Published on Feb 26, 2025 Updated 0 Hours ago

যখন আফ্রিকা একটি ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসাবে আবির্ভূত হচ্ছে এবং চিন মহাদেশের প্রভাবশালী বাণিজ্য অংশীদার হিসাবে রয়ে গেছে, সেই সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ ও ভারতকে অবশ্যই মহাদেশে তাদের উন্নয়ন সহায়তার সমন্বয় করতে হবে

আফ্রিকায় সংযোগ: গণতান্ত্রিক উন্নয়ন ত্রয়ী

আজকের উদীয়মান বিশ্ব ব্যবস্থায় উন্নয়ন সহায়তা ও সংযোগ সহযোগিতা উন্নয়নশীল বিশ্বে ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবের গুরুত্বপূর্ণ পরিসর হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। এই প্রতিযোগিতার রূপগুলি আফ্রিকাতে সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান, যেটি এমন একটি মহাদেশ যেখানে প্রচুর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ, এবং একটি তরুণ ও ক্রমবিস্তৃত কর্মিবাহিনী আছে। মহাদেশের পরিকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা — শুধুমাত্র রাস্তা ও সেতুর মাধ্যমে নয়, সেইসঙ্গে অগ্রণী ডিজিটাল পরিবহণ ব্যবস্থা, সবুজ প্রযুক্তি কেন্দ্র, সক্ষমতা-নির্মাণ কর্মসূচি এবং আরও অনেক কিছু — আফ্রিকার সঙ্গে বৃহত্তর অর্থনৈতিক কার্যকলাপ ও বাণিজ্যের সুযোগ করে দেয়, যা আফ্রিকার দেশগুলি এবং তাদের বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার উভয়কেই উপকৃত করে।


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ভারতের মতো সমমনস্ক গণতন্ত্রগুলি আফ্রিকায় পরিকাঠামো উন্নয়নে তাদের মনোযোগ বাড়িয়েছে, তবে তাদের প্রচেষ্টা আরও জোরদার করতে হবে।



বৈশ্বিক শক্তি ও উদীয়মান অর্থনৈতিক খেলোয়াড়রা এই প্রবণতাগুলি সম্পর্কে অন্ধ নয়। আফ্রিকায় উন্নয়ন একটি ক্রমবর্ধমান মনোযোগের ক্ষেত্র হয়েছে, কিন্তু চিন বাকিদের থেকে বেশ এগিয়ে আছে। এর বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (
বিআরআই) এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মহাদেশে সফলভাবে কাজ করছে। ফলস্বরূপ, চিন মহাদেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেয়ে গিয়েছে। ২০২৩ সালের হিসাবে বেজিং হল মহাদেশের বৃহত্তম দ্বিপাক্ষিক ঋণদাতা, যার পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার; বিআরআই কাঠামোর অধীনে, বেজিং ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ১৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে, ঋণ দিয়েছে, বা সেই সংক্রান্ত চুক্তি সম্পন্ন করেছে। চিত্তাকর্ষক বিষয় হল, আফ্রিকাতে বিআরআই-এর প্রায় ৪৩ শতাংশ অর্থনৈতিক ব্যস্ততা শক্তি, ধাতু ও খনির পরিসরে রয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ভারতের মতো সমমনস্ক গণতন্ত্রগুলি আফ্রিকায় পরিকাঠামো উন্নয়নে তাদের মনোযোগ বাড়িয়েছে, তবে তাদের প্রচেষ্টা আরও জোরদার করতে হবে। বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করার পরিবর্তে, যেমনটি ঐতিহাসিকভাবে তারা করে আসছে, এখন অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে তা করা উচিত। এই কাজটি আজ বেশি প্রয়োজনীয়, কারণ তিনটি সত্তার আগের চেয়ে আরও বেশি কৌশলগত সারিবদ্ধতা রয়েছে। এই নিবন্ধটি আফ্রিকায় ইউরোপীয়, মার্কিন ও ভারতীয় সংযোগ ও সহযোগিতা বিশ্লেষণ করে, এবং একটি বৃহত্তর সহযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার জন্য একটি কাঠামোর পরামর্শ দেয়।

