এটি ‘চায়না ক্রনিকলস’ সিরিজের ১৬১তম প্রবন্ধ।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি চিনা নজরদারি বেলুনকে গুলি করে নামিয়েছিল মার্কিন বিমানবাহিনী (ইউএসএএফ)। যদিও মার্কিন প্রতিনিধিরা বলেছিলেন যে চিনা সরকারের কাছে কোনও তথ্য পাচার হয়ে যায়নি, ঘটনাটি চিনা সরকারের ভূ-স্থানিক ও নজরদারি ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
চিনের ভূ-স্থানিক কৌশলগুলি জাতীয় নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা ও শিল্প প্রবিধানসহ বিস্তৃত ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত করে। এই বহুমুখী পদ্ধতির পরিকল্পনা করা হয়েছে অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা উভয় স্বার্থের জন্য। সাম্প্রতিক বেলুনের ঘটনায় চিন দাবি করেছিল যে আবহাওয়ার তথ্য সংগ্রহের জন্য সেটি ওড়ানো হয়েছিল। কিন্তু তা সন্দেহ জাগিয়েছিল এই কারণে যে এখনও গ্রে-জোন যুদ্ধে চিনের সংগ্রহ সম্প্রসারিত হচ্ছে, যার মধ্যে আছে গোয়েন্দা বেলুন, চালকবিহীন ব্যবহারের মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য, নজরদারি ও প্রাথমিক নিরীক্ষণ (আইএসআর)। এগুলির জন্য পিপলস লিবারেশন আর্মির রিকনাইসেন্স স্ট্রাইক কমপ্লেক্স (আরএসসি)-এর অংশ হিসেবে মানববিহীন উড়ন্ত যান (ইউএভি) ও অন্যান্য অ্যারোস্ট্যাট প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
চিনা ভূ-স্থানিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার বৈশ্বিক সম্ভাবনা
চিনের বেইদাউ নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম (বিডিএস)-এর উন্নয়ন তার প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রমাণ। প্রাথমিকভাবে ১৯৯৬ সালের তাইওয়ান প্রণালী ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের প্রেক্ষিতে এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। বিডিএস চিনা সামরিক বাহিনীকে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন প্রদান করে। এটি মার্কিন-নিয়ন্ত্রিত জিওগ্রাফিক পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস)-এর উপর নির্ভরশীল না হয়ে সুনির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র নির্দেশিকা, শক্তিশালী যোগাযোগ এবং উন্নত সাইবার ও ড্রোন যুদ্ধের সক্ষমতা প্রদান করে। বেইদাউ উচ্চতর লক্ষ্যভেদ ক্ষমতাসম্পন্ন, বিশেষ করে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে; এবং জিপিএস-এর ৩০ সেন্টিমিটারের তুলনায় এর ভূস্থানিক যথাযথতা ১০ সেন্টিমিটারের নিচে। জিপিএস, রাশিয়ার গ্লোবালনায়া লেভিগাতসিওন্যা স্পুতনিরোভায়া সিস্তেমা (গ্লোন্যাস), ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্যালিলিও-র সঙ্গে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ, এবং দ্বন্দ্বের সময় জিপিএস সংকেতে কারসাজি বা হস্তক্ষেপের বিষয়ে উদ্বিগ্ন সেনাদের একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প প্রদান করে।
