উত্তর ও দক্ষিণ জিনজিয়াংয়ের মধ্যে ভ্রমণের সময় সাত ঘণ্টা থেকে কমিয়ে তিন ঘণ্টায় নামিয়ে আনার জন্য এবং কঠোর শীতকালীন পরিস্থিতি থেকে পণ্যগুলিকে রক্ষা করার জন্য একটি কৌশলী পদক্ষেপ নিয়েছে চিন এবং ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জিনজিয়াংয়ের তিয়ানশান পর্বতমালায় বিশ্বের দীর্ঘতম সড়ক পথ সুড়ঙ্গ খনন সম্পন্ন করেছে। ২২.১৩ কিমি সুড়ঙ্গটি ২০২৫ সাল থেকে চালু হবে এবং চিনের ৩১৯.৭২ কিমি দীর্ঘ উরুমকি-ইউলি এক্সপ্রেসওয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সময়ে, চিনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি (সিসিপি)এবং স্টেট কাউন্সিল বা রাজ্য পরিষদ ভারতের আকসাই চিন অঞ্চলে হেয়ান ও হেকাং নামে দু’টি নতুন কাউন্টি গঠনের অনুমোদন দেয়, যেটি ১৯৬৩ সালে একটি সীমান্ত চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তান কর্তৃক বেআইনি ভাবে চিনের কাছে হস্তান্তরিত হয়েছিল। ভারতের সঙ্গে চিনের সাম্প্রতিক সম্পর্ককে কেন্দ্র করে আকসাই চিন অঞ্চলে নতুন কাউন্টির অবৈধ নির্মাণ আসলে বেজিংয়ের প্রতারণামূলক কৌশলকেই দর্শায়, যা চিন-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জটিলতা বৃদ্ধি করেছে।
চিনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি (সিসিপি) এবং স্টেট কাউন্সিল বা রাজ্য পরিষদ ভারতের আকসাই চিন অঞ্চলে হেয়ান ও হেকাং নামে দু’টি নতুন কাউন্টি গঠনের অনুমোদন দেয়, যেটি ১৯৬৩ সালে একটি সীমান্ত চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তান কর্তৃক বেআইনি ভাবে চিনের কাছে হস্তান্তরিত হয়েছিল।
খোতান প্রিফেকচার দ্বারা পরিচালিত নতুন কাউন্টি ও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার (এলএসি) কাছে জনবসতিহীন অঞ্চলে কাউন্টি নির্মাণ এমন এক ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ ও সীমান্তে হান জনসংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চিনের প্রচেষ্টাকেই দর্শায়, যা ১৯৫৮ সালে গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ডের সময় গৃহীত পদক্ষেপের কথা মনে করিয়ে দেয়। যাই হোক, চিনের লক্ষ্য হল সুড়ঙ্গের মাধ্যমে সংযোগ বৃদ্ধি করা এবং প্রধানত উইঘুর অধ্যুষিত দক্ষিণাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সহায়তা করা, যা জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্য জোরদার করবে।
১৯৪৯ সাল পরবর্তী চিনের জিনজিয়াং সীমান্ত নীতি
জিনজিয়াং-এর ইতিহাস স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার দ্বন্দ্ব দ্বারা আকার পেয়েছে। চিনা সাম্রাজ্যশাসন ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ মাত্র ৪০০ বছর স্থায়ী হয়েছিল। তাং রাজবংশের পর ১৭২০ সালে কিং রাজবংশ প্রথম বারের মতো এই অঞ্চলে তার নিয়ন্ত্রণ প্রসারিত করে, কিন্তু কর্তৃত্ব টিকিয়ে রাখার বিষয়টি ছিল যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। চিনের বর্তমান জিনজিয়াং সীমান্ত নীতি বোঝার জন্য এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বোঝাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৭৬০ সালের পর কিং নেতারা হান অপরাধীদের মূল ভূখণ্ড থেকে জিনজিয়াং-এ স্থানান্তরিত করা শুরু করে এবং তাদের বসতি স্থাপন ও কৃষিকাজের জন্য ভর্তুকি ও ঋণ প্রদান করেছিল।
