বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ শহুরে সমষ্টি এলাকায় সমন্বিত বহুস্তরীয় পরিবহণ ব্যবস্থার নীতি দক্ষ, সহজে উপলব্ধ এবং পরিবেশগত ভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ শহুরে গতিশীলতা বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বহুস্তরীয় সমন্বিতকরণ অর্জনে অবশ্য ভারতীয় নগর পরিবহণ ক্ষেত্রে তীব্র অসুবিধা দেখা যায়। ভারত জুড়ে ২০টি শহরে মেট্রো ব্যবস্থা-সহ বৃহৎ পরিবহণ প্রকল্প নির্মাণের লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা চালানো হলেও, দুর্বল আন্তঃস্তরীয় স্থানান্তর ক্রমশ সমস্যা বৃদ্ধিই করেছে এবং সেগুলি হল: যাত্রীদের জন্য অসুবিধাজনক স্থানান্তর, উচ্চ স্তরের ট্র্যাফিক বা যানজট, নিম্ন স্তরের সন্তুষ্টি ও রাইডারশিপ (অর্থাৎ বাসের মতো যানবাহনে একই সঙ্গে অনেক যাত্রীর যাতায়াতের ব্যবস্থা)। শেষ পর্যায়ের সংযোগের দুর্বল বাস্তবায়ন, অসংহত টিকিট ব্যবস্থা, অদক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো ও অবকাঠামোর অপ্রতুলতার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। এই সীমাবদ্ধতাগুলি ভারতের দ্রুত নগরায়ণ হতে থাকা জনসংখ্যার পরিবহণের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে এ হেন ব্যবস্থাগুলির সক্ষমতাকে অকার্যকর করে তোলে।
এই সফল ফ্রেমওয়ার্কগুলির মূল বৈশিষ্ট্যগুলি হল কার্যকর ভাবে ইন্টিগ্রেটেড মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্ক বা সমন্বিত বহুস্তরীয় পরিবহণ শৃঙ্খল, যা শহুরে যাত্রী ও শহরগুলির গতিশীল চাহিদাগুলির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য সাযুজ্যপূর্ণ সময়সূচি, আন্তঃপরিচালনযোগ্য ব্যবস্থা ও পরিকাঠামোকে অন্তর্ভুক্ত করে।
বিশ্বব্যাপী অনেক শহর ভৌত ও কার্যকরী সমন্বিতকরণ সফল উদাহরণ দর্শাতে সক্ষম হয়েছে। ইউরোপের লন্ডন, প্যারিস ও আমস্টারডামের মতো শহরগুলি; উত্তর আমেরিকার টরন্টো; দক্ষিণ আমেরিকার বোগোতা; এবং এশিয়ার সিঙ্গাপুর, টোকিয়ো ও হংকং-এর দৈনন্দিন অনুশীলনে বিভিন্ন পরিবহণ পদ্ধতির ব্যবহার সংযুক্ত করার প্রয়াস দেখা যায়। এই শহরগুলি কৌশলগত ভাবে রেল, মেট্রো ও বাসের মতো বিভিন্ন পরিবহণ ব্যবস্থার সমন্বয় ঘটায় এবং একই সঙ্গে শেষ পর্যায়ের সংযোগ উন্নত করে যাত্রীর অভিজ্ঞতাকে কার্যকর ভাবে উন্নত করেছে। এই সমন্বিত পদ্ধতির ফলে ভ্রমণের সময় কমে গিয়েছে, যানবাহন অনেক বেশি উপলব্ধ হয়েছে এবং বিরামহীন আন্তঃস্তরীয় স্থানান্তর লক্ষ করা গিয়েছে। এই সফল ফ্রেমওয়ার্কগুলির মূল বৈশিষ্ট্যগুলি হল কার্যকর ভাবে ইন্টিগ্রেটেড মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্ক বা সমন্বিত বহুস্তরীয় পরিবহণ শৃঙ্খল, যা শহুরে যাত্রী ও শহরগুলির গতিশীল চাহিদাগুলির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য সাযুজ্যপূর্ণ সময়সূচি, আন্তঃপরিচালনযোগ্য ব্যবস্থা ও পরিকাঠামোকে অন্তর্ভুক্ত করে।
কার্যকরী সমন্বিতকরণের উপকরণ
