেও এই নীতিকে সক্রিয় বলাই সঠিক হবে, যেখানে প্রেসিডেন্ট বিদেশমন্ত্রকের উপর নির্ভর করার পরিবর্তে নিজেই কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন। নভেম্বর মাসে ১২ দিনের সফরে প্রবোও চিন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, এপিইসি (এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা) শীর্ষ সম্মেলনের জন্য পেরু, জি২০ শীর্ষ সম্মেলনের জন্য ব্রাজিল, সংযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র ও দুবাই সফর করেন। এই ভ্রমণসূচিটি প্রধান শক্তি এবং বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলনগুলিতে ইন্দোনেশিয়ার সম্পৃক্ততাকে দর্শায়, যা ইন্দোনেশিয়ার আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে উন্নত করার জন্য প্রবোওর অভিপ্রায়কেও প্রতিফলিত করে।
বেজিংয়ে প্রবোও চিনের সঙ্গে বৃহত্তর অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রিমিয়ার লি কিয়াং-এর সঙ্গে দেখা করেন। চিন ইন্দোনেশিয়াকে আরও ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ স্বীকার করে প্রবোও চিনের সঙ্গে শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর সময়কালীন শঙ্কা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক সমন্বিতকরণকে এখন ইন্দোনেশিয়ার বৃদ্ধির জন্য কৌশলগত বিবেচনার সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ হয়ে উঠতে হবে।
প্রবোওর পরবর্তী ওয়াশিংটন সফরে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সঙ্গে বৈঠকও অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি দেখা না করলেও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে জানা যায় যে, ট্রাম্পের সঙ্গে প্রবোও ফোনালাপ সারেন। প্রাবোওর অভিষেকানুষ্ঠানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন রাষ্ট্রপুঞ্জের মার্কিন রাষ্ট্রদূ্ত লিন্ডা টমাস-গ্রিনফিল্ড। অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-তে (ওইসিডি) ইন্দোনেশিয়ার যোগদানকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে। এটি এমন একটি লক্ষ্য যা ইন্দোনেশিয়া নিরলস ভাবে অনুসরণ করে এসেছে।
কিছু মহল থেকে সংশয় থাকা সত্ত্বেও অনেক ইন্দোনেশিয়ানই বিশ্বাস করেন যে, প্রবোওর বিদেশনীতি তাঁর দেশীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা ইন্দোনেশিয়ার আন্তর্জাতিক অবস্থানকে সশক্ত করেছে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করছে। জি২০ এবং এপিইসি-র মতো বড় শীর্ষ সম্মেলনে প্রবোও-র অংশগ্রহণ এই উচ্চাকাঙ্ক্ষাকেই দর্শায়। প্রবোও তাঁর প্রথম মেয়াদে কোনও শীর্ষ সম্মেলনের সভাপতিত্ব করবেন না বলে স্থির হলেও তিনি ইন্দোনেশিয়ার আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি উন্নত করতে বদ্ধপরিকর।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম ত্রৈমাসিকে প্রবোও-র বৈদেশিক নীতির পদ্ধতি থেকে বেশ কিছু মূল ভাবনা সুস্পষ্ট হয়েছে। প্রথমত, প্রবোও-র মনোযোগ আঞ্চলিকের তুলনায় অনেক বেশি আন্তর্জাতিক। এপিইসি ও জি২০-তে তাঁর ভাষণ - অন্যান্য প্রধান শক্তি ও পি৫ অর্থাৎ চিন, ফ্রান্স, রাশিয়া, সংযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার সম্পৃক্ততার পাশাপাশি - আঞ্চলিক বিষয়ে তাঁর প্রভাবকে সীমাবদ্ধ করার পরিবর্তে বিশ্ব মঞ্চে নিজেকে জাহির করার ইন্দোনেশিয়ার ইচ্ছাকে দর্শায়।
একটি ‘আসিয়ান প্লাস’ বিদেশনীতিরও উত্থান ঘটতে পারে, যা ইন্দোনেশিয়াকে সমষ্টিগত আসিয়ান কাঠামোর বাইরে বৃহত্তর সম্পৃক্ততা অনুসরণ করার সুযোগ করে দেয়।
প্রবোওর জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রাধিকার হল ইজরায়েল-গাজা বিরোধের সমাধানের পক্ষে ওকালতি করা, যা ফিলিস্তিনের জন্য ইন্দোনেশিয়ার স্থায়ী সমর্থনকেই দর্শায়। তিনি ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর পার্লামেন্টে তাঁর উদ্বোধনী ভাষণে ফিলিস্তিনের কথা উল্লেখ করেছিলেন। বিদ্যমান প্রচেষ্টা সত্ত্বেও প্রবোও এখনও বাস্তব ফলাফল অর্জন করতে পারেননি। তবে এই প্রসঙ্গে তাঁর প্রতিশ্রুতি অবিচল রয়েছে। ইন্দোনেশিয়া ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় না ও একটি কট্টরপন্থী অবস্থান বজায় রাখে। ৭ অক্টোবর হামাসের পদক্ষেপের পরে এই মনোভাব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। যাই হোক, প্রবোও-র সঙ্গে জোটবদ্ধ কিছু আরব দেশ হামাস থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রেখেছে, যা ইন্দোনেশিয়ার অবস্থানকে আরও জটিল করে তুলেছে।
নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রবোও আসিয়ান-এর বেশির ভাগ দেশে সফর করেছেন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে আসিয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠকে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। যাই হোক, তাঁর আন্তর্জাতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাগুলি এখন আসিয়ানের বাধ্যবাধকতার চেয়ে অগ্রাধিকার পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। একটি ‘আসিয়ান প্লাস’ বিদেশনীতিরও উত্থান ঘটতে পারে, যা ইন্দোনেশিয়াকে সমষ্টিগত আসিয়ান কাঠামোর বাইরে বৃহত্তর সম্পৃক্ততা অনুসরণ করার সুযোগ করে দেয়।
এই পরিবর্তনটি এপিইসি, জি২০ এবং ব্রিকস-এ স্পষ্ট ছিল, যেখানে ইন্দোনেশিয়া আসিয়ান-এর পরিবর্তে ক্রমবর্ধমান ভাবে নিজেদের প্রতিনিধিত্ব করে। প্রবোওর মেয়াদে ইন্দোনেশিয়া আসিয়ান-এর সভাপতিত্ব করবে না, যেমনটা ২০২২ সালে ঘটেছিল। এই ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক নীতি ইন্দোনেশিয়াকে আসিয়ান ঐকমত্য থেকে ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করতে চালিত করতে পারে।
একটি উদাহরণ হল দক্ষিণ চিন সাগরের বিরোধপূর্ণ অংশ নাতুনা সাগরে চিনের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার যৌথ অনুসন্ধান চুক্তি। ইন্দোনেশিয়া চিনের নাইন-ড্যাশ লাইনের অধীনে আঞ্চলিক বিরোধে সরাসরি সম্পৃক্ত না হলেও চিন এই অঞ্চলে ইন্দোনেশিয়ার সামুদ্রিক দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসাবে প্রবোও ইন্দোনেশিয়ার জলসীমায় চিনা অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। যাই হোক, চিনের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার যৌথ আদানপ্রদান দেশটির চিনের কাছে নতি স্বীকার করার সদিচ্ছা সম্পর্কে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে, যা ফিলিপিন্সের মতো আসিয়ান সদস্যদের চাপের মুখে ফেলেছে। জিনজিয়াংয়ের মুসলিম জনসংখ্যার উপর চিনের চাপ দেওয়ার মনোভাবের পাশাপাশি একটি নতুন বৈশ্বিক কাঠামোর জন্য বেজিংয়ের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি নিরঙ্কুশ সমর্থন জানানোর বিষয়টি চিনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংঘাতে না যাওয়ার ইন্দোনেশিয়ার ইচ্ছাকেই দর্শায়। ইন্দোনেশিয়ার অস্পষ্ট অবস্থান দক্ষিণ চিন সাগরের আচরণবিধি নিয়ে বিদ্যমান আলোচনাকে জটিল করে তুলতে পারে, যা ইতিমধ্যেই আসিয়ান-এর অন্তর্বর্তী বিভাজনের দরুন চাপের মুখে পড়েছে।
আর একটি বিতর্কিত প্রসঙ্গ হল মায়ানমার। জোকোইয়ের প্রশাসন পাঁচ-দফা ঐকমত্য অনুসরণে ব্রুনাইয়ের নেতৃত্বকে সমর্থন করেছিল এবং মায়ানমারের সামরিক হুন্তা এই ঐকমত্যকে উপেক্ষা করেছে। তাইল্যান্ড এবং প্রতিবেশী দেশগুলি মায়ানমারের হুন্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার কারণে অর্থবহ পরিবর্তনকে কার্যকর করার জন্য আসিয়ান-এর সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে প্রবোও হস্তক্ষেপ না করার পথে হাঁটতে পারেন।
আসিয়ান বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে বিদেশমন্ত্রী সুজিওনোর অনুপস্থিতি - কারণ তাঁকে ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনে প্রবোও-র সঙ্গে সফরে যেতে হয়েছিল - ইন্দোনেশিয়ার পরিবর্তনের অগ্রাধিকারগুলিকে আরও স্পষ্ট করেছে। এটি আসিয়ান-এর ঊর্ধ্বে উঠে বিশ্বব্যাপী সম্পৃক্ত হওয়ার ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তর কৌশলকেই দর্শায়।