১৯৫০ সালের পর বেজিং তার প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার, রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা ও স্থানীয় জনসংখ্যাকে চিনা সংস্কৃতিতেই সংহত করে রাখার জন্য ওই প্রদেশে হান জনগণের ব্যাপক অভিবাসন শুরু করে। ১৯৪৯ সালের পর এই অভিবাসনের লক্ষ্য ছিল সম্পদ শোষণ ও বিশেষ করে পূর্ববর্তী সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাব বা বহিরাগত প্রভাব থেকে সীমান্ত রক্ষা করা। ১৯৫৮ সালের পর ৬০,০০০ কাজাক প্রাক্তন সোভিয়েতের সেন্ট্রাল এশিয়ান রিপাবলিকে চলে যায়। বেজিং সীমান্ত বন্ধ করে এবং সীমান্ত এলাকা থেকে হাজার হাজার হান নয়, এমন পরিবারকে বলপূর্বক স্থানান্তরিত করে হান নাগরিকদের সঙ্গে প্রতিস্থাপন করে। ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত জিনজিয়াং প্রোডাকশন অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোর (এক্সপিসিসি) এই সমস্ত জনসংখ্যার স্থানান্তরকে সহজতর করেছিল। প্রাথমিক ভাবে নিষ্ক্রিয় সৈন্যদের সমন্বয়ে এক্সপিসিসি একটি অর্থনৈতিক উদ্যোগ ছিল ও সেটি সামরিক বাহিনী হিসাবে কাজ করে যথেষ্ট সরকারি কর্তৃত্ব ফলাত, যা এই অঞ্চলের সামাজিক-রাজনৈতিক ও আর্থিক গতিশীলতার উপর প্রভাব ফেলে। সংস্থাটির লক্ষ্য ছিল উপনিবেশ স্থাপনের মাধ্যমে হান ব্যক্তিদের বিদ্যমান শহরের বাইরে স্থানান্তরিত করা, ভূমি পুনরুদ্ধার, শিল্প নির্মাণ, প্রাকৃতিক সম্পদ অন্বেষণ এবং কৌশলগত রাস্তা ও রেললাইন নির্মাণের জন্য ‘প্রকৃতির রূপান্তর এবং মানুষের সংস্কার’-এর স্লোগান প্রচার করা। এক্সপিসিসি জিনজিয়াং থেকে তেল ও গ্যাস আহরণে বেজিংকে সহায়তা করেছে। নানাবিধ অনুমান দর্শায় যে, এই অঞ্চলে ২৩.৪ বিলিয়ন টন তেল এবং ১৩ ট্রিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাসের মজুদ রয়েছে।
প্রাথমিক ভাবে নিষ্ক্রিয় সৈন্যদের সমন্বয়ে এক্সপিসিসি একটি অর্থনৈতিক উদ্যোগ ছিল ও সেটি সামরিক বাহিনী হিসাবে কাজ করে যথেষ্ট সরকারি কর্তৃত্ব ফলাত, যা এই অঞ্চলের সামাজিক-রাজনৈতিক ও আর্থিক গতিশীলতার উপর প্রভাব ফেলে।
এক্সপিসিসি আকসাই চিনের মধ্য দিয়ে জিনজিয়াং-জিজাং মহাসড়ক নির্মাণ করেছে। ১৯৫৮ সালের মধ্যে ৬,০০০ মাইলেরও বেশি রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল। মহাসড়ক শৃঙ্খল ২০১৫ সালে ১৭,৮৩০ কিলোমিটার থেকে ২০২০ সালে ২০,৯২০ কিলোমিটারে প্রসারিত হয়েছিল। ২০২১ সালের পর বেজিং জি২১৯ হাইওয়ে থেকে এলএসি-র দিকে নতুন রাস্তা নির্মাণ শুরু করে, যা সীমান্ত বরাবর চলে। বেজিং ১৪তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় (২০২১-২০২৫) তিব্বত ও জিনজিয়াং-এ এলএসি অবকাঠামো উন্নত করার জন্য কৌশলগত রাস্তা ও মহাসড়ক নির্মাণকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। একই ভাবে, চিন জিনজিয়াং-এ রেল শৃঙ্খলও নির্মাণ করছে, যা ২০১৫ সালে ৫৯০০ কিলোমিটার থেকে ২০২০ সালে প্রায় ৭,৮০০ কিলোমিটারে প্রসারিত হয়েছে।
