Published on Jun 27, 2024 Updated 0 Hours ago
আপুলিয়া থেকে এগিয়ে: গ্লোবাল সাউথের আন্তঃকার্যকারিতার যুগ

এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় কাউন্সিল অফ কাউন্সিল-এ।

 


রাশিয়া-চিসম্পর্ক এবং তা থেকে উদ্ভূত নিরাপত্তা, জ্বালানি এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকির  প্রতি পশ্চিমের সংবেদনশীলতা ছিল জি৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফলাফলগুলিকে আকার দেওয়ার নেপথ্যে প্রধান কারণ।

ইউক্রেনের জন্য ধার্য ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের এক্সট্রা-অর্ডিনারি রেভিনিউ অ্যাক্সিলারেশন লোন রাশিয়ার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হলেও শীর্ষ সম্মেলনের কেন্দ্রে ছিল আফ্রিকা। আফ্রিকাকে অন্তর্ভুক্তকারী জি৭-এ প্রবর্তিত নতুন নীতিগুলি প্রোথিত ছিল ইউরোপের জ্বালানির উত্সগুলিকে বৈচিত্র্যময় করার প্রয়োজনীয়তা, আফ্রিকায় যেখানে চিন তার বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) প্রতিষ্ঠা করেছে সেখানে উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি করা এবং ইউরোপে আফ্রিকা অভিবাসনের নেপথ্যে থাকা কারণগুলির সমাধানের প্রচেষ্টার মধ্যে। আফ্রিকার দেশগুলিতে স্থিতিশীল শিল্প ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিনিয়োগের জন্য দ্য এনার্জি ফর গ্রোথ ইন আফ্রিকা উদ্যোগ চালু করা হয়েছিল এবং এটি চিনের বিপরীতে আফ্রিকাকে এক বিকল্প বিনিয়োগকারী প্রদান করবে। জি৭ ক্রম-আগ্রাসী চিনের মোকাবিলায় আফ্রিকাতে বিনিয়োগের গুরুত্বের প্রতি সংবেদনশীল হয়ে উঠলেও পশ্চিমী দেশগুলির একটি শক্তিশালী বিনিয়োগ কর্মসূচি প্রয়োজন হবে, যার লক্ষ্য হবে বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলিতে বিনিয়োগ করা, যা এখনও পর্যন্ত বিআরআই-এর মূল চালিকাশক্তি হয়ে থেকেছে। রেয়াতি এবং অ-রেয়াতি শর্তে উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য চিন বৃহত্তম অর্থ প্রদানকারী হয়ে ওঠার দরুন জি৭ আন্তর্জাতিক ত্রাণ পরিকাঠামোর পরিসরে চিনের তরফে এক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সাক্ষী হচ্ছে। পশ্চিমী গণতন্ত্রগুলি গণতান্ত্রিক আফ্রিকার উপর অস্থিতিশীল প্রভাব ফেলছে এমন গোষ্ঠী হিসেবে ক্রেমলিন-সমর্থিত ওয়াগনার গ্রুপ এবং রাশিয়া-সমর্থিত অন্যান্য বাহিনীকে চিহ্নিত করেছে।

 

আফ্রিকার দেশগুলিতে স্থিতিশীল শিল্প ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিনিয়োগের জন্য দ্য এনার্জি ফর গ্রোথ ইন আফ্রিকা উদ্যোগ চালু করা হয়েছিল এবং এটি চিনের বিপরীতে আফ্রিকাকে এক বিকল্প বিনিয়োগকারী প্রদান করবে।

 

