Published on Mar 01, 2025 Updated 0 Hours ago

নতুন ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ইন্দো-প্যাসিফিকের প্রাধান্য বজায় রাখার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে কঠিন-‌শক্তি গতিশীলতার উপর তীক্ষ্ণভাবে দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখে

ইন্দো-প্যাসিফিকের জন্য একটি স্থায়ী প্রতিশ্রুতি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিষেক আমেরিকার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অতুলনীয় প্রত্যাবর্তন চিহ্নিত করে। এটি বিশ্বের ভূ-‌রাজনীতিতে, বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য, একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের ইঙ্গিত দেয়। তাঁর প্রথম মেয়াদে, ট্রাম্প ইন্দো-প্যাসিফিক মহাসাগরে মার্কিন নিযুক্তির নতুন সংজ্ঞা দেন। তিনি যখন তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে যাত্রা শুরু করেছেন, তখন আরও দৃঢ় মার্কিন নিরাপত্তা দৃষ্টিভঙ্গি ও শক্তিশালী জোটের প্রত্যাশা অনেক বেশি। দায়িত্বগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রীদের উপস্থিতি, যারা আমেরিকার প্রধান কোয়াড অংশীদার, ট্রাম্পের বিদেশনীতির দৃষ্টিভঙ্গিতে এই গ্রুপিংয়ের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে৷ ইন্দো-প্যাসিফিক যখন মার্কিন দেশের কৌশলগত অগ্রাধিকারের কেন্দ্রবিন্দুতে, সেই সময় ট্রাম্প ২.‌০ ‘‌সমমনস্ক’‌ দেশগুলির সঙ্গে প্রতিরক্ষা, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতাকে আরও গভীর করার উপর নতুন করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগের ইঙ্গিত দেয়, যার লক্ষ্য উদীয়মান ও স্থায়ী চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলার পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

ইন্দো-প্যাসিফিকের গুরুত্ব

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ এই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের দৃষ্টিভঙ্গিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন চিহ্নিত করেছিল, এবং তিনটি উপায়ে কৌশলগত ভূচিত্র পুনরায় সংজ্ঞায়িত করেছিল। প্রথমত, ট্রাম্পের নেতৃত্বে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগেকার পছন্দসই 'এশিয়া-প্যাসিফিক'-এর পরিবর্তে 'ইন্দো-প্যাসিফিক' নামটি গ্রহণ করে। এটি যেমন ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির পুনর্নির্মাণকে প্রতিফলিত করে, তেমনই শুধুমাত্র পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পরিবর্তে একটি বৃহত্তর বাণিজ্য ও নিরাপত্তার অতি-‌গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। শব্দটি ভারত মহাসাগরকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ভৌগোলিক দৃষ্টিকে প্রসারিত করেছে, যোগাযোগের সমুদ্র লাইন সুরক্ষিত করার গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছে, সামুদ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে, এবং চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিপ্রায় তুলে ধরেছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিবেচনাকে একীভূত করে কৌশলগত বর্ণনাকে প্রসারিত করেছে।

দ্বিতীয়ত, মার্কিন প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা পরিসরে কাঠামোগত পরিবর্তন হয়েছে, যার মধ্যে ২০১৮ সালে ইউএস প্যাসিফিক কমান্ডের নাম বদলে ইউএস ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড করা হয়েছে, যা ইন্দো-প্যাসিফিককে দেওয়া অভিযানগত গুরুত্ব প্রতিফলিত করে। ইন্দো-প্যাসিফিকের মিত্র ও অংশীদারদের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে বিশেষ ইউনিট তৈরির জন্য প্রতিরক্ষা সচিবের কার্যালয় পুনর্গঠিত  হয়েছিল।


ইন্দো-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিবেচনাকে একীভূত করে কৌশলগত বর্ণনাকে প্রসারিত করেছে।



তৃতীয়ত, কোয়াডের পুনরুজ্জীবন ২১ শতকের ভূ-রাজনীতির ভিত্তি হিসাবে ট্রাম্প প্রশাসনের ইন্দো-প্যাসিফিকের উপর গুরুত্ব আরোপ করাকেই তুলে ধরেছিল, যা এর সদস্যদের মধ্যে স্বার্থের একটি বাস্তবসম্মত অভিন্নতা প্রতিফলিত করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই গ্রুপিংকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য একটি শক্তিশালী ধাক্কা দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন কোয়াড সংলাপকে মন্ত্রী পর্যায়ে উন্নীত করেছে, এবং এইভাবে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সরবরাহ শৃঙ্খল স্থিতিস্থাপকতা ও প্রযুক্তিগত মানগুলিতে গভীর সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছে।

