Published on Feb 14, 2025 Updated 0 Hours ago

তথ্যের প্রচার একটি প্রায়শ উপেক্ষিত কিন্তু জৈব নিরাপত্তার মূল উপাদান, যে কারণে এর সরকারি নিয়ন্ত্রণ এবং গণ-‌যোগাযোগ অপরিহার্য

জৈব নিরাপত্তার মধ্যে ফাঁকগুলি পূরণ করা: তথ্যের তাৎপর্য

২০২৩ সালের আগস্টে তাদের একটি বায়োসেফটি ল্যাব নিরাপত্তা লঙ্ঘনের তথ্য অস্ট্রেলিয়া প্রকাশ করে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। এই লঙ্ঘনের সঙ্গে হেন্দ্রা ভাইরাস, লিসাভাইরাস এবং হান্টাভাইরাস চুরি জড়িত ছিল। ২০২৩ সালে এই লঙ্ঘন হওয়া সত্ত্বেও, বিদ্যমান প্রতিবেদনের কারণে, অনেক ব্যক্তি শুধুমাত্র এক বছর পরে ২০২৪ সালে এই তথ্যটি পেয়েছিলেন এবং প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। দায়িত্বজ্ঞানহীন তথ্য প্রচারের কারণে অনেকেই ধরে নিয়েছিল যে বিপদটি সাম্প্রতিক ও জরুরি, এবং ২০১৯ সালে উহান বায়োসেফটি ল্যাব লঙ্ঘনের সমতুল্য।


২০২৪ সালের জুনে আরেকটি গুরুতর ঘটনা ছিল
ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এমআইটি)-‌র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও জৈবপ্রযুক্তির ছেদবিন্দু নিয়ে গবেষণা, যা অস্ত্র তৈরি করা যেতে পারে এমন নতুন জৈবিক এজেন্ট তৈরির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। এই অনুভূত বিপদের প্রতিক্রিয়ায়, ইন্টারন্যাশনাল জিন সিন্থেসিস কনসর্টিয়াম (আইজিএসসি) জানিয়েছে যে, তাদের সিস্টেমগুলি সঠিকভাবে কাজ করছে এবং বিপদের সম্ভাবনাগুলি অতিরঞ্জিত। আইজিএসসি দক্ষভাবে দেখিয়েছে যে কীভাবে এই গবেষণাটি শিল্পের মান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে এবং এইভাবে আরও ভাল গণ-‌সংযোগের প্রয়োজন তুলে ধরে। সক্রিয়ভাবে জনসাধারণের প্রয়োজনীয় ও নীতিসংক্রান্ত তথ্য প্রচার ও গণ-‌যোগাযোগ জৈব নিরাপত্তা কার্যক্রমে একটি মুখ্য ভূমিকা পালন করে, কারণ তা জনসাধারণ ও নীতিনির্ধারকদের নতুন বিপদের বিষয়ে তথ্য প্রদান করে, যা বায়োটেকনোলজি ক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রক পরিবেশ এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে। এই দুটি সাম্প্রতিক ঘটনা ছাড়াও, বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ অতিমারির প্রভাব নিঃসন্দেহে সরকার, স্বাস্থ্য সংস্থা ও জনসাধারণের মধ্যে মুক্ত, দ্রুত ও সরাসরি তথ্য আদান-প্রদানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। জৈবিক হুমকির মুখে (যেমনটি কোভিড-১৯ অতিমারির সময় দেখা গিয়েছে), যা ইচ্ছাকৃত বা দুর্ঘটনাজনিত অন্যান্য বিপদের পাশাপাশি প্রকাশ পেতে পারে, সঠিক তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া গেলে তা আতঙ্ক প্রতিরোধ করতে, যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে, এবং স্বাস্থ্য নির্দেশিকার সঙ্গে গণসম্মতি গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে।