অনুরূপ চালক, বিচ্ছিন্ন পদ্ধতি

আফ্রিকার অর্থনৈতিক ও পরিকাঠামো উন্নয়ন সমর্থন করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ ও ভারতের অনুরূপ কারণ রয়েছে। মহাদেশটি অর্থনৈতিক সম্ভাবনার একটি ক্রমবর্ধমান কেন্দ্র। মহাদেশের জনসংখ্যা বিশ্বের মধ্যে দ্রুততম হারে
বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং সেই সঙ্গে একটি আগ্রহী উদ্যোক্তা কর্মশক্তি উঠে আসছে। আফ্রিকার সঙ্গে সমন্বিত বাণিজ্য নেটওয়ার্ক ও বাজারগুলি মার্কিন, ইউরোপীয় ও ভারতীয় অর্থনীতির জন্য পারস্পরিকভাবে ততটাই উপকারী হবে, যতটা আফ্রিকার দেশগুলির জন্য৷ পরিষেবা প্রদান ও সংযোগ উন্নত করার জন্য মূল পরিকাঠামোতে বিনিয়োগ সেই প্রচেষ্টার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

আফ্রিকার সঙ্গে টেকসই বাণিজ্য সম্পর্ক অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। মহাদেশটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে সমৃদ্ধ, যার উপর পরবর্তী প্রজন্মের সবুজ প্রযুক্তি নির্ভর করবে। এই উপকরণগুলির জন্য টেকসই ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহ শৃঙ্খল তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ ও ভারত এই জাতীয় উপকরণগুলির জন্য চিনের উপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের ঝুঁকিমুক্ত করতে চায়। স্থিতিশীলভাবে এটি করা হলে তা আফ্রিকার দেশগুলিকে এই গুরুত্বপূর্ণ পণ্যগুলির বাণিজ্য থেকে লাভবান হতে সাহায্য করবে, এবং শোষণমূলক প্রবণতাও অব্যাহত থাকবে না।


আফ্রিকার সঙ্গে সমন্বিত বাণিজ্য নেটওয়ার্ক ও বাজারগুলি মার্কিন, ইউরোপীয় ও ভারতীয় অর্থনীতির জন্য পারস্পরিকভাবে ততটাই উপকারী হবে, যতটা আফ্রিকার দেশগুলির জন্য৷



অবশেষে, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে আফ্রিকার সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণভাবে সংযুক্ত করা বিশ্বব্যাপী মুক্ত বাণিজ্য অ্যাজেন্ডাকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী যুগে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে বর্তমানে সবচেয়ে বড় হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। এই অঞ্চলে চিনের বিনিয়োগ একটি প্রয়োজনীয় কেস স্টাডি। বেজিংয়ের বিনিয়োগ চিনের ক্রমবর্ধমান ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং আফ্রিকা জুড়ে এর অর্থনৈতিক মডেলের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ ও ভারতের মতো দেশগুলি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অ্যাজেন্ডাকে পুনরুজ্জীবিত করতে (পুনঃআকৃতি দিতে  নয়) আগ্রহী, এবং মহাদেশে বিনিয়োগের গুরুত্বের দিকে তাদের নজর দেওয়া উচিত।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও ভারতের নীতিনির্ধারকরা এই প্রবণতাগুলির প্রতি উদাসীন নয়, এবং তিনটিই সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আফ্রিকাতে তাদের উপস্থিতি ও বিনিয়োগ বাড়িয়েছে।

বাইডেন প্রশাসনের অধীনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরিকাঠামো উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এটি তার উন্নয়ন সংস্থাগুলির নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ২০২২ সাল থেকে আফ্রিকাতে পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলিতে ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঢেলেছে, এবং মহাদেশে বিনিয়োগ উন্মুক্ত করার উপর বিশেষভাবে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে। যদিও গণতন্ত্রের প্রচারে বা সবুজ রূপান্তরে গুরুত্ব প্রায় নিশ্চিতভাবে দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে ত্বরান্বিত হবে না, তবে এই জমানায় একটি বাণিজ্য অংশীদার হিসাবে আফ্রিকার নিজস্ব উন্নয়ন অ্যাজেন্ডাকে সমর্থন করার জন্য আরও লেনদেনমূলক পদ্ধতি, এবং চিনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার একটি উপায় হিসাবে এই মহাদেশের পরিকাঠামো উন্নয়নের উপর অবিরত মনোযোগ দেখা যেতে পারে।


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ ও ভারতের মতো দেশগুলি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অ্যাজেন্ডাকে পুনরুজ্জীবিত করতে (পুনঃআকৃতি দিতে  নয়) আগ্রহী, এবং মহাদেশে বিনিয়োগের গুরুত্বের দিকে তাদের নজর দেওয়া উচিত।