নতুন কাউন্টি ও অবকাঠামোর নেপথ্যে ঔপনিবেশিক যুক্তি
জিনজিয়াংয়ের বেশিরভাগ উইঘুর মুসলিম দক্ষিণাঞ্চলে বাস করে, বিশেষ করে কাশগর, ইয়ারখন্দ, খোতান ও কুরলায়, যেখানে তাঁরা চিনা কমিউনিস্ট পার্টির বলপূর্বক সিনিসাইজেশন বা চিনাকরণকে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। সিনিসাইজেশন হল অ-চিনা সম্প্রদায়কে চিনা সংস্কৃতিতে আত্তীকরণ করার একটি প্রক্রিয়া। প্রতিবেশী মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় বেজিংয়ের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং দক্ষিণ জিনজিয়াংয়ের অভ্যন্তরে সম্ভাব্য অস্থিরতার উদ্বেগ চিনকে নতুন কাউন্টি তৈরি করতে এবং অবকাঠামোর জন্য তার চাপ বাড়াতে বাধ্য করেছে। জিনজিয়াং-এ তার কঠোর নীতি থাকা সত্ত্বেও বেজিং পাকিস্তান সীমান্তে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সঙ্কট নিয়ে উদ্বিগ্ন হচ্ছে। তাই সেখানে এবং উইঘুর-অধ্যুষিত অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। নতুন হান অভিবাসীরা বেশির ভাগই অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মী এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অধিকারী নিরাপত্তা বাহিনী হিসেবে কাজ করে। এর পাশাপাশি, লিথিয়ামের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং এই নতুন কাউন্টির আশপাশে ২ মিলিয়ন টন লিথিয়ামের আনুমানিক উপস্থিতির কারণে এক্সপিসিসি এই এলাকায় খনির প্রসারও করতে চায়।
প্রতিবেশী মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় বেজিংয়ের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং দক্ষিণ জিনজিয়াংয়ের অভ্যন্তরে সম্ভাব্য অস্থিরতার উদ্বেগ চিনকে নতুন কাউন্টি তৈরি করতে এবং অবকাঠামোর জন্য তার চাপ বাড়াতে বাধ্য করেছে।
তিয়ানশান শেংলি সুড়ঙ্গ জিনজিয়াং-এর সংযোগ বাড়াবে এবং মধ্য এশিয়ার সঙ্গে চিনা ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি করবে। বিশেষ করে চিন-কিরঘিজস্তান-উজবেকিস্তান রেললাইনের কাজ শেষ হওয়ার পরে বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। উন্নত সংযোগব্যবস্থা আরও বেশি চিনা সংস্থা আকৃষ্ট করবে এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অধীনে ইউরেশিয়ান দেশগুলির সঙ্গে জিনজিয়াংয়ের দক্ষিণকে আরও সমন্বিত করবে। একই ভাবে, এক্সপিসিসি-র মাধ্যমে ভারতের আকসাই চিন অঞ্চলের অংশগুলিতে দুটি নতুন কাউন্টি প্রতিষ্ঠা করা এই অঞ্চলে চিনা সেনাবাহিনীকে সমর্থন করার জন্য নতুন অবকাঠামো ও সম্পদ বিকাশের জন্য হান অভিবাসীদের স্থানান্তরকে সহজতর করবে, যা ভারতের জন্য এলএসি বরাবর ভূ-কৌশলগত প্রভাব ফেলবে।
ভারতের প্রতিক্রিয়া