আইজিএসসি দক্ষভাবে দেখিয়েছে যে কীভাবে এই গবেষণাটি শিল্পের মান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে এবং এইভাবে আরও ভাল গণ-‌সংযোগের প্রয়োজন তুলে ধরে।



জৈব নিরাপত্তা ও তথ্য প্রচারে প্রবিধানের ভূমিকা

জৈব নিরাপত্তা প্রবিধানগুলি বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি রোধ না করে জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এগুলি জৈবিক হুমকির সঙ্গে সম্পর্কিত ঝুঁকিগুলি হ্রাস করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এই নিয়মগুলি জাতীয়, আন্তর্জাতিক এবং শিল্পনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রক ক্ষেত্রগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে, প্রতিটির লক্ষ্য জৈবপ্রযুক্তি এবং তথ্য ব্যবস্থাপনার বিশেষ উপাদানগুলির মোকাবিলা করা।

ভারতে জৈবিক হুমকির বিষয়ে গণ-‌সংযোগের জন্য ব্যবস্থা রয়েছে।
ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এনডিএমএ) এই ধরনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য নীতি, পরিকল্পনা ও নির্দেশিকা প্রণয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত। এনডিএমএ-‌র কাছে আছে এসএসিএইচইটি, যা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তথ্যের একমাত্র পোর্টাল (জৈবিক হুমকির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়)।


স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক (এমওএইচএফডব্লিউ) হল কোভিড-১৯ অতিমারির মতো স্বাস্থ্যক্ষেত্রের জরুরি অবস্থার জন্য কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ, এবং ভারতে রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় এই মন্ত্রক নেতৃত্বের অবস্থান নেয়। এমওএইচএফডব্লিউ-এর অধীনে
ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল  (এনসিডিসি) হল এমন একটি সত্তা যেটি রোগের নজরদারি করে, এবং তার পাশাপাশি পরিবেশগত বিপদের সম্ভাবনা পর্যবেক্ষণ, তদারকি ও প্রতিক্রিয়ার সমন্বয় করে। এই কেন্দ্রটি অতিমারি ট্র্যাক করে এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশিকা প্রদান করে।


মন্ত্রকের
অপারেশনাল গাইডলাইনস ফর মেট্রোপলিটন সার্ভাইল্যান্স ইউনিটস আছে, যার লক্ষ্য যে কোনও রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় জনসংখ্যার ঘনত্বের দ্বারা সৃষ্ট চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় শহুরে পরিবেশের উপর নজরদারি বাড়ানো। প্রারম্ভিক সতর্কতা ব্যবস্থা এবং ঝুঁকি মানচিত্রায়ন-‌সহ একটি প্রমিত পদ্ধতি ব্যবহার করে এই ইউনিটগুলির মাধ্যমে রোগগুলি পর্যবেক্ষণ ও ট্র্যাক করা হয়। হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং অন্য স্বাস্থ্য সুবিধাগুলি জাতীয় নজরদারি ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বিত বাস্তব-সময়ের ডেটা প্রদান করে, যেমন ইন্টিগ্রেটেড ডিজিজ সার্ভাইল্যান্স প্রোগ্রাম (আইডিএসপি)। রোগের প্রবণতা ও উপলব্ধ সংস্থানগুলির ব্যবহার চিহ্নিত করা এবং তা নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করতে বিশ্লেষণের জন্য এই পদ্ধতিটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, জিওস্পেশিয়াল ইন্ট্যালিজেন্স সিস্টেম (জিওআইএনটি) এবং এআই ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রযুক্তির সহায়তা নেয়।



তথ্য যখন স্পষ্ট বা কার্যকর হয় না, তখন তা জনসাধারণকে আশ্বস্ত করা বা উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া নির্দেশ করার পরিবর্তে জনসাধারণের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও অবিশ্বাসের প্রবণতা তৈরি করে।

যাই হোক, প্রাথমিক সতর্কতা ও জনসাধারণের উপলব্ধি সংক্রান্ত তথ্যের প্রাপ্যতা এবং শেষ-মাইল সংযোগে এখনও ফাঁক রয়েছে।