কার্যকর সমন্বিত পরিবহণ ব্যবস্থা তৈরি করতে নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলি অপরিহার্য:
- ইন্টারমোডাল সিঙ্ক্রোনাইজেশন বা সাযুজ্যপূর্ণ আন্তঃব্যবস্থা: জনপরিবহণ ব্যবস্থার আওতাধীন আন্তঃস্তরীয় সংযোগের লক্ষ্য হল বিভিন্ন ধরনের পরিবহণের মধ্যে বিরামহীন চলাচলের সুবিধার মাধ্যমে যাত্রী স্থানান্তর সংক্রান্ত অসুবিধার পরিমাণ কমানো। এমনটা অর্জনের জন্য একটি বিস্তৃত পদ্ধতির প্রয়োজন, যা সমন্বিত পরিকল্পনা কাঠামো, গুণমানসম্মত প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য গ্রহণ ও শক্তিশালী আন্তঃ-দক্ষ সমন্বয় প্রক্রিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে। ‘শৃঙ্খল নিয়ে গঠিত শৃঙ্খলের’ ধারণাটি আন্তঃসংযুক্ত জনপরিবহণ ব্যবস্থাকে সুদক্ষ করে তোলার জন্য একটি পরিচালক নীতি হিসাবে কাজ করে। এই ধরনের ব্যবস্থায় স্বতন্ত্র শৃঙ্খলগুলি সুসংহত ভাবে কাজ করে, দক্ষ যাত্রী স্থানান্তর সক্ষম করে এবং স্থানান্তরের সময় কমিয়ে দেয়। দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণগুলির মধ্যে রয়েছে টোকিয়োর শিনজুকু স্টেশন, যেখানে একাধিক রেল ও পাতালরেল অপারেটরদের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন আন্তঃসংযোগের উদাহরণকেই দর্শায় এবং বার্লিনের হাউটবাহানহফ-এর মতো এলাকা, যে শহরটি সমন্বিত আঞ্চলিক, আন্তঃনগর, শহরতলি ও শহুরে রেল পরিষেবাগুলির জন্য একটি মডেল হিসাবে কাজ করে এবং সংযোগ এবং স্থানান্তর দক্ষতাকে বৃদ্ধি করে।
- ইন্টিগ্রেটেড শিডিউলিং বা সমন্বিত সময়সূচি: দক্ষ কার্যকরী সমন্বিতকরণ অর্জনের জন্য বিভিন্ন পরিবহণ পদ্ধতি জুড়ে সময়সূচিরও সমন্বয় প্রয়োজন। এই সাযুজ্যপূর্ণ সময়সূচি যাত্রীদের অপেক্ষার সময় কমিয়ে দেয় এবং বিরামহীন স্থানান্তরকে সহজতর করে। বিশেষ করে উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন জনপরিবহণ ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বিত সময়সূচি পদ্ধতিগুলি সামগ্রিক ভ্রমণের সময় কমাতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। উদাহরণস্বরূপ, সিঙ্গাপুরের বহুস্তরীয় পরিবহণ ব্যবস্থা কার্যকর ভাবে শহরটির মাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) এবং বাস পরিষেবাগুলিকে সুসংহত ভাবে সাযুজ্যপূর্ণ সময়সূচি ও কৌশলগত ভাবে আন্তঃসংযুক্ত পথ শৃঙ্খলগুলির মাধ্যমে সমন্বিত করে তোলে। ইজি-লিঙ্ক কন্ট্যাক্টলেস স্মার্ট কার্ডের বাস্তবায়নও বিভিন্ন পরিবহণ মাধ্যমের ক্ষেত্রে নির্বিঘ্ন ও দক্ষ স্থানান্তর সক্ষম করে যাত্রীদের সুবিধা আরও বৃদ্ধি করে।