ইইউও সক্রিয়। পূর্ববর্তী ইউরোপীয় কমিশনের আদেশের অধীনে, ইইউ গ্লোবাল গেটওয়ে চালু করেছে, যা বিশ্বজুড়ে ৩০৯.৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে চায়, এবং এর বেশিরভাগ মনোযোগ আফ্রিকার দিকে রয়েছে। ইইউ গ্লোবাল গেটওয়ে কাঠামোর অধীনে শুধু আফ্রিকাতে ১০০ টিরও বেশি প্রকল্প
তালিকাভুক্ত হয়েছে। পরবর্তী ইউরোপীয় কমিশন এই মনোযোগ অব্যাহত রাখবে। স্বতন্ত্র ইইউ সদস্যরাও তাদের উদ্যোগ শুরু করেছে, যেমন ইতালির মাত্তেই প্ল্যান, যদিও এটি অর্থনৈতিক (৮.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) এবং ভৌগোলিক (এমপিএ মূলত উত্তর আফ্রিকার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে) দৃটিকোণ থেকে স্বীকৃতভাবে ছোট।

ভারত এই মহাদেশের আরেকটি প্রধান খেলোয়াড়, বিশেষ করে যখন অর্থায়নের কথা আসে। দিল্লি আফ্রিকার
দ্বিতীয় বৃহত্তম ঋণদাতা এবং মহাদেশে ২০০টিরও বেশি পরিকাঠামো প্রকল্প সম্পন্ন করেছে, আর ৬৯টি প্রকল্প চলতি রয়েছে। ভারতের একটি আগ্রহী বেসরকারি ক্ষেত্রও এর সঙ্গে জড়িত হতে চাইছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, বেসরকারি ভারতীয় পরিকাঠামো সংস্থাগুলি আফ্রিকায় বছরে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ ইতিমধ্যেই গ্রুপ অফ ৭ (জি৭)-‌এর মাধ্যমে অংশীদারিত্বে কাজ করছে। জি৭ স্তরে, সদস্যরা পার্টনারশিপ ফর গ্লোবাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট (
পিজিআইআই)-‌এর মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলিতে ৬০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার মধ্যে যৌথ প্রকল্পগুলিতে একসঙ্গে কাজ করাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো (ডিআরসি), জাম্বিয়া ও অ্যাঙ্গোলার মধ্যে লোবিটো করিডোর জুড়ে পরিবহণ নেটওয়ার্কগুলিতে বিনিয়োগ এই ধরনের প্রকল্পগুলির জন্য আদর্শ বাহক। পরিবহণ, কৃষি, জ্বালানি, স্বাস্থ্য ও ডিজিটাল অঙ্গন করিডোরে ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে।

উন্নয়ন ক্ষেত্র বাড়ানো (একত্রে)

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ ও ভারতের একত্রে কাজ করার জন্য বাধ্যতামূলক কারণ রয়েছে। প্রথমত, আফ্রিকার উন্নয়নের প্রয়োজনের জন্য তিনটি দেশের কোনও একটির সাধ্যের চেয়ে বেশি তহবিল প্রয়োজন হবে। বিভিন্ন গবেষণা
অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে সারা বিশ্বে ব্যয় ও পরিকাঠামোর চাহিদার মধ্যে ১৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যবধান তৈরি হবে, যা আফ্রিকার দেশগুলির মতো উন্নয়নশীল দেশগুলিকে সবচেয়ে বেশি আঘাত করবে। জি৭-‌এর পিজিআইআই-‌এর ২০২৭ সালের মধ্যে ৬০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করার উচ্চাকাঙ্ক্ষা তুলনামূলকভাবে খুবই কম। তদুপরি, প্রতিটি দেশ তার সুবিধা নিয়ে আসে। ভারত হল মূলধনের একটি প্রধান তহবিল, আফ্রিকার সঙ্গে জড়িত থাকার ক্ষেত্রে তার কয়েক দশকের জ্ঞান রয়েছে, এবং একটি আগ্রহী বেসরকারি ক্ষেত্রের ভিত্তি রয়েছে৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বেসরকারি ক্ষেত্রের তহবিল উন্মুক্ত করতে সাহায্য করতে পারে, এবং ইইউ এবং এর সদস্য রাষ্ট্রগুলি তাদের স্থানীয় সরবরাহ শৃঙ্খলকে একীভূত করতে সাহায্য করতে পারে।