শেষ পর্যন্ত, প্রবোও-র লক্ষ্য হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চিন উভয়ের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং কোনও পক্ষের সঙ্গে দূরত্ব না বাড়িয়ে কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তোলা। এক সময় প্রবোও-র সমালোচনা করলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গভীর সহযোগিতার জন্য উন্মুক্ততার ইঙ্গিত দিয়ে নিজের অবস্থান নরম করেছে। প্রবোও চিনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে চায়, যা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ইন্দোনেশিয়ার বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গিকেই দর্শায়।
ইন্দোনেশিয়া দূষণহীন জ্বালানি ও জ্বালানি স্বয়ংসম্পূর্ণতার জন্য সচেষ্ট হয়েছে। ২০৩৩ সালের মধ্যে এটি তার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিদ্যুৎ সংস্থাকে একটি পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি সরবরাহকারীতে রূপান্তরিত করার আশা করছে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের ৭৫ শতাংশ শক্তি পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির মাধ্যমে পূরণ করতে হবে।
প্রবোও-র অধীনে জলবায়ু কর্মসূচি
প্রবোও-র নেতৃত্বে ইন্দোনেশিয়া এপিইসি এবং জি২০ শীর্ষ সম্মেলনে এ কথা ঘোষণা করেছে যে, দেশটি তার জলবায়ু লক্ষ্যগুলিকে ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা করছে। দেশটি এখন ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমনের জন্য তার উদ্দেশ্য জাতীয় ভাবে নির্ধারিত অবদান (আইএনডিসি) অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এবং পূর্বে ঘোষিত ২০৬০ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক দশক আগে পূরণ করার চেষ্টা চালাবে। প্যারিস চুক্তির সঙ্গে সাযুজ্য বজায় রাখতে ইন্দোনেশিয়া ২০৪০ সালের মধ্যে সমস্ত কয়লা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার পরিকল্পনা করেছে। একটি প্রধান কয়লা উৎপাদনকারী দেশের জন্য এ হেন লক্ষ্য অবশ্যই উচ্চাভিলাষী।
ইন্দোনেশিয়া দূষণহীন জ্বালানি ও জ্বালানি স্বয়ংসম্পূর্ণতার জন্য সচেষ্ট হয়েছে। ২০৩৩ সালের মধ্যে এটি তার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিদ্যুৎ সংস্থাকে একটি পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি সরবরাহকারীতে রূপান্তরিত করার আশা করছে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের ৭৫ শতাংশ শক্তি পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির মাধ্যমে পূরণ করতে হবে। অনুমান করা হচ্ছে, এমনটা অর্জনের জন্য ইন্দোনেশিয়ার শক্তি ভাণ্ডার এবং গ্রিন ট্রান্সমিশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার খাতে ১.২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রয়োজন রয়েছে।
এই রূপান্তরের অর্থায়নের জন্য ইন্দোনেশিয়া ব্লেন্ডেড ও হাইব্রিড আর্থিক সমাধানের পাশাপাশি কার্বন বাণিজ্যের পথ খতিয়ে দেখছে। ৬০০ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড হ্রাস করার সম্ভাবনা থাকার দরুন ইন্দোনেশিয়ার বিস্তৃত বনভূমি একটি মূল সম্পদ। সরকার বনের দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত ১২ মিলিয়ন হেক্টর জমিতে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করেছে, যা ইন্দোনেশিয়ার শক্তি ক্ষেত্র এবং এর কার্বন বাণিজ্য বাজারে আগ্রহ উস্কে দিয়েছে। এটি ইন্দোনেশিয়াকে বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনা ও স্থিতিশীল বিনিয়োগে একটি উদীয়মান নেতা করে তোলে এবং দেশটিকে বহির্মুখী না হয়ে স্থানীয় সমাধানের অংশ করে উঠতে সাহায্য করবে। জলবায়ু সমাধানকে প্রতিরোধ করার পরিবর্তে ইন্দোনেশিয়া এখন জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন পার্টনারশিপের সঙ্গেও কাজ করবে।
গাজা থেকে ইউক্রেন পর্যন্ত বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলিকে স্বীকৃতি দিয়ে প্রবোও ইন্দোনেশিয়ার আন্তর্জাতিক অবস্থানকে উন্নত করতে এবং তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য বৃহত্তর সমর্থন আকর্ষণ করার জন্য একটি সক্রিয় বিদেশনীতিকে অপরিহার্য বলেই মনে করেন।
গুরজিৎ সিং জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, ইথিওপিয়া, আসিয়ান ও আফ্রিকান ইউনিয়নে ভারতের রাষ্ট্রদূত ছিলেন।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.