যদিও বিদ্যমান কাঠামো, যেমন এসএসিএইচইটি, শেষ-মাইল সংযোগের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণিত হয়েছে, বিলম্বিত এবং অস্পষ্ট আপডেটগুলি কখনও কখনও কেন্দ্রীকরণকে অবিশ্বস্ত করে তোলে। তাছাড়া গ্রামীণ সম্প্রদায়ের জন্য, যাদের স্মার্টফোন, ইন্টারনেট এবং এই জাতীয় অন্যান্য প্রযুক্তিগত সুযোগের অভাব আছে, তাদের জন্য এই ধরনের পোর্টালগুলি ব্যবহার করা কঠিন হয়। এর পরিণতি হল জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যে
অসম প্রবেশাধিকার, যার ফলে জনসম্প্রদায়ের কাছে ভুল তথ্য যাওয়া এবং আতঙ্ক তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই, অনেকে তখন আংশিক বা অস্পষ্টভাবে প্রাপ্ত তথ্যের উপর নির্ভর করেন। তথ্য যখন স্পষ্ট বা কার্যকর হয় না, তখন তা জনসাধারণকে আশ্বস্ত করা বা উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া নির্দেশ করার পরিবর্তে জনসাধারণের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও অবিশ্বাসের প্রবণতা তৈরি করে।


আরেকটি উদ্বেগের বিষয় হল সরকার এবং স্বাস্থ্যসেবা পরিষেবার বিভিন্ন স্তরের মধ্যে সমন্বয়ের ব্যবধান। উদাহরণস্বরূপ, যদিও এনডিএমএ এবং এমওএইচএফডব্লিউ দুর্যোগ এবং স্বাস্থ্য সঙ্কট পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ হিসাবে থেকে গিয়েছে, তবে বাস্তব স্তরে তাদের সমন্বয়ের অভাব, বিশেষ করে
আশা (স্বীকৃত সামাজিক স্বাস্থ্য কর্মী) কর্মী, নার্স ও ধাত্রীদের সঙ্গে, মসৃণ ও দক্ষ প্রসারণকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এই বিষয়টি বিশেষভাবে সমস্যাযুক্ত হয় যখন রোগের প্রাদুর্ভাব আঞ্চলিক সীমানা অতিক্রম করে, বা যখন দেশব্যাপী প্রতিক্রিয়ার প্রয়োজন হয়, কারণ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন বার্তা প্রায়শই জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে।


উপরন্তু, প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থা সাধারণত জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগে বিলম্বের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি উদাহরণ হল কোভিড-১৯ অতিমারি,  যেখানে তথ্যের প্রাপ্যতা ও যোগাযোগের অভাব আতঙ্কের সৃষ্টি করেছিল। ভাইরাস সম্পর্কে গুজব ও
ভুল তথ্য দেশের অনেক অংশে, বিশেষত শহুরে অঞ্চলগুলিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, এবং ভয়কে বাড়িয়ে তোলে। গ্রামীণ এলাকায় যেখানে যোগাযোগের পরিকাঠামো দুর্বল সেখানে নির্ভরযোগ্য তথ্যের প্রবাহ ছিল জটিল। অনেকে চিকিৎসা, সুরক্ষা পদ্ধতি, হাসপাতালে শয্যার প্রাপ্যতা, এবং অক্সিজেন সরবরাহ সম্পর্কে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন, যার ফলে আতঙ্ক দেখা দেয় এবং অনেকে অ-‌যাচাইকৃত চিকিৎসা ও সুরক্ষা পদ্ধতি গ্রহণ করেন।



জৈবপ্রযুক্তি যেমন বিকশিত হতে থাকে, তেমনি জৈব নিরাপত্তা প্রবিধান এবং তথ্য প্রচারের অনুশীলনও ‌জরুরি। ভারতের আইএইচআর গ্রহণ এবং সিডিসি ও হু-এর সঙ্গে সমন্বিত শাসন আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে জৈবপ্রযুক্তি উদ্ভাবন ও শাসনের প্রতি ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি দেখায়।