জো বাইডেন প্রশাসন ইন্দো-প্যাসিফিক ফ্রেমওয়ার্ক উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিল, এবং এর কৌশলগত কেন্দ্রীয়তা বজায় রেখেছিল। বাইডেন ২০২১ সালে প্রথম কোয়াড নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন আহ্বান করে কোয়াডকে আরও উন্নীত করেছেন, যা একটি উল্লেখযোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক উল্লম্ফন চিহ্নিত করে। তিনি বহুপাক্ষিকতার উপর জোর দিয়েছিলেন, এবং ভ্যাকসিন, জলবায়ু পরিবর্তন, অতি-‌গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও পরিকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা শুরু করার মাধ্যমে কোয়াডের অ্যাজেন্ডাকে বিস্তৃত করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি ২০২২ সালে ইন্দো-প্যাসিফিক ইকনমিক ফ্রেমওয়ার্কও তৈরি করেছিলেন, যা ছিল অর্থনৈতিক ব্যস্ততার সঙ্গে কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির পরিপূরণ। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিয়ম-ভিত্তিক আদেশ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের উপর গুরুত্ব কোয়াডের মিশনকে বৃহত্তর বৈশ্বিক শাসনের লক্ষ্যগুলির সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।

ট্রাম্প ২.০-এ সম্ভাবনা

ইন্দো-প্যাসিফিকের গুরুত্বের উপর দ্বিপক্ষীয় ঐকমত্য মার্কিন নিযুক্তির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করে। যদিও ট্রাম্প চিনের বিরুদ্ধে আরও দৃঢ় অবস্থান নিতে পারেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তার বোঝা ভাগ করে নেওয়ার জন্য ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার উপর তাঁর নির্ভরতা বজায় থাকবে এবং সম্ভবত আরও শক্তিশালী হবে।

নতুন প্রশাসনের প্রথম প্রধান বিদেশনীতির উদ্যোগটি ছিল ২১ জানুয়ারি কোয়াড বিদেশমন্ত্রীদের একটি বৈঠক। তাঁর নিশ্চিতকরণ শুনানিতে (‌কনফারমেশন হিয়ারিং)‌ মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও চিনকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন, এবং এ কথাও উল্লেখ করেছিলেন যে ট্রাম্পের অধীনে কোয়াডের পুনরুজ্জীবনের জন্য চ্যালেঞ্জগুলি তীব্রতর হয়েছে। এটি ছিল বিদেশি নেতাদের সঙ্গে প্রশাসনের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সম্পৃক্ততা। চারজন সদস্যই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতি ওয়াশিংটনের অটল প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন, এবং ট্রাম্প প্রেসিডেন্সির প্রথম দিকে এই বছরের কোয়াড শীর্ষবৈঠকের মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছেন। রুবিও কোয়াডের তিন মন্ত্রীর সঙ্গে আলাদাভাবে দেখা করেছেন এবং ভারতের সঙ্গে এটিই ছিল তাঁর প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।


চারজন সদস্যই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতি ওয়াশিংটনের অটল প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন, এবং ট্রাম্প প্রেসিডেন্সির প্রথম দিকে এই বছরের কোয়াড শীর্ষবৈঠকের মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছেন। 



বৈঠকের পরে প্রকাশিত একটি যৌথ বিবৃতিতে আঞ্চলিক সমৃদ্ধির জন্য আন্তর্জাতিক আইন, শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার গুরুত্বের উপর জোর দেওয়া হয়েছে, এবং বলপ্রয়োগের মাধ্যমে স্থিতাবস্থা পরিবর্তনের জন্য একতরফা পদক্ষেপের বিরোধিতা করা হয়েছে। এটি স্থিতিস্থাপক ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহ শৃঙ্খল প্রচারের পাশাপাশি আঞ্চলিক সামুদ্রিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা বাড়ানোর অভিপ্রায়কেও তুলে ধরে। সদস্যরা নিয়মিত মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক করতে এবং ভারতে আয়োজিত নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিতে সম্মত হন।

নতুন ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ইন্দো-প্যাসিফিকের প্রাধান্য বজায় রাখার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে কঠিন-‌শক্তি গতিশীলতার উপর তীক্ষ্ণভাবে দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখে। ট্রাম্পের অফিসে শেষ মেয়াদের পর থেকে ইন্দো-প্যাসিফিক যেমন পরিবর্তিত হয়েছে, তেমনই  অগ্রাধিকারগুলিও বদলে গিয়েছে, যা এই সময়ে প্রেসিডেন্টের পদ্ধতিকে প্রভাবিত করবে। সম্ভবত নিরাপত্তা-সম্পর্কিত কাঠামো উন্নত করার পাশাপাশি ট্রাম্প এমন প্রক্রিয়াগুলিকেও শক্তিশালী করতে পারেন যেগুলির একটি বিস্তৃত এবং আরও বৈচিত্র্যময় অ্যাজেন্ডা রয়েছে, অবশ্য যতক্ষণ সেগুলি বিদ্যমান নিয়ম-ভিত্তিক শৃঙ্খলা রক্ষা করতে কাজ করে।



এই ভাষ্যটি প্রথম
দ্য হিন্দু -‌তে প্রকাশিত হয়েছিল।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Authors

Harsh V. Pant

Harsh V. Pant

Professor Harsh V. Pant is Vice President – Studies and Foreign Policy at Observer Research Foundation, New Delhi. He is a Professor of International Relations ...

Read More +
Pratnashree Basu

Pratnashree Basu

Pratnashree Basu is an Associate Fellow, Indo-Pacific at Observer Research Foundation, Kolkata, with the Strategic Studies Programme and the Centre for New Economic Diplomacy. She ...

Read More +