- রুট ইন্টিগ্রেশন বা পথের অন্তর্ভুক্তিকরণ: বহুস্তরীয় পরিবহণ ব্যবস্থা বিভিন্ন স্তর জুড়ে পথ ও পরিষেবাগুলির বিরামহীন সমন্বিতকরণ দ্বারা চিহ্নিত, সেগুলি উন্নত দক্ষতা প্রদর্শন করে ও বৃহত্তর মডেল পরিপূরকতাকে উৎসাহিত করে। একটি শ্রেণিবদ্ধ শৃঙ্খল কাঠামো - যা সাধারণত ‘ট্রাঙ্ক অ্যান্ড ফিডার’ পদ্ধতি নামেও পরিচিত - রাইডারশিপকে উদ্দীপিত করতে ও ব্যক্তিগত মোটর গাড়ির উপর নির্ভরতা কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। বোগোতায় ট্রান্সমিলেনিও বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) ব্যবস্থা এই ধারণার উদাহরণ প্রদান করে, যেখানে প্রধান করিডোর বরাবর যাতায়াতের সড়ক করে উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রাঙ্ক লাইন স্থাপন একটি শ্রেণিবদ্ধ শৃঙ্খলের বৈশিষ্ট্য। ফিডার লাইনের একটি শৃঙ্খল কার্যকর ভাবে আবাসিক এলাকাগুলিকে এই ট্রাঙ্ক রুটের সঙ্গে সংযুক্ত করে, যার ফলে যাত্রীদের জন্য প্রথম ও শেষ পর্যায়ের সর্বাত্মক সংযোগ প্রদান করতে সক্ষম হয়।
- রিয়েল-টাইম মনিটরিং সিস্টেম: বিভিন্ন পরিবহণ মোড জুড়ে রিয়েল-টাইম তথ্যের প্রচার যাত্রীদের নিজেদের যাত্রা বেছে নিতে সাহায্য করে। এ হেন তথ্য গাড়ির অবস্থান, বিলম্ব ও কার্যকরী কর্মক্ষমতা সূচকের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যকেও অন্তর্ভুক্ত করে। এ ছাড়া স্টেশনগুলিতে যাত্রী ঘনত্ব সংক্রান্ত সেন্সর স্থাপনের ফলে ট্রেনের ফ্রিকোয়েন্সি অপ্টিমাইজেশন বা কতক্ষণ অন্তর অন্তর ট্রেন আসবে, তা জানতে সুবিধা হয়। এর ফলে কার্যকরী দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। লন্ডনের জন্য পরিবহণ সংক্রান্ত উন্নত রিয়েল-টাইম ডেটা ইন্টিগ্রেশন এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। এই ব্যবস্থাটির মাধ্যমে বাস, আন্ডারগ্রাউন্ড, ওভারগ্রাউন্ড, ডকল্যান্ড লাইট রেলওয়ে এবং ট্রাম-সহ একাধিক পদ্ধতি জুড়ে কার্যকলাপ নির্বিঘ্নে সমন্বিত হয়, যার ফলে শহুরে পরিবহণ শৃঙ্খল আরও দক্ষ ও সমন্বিত হয়।
কার্যকরী সমন্বিতকরণের প্রেক্ষিতে ভারতীয় শহরগুলির অবস্থা
মেট্রো পরিষেবা, সিটি বাস, শহরতলির রেলপথ এবং অটো-রিকশা-সহ ভারতীয় শহরগুলিতে গণপরিবহণ ব্যবস্থাগুলি মূলত বিচ্ছিন্ন ভাবে কাজ করে, যার ফলে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়, এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় স্থানান্তর অদক্ষ হয় এবং যাত্রীদের জন্য নানা সমস্যার উদ্রেক হয়। উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যবস্থার সঙ্গে নিম্ন-ক্ষমতাসম্পন্ন সময়সূচিগুলিকে সাযুজ্যপূর্ণ করে তোলার তেমন কোনও প্রচেষ্টাই না করার দরুন পরিবহণ ব্যবস্থাগুলির মধ্যে কার্যকরী সমন্বিতকরণ ন্যূনতম থেকেছে।
৩৭ শতাংশ মানুষের মতে, অতিরিক্ত ভিড় যাত্রীদের জনপরিবহণ ব্যবস্থা ব্যবহার করতে বাধা দেয় এবং ২৮ শতাংশ মানুষ আবার বিলম্ব ও অনিয়মিত সময়সূচিকে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেছেন।
পেটেন্ট পাবলিক ট্রানজিট অ্যাপ্লিকেশন টামক দ্বারা পরিচালিত একটি সমীক্ষা ভারতের ২১টি শহর জুড়ে ৫০,০০০-এরও বেশি দৈনিক যাত্রীর নিরিখে ভারতের জনপরিবহণ সংক্রান্ত অবকাঠামোর অপ্রতুলতাকেই তুলে ধরেছে। সমীক্ষার ফলাফল দর্শিয়েছে যে, উত্তরদাতাদের ৮৫ শতাংশ জনপরিবহণ ব্যবস্থার