দ্বিতীয়ত, যৌথ প্রকল্পে সহযোগিতা সকলের জন্য ঝুঁকিমুক্ত অ্যাজেন্ডাকে জোরদার করে, এবং চিনের উপর নির্ভরশীলতার সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্য প্রদান করে। বিশ্বস্ত মিত্র ও অংশীদারদের দ্বারা সমর্থিত পরিকাঠামো-‌সহ অতি-‌গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ ও খনিজগুলির জন্য নিরাপদ সরবরাহ শৃঙ্খল স্থাপন করা তিনটি পক্ষের জন্য সরবরাহের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রদান করে। নিরাপদ সরবরাহ লাইনগুলি মার্কিন, ইউরোপীয় ও ভারতীয় প্রচেষ্টাকেও উপকৃত করবে, কারণ তিনটিই তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য একে অপরের উপর নির্ভর করছে। যদি একটি ঝুঁকিমুক্ত কাঠামোর দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে এদের সকলের একে অপরের সঙ্গে আরও সহযোগিতার প্রয়োজন হবে ।


ভারত হল মূলধনের একটি প্রধান তহবিল, আফ্রিকার সঙ্গে জড়িত থাকার ক্ষেত্রে তার কয়েক দশকের জ্ঞান রয়েছে, এবং একটি আগ্রহী বেসরকারি ক্ষেত্রের ভিত্তি রয়েছে৷



এই ঝুঁকিমুক্ত অ্যাজেন্ডা আফ্রিকা পর্যন্ত প্রসারিত হওয়া উচিত। শুধু নিষ্কাশন করার পরিবর্তে পণ্য প্রক্রিয়াকরণের পরিকাঠামো স্থাপনের মাধ্যমে আফ্রিকাকে এই গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খলে একীভূত করা গেলে, তা আফ্রিকার দেশগুলিকে চিনের সরবরাহকৃত মডেলের বিপরীতে আরও আকর্ষণীয় সুযোগ করে দেবে।

তৃতীয়ত, সহযোগিতা ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইইউ-এর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সাহায্য করে। বৈশ্বিক নেতৃত্বের অংশীদার হিসাবে ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলস ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে নয়াদিল্লির সঙ্গে তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে তারা কতটা গুরুত্ব দেয় তার ইঙ্গিত দিতে পারে। ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ-এর দ্বিপাক্ষিক লেনদেনের বেশিরভাগই ভারতের উন্নয়নের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। যদিও এটি একটি সার্থক প্রচেষ্টা, তবে এটি একটি অংশীদার হিসাবে ভারতের সম্ভাবনার সম্পূর্ণ পরিসীমা ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়, এবং বড়-‌ভাই-‌সুলভ মনোভাবের কারণে সমালোচিত হয়। এমন আরও অনেক কিছু করা যায়।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, উদাহরণস্বরূপ, ২০২২ সালের এপ্রিলে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতার একটি
রূপরেখা তুলে ধরেছিল নিয়ম-ভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা বজায় রাখা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করা, এবং ডিজিটাল রূপান্তরকে সমর্থন করার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। এর গ্লোবাল গেটওয়ে ভারতকে ‘‌ভারত এবং অঞ্চলে নিরাপদ ও টেকসই পরিকাঠামোতে সহযোগিতা ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগের" জন্য উন্নয়ন সহায়তার অংশগ্রহণকারী হিসাবে চিহ্নিত করেছে৷

ইইউ-এর মতো ওয়াশিংটনও ভারতের উন্নয়নকে সমর্থন করার দিকে মনোনিবেশ করে, কিন্তু ভারতকে বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগের অংশীদার হিসাবে দেখে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর রাষ্ট্রীয় সফর থেকে মোদী-বাইডেন
দৃষ্টিভঙ্গি ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কী করতে পারে তা উল্লেখ করে, বিশেষ করে ‘‌সার্বভৌম ঋণ পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার উন্নতিতে; বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাঙ্কের বিবর্তন অ্যাজেন্ডাকে অগ্রসর করার ক্ষেত্রে যার মধ্যে সব উন্নয়নশীল দেশকে সমর্থন করার জন্য বিশ্ব ব্যাঙ্কের নতুন রেয়াতি অর্থায়ন জোগাড় করাও অন্তর্ভুক্ত’‌; এবং পিজিআইআই-এর মাধ্যমে ‘‌মানসম্পন্ন, টেকসই ও স্থিতিস্থাপক পরিকাঠামোর জন্য বেসরকারি ক্ষেত্রের বিনিয়োগকে গতিশীল করার উচ্চাকাঙ্ক্ষার স্তর বৃদ্ধি’‌ করতে।