চিনের বিদ্যমান ভূ-স্থানিক কৌশলগুলিকে বেইদাউ-এর মতো ভূ-স্থানিক ব্যবস্থার বিকাশের মাধ্যমে শক্তিশালী করা হয়, যা স্পেস সিল্ক রোডের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ (বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের মধ্য দিয়ে যাওয়া সমস্ত দেশের উপর বেইদাউ সিস্টেমের উপর নির্ভরতা তৈরি করার জন্য চিনের চাপ); সেইসঙ্গেই এটি বিশ্বব্যাপী চিনের সার্বভৌমত্ব প্রসারিত করে এবং প্রতিবেশী দেশগুলির চিনের উপর নির্ভরতা তৈরি করে। এ রকম একটি দেশ হল পাকিস্তান, যেটি চিনের সঙ্গে সহযোগিতার অংশ হিসাবে বেইদাউকে তার সামরিক ও অসামরিক ব্যবস্থায় একীভূত করেছে, এবং এইভাবে জিপিএসের উপর নির্ভরতা হ্রাস করেছে। সৌদি আরব ও ইরান-সহ অন্য বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ সদস্যদের সঙ্গেও চিন অনুরূপ চুক্তি করেছে। ২০১৯ সালে সৌদি আরব ও চিনের মধ্যে একটি সমঝোতাপত্র (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার লক্ষ্য ছিল সামরিক প্রয়োগগুলিতে বেইদাউ ব্যবহারে সহযোগিতা করা। ২০২১ সালে ইরান ও চিন কৌশলগত অংশীদারিত্বের জন্য একটি এমওইউ স্বাক্ষর করে, এবং এর সম্পর্কে অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলি পরে অভিযোগ করে যে এতে ইরানকে বেইদাউ-এর সামরিক-গ্রেড সংকেত ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
চিনের বিদ্যমান ভূ-স্থানিক কৌশলগুলিকে বেইদাউ-এর মতো ভূ-স্থানিক ব্যবস্থার বিকাশের মাধ্যমে শক্তিশালী করা হয়, যা স্পেস সিল্ক রোডের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ (বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের মধ্য দিয়ে যাওয়া সমস্ত দেশের উপর বেইদাউ সিস্টেমের উপর নির্ভরতা তৈরি করার জন্য চিনের চাপ); সেইসঙ্গেই এটি বিশ্বব্যাপী চিনের সার্বভৌমত্ব বৃদ্ধি করে এবং প্রতিবেশী দেশগুলির চিনের উপর নির্ভরতা তৈরি করে।
চিনের গ্লোবাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম (জিএনএসএস) নিকটবর্তী মহাকাশে একমাত্র উন্নয়ন নয়। সামরিক উদ্দেশ্যে চিনের ভূ-স্থানিক উপগ্রহের ব্যবহার, এবং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে সন্দেহের কারণে, উলফ সংশোধনী আনা হয়েছিল। তবে উলফ সংশোধনী চিন সরকারকে মহাকাশ অনুসন্ধান থেকে নিরুৎসাহিত করতে, বা তার সামরিক প্রয়োগ এবং আইএসআর-এ মহাকাশ তথ্য ব্যবহার করার ক্ষেত্রে, কোনও প্রভাব ফেলেনি। এইভাবে, চিন একটি চিনা সার্বভৌম মহাকাশ স্টেশন তিয়ানগং (তিয়ানগং ১ প্রথম ২০১১ সালে চালু হয়) তৈরি করেছে।
সামরিক প্রয়োগ
যদিও বেইদাউ ও তিয়ানগং সিস্টেমগুলি চিনের সঙ্গে সারিবদ্ধ দেশগুলির জন্য উপযোগী, তাদের মূল উদ্দেশ্য হল পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-কে সহায়তা করা। পিএলএ নেভিগেশন, গোয়েন্দা তথ্য, নজরদারি ও প্রাথমিক নিরীক্ষণ (আইএসআর), টার্গেটিং ও কমান্ড এবং নিয়ন্ত্রণের জন্য ভূ-স্থানিক প্রযুক্তির উপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে। স্যাটেলাইট ইমেজ, রিমোট সেন্সিং, জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম (জিআইএস) ও জিপিএস সামরিক অভিযানে একীভূত করা চিনের পরিস্থিতিগত সচেতনতা এবং সামগ্রিক সামরিক সক্ষমতা বাড়ায়।