১৯৯১ সালের পর চিন মধ্য এশিয়ার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে পুঁজি করে উত্তাল জিনজিয়াং অঞ্চলে তার প্রভাব বিস্তার করে। কাজাখস্তান, কিরঘিজস্তান ও তাজিকিস্তান থেকে যথাক্রমে ২২ শতাংশ, ৩২ শতাংশ এবং ৩.৫ শতাংশ ভূমি দাবি করে বেজিং জিনজিয়াং সীমান্তবর্তী মধ্য এশিয়ার দেশগুলির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উত্থানকে কাজে লাগিয়েছে। বেজিং ২০২০ সালের পরে ভারতের সঙ্গেও একই চেষ্টা করেছিল, যা এলএসি বরাবর উত্তেজনা বাড়িয়েছিল এবং সংঘর্ষও বৃদ্ধি পেয়েছিল। অশান্ত জিনজিয়াংয়ের অন্য প্রতিবেশী দেশগুলির থেকে ভিন্ন পথে হেঁটে নয়াদিল্লি কাশ্মীর ও লাদাখে তার অবকাঠামোগত উদ্যোগগুলিকে আরও জোরদার করেছে। ভারত ১২.৭৭ কিলোমিটার টি৪৯ রেল সুড়ঙ্গের পাশাপাশি চিত্তাকর্ষক চেনাব সেতু তৈরি করেছে, যা বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা তারের সেতু হিসাবে স্বীকৃত। উপরন্তু, ১৩.৫ কিমি দীর্ঘ জোজিলা সুড়ঙ্গের চলমান নির্মাণ ভারতের ব্যতিক্রমী প্রকৌশলী কৃতিত্ব এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় কৌশলগত অগ্রগতি প্রদর্শন করে। ২০১৯ সাল থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত ভাবে এই ভূ-অর্থনৈতিক ও ভূ-কৌশলগত প্রকল্পগুলির তত্ত্বাবধান করেছেন। ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ ভাবে শ্রীনগর-লেহ মহাসড়কের জেড-মোহর সুড়ঙ্গটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। জোজিলা সুড়ঙ্গের কাজ ২০২৬ সালের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা পূর্ব লাদাখ ও এলএসি বরাবর নয়াদিল্লির কৌশলগত প্রভাবকে আরও বৃদ্ধি করবে। ভারত লাদাখে এলএসি বরাবর তার রাস্তা ও সেতুর পরিকাঠামোও প্রসারিত করেছে। ২০২১ সালে ৮৭টি সেতুর কাজ সম্পন্ন হয়েছিল এবং ২০২২ সালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ২১৮০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পগুলির উদ্বোধন করেছিলেন, যার মধ্যে ১৮টি সম্পূর্ণ রূপে লাদাখেই হয়েছিল। কাশ্মীরের সঙ্গে সফল রেল সংযোগের পরে নয়াদিল্লির উচিত পূর্ব লাদাখে এলএসি বরাবর দ্রুত বাহিনী ও সরঞ্জাম মোতায়েন করার জন্য ৪৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ বিলাসপুর-মানালি-লেহ রেলপথকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
১৩.৫ কিমি দীর্ঘ জোজিলা সুড়ঙ্গের চলমান নির্মাণ ভারতের ব্যতিক্রমী প্রকৌশলী কৃতিত্ব এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় কৌশলগত অগ্রগতি প্রদর্শন করে।
এলএসি বরাবর বেজিংয়ের গতি ও কৌশলগত সুবিধা মোকাবিলা করার জন্য ভারতের একটি বহুমুখী কৌশল প্রয়োজন, যাতে পরিকাঠামো উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা যায়, প্রতিরক্ষা ক্ষমতা উন্নত করা যায় এবং মিত্র দেশগুলির সঙ্গে চিনের প্রতারণামূলক কৌশল মোকাবিলা করার জন্য সহযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়।
আয়জাজ ওয়ানি অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.