বৈশ্বিক নেতৃত্বের অংশীদার হিসাবে ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলস ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে নয়াদিল্লির সঙ্গে তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে তারা কতটা গুরুত্ব দেয় তার ইঙ্গিত দিতে পারে।



যেহেতু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ একটি স্খলিত নিয়ম-ভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থার মুখে দাঁড়িয়ে বিদেশে তাদের সম্পর্ককে মজবুত করতে চায়, শুধুমাত্র উন্নয়ন সহায়তা গ্রহীতার পরিবর্তে অংশীদার হিসাবে ভারতকে জড়িত করা চিনের তুলনায় ভারতকে বিশ্বের জন্য পশ্চিমের দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলে আনতে সাহায্য করবে। পশ্চিমের জন্য, যেখানে ভারতকে একটি অতি-‌গুরুত্বপূর্ণ ‘‌সুইং স্টেট’‌ হিসাবে দেখা হয়, সেখানে নতুন দিল্লির সঙ্গে কাজ করাকে সফলভাবে জড়িত থাকার একটি উপায় হিসাবে দেখা হবে, এমনকি রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ-‌সহ বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের প্রতি ভারতের মনোভাব নিয়ে হতাশার মধ্যেও। সহযোগিতার উপায় খুঁজে বার করা এবং দিল্লিকে পশ্চিমের কাছাকাছি নিয়ে আসা তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইইউ উভয়ের নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতেরও এই অংশীদারিত্ব কেনার কারণ রয়েছে। একটি ক্রমবর্ধমান বহুমেরু বিশ্বে, ভারতের
বৃহত্তর অবস্থানের জন্য তার আফ্রিকার সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করা এবং আফ্রিকায় উপস্থিতি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে অংশীদারিত্ব সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটি ভিত্তি প্রদান করে। নয়াদিল্লি সফলভাবে কয়েক দশক ধরে তার নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি চালিয়ে যেতে পেরেছে, এবং সম্ভবত তা অব্যাহতও রাখবে, তবে আফ্রিকায় চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়েও উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ-এর সঙ্গে সংযোগ ও সহযোগিতার গভীরতা বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে তার মনোযোগী অবস্থানও প্রদর্শন করবে।

পরবর্তী পদক্ষেপ


এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে পরিণত করার জন্য ইতিমধ্যেই সরঞ্জাম ও কাঠামো রয়েছে৷ এর সূচনাবিন্দু হওয়া উচিত জি৭। যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, জি৭-এর পিজিআইআই ইতিমধ্যে পরিকাঠামো উন্নয়নে মার্কিন ও ইউরোপীয় পদ্ধতির সমন্বয় শুরু করেছে। তবুও, সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য আরও কিছু করা যেতে পারে এবং করা উচিত। গত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে, নেতারা পিজিআইআই নিয়ে আলোচনার আয়োজন করেছিলেন। পিজিআইআই নিয়ে আলোচনার জন্য জি৭+ ফরম্যাটে ভারতের সংযোজন একটি কার্যকর সূচনা হবে। সারা বছর ধরে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ভারতকে আমন্ত্রণ জানানো একটি অতিরিক্ত সুবিধা হবে।

জি৭-‌এর মাধ্যমে হোক বা অন্য যে কোনও পথে ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ সবচেয়ে মৌলিক স্তরে তারা আফ্রিকা মহাদেশে যে পরিকল্পিত বা চলতি প্রকল্পগুলিকে সমর্থন করছে সেগুলির কথা জানাতে এবং মানচিত্রায়ন করতে কর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ শুরু করতে পারে৷ এই প্রচেষ্টা দ্বন্দ্ব নিরসনে সাহায্য করবে, এবং সম্ভাব্য বিচক্ষণ সহযোগিতার ক্ষেত্র খুঁজে পাবে।



জেমস বাচিক অ্যাটলান্টিক কাউন্সিল-‌এর ইউরোপ সেন্টারের একজন অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর।
 
পৃথ্বী গুপ্তা অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রাম-‌এর একজন জুনিয়র ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Authors

James Batchik

James Batchik

James Batchik is an associate director at the Atlantic Council’s Europe Center, where he supports programming on the European Union, the United Kingdom, Germany, the ...

Read More +
Prithvi Gupta

Prithvi Gupta

Prithvi Gupta is a Junior Fellow with the Observer Research Foundation’s Strategic Studies Programme. Prithvi works out of ORF’s Mumbai centre, and his research focuses ...

Read More +