Author : Rachel Rizzo

Published on Apr 01, 2025 Updated 0 Hours ago

ট্রাম্প ২.০ যখন আটলান্টিক মহাসাগরের আন্তঃসম্পর্ককে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করছে, ইউরোপ সেই সময় মার্কিন সমর্থন হ্রাস, রাজনৈতিক বিভেদ এবং তার নিরাপত্তা ও চিন নীতির দায়িত্ব নেওয়ার চাপের মুখোমুখি হচ্ছে।

ইউরোপ এবং ট্রাম্প ২.০: বিচ্ছিন্ন ভূ-রাজনীতির যুগ?

এই প্রবন্ধটি ‘রাইসিনা এডিট ২০২৫’ সিরিজের অংশ



২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ ক্যারোলিনার কনওয়েতে একটি প্রচার সমাবেশে উল্লসিত জনতার সামনে দাঁড়িয়ে একটি 'বৃহৎ ইউরোপীয় দেশের' প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের কথা
স্মরণ করেছিলেন। সেই কথোপকথন অনুসারে, সেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে যদি তাঁর দেশ উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থার (ন্যাটো) প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না করে, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাঁর দেশকে রক্ষা করবে কিনা। ট্রাম্প শুধু ‘‌না’‌ বলেই উত্তর শেষ করেননি, তিনি জানিয়ে দেন যেসব ন্যাটো দেশ ‘‌তাদের বিল পরিশোধ করেনি’‌ তাদের ক্ষেত্রে তিনি পুতিনকে ‘‌যা ইচ্ছা তাই করতে’‌ উৎসাহিত করবেন। এই বিবৃতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছিল, এবং তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও ইউরোপীয় নেতারা এই বক্তব্যকে ট্রাম্প পুনরায় নির্বাচিত হলে কীভাবে মিত্রদের ত্যাগ করবেন এবং ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ক ধ্বংস করবেন তার উদাহরণ হিসাবে ব্যবহার করেছিলেন। ধ্বংসের ভয় অতিরঞ্জিত হলেও, মাত্র কয়েক মাস পরে একথা স্পষ্ট যে ট্রাম্প এবং তাঁর দল নতুন নিয়ম ও প্রত্যাশার ভিত্তিতে মার্কিন-ইউরোপীয় সম্পর্ক মৌলিকভাবে পুনর্গঠন করবে।


ধ্বংসের ভয় অতিরঞ্জিত হলেও, মাত্র কয়েক মাস পরে একথা স্পষ্ট যে ট্রাম্প এবং তাঁর দল নতুন নিয়ম ও প্রত্যাশার ভিত্তিতে মার্কিন-ইউরোপীয় সম্পর্ককে মৌলিকভাবে পুনর্গঠন করবে



দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির পর থেকে, এবং আরও বেশি করে ঠান্ডা যুদ্ধের সমাপ্তির পর থেকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয়রা এই সহজাত ধারণার উপর ভিত্তি করে কাজ করেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের নিরাপত্তার চূড়ান্ত নিশ্চয়তাদানকারী হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং ইউরোপীয় মহাদেশে এর সামরিক উপস্থিতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং বিদেশে শক্তি প্রদর্শনের সুযোগ করে দিয়েছে। এটি ইউরোপকে চূড়ান্ত পূর্ব-‌প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রদান করেছে, এবং ইউরোপের বিদেশনীতির উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট প্রভাব এবং মতামত দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করেছে। এই অন্তর্নিহিত চুক্তিটি এখনও পর্যন্ত ট্রান্সআটলান্টিক নেতাদের দৃষ্টিতে সফল হয়েছে। সর্বোপরি, আটলান্টিকের ওপারের একটি মিত্রের জন্য মার্কিন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ভাগ করে নেয় এমন ইউরোপের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়ার মূল্য কমই ছিল, বিশেষ করে যখন তারা আমেরিকার বৃহত্তম দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদার এবং তথাকথিত 'উদার আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা' পরিচালনা করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসনে কর্মরত তথাকথিত 'অগ্রাধিকারী'দের অনেকেই  বিষয়টিকে সেভাবে দেখেন না। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন-ইউরোপীয় সম্পর্ক কীভাবে বিকশিত হতে পারে তা বোঝার এটি প্রথম চাবিকাঠি। তাঁদের দৃষ্টিতে, গত ৩৫ বছর ধরে আমেরিকা ইউরোপকে আদর দিয়ে আসছে এবং তাদের প্রতি নরম থেকেছে। মার্কিন নিরাপত্তা নিশ্চয়তার উপর ইউরোপের নির্ভরতা আমেরিকার তরফে অন্যত্র শক্তি প্রক্ষেপণের ক্ষমতাকে সরাসরি বাধাগ্রস্ত করে;‌ উল্টোদিকে ইউরোপীয়রা মার্কিন সম্পদের উপর অবাধে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, যার ফলে তারা তাদের সামাজিক কর্মসূচিতে আরও বেশি অর্থ ব্যয় করতে পারে।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সম্পর্ক স্বাভাবিকভাবে চলবে বলে ইউরোপীয়দের আশা করা উচিত নয়, এবং তা প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ফেব্রুয়ারিতে ন্যাটোতে তাঁর প্রথম সফরের সময়ই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। তিনি সেখানে থাকা মিত্রদের
বলেছিলেন যে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন ‘‌সরাসরি ও দ্ব্যর্থহীনভাবে একথা বলতে যে স্পষ্ট কঠিন কৌশলগত বাস্তবতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রাথমিকভাবে ইউরোপের নিরাপত্তার উপর মনোনিবেশ করা থেকে বিরত রাখবে’‌ এবং ‘‌ইউরোপীয় মিত্রদের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে’‌। অবশ্যই, এই বার্তাটি ইউরোপীয়দের বিভ্রান্ত করেছে, তবে এই বিবৃতিগুলির মধ্যে থাকা ধারণাটি নতুন নয়। ডোয়াইট ডি আইজেনহাওয়ারের দিকে  ফিরে যাওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্টরা ইউরোপীয়দের এইভাবে অবাধে সুযোগ নেওয়া সম্পর্কে অভিযোগ করেছেন। ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কের এই পরিবর্তনগুলিকে কীভাবে বাস্তবে পরিণত করা যায়, সেইটাই হল সমস্যার দিক।


ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সম্পর্ক স্বাভাবিকভাবে চলবে বলে ইউরোপীয়দের আশা করা উচিত নয়, এবং তা প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ফেব্রুয়ারিতে ন্যাটোতে তাঁর প্রথম সফরের সময়ই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন।



ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ইউরোপের উচিত ইউরোপীয় নিরাপত্তার জন্য মার্কিন সমর্থনে সাধারণ হ্রাস আশা করা, যার মধ্যে রয়েছে মহাদেশে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি কমানো। ট্রাম্প ইতিমধ্যেই
বলেছেন যে, তিনি ইউরোপে কমপক্ষে ২০,০০০ সৈন্য কমাতে চান এবং অবশিষ্ট মার্কিন সামরিক উপস্থিতির জন্য মিত্রদের কাছ থেকে ভর্তুকি দাবি করতে চান। যদিও এই পরিকল্পনার দ্বিতীয়ার্ধের সম্ভাব্যতা অনিশ্চিত বলে মনে হচ্ছে, প্রস্তাবিত সৈন্য সংখ্যা হ্রাসের যুক্তিটি অর্থবহ। ইউরোপের সেনাবাহিনীতে ১.৯ মিলিয়নের সম্মিলিত সামরিক কর্মী রয়েছে, এবং তারা ইউরোপের প্রতিরক্ষার আরও বেশি বোঝা বহন করবে বলে আশা করা অবাস্তব নয়। এতদিন পর্যন্ত ইউরোপে মার্কিন উপস্থিতি হ্রাসের কথার শুধু উল্লেখই আতঙ্কের সৃষ্টি করত। এখন বোঝা যাচ্ছে এই ধারণাটি ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির চার বছরের পরেও অনুসৃত হতে পারে, তাই ইউরোপের প্রস্তুতি শুরু করা উচিত। ইতিমধ্যে, ট্রাম্প এবং তাঁর দলের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে তাঁরা যে পরিকল্পনাগুলি গ্রহণ করেছেন তা সুশৃঙ্খল এবং ইউরোপীয়দের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে।

নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার বাইরেও, ভিন্ন ভিন্ন নীতি ও মূল্যবোধের চাপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের রাজনৈতিক দৃশ্যপট ভেঙে পড়তে শুরু করেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ফেব্রুয়ারিতে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে তাঁর বক্তৃতায় স্পষ্ট করে
বলেছিলেন যে, ট্রাম্পের টিম বিশ্বাস করে যে ইউরোপের বিপদ ভেতর থেকে আসে। ইউরোপ ঐতিহাসিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভাগ করা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থেকে সরে যাচ্ছে, বিশেষ করে বাকস্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং গণঅভিবাসনের ক্ষেত্রে। এই ধরনের পর্যবেক্ষণের অভ্যন্তরীণ অনুরণন সত্ত্বেও, বৃহত্তর ট্রান্সআটলান্টিক জোটের অগ্রগতির জন্য এর সম্ভাব্য ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে একটি স্পষ্ট প্রশ্ন উঠে আসে। প্রথমত, ট্রাম্পের টিম সম্ভবত বিদেশী নির্বাচনে জড়িত না হওয়ার ঐতিহাসিক নজির এড়িয়ে চলবে, এবং তাদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবে ইউরোপীয় দলগুলিকে সোচ্চারভাবে সমর্থন করবে। স্পেনে ভক্স পার্টি,  ইতালিতে জর্জিয়া মেলোনির ফ্রাতেলি দি'ইতালিয়া পার্টি এবং জার্মানিতে দক্ষিণপন্থী এএফডি পার্টিকে ইলন মাস্কের সমর্থনের মধ্যে দিয়েই এটি ঘটেছে। এর অর্থ হল, ট্রাম্প ইউরোপের সঙ্গে অত্যন্ত লেনদেনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করবেন, বিশেষ করে যেসব দেশ রাজনৈতিকভাবে তাঁর সঙ্গে জোটবদ্ধ নয় তাদের সঙ্গে। চিনের সঙ্গে ইউরোপীয় অর্থনৈতিক আন্তঃনির্ভরতার ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। ট্রাম্প মনে করেন ইউরোপের ক্ষেত্রে চিনই তাদের সঙ্গে সংযোগের ফলে লাভবান হচ্ছে: ইউরোপীয় বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোতে চিনের প্রবেশাধিকার রয়েছে, যা সরাসরি তাদের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করে। যদিও দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব কেমন হতে পারে তা বলার সময় এখনও আসেনি, ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (এবং বিভিন্ন ইইউ দেশকে) আগামী চার বছরে তাদের চিন নীতির বিষয়ে হোয়াইট হাউসের চরম চাপের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা উচিত। ইউরোপ হয়তো মনে করতে পারে যে তাদের পক্ষ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা চিন সম্পর্কে ইউরোপের ইতিমধ্যেই বিভক্ত দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে।


ট্রাম্প ইউরোপের সঙ্গে অত্যন্ত লেনদেনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করবেন, বিশেষ করে যেসব দেশ রাজনৈতিকভাবে তাঁর সঙ্গে জোটবদ্ধ নয় তাদের সঙ্গে।



ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম কয়েক মাস ট্রান্সআটলান্টিক অংশীদারিত্বকে ইতিমধ্যেই সমস্যায় ফেলে দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, মিউনিখ সুরক্ষা সম্মেলনে মার্কিন রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত বার্তাগুলি উচ্চস্তরের ইউরোপীয়দের হতবাক করে দিয়েছিল। কিন্তু তাদের অবাক হওয়া উচিত ছিল না। অতীতের দিকে তাকালে, নির্বাচিত হওয়ার পর মিত্রদের কাছে বাইডেনের
দ্ব্যর্থহীন
‘‌আমেরিকা ফিরে এসেছে’‌ বার্তাটি নিয়ে আরও বেশি অনুসন্ধানী হওয়া উচিত ছিল। এই বার্তাটি মৌলিক ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতাকে উপেক্ষা করেছিল এবং ইউরোপীয়দের নিরাপত্তার মিথ্যা ধারণায় ডুবিয়ে রেখেছিল। এখন, ইউরোপীয়রা আবারও একই অবস্থানে ফিরে এসেছে, এবং আগামী চার বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কীভাবে মোকাবিলা করা যায় তা বার করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছে। ট্রাম্প এবং তাঁর দল ৮০ বছরের ঐতিহাসিক নজিরকে নাটকীয়ভাবে পুনর্নির্মাণ করছে। মার্কিন-ইউরোপীয় সম্পর্ক কয়েক দশক ধরে যেমন ছিল তেমনই টিকে থাকবে, তবে এটি মৌলিকভাবে ভিন্ন দেখাতে পারে। অবশেষে ইউরোপকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে।



র‍্যাচেল রিজো আটলান্টিক কাউন্সিলের ইউরোপ সেন্টারের নন-‌রেসিডেন্ট সিনিয়র ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Author

Rachel Rizzo

Rachel Rizzo

Rachel Rizzo is Nonresident Senior Fellow, Europe Center, Atlantic Council. ...

Read More +