উল্লেখযোগ্য সমস্যা নিয়ে জর্জরিত। ৩৭ শতাংশ মানুষের মতে, অতিরিক্ত ভিড় যাত্রীদের জনপরিবহণ ব্যবস্থা ব্যবহার করতে বাধা দেয় এবং ২৮ শতাংশ মানুষ আবার বিলম্ব ও অনিয়মিত সময়সূচিকে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেছেন।
এই চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও কিছু শহর কার্যকরী সমন্বিতকরণ অর্জনের জন্য প্রচেষ্টা শুরু করেছে। কোচিতে কোচি ওয়ান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম একটি মাল্টিমোডাল ইন্টিগ্রেশন প্রকল্প হিসাবে কাজ করে একটি গতিশীল বাস্তুতন্ত্র তৈরি করে, যা বিভিন্ন অংশীদারদের মধ্যে সহযোগিতাকে উৎসাহিত করে। মঞ্চটি ব্যবহারকারী, জনপরিবহণ সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষ এবং পরিষেবা প্রদানকারীদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। এই মঞ্চে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছে কোচি মেট্রো, বেসরকারি ও রাষ্ট্র চালিত বাস, অটো-রিকশা ইউনিয়ন, জেটি ও পাবলিক বাইক-শেয়ারিং পরিষেবা। এই সমন্বিত পদ্ধতি কোচিতে বহুস্তরীয় পরিবহণের দক্ষতা ও সুবিধা বৃদ্ধি করে।
আর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হল ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিয়ন বা জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের (এনসিআর) আঞ্চলিক র্যাপিড ট্রানজিট সিস্টেম (আরআরটিএস)। গাজিয়াবাদ সিটি ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসেস লিমিটেড সাতটি রুটে বৈদ্যুতিক বাস চালায়, দিল্লি-মিরাট আরআরটিএস করিডোর বরাবর চারটি স্টেশনে ফিডার পরিষেবা প্রদান করে। সমন্বিতকরণকে চালিত করার জন্য এনসিআরটিসি (ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিওন ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন) নির্দিষ্ট জায়গায় পিক-আপ ও ড্রপ-অফ জোন (যেখান থেকে যাত্রীকে গাড়িতে তোলা ও গাড়ি থেকে নামানো হয়) তৈরি করেছে। এর পাশাপাশি আরআরটিএস কানেক্ট মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনে পথ ও সময়সূচি সংক্রান্ত তথ্যও অন্তর্ভুক্ত করেছে। অ্যাপটিতে যাত্রীদের সুবিধার জন্য ফিডার বাসের লাইভ জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) ট্র্যাকিং অন্তর্ভুক্তও করা হয়েছে।
এ ছাড়াও, উত্তরপ্রদেশ স্টেট ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (ইউপিএসআরটিসি) সাহিবাদ থেকে দুহাই ডিপো পর্যন্ত পাঁচটি আরআরটিএস স্টেশনের সঙ্গে সংযোগকারী ১৭টি ফিডার বাস রুট অনুমোদন করেছে। এনসিআরটিসি ই-রিক্সা, বাইক ট্যাক্সি এবং ক্যাবের মাধ্যমে শেষ পর্যায়ের সংযোগ প্রদানের জন্য ইটিও, র্যাপিডো এবং স্পিড ট্রিপ প্রাইভেট লিমিটেড-সহ বেসরকারি অংশীদারদের সঙ্গেও সহযোগিতা করেছে। এই উদ্যোগগুলি ভারতের জনপরিবহণ ব্যবস্থায় কার্যকরী সমন্বিতকরণ অর্জনের লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপের প্রতিনিধিত্ব করে। তবে বৃহত্তর ব্যবস্থাগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে গেলে আরও অনেক কাজ করতে হবে।