শীর্ষ সম্মেলনটিতে সেমিকন্ডাক্টরস জি৭ পয়েন্ট অফ কনট্যাক্ট গ্রুপ-এর প্রবর্তন করা হয়। অর্ধপরিবাহী উত্পাদনের কেন্দ্র তাইওয়ানের উপর নিজের আধিপত্য জাহির করার উদ্দেশ্যে চিনের সাম্প্রতিক ঘেরাও অনুশীলনের পরে এই গোষ্ঠীটি আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামরিকীকরণের দরুন চিনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাহীনতা জি এবং ভারতের মধ্যে একটি অভিন্ন সাধারণ উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় এবং শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নিয়েছিলেন। সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা ছিল একটি সাধারণ অগ্রাধিকার এবং জি৭ ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোরকে উন্নীত করার জন্য আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দেখিয়েছে, যেখানে ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

জি৭-এর সাংগঠনিক সাধনী এবং কার্যকরী পরিসরগুলি ১৯৭৫ সাল থেকে বিকশিত হয়ে চলেছে এবং তা আর বিশ্বব্যাপী আর্থিক প্রশাসনকে কেন্দ্র করে পরিবর্তিত হয় না। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইন্দো-প্যাসিফিক ও লোহিত সাগরে নিরাপত্তা, ইরানের আগ্রাসী আচরণ এবং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত জি৭-এর জন্য প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে থেকেছে। তা সত্ত্বেও আগামী পঞ্চাশ বছরের জন্য প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে গোষ্ঠীটির বিবর্তন এই দাবি করে যে, পশ্চিমী গণতন্ত্রগুলি অচলাবস্থা তৈরি না করে এই ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সমীকরণে পথ খুঁজে নিতে শিখেছে।

জি৭-এর জন্য উন্নয়নশীল এবং উদীয়মান দেশগুলিকে, বিশেষত আফ্রিকায়, অর্থায়ন সংক্রান্ত তার নীতি বাস্তবায়ন এমন ভাবে করতে হবে, যা দেশগুলির আন্তঃকার্যকারিতা এবং সংস্থানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা অন্তর্নিহিত ভাবে বিশ্বকে মেরুকরণের দিকে ঠেলে দিলেও জি৭-এর উচিত নয় বাকি বিশ্বকে এই মেরুকরণে জড়িয়ে পড়তে দেওয়া কারণ উন্নয়নমূলক অর্থ আফ্রিকায় প্রবাহিত হতে শুরু করেছে। ভারত উন্নয়নশীল এবং উদীয়মান বিশ্বের প্রধান কণ্ঠস্বর এবং মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে অন্যতম। কারণ ভারত ব্রিকস+ (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার অর্থনৈতিক গোষ্ঠী, যা সম্প্রতি মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে) গোষ্ঠীর অংশ। একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিশ্বে নিজের স্বার্থের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য জি৭-এর উচিত বাকি বিশ্বের সঙ্গে এই ধরনের কৌশলগত আন্তঃব্যবহারযোগ্যতা মোকাবিলা করার উদ্দেশ্যে নিজেকে তুলে ধরা।

 

ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা অন্তর্নিহিত ভাবে বিশ্বকে মেরুকরণের দিকে ঠেলে দিলেও জি৭-এর উচিত নয় বাকি বিশ্বকে এই মেরুকরণে জড়িয়ে পড়তে দেওয়া কারণ উন্নয়নমূলক অর্থ আফ্রিকায় প্রবাহিত হতে শুরু করেছে

 

যাই হোক, জি৭-ও অভ্যন্তরীণ ভাবে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারে, যা অদূর ভবিষ্যতে গোষ্ঠীটির নীতির ধারাবাহিকতাকে দুর্বল করে দিতে পারে। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বারা পরিচালিত একটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাবনা বিশ্ব জুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অচলাবস্থার উপর দেশটির প্রভাব এবং জি৭-এর সদস্যপদ সম্প্রসারণের বিষয়ে কিছু অভ্যন্তরীণ প্রশ্ন প্রাধান্য পেতে পারে। যা-ই হোক না কেন, সমষ্টিগত জি৭-এর দক্ষতা হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কেন্দ্র করে নিজেকে বিবর্তন করা, যা দীর্ঘমেয়াদে বহুপাক্ষিক উচ্চতা এবং বৈধতা বজায় রাখবে।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.