পিপলস লিবারেশন আর্মি স্ট্র্যাটেজিক সাপোর্ট ফোর্স (পিএলএএসএসএফ) গত দশকে তার আইএসআর উন্নত করেছে, এবং বেইদাউ সিস্টেম তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে উন্নত কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট যা প্রচুর পরিমাণে ডেটা প্রেরণ করতে সক্ষম, স্পেস সিস্টেম যা সুনির্দিষ্ট পিএনটি পরিষেবা প্রদান করে, এবং নতুন আবহাওয়া ও মহাসাগরীয় উপগ্রহ।
পিপলস লিবারেশন আর্মি স্ট্র্যাটেজিক সাপোর্ট ফোর্স (পিএলএএসএসএফ) গত দশকে তার আইএসআর উন্নত করেছে, এবং বেইদাউ সিস্টেম তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেছে।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দূরপাল্লার নির্ভুল হামলার জন্য পিএলএ আংশিকভাবে হাই-রেজোলিউশন, দ্বৈত-ব্যবহারের মহাকাশ-ভিত্তিক সিন্থেটিক অ্যাপারচার রাডার (এসএআর), ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল (ইও) সেন্সর, এবং নজরদারি ও টার্গেটিং-এর জন্য সম্ভবত ইলেকট্রনিক বুদ্ধিমত্তা উপগ্রহের উপর নির্ভর করবে।
তা ছাড়া, পিএলএএসএসএফ এই মহাকাশভিত্তিক সিস্টেমগুলি থেকে প্রাপ্ত ডেটা প্রয়োগের বিষয়টিকে কৌশলগত তত্ত্বাবধানের অন্তর্ভুক্ত করেছে , এবং এই তথ্যগুলিকে অভিযানগত পরিকল্পনা ও সম্পাদনে একীভূত করেছে। কোর স্তরের নেতৃত্ব বা কোরের ঠিক নীচের স্তরের (কোর ডেপুটি লিডার) নেতৃত্ব বিভিন্ন মহাকাশ-সম্পর্কিত সিস্টেমের স্থলভিত্তিক উপাদানগুলির তত্ত্বাবধান এবং পরিচালনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। এর মধ্যে রয়েছে বেইদাউ এবং অন্য স্যাটেলাইট ও নজরদারি নেটওয়ার্কগুলির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, এবং শান্তিকালীন ও যুদ্ধকালীন অপারেশনগুলিতে তাদের ব্যবহারের সমন্বয় করা।
পিএলএ অফিসারদের "বেইবু ইউনিটি ২০২৩"-এর অধীনে রাশিয়ার সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বৈঠকে অংশ নিতেও দেখা গিয়েছে, যা বুঝিয়ে দেয় তারা তাদের আইএসআর ক্ষমতাকে আরও উন্নত করে কৌশলগত সহযোগিতা এবং স্যাটেলাইট ডেটা ও প্রযুক্তির সম্ভাব্য ভাগাভাগির ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে। এটি, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে চিনের ভূ-স্থানিক তথ্য ভাগ করে নেওয়ার সংশয় তৈরি করেছে, এবং তার পাশাপাশি উন্নত প্রযুক্তি সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী জবাবদিহিতা গ্রাহ্য না–করার ইঙ্গিত দিয়েছে।
নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ
যদিও আইএসএস থেকে চিনের অপসারণের ফলে দেশটির কাছে নিজস্ব স্পেস স্টেশনে মহাকাশে প্রবেশ করা ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না, এবং যদিও ভূ-স্থানিক প্রযুক্তির মতো দ্বৈত-ব্যবহারের প্রযুক্তির সামরিক প্রয়োগ বিশ্বব্যাপী ঘটে থাকে, কিন্তু চিনের নজরদারি ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে ভূ-স্থানিক প্রযুক্তির ব্যবহার সমালোচিত হয়েছে। চিন ব্যাপক অভ্যন্তরীণ নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণের জন্য ভূ-স্থানিক প্রযুক্তি, বায়োমেট্রিক ডেটাবেস ও ফোসিয়াল রেকগনিশন ব্যবহার করে। এর উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে ভিন্নমতাবলম্বী, জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠী এবং অশান্তির সম্ভাব্য উৎসগুলি পর্যবেক্ষণ করা।