জৈবপ্রযুক্তির উদ্ভাবন, জৈব সুরক্ষা ও জৈব নিরাপত্তার প্রচারের এই ফাঁকগুলি তিনটি প্রধান উপায়ে সমাধান করা যেতে পারে।

১। আন্তর্জাতিক কাঠামো: বৈশ্বিক পর্যায়ে,
আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য প্রবিধান (আইএইচআর)-‌এর মতো চুক্তিগুলি জৈবিক ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো প্রদান করে। জৈবিক হুমকির বিরুদ্ধে জাতীয় প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে অতিমারি প্রাদুর্ভাবের বিষয়ে আইএইচআর-এর চলতি, দক্ষ, সময়োপযোগী ও উন্মুক্ত তথ্য আদান-প্রদান প্রয়োজন। ভারত ইতিমধ্যেই আইএইচআর-এ স্বাক্ষরকারী; যাই হোক, তথ্য প্রচারের জন্য আইএইচআর দ্বারা সুপারিশকৃত ব্যবস্থা  গ্রহণ করা এবং অন্য আইএইচআর সদস্যদের কাছ থেকে শেখা ভারতের জন্য উপকারী হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, নয়াদিল্লি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ইন্টিগ্রেটেড পাবলিক অ্যালার্ট অ্যান্ড ওয়ার্নিং সিস্টেম (আইপিএডব্লিউএস) থেকে শিখতে পারে, যা সমস্ত বিপদ সংক্রান্ত প্রচার একত্রিত করে, এবং প্রতিটি ব্যক্তির কাছে পৌঁছনোর জন্য পুশ মেসেজ ব্যবহার করে।


২। জাতীয় প্রবিধান ও জৈবপ্রযুক্তি তত্ত্বাবধান: জাতীয়ভাবে, সরকারগুলি নিজেদের দেশে জৈব নিরাপত্তা তত্ত্বাবধানের জন্য লক্ষ্যযুক্ত আইন জারি করে। তারা পরীক্ষাগার জৈব নিরাপত্তা, জৈবপ্রযুক্তি কার্যকলাপ, এবং জনস্বাস্থ্য নজরদারির জন্য দায়ী। উদাহরণস্বরূপ, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতে এনডিএমএ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে; উপরন্তু,
জৈবপ্রযুক্তি বিভাগ বর্তমানে জৈবপ্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং জৈব-‌নিরাপত্তা ল্যাব তত্ত্বাবধান করে। সমান্তরালভাবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, ফেডারেল সিলেক্ট এজেন্ট প্রোগ্রাম বিপজ্জনক এজেন্টদের নিরাপদ মোকাবিলা নিশ্চিত করে;‌ আর সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এর মতো এজেন্সিগুলি জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য প্রচার এবং প্রাদুর্ভাবের প্রতিবেদনের আয়োজন করে। সিডিসি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল সরকারি সংস্থা হওয়া সত্ত্বেও বিশ্বব্যাপী প্রাসঙ্গিক।