বহুস্তরীয় পরিবহণ ব্যবস্থায় কার্যকরী সমন্বিতকরণ অর্জন করতে পরিবহণ পরিষেবা প্রদানকারীদের অবশ্যই সম্পদ বরাদ্দ ব্যবহার করতে এবং পরিষেবাগুলির সমন্বয় করতে কার্যকর ব্যবস্থাপনা কৌশল গ্রহণ করতে হবে।
আগামিদিনের পথ
নির্বিঘ্ন ও দক্ষ শহুরে পরিবহণ ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজন সমন্বিত অবকাঠামো পরিকল্পনা, ডিজিটাল সমন্বিতকরণ, নির্ভরযোগ্য সময়সূচি এবং ব্যবহারকারী-কেন্দ্রিক পরিষেবা। যাই হোক, শহুরে ভারত উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন, যার মধ্যে রয়েছে খণ্ডিত অবকাঠামো, সীমিত প্রযুক্তিগত সমন্বিতকরণ ও অসঙ্গত সময়সূচি, যা সম্মিলিত ভাবে যাত্রীদের অভিজ্ঞতাকে বাধা দেয়।
বহুস্তরীয় পরিবহণ ব্যবস্থায় কার্যকরী সমন্বিতকরণ অর্জন করতে পরিবহণ পরিষেবা প্রদানকারীদের অবশ্যই সম্পদ বরাদ্দ ব্যবহার করতে এবং পরিষেবাগুলির সমন্বয় করতে কার্যকর ব্যবস্থাপনা কৌশল গ্রহণ করতে হবে। যে যে মূল পন্থা এ ক্ষেত্রে নেওয়া যেতে পারে, তা নিম্নলিখিত:
• রুট র্যাশনালাইজেশন বা পথের যৌক্তিকীকরণ: ব্যবস্থার দক্ষতা উন্নত করতে এবং সম্পদের দ্বৈততা এড়াতে অপ্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলি বাদ দিতে হবে।
• মোড অ্যালাইনমেন্ট বা পদ্ধতিতে সাযুজ্য আনা: উপলব্ধতা ও দক্ষতা বাড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট পরিষেবার প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি পরিবহণ মাধ্যমকেও সাযুজ্যপূর্ণ হতে হবে।
• ফিডার সার্ভিস ডেভেলপমেন্ট বা ফিডার পরিষেবা উন্নয়ন: মেট্রো ব্যবস্থাকে পরিপূরক করে তোলার জন্য ফিডার পরিষেবাগুলি এমন ভাবে পরিকল্পিত হবে ও এমন ভাবে তার সময়সূচি নির্ধারণ করতে হবে, যাতে শেষ পর্যায়ের বিরামহীন সংযোগ সুনিশ্চিত করা যায়।
• কোঅর্ডিনেটেড পাবলিক ইনফরমেশন সিস্টেম বা জনসাধারণের জন্য সমন্বিত তথ্য ব্যবস্থা: রিয়েল-টাইম, সঠিক ও ব্যবহারকারীরা যাতে সহজেই ব্যবহার করতে পারেন, এ হেন ভ্রমণ সংক্রান্ত তথ্য প্রদানের উদ্দেশ্যে সমন্বিত যোগাযোগ মঞ্চের বাস্তবায়ন করতে হবে।
• ডেডিকেটেড ট্রানজিট ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা নির্দিষ্ট লক্ষ্যযুক্ত পরিবহণ অবকাঠামো: নির্ভরযোগ্য ও দক্ষ কার্যকারিতা সুনিশ্চিত করতে সংরক্ষিত বাস লেন এবং পরিবহণ পথ স্থাপন করতে হবে।
এই কৌশলগুলি একটি সমন্বিত, ব্যবহারকারী-কেন্দ্রিক পরিবহণ শৃঙ্খল গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যা ভারতের দ্রুত নগরায়ণ হতে থাকা শহরগুলির অনন্য চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলা করে।
নন্দন এইচ দাওড়া অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের আর্বান স্টাডিজ প্রোগ্রামের ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.