উপরন্তু, বাইদু পথদৃশ্য এবং মানচিত্র সুবিধা উইঘুর ডিটেনশন ক্যাম্প বলে অভিযুক্ত জায়গার মানচিত্র ও রাস্তার দৃশ্য উভয়ই সংরক্ষিত করে। তিব্বতে চিনের অনুরূপ নজরদারির কথা প্রকাশ পেয়েছে।
উপরন্তু, বাইদু পথদৃশ্য এবং মানচিত্র সুবিধা উইঘুর ডিটেনশন ক্যাম্প বলে অভিযুক্ত জায়গার মানচিত্র ও রাস্তার দৃশ্য উভয়ই সংরক্ষিত করে। তিব্বতে চিনের অনুরূপ নজরদারির কথা প্রকাশ পেয়েছে।
ড্রোন, এআই, এমনকি বায়োমেট্রিক নজরদারির মতো অন্যান্য প্রযুক্তির সঙ্গে ভূ-স্থানীয় বুদ্ধিমত্তা যুক্ত হলে নজরদারি অনৈতিক রূপ নিতে পারে। নিয়ার স্পেস ফ্লাইট ভেহিকেল (এনএসএফভি)-এ চিনের বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ তার সামরিক কৌশলের জন্য, যার মধ্যে রয়েছে মহাকাশ-বাহিত ও বায়ুবাহিত প্ল্যাটফর্ম, এবং অব্যাহত সক্ষমতা ও শক্তিশালীকরণ নিশ্চিত করা, এমনকি মহাকাশ-ভিত্তিক সম্পদের সঙ্গে আপস করেও। এটি, চিন-ভারত সীমান্তের কাছাকাছি হাই-অলটিচিউড হেলিপোর্ট তৈরির করায় ভারতীয় সীমান্ত বাহিনীর জন্য উদ্বেগের বিষয় হল যে হেলিপোর্টগুলিকে কৌশলগত অবস্থান হিসাবে ব্যবহার করা হতে পারে এবং সর্বাধিক নজরদারি ও আক্রমণের জন্য ইউএভি ব্যবহার করা হতে পারে।
বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য প্রভাব
চিনের ভূখণ্ডগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও সামরিক অগ্রগতির সঙ্গে ভূ-স্থানিক প্রযুক্তির দ্বৈত-ব্যবহারের প্রকৃতি, জিএনএসএস-এর অধিকারী দেশগুলির সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা, সামরিক-গ্রেড ভূ-স্থানিক প্রযুক্তি ও তথ্যের মাধ্যমে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির সুযোগ, গ্রে জোন যুদ্ধ ও ঘরোয়া নজরদারিতে এই ধরনের প্রযুক্তির শেয়ারিং এবং অনৈতিক ব্যবহার অন্যান্য দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। গুপ্তচর বেলুনের ঘটনাটি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের ক্রমবর্ধমান প্রকৃতি এবং আধুনিক যুদ্ধে অদূরবর্তী-মহাকাশ প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের উপর জোর দেয়।
চিন-ভারত সীমান্তে হেলিপোর্টে চিনের বিনিয়োগ এবং ভারতের প্রতিবেশীদের সঙ্গে সামরিক-গ্রেডের ভূ-স্থানিক তথ্য ব্যবহারে সহযোগিতার প্রেক্ষিতে ভারত চিনকে মহাকাশ প্রতিযোগিতায় এবং তার সীমান্ত নিরাপত্তায় একটি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে দেখে চলেছে।
চিনের ভূ-স্থানিক সক্ষমতা ক্রমাগত বিকশিত হওয়ার সময়ে বিশ্ব সম্প্রদায়কে অবশ্যই এই পরিবর্তনশীল ও কৌশলগত ভূচিত্র দ্বারা সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগগুলির মধ্যে দিয়ে এগোতে হবে।
শ্রবিষ্ঠ অজয়কুমার অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের অ্যাসোসিয়েট ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.