৩। দ্বৈত-ব্যবহারের গবেষণা পর্যবেক্ষণ: বিষয়টিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার জন্য যা অত্যাবশ্যক তা হল সরকারগুলি যেন দ্বৈত-ব্যবহারের গবেষণার উপলব্ধিও পর্যবেক্ষণ করে। যখন ক্লাস্টারড রেগুলারলি ইন্টারস্পেসড শর্ট প্যালিনড্রোমিক রিপিটস (সিআরআইএসপিআর, জিন এডিটিং প্রযুক্তির একটি রূপ) ও জিন সংশ্লেষণের মতো প্রযুক্তি বিকশিত হয়েছে, এবং সেইসঙ্গে ঝুঁকি চিহ্নিত করে এমন এমআইটি গবেষণাও রয়েছে, সেই সময় এই ঝুঁকিগুলিকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা অপরিহার্য।
ন্যাশনাল সায়েন্স অ্যাডভাইজরি বোর্ড ফর বায়োসিকিউরিটি (এনএসএবিবি)-‌র মতো নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলি নির্ধারণ করে যে ঝুঁকি এড়াতে কোন গবেষণাটি অবশ্যই কমানো বা পরিবর্তন করা উচিত। নির্বিচারে জৈবপ্রযুক্তি বিভাগের উপর অতিরিক্ত চাপ দেওয়ার পরিবর্তে, ভারতকে অবশ্যই এনএসএবিবি-র সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি কমিটি গঠন করতে হবে, যেটি দ্বৈত-ব্যবহারের গবেষণা ও উন্নয়ন তত্ত্বাবধান করবে। এই ধরনের একটি কমিটি ডিবিটি বা এমওএইচএফডব্লিউ-এর অধীনে গঠিত হতে পারে, এবং এটি নিশ্চিত করতে সাহায্য করতে পারে যে শিল্পের মান যেন বজায় রাখা হয়, ভালভাবে প্রচারিত হয় এবং জনগণের দ্বারা বিশ্বাসযোগ্য হয়, এমনকি দুর্যোগের সময়ের বাইরেও।


৪। নৈতিক বিবেচনা এবং জনসাধারণের বিশ্বাস: নৈতিকতা পর্যালোচনা জৈবসুরক্ষার একটি মৌলিক দিক, বিশেষ করে জৈবপ্রযুক্তিতে। এমআইটি অধ্যয়নের প্রতি তাদের প্রতিক্রিয়াতে আইজিএসসি জোর দিয়ে বলেছে, নৈতিক মানগুলিকে এই বিষয়টি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে পরিচালিত গবেষণাটি শিল্পের বৃদ্ধি ও জনসাধারণের সুবিধা উভয়ই নিশ্চিত করে, এবং সে কথা ঠিকঠাকভাবে জানাতেও হবে। শুধু স্বচ্ছতাই নয়, জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করাও জরুরি। ভুল তথ্য, বা বায়োসিকিউরিটি স্ক্রিনিং ফলাফলে মিথ্যা ইতিবাচকতার রিপোর্টিং বিশ্বাসের ক্ষতি করতে পারে, এবং বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিতে বিলম্ব আনতে পারে। ডিবিটি বা এমওএইচএফডব্লিউ-এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত তথ্য প্রচারের জন্য দায়ী একটি কমিটি মান বজায় রাখার জন্য নিয়মিতভাবে নৈতিক পর্যালোচনাগুলি নিশ্চিত করতে পারে।

জৈবপ্রযুক্তি যেমন বিকশিত হতে থাকে, তেমনি জৈব নিরাপত্তা প্রবিধান এবং তথ্য প্রচারের অনুশীলনও ‌জরুরি। ভারতের আইএইচআর গ্রহণ এবং সিডিসি ও হু-এর সঙ্গে সমন্বিত শাসন আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে জৈবপ্রযুক্তি উদ্ভাবন ও শাসনের প্রতি ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি দেখায়। উদীয়মান বিপদের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে শক্তিশালী জৈব নিরাপত্তা কাঠামো ডিজাইনে বেসরকারি ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে বিষয়টিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এই সিস্টেমগুলির উপর জনসাধারণের আস্থা স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নৈতিক শাসনের উপর নির্ভর করে। জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় জৈবপ্রযুক্তিগত সম্ভাবনা ব্যবহার করার জন্য স্বচ্ছতা ও সঠিক প্রচার একীভূত করা সম্ভব।



শ্রবিষ্ঠ অজয়কুমার অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের নিরাপত্তা, কৌশল ও প্রযুক্তি কেন্দ্রের একজন সহযোগী ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.